Barta24

বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৯, ৯ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

পাবনা আদালতের রায় ন্যায়বিচার পরিপন্থি: মির্জা ফখরুল

পাবনা আদালতের রায় ন্যায়বিচার পরিপন্থি: মির্জা ফখরুল
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন মির্জা ফখরুলসহ অন্য নেতারা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
স্টাফ ক‌রেসপ‌ন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

শেখ হাসিনার ট্রেন বহরে হামলার ঘটনায় পাবনা আদালতের দেওয়া রায় ন্যায়বিচার পরিপন্থি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘পাবনার ঈশ্বরদীতে ১৯৯৪ সালে সংঘটিত হামলায় কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। অথচ নয়জনকে মৃত্যুদণ্ড, ২৫ জনকে যাবজ্জীবন এবং ১৩ জনকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ আদেশ ন্যায়বিচার পরিপন্থি ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’

সোমবার (৮ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, 'এ রায়ের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থায় দলীয়করণের চিত্র ফুটে উঠেছে। এ রায় সমগ্র জাতিকে বিস্মিত, হতাশ ও ক্ষুদ্ধ করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যে কোনো সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, আমরা সব সময়ই সন্ত্রাসের ঘটনায় নিন্দা করেছি, প্রতিবাদ জানিয়েছি এবং সুষ্ঠু বিচার চেয়েছি। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ঘটনাগুলোকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে চেয়েছে। ঈশ্বরদীর ওই ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। একটি রাজনৈতিক দলের প্রায় সব নেতাকে এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে তিন বছর পর অভিযোগ পত্র দিয়ে দেওয়া হয়। ওই মামলার প্রধান আসামি আওয়ামী লীগের কর্মী, তাকে যাবজ্জীবন দেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করবার জন্য একের পর এক গণতান্ত্রিক সব প্রতিষ্ঠান ও বিরোধী রাজনীতি ধ্বংস করে বাংলাদেশ থেকে গণতন্ত্রকে চিরতরে নির্বাসিত করবার আয়োজন সম্পন্ন করেছে আওয়ামী লীগ।’

‘জনগণের আশ্রয়ের শেষ স্থল বিচার বিভাগকে দলীয়করণ করার মাধ্যমে রাষ্ট্রকে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা, একনায়কতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছে,’ যোগ করেন ফখরুল।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সেলিমা রহমান প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন :

এরিকের সুরা পাঠে এরশাদের দোয়া মাহফিল

এরিকের সুরা পাঠে এরশাদের দোয়া মাহফিল
বাবার জন্য দোয়া করছে এরিক, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বারিধারার বাসায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্মরণে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে সুরা পাঠ করলেন ছেলে এরিক এরশাদ।

তার দোয়া পাঠের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) বাদ আছর প্রেসিডেন্ট পার্কে পরিবারের পক্ষ থেকে আয়োজিত এ দোয়া মাহফিল শুরু হয়।

দোয়ার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, ‘ওনার (এরশাদ) চারটি জানাজায় যে লোক সমাগম হয়েছে, তা অভূতপূর্ব। যেখানে যে জানাজা হয়েছে, সেখানকার লোক সেটাকে রেকর্ড বলেছেন। এটা ওনার প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চিঠি দিয়ে শোক প্রকাশ করেছেন। মোদি লিখেছেন, এরশাদ আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু ছিলেন। তিনি বাংলাদেশের জন্য যা করে গেছেন, দেশের মানুষ ওনাকে চিরকাল স্মরণ রাখবে। আরো অনেক দেশ থেকে প্রশংসাসূচক চিঠি এসেছে।’

শুধু দেশে নয়, বিদেশেও সম্মান পেয়েছেন তিনি। শুধু গরিব নয়, বিত্তশালীরাও ওনার জন্য চোখের জল ফেলেছেন বলে মন্তব্য করেন জিএম কাদের।

দোয়া মাহফিলে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা ছাড়াও তার প্রতিবেশীরা অংশ নেন। মোনাজাতের প্রায় পুরোটা সময় ধরে চোখের জল ফেলেন এরিক।

সিনিয়র নেতাদের মধ্যে এ মাহফিলে অংশ নেন মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা, সাবেক মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান, আব্দুস সাত্তার, শেখ সিরাজুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, সালমা ইসলাম এমপি, মেজর (অব.) খালেদ আখতার, ফখর উজ জামান জাহাঙ্গীর সৈয়দ দিদার বখত, রেজাউল ইসলাম ভুইয়া প্রমুখ।

রওশনের চিঠিকে উড়ো বললেন জিএম কাদের

রওশনের চিঠিকে উড়ো বললেন জিএম কাদের
রওশন এরশাদ ও জিএম কাদের, ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের দায়িত্বের প্রশ্নে রওশন এরশাদের বিবৃতিকে উড়ো চিঠি বলে মন্তব্য করেছেন পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

যেহেতু অফিসিয়ালি এ ধরনের কোনো চিঠি আমরা পাইনি, তাই এ বিষয়ে এখনই কোনো প্রতিক্রিয়া জানাতে চাচ্ছি না। কোনো প্রতিক্রিয়া থাকলে মিডিয়া ডেকে জানানো হবে বলেও মন্তব্য করেছেন এরশাদের এই সহোদর।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সোমবার (২২ জুলাই) দিনগত রাতে জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদসহ ১০ জন প্রেসিডিয়াম সদস্য এক যৌথ বিবৃতি দেন। সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা রওশন এরশাদের প্যাডে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি, জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। যা আদৌ কোনো যথাযথ ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালনকালে পার্টির গঠনতন্ত্রের ধারা ২০(২) এর খ ধারা প্রয়োগ করতে পারবেন। (মনোনীত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রেসিডিয়ামের সংখ্যাধিক্যের মতামতের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করবেন। চেয়ারম্যানের অবর্তমানে ধারা ২০(২) এর ক উপেক্ষা করা যাবে না)। আশা করি, তিনি (জিএম কাদের) পার্টির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী চেয়ারম্যান না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।

রওশন এরশাদের ওই হাতে লেখা চিঠির সত্যতা এবং এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন কাদের পন্থীরা। তাদের বক্তব্য হচ্ছে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জীবিত থাকা অবস্থায় ভবিষ্যৎ চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছেন জিএম কাদেরকে। এ নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। আবার সংখ্যাধিক্য সিনিয়র নেতাসহ পার্টির তৃণমূলের পূর্ণাঙ্গ সমর্থন রয়েছে জিএম কাদেরের প্রতি।

জীবিত এরশাদের একটি নির্দেশনার বলে জিএম কাদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেয়ারম্যান হয়ে গেছেন, ১৮ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেন পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা। জাতীয় পার্টির মহাসচিবের এমন ঘোষণার চার দিনের মাথায় রওশন গ্রুপ এমন প্রতিক্রিয়া দেখাল।

জাতীয় পার্টির এ নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব অনেক পুরনো। এরশাদ জীবিত থাকা অবস্থায় গত ১৬ জানুয়ারি জিএম কাদেরকে তার অবর্তমানে পার্টির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। পরে ২২ মার্চ আরেক সাংগঠনিক নির্দেশনায় ১৬ জানুয়ারির নির্দেশনা বাতিল করেন এরশাদ।

এরপর কাদেরকে বহালে আন্দোলনে নামেন রংপুরের নেতারা। অনেকটা বাধ্য হয়ে ২২ মার্চের নির্দেশনা বাতিল করে কাদেরকে পুনর্বহাল করেন এরশাদ। নতুন করে নির্দেশনা জারি করা হয়। ওই চিঠিতে বলা হয়, এরশাদের অবর্তমানে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন জিএম কাদের।

চিঠিতে এরশাদ লিখেছেন, গত ২২ মার্চ যে সাংগঠনিক নির্দেশ দিয়েছিলাম আজকের চিঠির মাধ্যমে আগের আদেশটি বাতিল ঘোষণা করছি।

জিএম কাদেরকে ব্যর্থ উল্লেখ করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও কো-চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর দিন ২৩ মার্চ জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতার পদ থেকেও সরিয়ে দেন। বিরোধী দলীয় উপনেতা করেন রওশন এরশাদকে।

এর আগে ছোট ভাই জিএম কাদেরকে ১৮ জানুয়ারি এক সাংগঠনিক আদেশে জাপার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং ভবিষ্যৎ চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছিলেন।

গঠনতন্ত্রে পদ না থাকলেও ২০১৬ সালে জিএম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছিলেন এরশাদ। এরপর রওশন পন্থীদের চাপে রওশন এরশাদকে সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান করেছিলেন এরশাদ।

এরশাদ মারা যাওয়ার পর থেকেই শঙ্কা ছিল নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব নিয়ে। জিএম কাদের চেয়ারম্যান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পর রওশন পন্থীদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে অনেকে উদ্বিগ্ন ছিলেন। শনিবার (২০ জুলাই) রওশনের বাসায় গিয়েছিলেন জিএম কাদের। তখন কথা রটে যায়, রওশন এরশাদ দেবর কাদেরকে চেয়ারম্যান হিসেবে আশির্বাদ করে দিয়েছেন। আর রওশন সংসদীয় দলের নেতা হবেন। এ খবরে পার্টির নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি নেমে এসেছিল। কিন্তু নতুন প্রতিক্রিয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে নেতাকর্মীদের মধ্যে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র