Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ঐক্যফ্রন্ট ছাড়লেন কাদের সিদ্দিকী

ঐক্যফ্রন্ট ছাড়লেন কাদের সিদ্দিকী
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না; এর কোনো কর্মকাণ্ড নেই দাবি করে আলোচিত রাজনৈতিক এই মোর্চা ছাড়লেন কৃষক শ্রমিক লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী।

সোমবার (৮ জুলাই) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান ‘বঙ্গবীর’ খ্যাত প্রবীণ এই নেতা।

তিনি বলেন, ২০১৮ সালের ১৩ অক্টোবর দেশের মানুষের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষার উদ্দেশ্য নিয়ে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করা হয়েছিল। গত ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ঐক্যফ্রন্ট সঠিকভাবে চলতে পারেনি।

তার অভিযোগ, ওই নির্বাচনের পর ফলাফল প্রত্যাখান করে সংসদে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন নেতারা; কিন্তু সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ সংসদে যোগ দেন। পরে বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সবাই যোগ দেন। প্রথামে যারা শপথ নেন, তাদের বহিষ্কার করা হয়। পরে বিএনপির নির্বাচিতরা যোগ দিলে তাদের স্বাগত জানানো হয়। নির্বাচনের আগে মনোনয়ন দেওয়ার কথা ছিল ডা. কামাল হোসেনের মাধ্যমে। কিন্তু মনোনয়ন দেওয়ার নেতৃত্ব দিয়েছে বিএনপি। এটা গুরুতর অন্যায় হয়েছে। 

Kader-Siddiqi

তিনি বলেন, নির্বাচনের পর মানুষের দাবি ঐক্যফ্রন্ট সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারেনি। হত্যা-ধর্ষণ; এসবের বিরুদ্ধে ঐক্যফ্রন্ট কোনো কর্মসূচিও দিতে পারেনি। এরপর ঐক্যফ্রন্টকে খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছে না। ঐক্যফ্রন্টের অস্তিত্ব বা ঠিকানা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে জনগণের সব সমস্যায় পাশে থাকার অঙ্গীকারে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ নতুন উদ্যমে পথ চলা শুরু করেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার মনে হয় না যে, এখানে কোনো অস্পষ্টতা আছে। সত্য কথা বলতে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এখন খুঁজে পাওয়া যায় না। এর কোনো কর্মকাণ্ড নেই। সেজন্য সেখান থেকে আমরা চলে আসছি, সেখান থেকে যাচ্ছি। প্রত্যাহার হয়ে আসছি এই শব্দটা ব্যবহার করা যুক্তিযুক্ত মনে হয় না। সেজন্য বলেছি- তাদের খোঁজার চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলেছি। এর অর্থ আপনি যেটা বলেছেন সেটাকেই বোঝায়।

প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ বলেন, রাজনীতি একটা প্রবাহমাত্রা নদীর মতো। গণতন্ত্রকামী প্রতিটি মানুষের সাথে আমাদের কাজ করা উচিৎ। সেক্ষেত্রে ঐক্যফ্রন্টে যারা ছিলেন, তাদের সাথেও ভবিষ্যতে কাজ করব না, এমন কোনো শর্ত নেই। কিন্তু নির্ভেজাল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আমরা কাজ করে যাব।

আপনার মতামত লিখুন :

ধর্ষণের উৎসব শুরু হয়েছে: মির্জা ফখরুল

ধর্ষণের উৎসব শুরু হয়েছে: মির্জা ফখরুল
বিভাগীয় সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, 'পত্রিকা খুললেই ধর্ষণ ছাড়া কোনো খবর নাই। ১০ বছর, ছয় বছর, পাঁচ বছর, ১০০ বছরের নারীকেও পর্যন্ত ধর্ষণ করা হচ্ছে। দেশে ধর্ষণের উৎসব শুরু হয়েছে।'

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে বরিশাল মহানগরের কেন্দ্রীয় হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ মাঠে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশের অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, 'প্রতিদিন শুধু হত্যা আর হত্যা। এমনকি আদালত পর্যন্ত বাদ যাচ্ছে না। সেটাও নিরাপদ জায়গা নয়। সেখানে গিয়ে বিচারকের সামনে হত্যা করা হচ্ছে। কোথায় যাবেন? কার কাছে যাবেন? সরকার খুব ঢোল বাজায়, নিজেরাই বাজাচ্ছে উন্নয়ন, উন্নয়ন, উন্নয়ন। এমন উন্নয়ন যে, দেশের মানুষ মারা যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। অথচ কৃষক তার ধানের মূল্য পায় না, সরকারি কর্মচারীদের বেতন ভাতা দিন দিন বাড়ানো হচ্ছে। সরকার তাদের ওপর ভর করে এ দেশের জনগণের বঞ্চিত করে দেশ শাসন করতে চায়।'

তিনি বলেন, 'সারা দেশে আওয়ামী লীগ সরকার গত এক যুগে যে ভয়াবহ তাণ্ডব সৃষ্টি করেছে, গণতন্ত্রকে যেভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে, মানুষের অধিকারগুলোকে যেভাবে কেড়ে নিয়েছে এবং মানুষের ওপর যে অত্যাচার-নির্যাতন করছে এটা নজিরবিহীন। সরকার বাংলাদেশে একটা নারকীয় অবস্থার তৈরি করে ফেলেছে।'

খালেদা জিয়ার কারাবাস সম্পর্কে বিএনপির মহাসচিব বলেন, 'একটি মিথ্যা মামলায় দেশনেত্রীকে কারাগারে রাখা হয়েছে। এই মামলায় অন্য সকল আসামির জামিন হয়েছে কিন্তু খালেদা জিয়ার জামিন দিচ্ছে না। কারণ সরকার বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণ করছে, তাই দেশনেত্রীর জামিন হচ্ছে না। আমাদের আইনজীবীরা সব দিক দিয়ে চেষ্টা করেছেন। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। দেশের মানুষ যদি তাদের অধিকার, স্বাধীনতা রক্ষা করতে চায়, তাহলে অবশ্যই সকলকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে।'

সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সাহেবের মৃত্যুতে আমরা শোক প্রকাশ করেছি। কিন্তু এটাতো সত্য যে, তার সরকারের আমলেই এ দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা হয়েছে। তার আমলে বহু মানুষ নিহত হয়েছেন, ছাত্রদের হত্যা করা হয়েছে। জনগণের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তাকে সরানো হয়েছে। আজকে আওয়ামী লীগ তাদের সঙ্গে জোট বেধে জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আজকে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া হয়। আর যিনি গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করলেন, ৭১ সালে পাক সেনাদের হাতে বন্দী থাকলেন তাকে কারাগারের অন্ধকারের রাখা হচ্ছে।'

বরিশাল মহানগর বিএনপির সভাপতি মজিবুর রহমান সরোয়ারের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ সহ স্থানীয় কয়েক হাজার নেতাকর্মী।

সিঙ্গাপুর নেওয়া হলো রফিকুল ইসলাম মিয়াকে

সিঙ্গাপুর নেওয়া হলো রফিকুল ইসলাম মিয়াকে
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে সিঙ্গাপুর এয়ারওয়েজের একটি বিমানে তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত সহকারী মো. মোকছেদুর রহমান আবির।

তিনি জানিয়েছেন, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। এজন্য তাকে ইউনাইডেট হাসপাতাল থেকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়েছে। সেখানে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হসপিটালের নিউরো সার্জন অধ্যাপক অং হি কিটের অধীনে মেরুদণ্ডে অস্ত্রোপচার করা হবে।

রফিকুল ইসলাম মিয়ার সঙ্গে তার সহধর্মিণী প্রফেসর ড. শাহিদা রফিক ও দুই ছেলে মাশরুর রফিক মিয়া ও শাহপুর রফিক মিয়া রয়েছেন বলেও জানান তিনি।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র