Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

কাদের না চাইলে হানিফ সাধারণ সম্পাদক, সভাপতি শেখ হাসিনা

কাদের না চাইলে হানিফ সাধারণ সম্পাদক, সভাপতি শেখ হাসিনা
ছবি: সংগৃহীত
আবু হায়াত মাহমুদ
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

আগামী অক্টেবরের শেষ নাগাদ অনুষ্ঠিত হবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক ২১তম জাতীয় সম্মেলন। টানা নবমবারের মতো দলের প্রধান পদ সভাপতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে দলের দ্বিতীয় ক্ষমতাধর সাধারণ সম্পাদক পদে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নির্বাচিত হবেন বলে দলটির বিভিন্ন স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে নিশ্চিত করেছে।

তবে শারীরিক দিক বিবেচনা করে ওবায়দুল কাদের যদি অনিচ্ছা প্রকাশ করেন, সে ক্ষেত্রে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হতে পারেন বলেও জানা গেছে।

সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা না থাকলেও অন্যান্য পদগুলোতে রদবদল হবে। আসবেন নতুন মুখ। সভাপতি মণ্ডলী, সম্পাদক মণ্ডলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে বেশ কিছু নতুন মুখ আসবেন। বাদ পড়বেন বর্তমান অনেকেই। তবে গুরুত্বপূর্ণ এসব পদের কারা বাদ পড়বেন বা নতুন কারা আসবেন সে ব্যাপারে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে রদবদল, নতুনদের অন্তর্ভুক্তি ও বাদ দেওয়ার বিষয়টি অনেকটাই সভাপতি বা দলীয় প্রধানের ওপর নির্ভর করবে বলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে।

দেশের অন্যতম বৃহৎ ও প্রাচীনতম এ দলটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রধান দু’টি পদ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হবেন দেশের সব বিভাগ, জেলা ও উপজেলা থেকে আসা দলের কাউন্সিলরদের ভোটে।

সভাপতি পদে দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং সমর্থকদের একমাত্র দাবি হচ্ছে, শেখ হাসিনা। এক্ষেত্রে বিকল্পের কোনো দাবি বা চিন্তা আপাতত দলের কারো মধ্যে নেই। শেখ হাসিনা তনয় এবং তথ্য ও প্রযুক্ত বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের এবারও দলের নেতৃত্বে আসার সম্ভাবনা নেই।

অবশ্য সাধারণ সম্পাদক পদটি পেতে দলের মধ্যে অনেকেরই আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। যদিও সরাসরি কেউ দাবি করেন না। তবে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের অনেকের সাংগঠনিক তৎপরতায় তা ফুটে ওঠে। তবে সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদে কাউন্সিলরদের ভোটের ফলাফলের প্রতিফলন ঘটে অনেকটা কেন্দ্রের পছন্দের ওপর। কেন্দ্র থেকে স্থানীয় বা তৃণমূল পর্যায়ে যে বার্তা পাঠানো হয় তার ওপর ভিত্তি করেই কাউন্সিলরা ভোটের মাধ্যমে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করেন।

সাংগঠনিক কার্যক্রম, দলের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা সর্বোপরি রাজনৈতিক দূরদর্শিতা বিবেচনায় কেন্দ্র থেকেও অনেকটা নির্ধারণ করা হয় দলের দ্বিতীয় পদটিতে কে আসবেন, সভাপতি শেখ হাসিনার সহযোদ্ধা হবেন। এ দৌড়ে এবারও এগিয়ে আছেন ওবায়দুল কাদের। তবে পিছিয়ে নেই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম হানিফও।

এছাড়া আলোচনায় আছেন তিনজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক- ডা. দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবীর নানক ও আব্দুর রহমান এবং সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। তবে সাংগঠনিক দিক বিবেনায় এ চারজনের তুলনায় হানিফ এগিয়ে আছেন বলে জানা গেছে।

ওবায়দুল কাদের অসুস্থ হওয়ার পর যে প্রশ্ন উঠেছিল, তা কাটিয়ে উঠেছেন তিনি। দলের সভা-সমাবেশ, সাগঠনিক কার্যক্রম এবং মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে পুরোপুরি নিয়োজিত কাদের। তাই এ মুহূর্তে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাও বিকল্প চিন্তা করছেন না বলে আওয়ামী লীগের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

শারীরিক দিক বিবেচনায় সাধারণ সম্পাদক ও মন্ত্রীত্ব দু’টি দায়িত্ব পালনে অনিচ্ছা আছে কি-না, সে বিষয়ে জানতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে সাড়া মেলেনি ওবায়দুল কাদেরের। যোগাযোগ করা হলে মুখ খুলতে রাজি হননি মাহবুব উল আলম হানিফও।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২২ ও ২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দলটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পর পর জাতীয় সম্মেলন হওয়ার বিধান রয়েছে। সে ক্ষেত্রে আগামী ২৪ অক্টোবর বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হবে।

এদিকে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ পালিত হবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। তাই এবারের সম্মেলন পিছানোর কোনো সম্ভাবনা নেই। কোনো রকম কালক্ষেপন না করে যথা সময়েই সম্মেলন সম্পন্নের ব্যাপারে বিশেষ তাগিদ রয়েছে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যদিও বিভিন্ন ইস্যুতে পিছানো হয়েছিলো ২০তম সম্মেলন।

এ মাসেই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় সম্মেলনের প্রস্তুতি ও গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটিগুলো গঠন করা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এর আগে গত মার্চে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে দলের সভাপতি মণ্ডলীর সভায় ২১তম মম্মেলনের সিদ্ধান্ত হয়।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন ও জাতীয় সম্মেলনের প্রস্তুতিকে সামনে রেখে দেশব্যাপী সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করতে আটটি টিম গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন :

খুঁড়িয়ে চলা ঐক্যফ্রন্টের ভবিষ্যত কী?

খুঁড়িয়ে চলা ঐক্যফ্রন্টের ভবিষ্যত কী?
জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট

অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন গঠন করেছিলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। শুরুতে জোট গঠন নিয়ে দেশের মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা থাকলেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তা স্তিমিত হয়ে পড়ে। এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, ঠিক মতো চলতে না পারা সরকারবিরোধী এই জোটের ভবিষ্যত কী?

একাদশ জতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জোট নেতাদের বড় বড় কথার ঝুলি প্রতিধ্বনিত হয়েই ফিরে এসেছে, কার্যত কিছুই করতে পারেনি ঐক্যফ্রন্ট। নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে আয়োজিত সমাবেশ ছিল বেশ আশাজাগানিয়া। কিন্তু ৩০ ডিসেম্বরের ভোটের ফল প্রকাশিত হওয়ার পর জোটের পক্ষ থেকে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করা হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেছিলেন ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। কিন্তু তা হয়নি। এমনকি সরকারের বিরুদ্ধে ‘ভোট ডাকাতি ও কারচুপি’র অভিযোগ আনলেও এর প্রতিবাদে সামান্য আন্দোলনও করেনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। নির্বাচনী ট্রাব্যুনালে মামলা করার ঘোষণা দেওয়া হয়, কিছু আসন থেকে মামলাও করা হয়। একই সঙ্গে জাতীয় সংলাপ এবং পুনর্নির্বাচনের দাবিতে জনমত গঠনে ও দেশব্যাপী জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা সফর করবেন বলে ঘোষণা আসে। কিন্তু তাও পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে দেখা যায়নি।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/17/1563379198299.jpgরাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন আছে, তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে বিএনপিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ড. কামাল হোসেনকে কৌশলে ব্যবহার করেছে আওয়ামী লীগ। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মাদ নাসিম তো বলেই দিলেন, ড. কামাল হোসেন সংসদ নির্বাচনে তাদের পক্ষে কাজ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘বিএনপির বন্ধুরা বারবার ভুল করেছে, ২০১৪ সালে একবার গোস্যা করে নির্বাচনে আসেনি। ২০১৮ সালে নির্বাচনে এলো লোক ভাড়া করে। কাকে ভাড়া করল? আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত, অত্যন্ত শিক্ষিত ও বিদগ্ধ নেতা ড. কামাল হোসেনকে ভাড়া করে সামনে দাঁড় করাল। তিনি আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করে মাঠ খালি করে দিলেন। আর আমরা ফাঁকা মাঠে গোল দিলাম। এই হচ্ছে তাদের (বিএনপির) ভাড়াটের মুরোদ। ওরা কামাল হোসেনকে ভাড়া করল ওদের জন্য, আর কাজ করল আমাদের জন্য।’

তবে নাসিমের এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে গণফোরাম।

ভোট প্রত্যাখ্যান করলেও সংসদ সদস্য হিসেবে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা শপথ নেন। নির্বাচনী ট্রাইবুন্যালে মামলা করার পর তার কোনো খোঁজ নেই। নির্বাচনের পর নারী ও শিশু নির্যাতনের প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগে একটি কর্মসূচি ডেকেও পরে তা বাতিল করা হয়। জনস্বার্থেও নেই কোন কর্মসূচি সরকারবিরোধী এ জোটের।

সম্প্রতি ঐক্যফ্রন্ট থেকে বের হয়ে গেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। অপর দিকে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না ঐক্যফ্রন্টের সর্বশেষ স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে অংশ নেননি। জোটের প্রতি বিএনপি নেতাদেরও আগ্রহ কমছে।

রাজধানীর পুরানা পল্টনে জামান টাওয়ারের চতুর্থ তলায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অস্থায়ী কার্যালয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্বাচনের আগে এই ভবনে জোটটির কিছু কার্যক্রম থাকলেও নির্বাচনের পর সংবাদ সম্মেলন, সভা বা কোন অনুষ্ঠানই হয়নি।

এ অবস্থায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ঐক্যফ্রন্টের কোন ভবিষ্যত দেখছেন না। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, ঐক্যফ্রন্টের কোন ভবিষ্যত আমি দেখতে পাচ্ছি না। তারা কিচ্ছু করতে পারবে না, মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে, বিএনপিকেও। সংসদে বলা হয়েছে ড. কামাল হোসেন আওয়ামী লীগের ফর্মুলা বাস্তবায়ন করেছেন। তার কার্যকলাপ দেখে সেটা বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে, কিন্তু সেটা বিশ্বাস করতে চাই না। তিনি নির্বাচনের আগে হুঙ্কার দিলেন কিন্তু নির্বাচনের পর বিড়ালের মতো বসে রইলেন। নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্ট যে ভূমিকা রেখেছে সে জন্য তাদের ওপর জনগণের কোন ভরসা নেই।

দিলারা চৌধুরী আরও বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনটাকে ধ্বংস করে দিল আর তারা (ঐক্যফ্রন্ট) একটা হরতাল ডাকতে পারলো না! তারা দুটি কাজ করতে পারতো, এক. হরতাল ডেকে প্রতিবাদ করা আর দ্বিতীয়টি হলো সংসদে না যাওয়া। এটা বলতে পারি জনগণের বিশ্বাস তাদের ওপর থেকে চলে গেছে।

ঐক্যফ্রন্টের দিকে না তাকিয়ে থেকে বিএনপির যে শক্তি আছে সেটাকেই সংগঠিত করা উচিত বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমদ।

বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে তিনি বলেন, প্রথম থেকেই জোট নিয়ে আশাবাদী ছিলাম না, এখনো না। বিএনপি অনেক বড় রাজনৈতিক দল, এরা যদি কাজ করে সেটাই যথেষ্ট। নির্বাচনের আগে এদের সহানুভূতির প্রয়োজন ছিল, এই মুহুর্তে তার প্রয়োজন আছে বলে মনে করছি না। কাদের সিদ্দিকী চলে গেলেন, আ স ম রব চলে যাবেন কিনা জানি না। বিএনপির সেদিকে তাকানোর দরকার আছে বলে মনে করি না। নিজেদের যে শক্তি আছে এটাকেই সংগঠিত করতে পারলে যথেষ্ট।

এদিকে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, আমরা সবাই দল গোছাচ্ছি, বিএনপির মধ্যেও একটা অস্বস্তি চলছে। ড. কামাল হোসেন চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফিরলেন, আ স ম রবের অপারেশন করা হয়েছে। সব কিছু গুছিয়ে উঠতে আরো কিছুদিন সময় লাগবে। কাদের সিদ্দিকীর বের হয়ে যাওয়া কোন সমস্যা না। ঐক্যফ্রন্ট জনগণের অন্তরে গেঁথে আছে। আমরা দেশের মানুষকে একটা জায়গায় নিয়ে গেছি, তাদের জন্য যা করা দরকার ছিল তা আমরা করতে পারিনি। কিন্তু সরকারের মুখোশ আমরা উন্মোচন করে দিয়েছি দেশের মানুষের কাছে, বিশ্বের কাছে।

এরশাদ শুধু ভাই না, আমার পিতা ও শিক্ষক ছিলেন

এরশাদ শুধু ভাই না, আমার পিতা ও শিক্ষক ছিলেন
গুলশান আজাদ মসজিদে প্রয়াত এরশাদের কুলখানি/ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ শুধু আমার বড় ভাই ছিলেন না। উনি আমার পিতা উনি আমার শিক্ষক ছিলেন। ওনার কোলে চড়ে সিনেমা দেখেছি, হাতে ধরে চামুচ দিয়ে খাওয়ায় এবং কিভাবে টাই বাঁধতে হয় শিখিয়ে দিয়েছেন।

বুধবার (১৭ জুলাই) বিকেলে গুলশান আজাদ মসজিদে প্রয়াত এরশাদের কুলখানিতে কাতর কণ্ঠে  তিনি এমন মন্তব্য করেন।

জিএম কাদের বলেন, আমি যখন রাজনীতিতে আসি তখন কিভাবে পরিবেশ ট্যাকেল দিতে হয়, সংকট মোকাবেলা করতে হয় শিখিয়েছেন। আমাদের মাথার উপর ছাতাটি সরে গেছে, বট গাছটি আর নেই। আপনারা ওনার জন্য দোয়া করবেন।

কাদের বলেন, আজকে খেলার যে অর্জন তার বীজবপন করেছেন উনি বিকেএসপি প্রতিষ্ঠা করে। আমি সরকারকে ধন্যবাদ জানাই ওনার বীজটাকে লালন করার জন্য। আওয়ামী লীগ গ্রামকে শহর করার কথা বলছে এর গোড়াপত্তন করেছেন এরশাদ উপজেলা প্রতিষ্ঠা করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/17/1563368275716.jpg

তিনি বলেন, একটি মানুষের অবদান অর্জন বুঝা যায় তার মৃত্যূর পর জানাজায় লোক সমাগম দেখে। ওনার চারটি জানাজা হয়েছে কোনটিতে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। একটির চেয়ে আরেকটি সমাগম বেশি হয়েছে। এতে বুঝা যায় ওনার নীতি কর্ম মানুষ গ্রহণ করেছিলেন।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জিএম কাদের বলেন, আমার ভাই যখন হাসপাতালে তখন প্রতি ঘণ্টায় খোঁজ খবর নিয়েছেন। সম্মিলিত সমারিক হাসপাতালের ডাক্তাররা রাতদিন কাবার করে কাজ করেছে। ওনারা নিজের বাবার মতো করে সেবা করেছেন।

কুলখানিতে অন্যদের মধ্যে অংশ নেন আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ, মোহাম্মদ. নাসিম, সালমান এফ রহমান, নুরে আলম সিদ্দিকী, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ এবং প্রয়াত এরশাদের দুই পুত্র এরিক এরশাদ, সা'দ এরশাদ।

জাতীয় পার্টির নেতাদের মধ্যে ছিলেন, ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, রুহুল আমিন হাওলাদার, মসিউর রহমান রাঙ্গা, কাজী ফিরোজ রশিদ, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান, আবু হোসেন বাবলা প্রমুখ।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র