Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বেরিয়ে যাওয়া-আসা থাকবেই: মির্জা ফখরুল

বেরিয়ে যাওয়া-আসা থাকবেই: মির্জা ফখরুল
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর
Kamrul Hasan


  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর বেরিয়ে যাওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মানুষকে হতাশ হতে দেবেন না, মানুষকে হতাশার কথা বলবেন না। এই দুই একটা লোক বেরিয়ে যাচ্ছে, আসছে, যাচ্ছে। বরাবরই হচ্ছে, এটা হবেই।

তিনি বলেন, সবাই একই রকম হয় না। বিভিন্ন রকম চিন্তাবোধ থাকে। কিন্তু আমরা যদি সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে ভালোবাসি, দেশকে এগিয়ে নিতে নিয়ে যেতে চাই, মানুষের মুক্তি দেখতে চাই, তাহলে অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এদেরকে পরাজিত করতে হবে।

বুধবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবে মশিউর রহমান যাদু মিয়ার ৯৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত মুক্ত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভার আয়োজন করে ‘মশিউর রহমান যাদু মিয়া স্মৃতি জাতীয় কমিটি’।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, 'ফ্যাসিবাদ, সমস্ত রাষ্ট্রযন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করা সহজ কথা নয়। আমরা চেষ্টা করেছি নির্বাচনের পূর্বে ২০ দলীয় জোট, ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে দেশের সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এই দানব সরকারকে পরাজিত করতে, কিন্তু আমরা পারিনি। তার মানে তো এই না যে, আমরা শেষ হয়ে গেছি, মুখ থুবড়ে পড়ে গেছি। সমস্ত মানুষদের আশা আকাঙ্ক্ষা ধ্বংস হয়ে গেছে? কখনই না। আমরা যদি আজকে একত্রিত আর ঐক্যবদ্ধ হতে পারি, তাহলে এই মানুষগুলোকে নিয়েই আমরা সামনের দিকে এগোতে পারব।'

বিএনপি নেতা বলেন, 'আমরা কোনো সিদ্ধান্তই নেইনি খালেদা জিয়ার সঙ্গে পরামর্শ না করে। প্রতিটি সিদ্ধন্ত নিয়েছি তার পরামর্শ নিয়ে। আমরা ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছি, নির্বাচনে গিয়েছি তার পরামর্শ নিয়ে। বাংলাদেশের যদি কোনো নেতা থাকেন তিনি হলেন বেগম খালেদা জিয়া। এখানে কেউ দ্বিমত পোষণ করবেন না, আমার মনে হয়।'

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'তাকে আটকে রেখেছে কেন? ঠিক সেই সময়টাতে আটকিয়েছে যখন নির্বাচন এসে গেছে। কারণ, তিনি তখন বাইরে থাকলে স্রোতের মতো তারা (আওয়ামী লীগ) ভেসে যেতো। তাকে এখনও আটকে রেখেছে এজন্য যে, তিনি যদি এখন মুক্ত হন তাহলে তাদের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে যাবে। যেখানে জামিন পাওয়াটা তার আইনগত প্রাপ্যতা, সেই জামিনটা তারা দিচ্ছে না। কারণ, তারা জানে তিনি জামিন পেলে তাদের অবৈধভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকা সম্ভব হবে না।'

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি শামসুল হকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও শিক্ষাবিদ মাহবুবউল্লাহ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, মশিউর রহমান যাদু মিয়ার মেয়ে রিটা রহমান প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন :

রাজপথ দখলের নেওয়ার সময় এসে গেছে: ফারুক

রাজপথ দখলের নেওয়ার সময় এসে গেছে: ফারুক
মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখছেন জয়নুল আবদিন ফারুক

রাজপথ দখলে নেওয়ার সময় এসে গেছে মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, আসুন সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে রাস্তায় নামি, রাজপথ প্রকম্পিত করি।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে নাটকীয়তার প্রতিবাদ’ শীর্ষক মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে অপরাজেয় বাংলাদেশ নামে একটি সংগঠন।

মানববন্ধন কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, ১৬ কোটি মানুষের প্রাণের নেত্রীর মুক্তির আন্দোলন বেগবান করতে সহসাই কর্মসূচি নেওয়া হবে। গতকাল বরিশালের মহাসমাবেশে দেশবাসী লক্ষাধিক লোকের সমাগম দেখেছে। আগামীকাল চট্টগ্রামে হবে, ২৫ তারিখ হবে খুলনায়। সেগুলোতেও লাখো লোকের সমাগম ঘটবে। আশা করব সরকার খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যবস্থা করবে। তা না হলে সারাদেশে যে তীব্র আন্দোলন গড়ে উঠবে সেই আন্দোলনের তোড়ে অবৈধ সরকারের গদি নড়ে যাবে।

তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দলের অত্যাচার-নির্যাতন-গুম-খুনে জর্জরিত বিএনপি। খালেদা জিয়া তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, যিনি বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী— সেই নেত্রী আজ মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় কারাগারে। যতই অত্যাচার হোক, যতই নির্যাতন হোক, যতই মামলা-হামলা হোক বিএনপির ঐক্য আরও জোরদার হচ্ছে। বিএনপির ভিত আরও শক্তিশালী হচ্ছে।

জয়নুল আবদিন ফারুক আরও বলেন, সরকার আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার করছে, হত্যা-নির্যাতন করছে। ২৫ লাখের অধিক মামলা বহন করে আমাদের নেতাকর্মীরা জীবনযাপন করছেন।

আয়োজক সংগঠনের সহ-সভাপতি আলহাজ খলিলুর রহমান ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন সিরাজী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, সহ-শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ফরিদা মনি শহীদুল্লাহ, কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কে এম রফিকুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।

ধর্ষণের উৎসব শুরু হয়েছে: মির্জা ফখরুল

ধর্ষণের উৎসব শুরু হয়েছে: মির্জা ফখরুল
বিভাগীয় সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, 'পত্রিকা খুললেই ধর্ষণ ছাড়া কোনো খবর নাই। ১০ বছর, ছয় বছর, পাঁচ বছর, ১০০ বছরের নারীকেও পর্যন্ত ধর্ষণ করা হচ্ছে। দেশে ধর্ষণের উৎসব শুরু হয়েছে।'

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে বরিশাল মহানগরের কেন্দ্রীয় হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ মাঠে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশের অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, 'প্রতিদিন শুধু হত্যা আর হত্যা। এমনকি আদালত পর্যন্ত বাদ যাচ্ছে না। সেটাও নিরাপদ জায়গা নয়। সেখানে গিয়ে বিচারকের সামনে হত্যা করা হচ্ছে। কোথায় যাবেন? কার কাছে যাবেন? সরকার খুব ঢোল বাজায়, নিজেরাই বাজাচ্ছে উন্নয়ন, উন্নয়ন, উন্নয়ন। এমন উন্নয়ন যে, দেশের মানুষ মারা যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। অথচ কৃষক তার ধানের মূল্য পায় না, সরকারি কর্মচারীদের বেতন ভাতা দিন দিন বাড়ানো হচ্ছে। সরকার তাদের ওপর ভর করে এ দেশের জনগণের বঞ্চিত করে দেশ শাসন করতে চায়।'

তিনি বলেন, 'সারা দেশে আওয়ামী লীগ সরকার গত এক যুগে যে ভয়াবহ তাণ্ডব সৃষ্টি করেছে, গণতন্ত্রকে যেভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে, মানুষের অধিকারগুলোকে যেভাবে কেড়ে নিয়েছে এবং মানুষের ওপর যে অত্যাচার-নির্যাতন করছে এটা নজিরবিহীন। সরকার বাংলাদেশে একটা নারকীয় অবস্থার তৈরি করে ফেলেছে।'

খালেদা জিয়ার কারাবাস সম্পর্কে বিএনপির মহাসচিব বলেন, 'একটি মিথ্যা মামলায় দেশনেত্রীকে কারাগারে রাখা হয়েছে। এই মামলায় অন্য সকল আসামির জামিন হয়েছে কিন্তু খালেদা জিয়ার জামিন দিচ্ছে না। কারণ সরকার বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণ করছে, তাই দেশনেত্রীর জামিন হচ্ছে না। আমাদের আইনজীবীরা সব দিক দিয়ে চেষ্টা করেছেন। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। দেশের মানুষ যদি তাদের অধিকার, স্বাধীনতা রক্ষা করতে চায়, তাহলে অবশ্যই সকলকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে।'

সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সাহেবের মৃত্যুতে আমরা শোক প্রকাশ করেছি। কিন্তু এটাতো সত্য যে, তার সরকারের আমলেই এ দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা হয়েছে। তার আমলে বহু মানুষ নিহত হয়েছেন, ছাত্রদের হত্যা করা হয়েছে। জনগণের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তাকে সরানো হয়েছে। আজকে আওয়ামী লীগ তাদের সঙ্গে জোট বেধে জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আজকে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া হয়। আর যিনি গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করলেন, ৭১ সালে পাক সেনাদের হাতে বন্দী থাকলেন তাকে কারাগারের অন্ধকারের রাখা হচ্ছে।'

বরিশাল মহানগর বিএনপির সভাপতি মজিবুর রহমান সরোয়ারের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ সহ স্থানীয় কয়েক হাজার নেতাকর্মী।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র