Barta24

বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৯, ৯ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

৩ জেলায় বিএনপি'র আহ্বায়ক কমিটি গঠন

৩ জেলায় বিএনপি'র আহ্বায়ক কমিটি গঠন
ছবি: সংগৃহীত
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত করে রাজশাহী, নাটোর ও পাবনা জেলায় বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দিয়েছে দলটি শীর্।

শুক্রবার (৫ জুলাই) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাজশাহী জেলায় আবু সাঈদ চাঁদকে আহ্বায়ক, সাইফুল ইসলাম মার্শালকে যুগ্ম-আহবায়ক ও বিশ্বনাথ সরকারকে সদস্যসচিব কর ৪১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নাটোর জেলায় আমিনুল হককে আহ্বায়ক, কাজী শাহ আলমকে যুগ্ম-আহবায়ক ও রহিম নেওয়াজকে সদস্যসচিব করে ৪৩ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এছাড়া পাবনা জেলায় হাবিবুর রহমান হাবিবকে আহ্বায়ক, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ মান্নান মাস্টারকে যুগ্ম-আহবায়ক ও সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিককে সদস্যসচিব করে ৪৩ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

এরিকের সুরা পাঠে এরশাদের দোয়া মাহফিল

এরিকের সুরা পাঠে এরশাদের দোয়া মাহফিল
বাবার জন্য দোয়া করছে এরিক, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বারিধারার বাসায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্মরণে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে সুরা পাঠ করলেন ছেলে এরিক এরশাদ।

তার দোয়া পাঠের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) বাদ আছর প্রেসিডেন্ট পার্কে পরিবারের পক্ষ থেকে আয়োজিত এ দোয়া মাহফিল শুরু হয়।

দোয়ার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, ‘ওনার (এরশাদ) চারটি জানাজায় যে লোক সমাগম হয়েছে, তা অভূতপূর্ব। যেখানে যে জানাজা হয়েছে, সেখানকার লোক সেটাকে রেকর্ড বলেছেন। এটা ওনার প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চিঠি দিয়ে শোক প্রকাশ করেছেন। মোদি লিখেছেন, এরশাদ আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু ছিলেন। তিনি বাংলাদেশের জন্য যা করে গেছেন, দেশের মানুষ ওনাকে চিরকাল স্মরণ রাখবে। আরো অনেক দেশ থেকে প্রশংসাসূচক চিঠি এসেছে।’

শুধু দেশে নয়, বিদেশেও সম্মান পেয়েছেন তিনি। শুধু গরিব নয়, বিত্তশালীরাও ওনার জন্য চোখের জল ফেলেছেন বলে মন্তব্য করেন জিএম কাদের।

দোয়া মাহফিলে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা ছাড়াও তার প্রতিবেশীরা অংশ নেন। মোনাজাতের প্রায় পুরোটা সময় ধরে চোখের জল ফেলেন এরিক।

সিনিয়র নেতাদের মধ্যে এ মাহফিলে অংশ নেন মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা, সাবেক মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান, আব্দুস সাত্তার, শেখ সিরাজুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, সালমা ইসলাম এমপি, মেজর (অব.) খালেদ আখতার, ফখর উজ জামান জাহাঙ্গীর সৈয়দ দিদার বখত, রেজাউল ইসলাম ভুইয়া প্রমুখ।

রওশনের চিঠিকে উড়ো বললেন জিএম কাদের

রওশনের চিঠিকে উড়ো বললেন জিএম কাদের
রওশন এরশাদ ও জিএম কাদের, ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের দায়িত্বের প্রশ্নে রওশন এরশাদের বিবৃতিকে উড়ো চিঠি বলে মন্তব্য করেছেন পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

যেহেতু অফিসিয়ালি এ ধরনের কোনো চিঠি আমরা পাইনি, তাই এ বিষয়ে এখনই কোনো প্রতিক্রিয়া জানাতে চাচ্ছি না। কোনো প্রতিক্রিয়া থাকলে মিডিয়া ডেকে জানানো হবে বলেও মন্তব্য করেছেন এরশাদের এই সহোদর।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সোমবার (২২ জুলাই) দিনগত রাতে জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদসহ ১০ জন প্রেসিডিয়াম সদস্য এক যৌথ বিবৃতি দেন। সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা রওশন এরশাদের প্যাডে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি, জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। যা আদৌ কোনো যথাযথ ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালনকালে পার্টির গঠনতন্ত্রের ধারা ২০(২) এর খ ধারা প্রয়োগ করতে পারবেন। (মনোনীত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রেসিডিয়ামের সংখ্যাধিক্যের মতামতের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করবেন। চেয়ারম্যানের অবর্তমানে ধারা ২০(২) এর ক উপেক্ষা করা যাবে না)। আশা করি, তিনি (জিএম কাদের) পার্টির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী চেয়ারম্যান না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।

রওশন এরশাদের ওই হাতে লেখা চিঠির সত্যতা এবং এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন কাদের পন্থীরা। তাদের বক্তব্য হচ্ছে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জীবিত থাকা অবস্থায় ভবিষ্যৎ চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছেন জিএম কাদেরকে। এ নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। আবার সংখ্যাধিক্য সিনিয়র নেতাসহ পার্টির তৃণমূলের পূর্ণাঙ্গ সমর্থন রয়েছে জিএম কাদেরের প্রতি।

জীবিত এরশাদের একটি নির্দেশনার বলে জিএম কাদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেয়ারম্যান হয়ে গেছেন, ১৮ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেন পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা। জাতীয় পার্টির মহাসচিবের এমন ঘোষণার চার দিনের মাথায় রওশন গ্রুপ এমন প্রতিক্রিয়া দেখাল।

জাতীয় পার্টির এ নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব অনেক পুরনো। এরশাদ জীবিত থাকা অবস্থায় গত ১৬ জানুয়ারি জিএম কাদেরকে তার অবর্তমানে পার্টির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। পরে ২২ মার্চ আরেক সাংগঠনিক নির্দেশনায় ১৬ জানুয়ারির নির্দেশনা বাতিল করেন এরশাদ।

এরপর কাদেরকে বহালে আন্দোলনে নামেন রংপুরের নেতারা। অনেকটা বাধ্য হয়ে ২২ মার্চের নির্দেশনা বাতিল করে কাদেরকে পুনর্বহাল করেন এরশাদ। নতুন করে নির্দেশনা জারি করা হয়। ওই চিঠিতে বলা হয়, এরশাদের অবর্তমানে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন জিএম কাদের।

চিঠিতে এরশাদ লিখেছেন, গত ২২ মার্চ যে সাংগঠনিক নির্দেশ দিয়েছিলাম আজকের চিঠির মাধ্যমে আগের আদেশটি বাতিল ঘোষণা করছি।

জিএম কাদেরকে ব্যর্থ উল্লেখ করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও কো-চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর দিন ২৩ মার্চ জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতার পদ থেকেও সরিয়ে দেন। বিরোধী দলীয় উপনেতা করেন রওশন এরশাদকে।

এর আগে ছোট ভাই জিএম কাদেরকে ১৮ জানুয়ারি এক সাংগঠনিক আদেশে জাপার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং ভবিষ্যৎ চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছিলেন।

গঠনতন্ত্রে পদ না থাকলেও ২০১৬ সালে জিএম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছিলেন এরশাদ। এরপর রওশন পন্থীদের চাপে রওশন এরশাদকে সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান করেছিলেন এরশাদ।

এরশাদ মারা যাওয়ার পর থেকেই শঙ্কা ছিল নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব নিয়ে। জিএম কাদের চেয়ারম্যান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পর রওশন পন্থীদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে অনেকে উদ্বিগ্ন ছিলেন। শনিবার (২০ জুলাই) রওশনের বাসায় গিয়েছিলেন জিএম কাদের। তখন কথা রটে যায়, রওশন এরশাদ দেবর কাদেরকে চেয়ারম্যান হিসেবে আশির্বাদ করে দিয়েছেন। আর রওশন সংসদীয় দলের নেতা হবেন। এ খবরে পার্টির নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি নেমে এসেছিল। কিন্তু নতুন প্রতিক্রিয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে নেতাকর্মীদের মধ্যে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র