Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

দলে নতুন সদস্য সংগ্রহের ব্যাপারে কৌশলী আওয়ামী লীগ

দলে নতুন সদস্য সংগ্রহের ব্যাপারে কৌশলী আওয়ামী লীগ
ছবি: সংগৃহীত
রেজা-উদ্-দৌল্লাহ প্রধান
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর এখন ঘর গোছাতে মনোযোগী ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।

সংগঠনকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়ে দলে 'নতুন রক্ত' সঞ্চালন, আগামীর নেতৃত্ব তৈরি, বিশাল তারুণ্যের আবেগের সঙ্গে আদর্শিক সম্মিলন ঘটানোসহ কয়েকটি লক্ষ্য পূরণে দলে নতুন রিক্রুটমেন্ট অর্থাৎ নতুন সদস্য সংগ্রহ শুরু করতে যাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া দল আওয়ামী লীগ।

কেন্দ্রীয় ঘোষণা অনুযায়ী চলতি মাসের ২১ তারিখ থেকে নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু করবে সম্প্রতি ৭০ বছরে পদার্পণকারী দলটি। আগামী অক্টোবরে সম্ভাব্য ২১তম জাতীয় সম্মেলনের আগ পর্যন্ত একযোগে সারাদেশে এ অভিযান চালানো হবে। এরই মধ্যে এ কার্যক্রমের বিষয়ে চিঠি দিয়ে তৃণমূলকেও নির্দেশনা পৌঁছে দিয়েছে কেন্দ্র।

*পারিবারিক ঐতিহ্যের সঙ্গে দেখা হবে ব্যক্তি ইমেজ

*টার্গেট নারী ও নতুন ভোটার

*জায়গা হবে না দুর্নীতিবাজ, মাদকাসক্তদের


আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য জানা গেছে।

তারা বলছেন, এবারের সদস্য সংগ্রহ অভিযান সফল ও গ্রহণযোগ্য করতে বেশ কিছু কৌশল হাতে নিয়েছে দলটি। দলের প্রতিটি নেতাকর্মীর তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে তথ্যভাণ্ডার গঠন করা হবে। নারী ও নতুন ভোটারদের আওয়ামী লীগের সদস্য হতে উদ্বুদ্ধ করা হবে। অন্য দিকে, স্বাধীনতা বিরোধী ও জঙ্গিবাদে জড়িতদের পাশাপাশি দুর্নীতিবাজ, মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্তদেরও জায়গা হবে না দলে। সব মিলিয়ে প্রায় দুই কোটি নতুন সদস্যের টার্গেট নিয়ে সদস্য সংগ্রহের এ অভিযান চালানো হবে।

গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘সদস্য সংগ্রহ শুরু করার জন্য কেন্দ্রের চিঠি পেয়েছি। আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রের ৫ এর (১) ধারায় বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বিশ্বাস করে নির্ধারিত ফরমে দেওয়া ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করে ত্রি-বার্ষিক ২০ টাকা চাঁদা দিয়ে ১৮ বছরের বেশি বয়সী বাংলাদেশি নারী ও পুরুষ সদস্য হতে পারবেন। তবে উপধারায় কারা সদস্য হতে পারবেন, তা-ও উল্লেখ করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিরোধী নয়, নাগরিকত্ব পরিত্যাগকারী বা বাতিলকৃত ব্যক্তি নয়; অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য নয়; ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি বা পেশায় বৈষম্যে বিশ্বাস করে না; আওয়ামী লীগের নীতি ও আদর্শের পরিপন্থি কোনো সংগঠনের সদস্য নয়-এমন ব্যক্তিরা সদস্য হতে পারবেন। এ ধারায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির নির্দেশ পালনে বাধ্য থাকা ও নিয়মিত চাঁদা পরিশোধের কথা বলা হয়েছে।

অতীতে সদস্য সংগ্রহ অভিযানে আওয়ামী বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শ তথা বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের আওয়ামী লীগের সদস্য না করার ব্যাপারে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হলেও এবার বিষয়টি নিয়ে কৌশলী আওয়ামী লীগের নেতারা।

কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, আওয়ামী লীগের আদর্শ ও নীতিতে বিশ্বাস করে- এমন তরুণ ও মেধাবীদের দলে জায়গা দেওয়া হবে। প্রাধান্য দেওয়া হবে, বিগত নির্বাচনে যারা দলের পক্ষে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছেন তাদের।

সে ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তির পরিবারের কেউ যদি অন্য দলের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাতেও আপত্তি থাকবে না। পারিবারিক ঐতিহ্যের চেয়ে ব্যক্তি ইমেজকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। তবে পরিবারের কেউ যদি দেশের স্বাধীনতা বিরোধী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন সে ক্ষেত্রে ভিন্ন কথা।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘দলের সদস্য সংখ্যা বাড়ানো এবং ডাটাবেজ করা হচ্ছে। পরিকল্পিত সাংগঠনিক অবস্থাকে সুসংহত করার জন্যই এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে জুলাই থেকে আবার নতুন করে সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।’

সদস্য সংগ্রহ অভিযান প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানান, এবার সদস্য নবায়নের চেয়ে নতুন সদস্য সংগ্রহে গুরুত্ব দেওয়া হবে। জেলা, উপজেলা শাখা নিয়মাবলী মেনে সদস্য সংগ্রহের বই করবে এবং সদস্য সংগ্রহ করবে বলে নির্দেশনা দিয়েছেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা।

প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে ৯ম জাতীয় সংসদের নির্বাচনে সরকার গঠন করার পর ২০১০ সালের ৩০ জানুয়ারি সদস্য সংগ্রহ ও নবায়নের কাজ শুরু করে আওয়ামী লীগ। দীর্ঘ সাত বছর বিরতি দিয়ে ২০১৭ সালের ২০ মে গণভবনে অনুষ্ঠিত বিশেষ বর্ধিত সভায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংগঠনের সদস্য পদ সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রম উদ্বোধন করার পর সারাদেশে আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রম শুরু হয়। তবে উদ্বোধনের ছয় মাস পরেই গতি হারায় এ কার্যক্রম। এ সময়ে ৭৮টির মধ্যে ৩৫টি সাংগঠনিক জেলা সদস্য সংগ্রহের কাগজপত্র কেন্দ্রের কাছ থেকে সংগ্রহ করে। সদস্য সংগ্রহে স্থবিরতার কারণ হিসেবে ষোড়শ সংশোধনীর রায়, বন্যা ও রোহিঙ্গা পুনর্বাসনকে সামনে আনে কেন্দ্র।

আপনার মতামত লিখুন :

খুঁড়িয়ে চলা ঐক্যফ্রন্টের ভবিষ্যত কী?

খুঁড়িয়ে চলা ঐক্যফ্রন্টের ভবিষ্যত কী?
জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট

অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন গঠন করেছিলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। শুরুতে জোট গঠন নিয়ে দেশের মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা থাকলেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তা স্তিমিত হয়ে পড়ে। এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, ঠিক মতো চলতে না পারা সরকারবিরোধী এই জোটের ভবিষ্যত কী?

একাদশ জতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জোট নেতাদের বড় বড় কথার ঝুলি প্রতিধ্বনিত হয়েই ফিরে এসেছে, কার্যত কিছুই করতে পারেনি ঐক্যফ্রন্ট। নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে আয়োজিত সমাবেশ ছিল বেশ আশাজাগানিয়া। কিন্তু ৩০ ডিসেম্বরের ভোটের ফল প্রকাশিত হওয়ার পর জোটের পক্ষ থেকে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করা হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেছিলেন ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। কিন্তু তা হয়নি। এমনকি সরকারের বিরুদ্ধে ‘ভোট ডাকাতি ও কারচুপি’র অভিযোগ আনলেও এর প্রতিবাদে সামান্য আন্দোলনও করেনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। নির্বাচনী ট্রাব্যুনালে মামলা করার ঘোষণা দেওয়া হয়, কিছু আসন থেকে মামলাও করা হয়। একই সঙ্গে জাতীয় সংলাপ এবং পুনর্নির্বাচনের দাবিতে জনমত গঠনে ও দেশব্যাপী জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা সফর করবেন বলে ঘোষণা আসে। কিন্তু তাও পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে দেখা যায়নি।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/17/1563379198299.jpgরাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন আছে, তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে বিএনপিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ড. কামাল হোসেনকে কৌশলে ব্যবহার করেছে আওয়ামী লীগ। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মাদ নাসিম তো বলেই দিলেন, ড. কামাল হোসেন সংসদ নির্বাচনে তাদের পক্ষে কাজ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘বিএনপির বন্ধুরা বারবার ভুল করেছে, ২০১৪ সালে একবার গোস্যা করে নির্বাচনে আসেনি। ২০১৮ সালে নির্বাচনে এলো লোক ভাড়া করে। কাকে ভাড়া করল? আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত, অত্যন্ত শিক্ষিত ও বিদগ্ধ নেতা ড. কামাল হোসেনকে ভাড়া করে সামনে দাঁড় করাল। তিনি আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করে মাঠ খালি করে দিলেন। আর আমরা ফাঁকা মাঠে গোল দিলাম। এই হচ্ছে তাদের (বিএনপির) ভাড়াটের মুরোদ। ওরা কামাল হোসেনকে ভাড়া করল ওদের জন্য, আর কাজ করল আমাদের জন্য।’

তবে নাসিমের এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে গণফোরাম।

ভোট প্রত্যাখ্যান করলেও সংসদ সদস্য হিসেবে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা শপথ নেন। নির্বাচনী ট্রাইবুন্যালে মামলা করার পর তার কোনো খোঁজ নেই। নির্বাচনের পর নারী ও শিশু নির্যাতনের প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগে একটি কর্মসূচি ডেকেও পরে তা বাতিল করা হয়। জনস্বার্থেও নেই কোন কর্মসূচি সরকারবিরোধী এ জোটের।

সম্প্রতি ঐক্যফ্রন্ট থেকে বের হয়ে গেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। অপর দিকে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না ঐক্যফ্রন্টের সর্বশেষ স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে অংশ নেননি। জোটের প্রতি বিএনপি নেতাদেরও আগ্রহ কমছে।

রাজধানীর পুরানা পল্টনে জামান টাওয়ারের চতুর্থ তলায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অস্থায়ী কার্যালয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্বাচনের আগে এই ভবনে জোটটির কিছু কার্যক্রম থাকলেও নির্বাচনের পর সংবাদ সম্মেলন, সভা বা কোন অনুষ্ঠানই হয়নি।

এ অবস্থায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ঐক্যফ্রন্টের কোন ভবিষ্যত দেখছেন না। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, ঐক্যফ্রন্টের কোন ভবিষ্যত আমি দেখতে পাচ্ছি না। তারা কিচ্ছু করতে পারবে না, মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে, বিএনপিকেও। সংসদে বলা হয়েছে ড. কামাল হোসেন আওয়ামী লীগের ফর্মুলা বাস্তবায়ন করেছেন। তার কার্যকলাপ দেখে সেটা বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে, কিন্তু সেটা বিশ্বাস করতে চাই না। তিনি নির্বাচনের আগে হুঙ্কার দিলেন কিন্তু নির্বাচনের পর বিড়ালের মতো বসে রইলেন। নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্ট যে ভূমিকা রেখেছে সে জন্য তাদের ওপর জনগণের কোন ভরসা নেই।

দিলারা চৌধুরী আরও বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনটাকে ধ্বংস করে দিল আর তারা (ঐক্যফ্রন্ট) একটা হরতাল ডাকতে পারলো না! তারা দুটি কাজ করতে পারতো, এক. হরতাল ডেকে প্রতিবাদ করা আর দ্বিতীয়টি হলো সংসদে না যাওয়া। এটা বলতে পারি জনগণের বিশ্বাস তাদের ওপর থেকে চলে গেছে।

ঐক্যফ্রন্টের দিকে না তাকিয়ে থেকে বিএনপির যে শক্তি আছে সেটাকেই সংগঠিত করা উচিত বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমদ।

বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে তিনি বলেন, প্রথম থেকেই জোট নিয়ে আশাবাদী ছিলাম না, এখনো না। বিএনপি অনেক বড় রাজনৈতিক দল, এরা যদি কাজ করে সেটাই যথেষ্ট। নির্বাচনের আগে এদের সহানুভূতির প্রয়োজন ছিল, এই মুহুর্তে তার প্রয়োজন আছে বলে মনে করছি না। কাদের সিদ্দিকী চলে গেলেন, আ স ম রব চলে যাবেন কিনা জানি না। বিএনপির সেদিকে তাকানোর দরকার আছে বলে মনে করি না। নিজেদের যে শক্তি আছে এটাকেই সংগঠিত করতে পারলে যথেষ্ট।

এদিকে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, আমরা সবাই দল গোছাচ্ছি, বিএনপির মধ্যেও একটা অস্বস্তি চলছে। ড. কামাল হোসেন চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফিরলেন, আ স ম রবের অপারেশন করা হয়েছে। সব কিছু গুছিয়ে উঠতে আরো কিছুদিন সময় লাগবে। কাদের সিদ্দিকীর বের হয়ে যাওয়া কোন সমস্যা না। ঐক্যফ্রন্ট জনগণের অন্তরে গেঁথে আছে। আমরা দেশের মানুষকে একটা জায়গায় নিয়ে গেছি, তাদের জন্য যা করা দরকার ছিল তা আমরা করতে পারিনি। কিন্তু সরকারের মুখোশ আমরা উন্মোচন করে দিয়েছি দেশের মানুষের কাছে, বিশ্বের কাছে।

এরশাদ শুধু ভাই না, আমার পিতা ও শিক্ষক ছিলেন

এরশাদ শুধু ভাই না, আমার পিতা ও শিক্ষক ছিলেন
গুলশান আজাদ মসজিদে প্রয়াত এরশাদের কুলখানি/ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ শুধু আমার বড় ভাই ছিলেন না। উনি আমার পিতা উনি আমার শিক্ষক ছিলেন। ওনার কোলে চড়ে সিনেমা দেখেছি, হাতে ধরে চামুচ দিয়ে খাওয়ায় এবং কিভাবে টাই বাঁধতে হয় শিখিয়ে দিয়েছেন।

বুধবার (১৭ জুলাই) বিকেলে গুলশান আজাদ মসজিদে প্রয়াত এরশাদের কুলখানিতে কাতর কণ্ঠে  তিনি এমন মন্তব্য করেন।

জিএম কাদের বলেন, আমি যখন রাজনীতিতে আসি তখন কিভাবে পরিবেশ ট্যাকেল দিতে হয়, সংকট মোকাবেলা করতে হয় শিখিয়েছেন। আমাদের মাথার উপর ছাতাটি সরে গেছে, বট গাছটি আর নেই। আপনারা ওনার জন্য দোয়া করবেন।

কাদের বলেন, আজকে খেলার যে অর্জন তার বীজবপন করেছেন উনি বিকেএসপি প্রতিষ্ঠা করে। আমি সরকারকে ধন্যবাদ জানাই ওনার বীজটাকে লালন করার জন্য। আওয়ামী লীগ গ্রামকে শহর করার কথা বলছে এর গোড়াপত্তন করেছেন এরশাদ উপজেলা প্রতিষ্ঠা করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/17/1563368275716.jpg

তিনি বলেন, একটি মানুষের অবদান অর্জন বুঝা যায় তার মৃত্যূর পর জানাজায় লোক সমাগম দেখে। ওনার চারটি জানাজা হয়েছে কোনটিতে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। একটির চেয়ে আরেকটি সমাগম বেশি হয়েছে। এতে বুঝা যায় ওনার নীতি কর্ম মানুষ গ্রহণ করেছিলেন।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জিএম কাদের বলেন, আমার ভাই যখন হাসপাতালে তখন প্রতি ঘণ্টায় খোঁজ খবর নিয়েছেন। সম্মিলিত সমারিক হাসপাতালের ডাক্তাররা রাতদিন কাবার করে কাজ করেছে। ওনারা নিজের বাবার মতো করে সেবা করেছেন।

কুলখানিতে অন্যদের মধ্যে অংশ নেন আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ, মোহাম্মদ. নাসিম, সালমান এফ রহমান, নুরে আলম সিদ্দিকী, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ এবং প্রয়াত এরশাদের দুই পুত্র এরিক এরশাদ, সা'দ এরশাদ।

জাতীয় পার্টির নেতাদের মধ্যে ছিলেন, ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, রুহুল আমিন হাওলাদার, মসিউর রহমান রাঙ্গা, কাজী ফিরোজ রশিদ, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান, আবু হোসেন বাবলা প্রমুখ।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র