Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

অল্পতেই পার পাবেন আ’লীগের শৃঙ্খলাভঙ্গকারীরা!

অল্পতেই পার পাবেন আ’লীগের শৃঙ্খলাভঙ্গকারীরা!
আওয়ামী লীগের দলীয় পতাকা
রেজা-উদ্-দৌলাহ ও তপন কান্তি রায়
স্টাফ করেসপেন্ডন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.ডটকম


  • Font increase
  • Font Decrease

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ ও ওয়ার্কিং কমিটির সভা শুক্রবার (১২ জুলাই)। বিকেল ৪টায় গণভবনে সভা দুটি অনুষ্ঠিত হবে। দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন।

রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কারণে সভাদুটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ইতোমধ্যেই ওয়ার্কিং কমিটির সভার এজেণ্ডা ও তার সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে বেশ কৌতূহল তৈরি হয়েছে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মাঝে।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সদ্য অনুষ্ঠিত পাঁচ ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া মন্ত্রী-এমপিরদের নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে শুক্রবারের বৈঠক থেকে। সেই ইঙ্গিতও দেন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আগামীকাল ওয়ার্কিং কমিটি ও উপদেষ্টা কাউন্সিলের মিটিং করব আমরা। এ বৈঠক থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত নেব।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, এতদিন দলের বিদ্রোহী ও শৃঙ্খলাভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাদের সাংগঠনিক শাস্তির সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে আওয়ামী লীগ। তবে তাদের কঠোরভাবে তিরষ্কার করা হবে। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতের জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করে দেওয়া হবে। তবে সবকিছু নির্ভর করবে দলীয় সভাপতির মর্জির ওপর।

এবারের পাঁচ ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মোট ১৪৩ জন দলীয় প্রার্থীর পরাজয় হয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে এই নির্বাচনে বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কাছে পরাজিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, কমপক্ষে ৫৫ মন্ত্রী-এমপি রয়েছেন যারা উপজেলা নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গেছেন। অনেকে নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থীদের দাঁড় করিয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের হারিয়ে দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, দলের তৃণমূল সম্মেলনেও বিরোধিতা করছেন। তাদের বিরুদ্ধে নিজ বলয় ভারী করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে ত্যাগী ও পরিশ্রমী নেতাদের বাদ দিয়ে নিজ আত্মীয়-স্বজন কেন্দ্রিক কমিটি তৈরি করার অভিযোগ উঠেছে। অনেক সময় দলীয় সিদ্ধান্তকে তোয়াক্কাই করেন না তারা।

এর আগে ৭ জুলাই সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে দলের ভূমিকা পর্যালোচনা করা হয়। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকরা বৈঠকে তাদের সাংগঠনিক রিপোর্ট তুলে ধরেন। সে সময় তারা কমপক্ষে ৫৫ জন এমপি/মন্ত্রীকে দলের শৃঙ্খলাভঙ্গকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ওই বৈঠক থেকে বিদ্রোহী ও শৃঙ্খলাভঙ্গকারীদের বিষয়ে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেছিলেন, ‘ডিসিপ্লিন ব্রেক করার আসকারা পেলে এর প্রবণতা বাড়ে। তাই আমরা এর লাগাম টেনে ধরতে চাই। তাদের বিষয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে ওয়ার্কিং কমিটির মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হবে। কেউ এমপি ও মন্ত্রী হয়ে দলের বিরুদ্ধে কাজ করলে, তাকে মনোনয়ন দেওয়া নাও হতে পারে। কম গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হতে পারে। নানারকম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, কালকের বৈঠকে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বিষয় নিয়েই পর্যালোচনা করা হবে। উপজেলা নির্বাচনে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন, যেসব সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী শৃঙ্খলাভঙ্গ করেছেন তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হতে পারে।

তিনি আরো বলেন, দলের নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযান ও আগামী জাতীয় সম্মেলন আয়োজন নিয়েও দলীয় সভাপতি আমাদের দিক নির্দেশনা দেবেন।

আপনার মতামত লিখুন :

দেশে মেগা প্রকল্পের নামে মেগা লুট চলছে: ফখরুল

দেশে মেগা প্রকল্পের নামে মেগা লুট চলছে: ফখরুল
চট্টগ্রামে বিভাগীয় সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘সরকার উন্নয়নের নামে ঢোল পিটিয়ে মেগা প্রকল্পের নামে মেগা হরিলুট করছে। দেশের ব্যাংকগুলো রুগ্ন হয়ে গেছে। গোটা অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ঋণ নির্ভর হয়ে পড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশ গভীর অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে পড়বে।’

শনিবার (২০জুলাই) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নাসিম ভবনের সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাজেট ঘোষণার পরই গ্যাস, জ্বালানিসহ প্রত্যেকটা জিনিসের দাম বাড়ানো হয়েছে। নিজেরা ঢোল বাজিয়ে দেশে উন্নয়নের লহরী ভরিয়ে দিয়েছে। দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের কথা বাদ দিয়ে তারা লুটপাটকারীদের সুবিধার্থে কালো টাকা সাদা করার ব্যবস্থা করে দিয়েছে।’

নির্বাচন কমিশনারের হজ প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, ‘সাংবিধানিক ব্যবস্থা এত লজ্জাজনক অবস্থায় গেছে, যেখানে নির্বাচন কমিশনার একটি দলের তত্ত্বাবধায়কের সদস্য হয়ে হজ করতে যাচ্ছেন। উপহার হিসেবে আপনাকে হজ করতে পাঠানো হলো। এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে পারে না।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, মামলায় ভারাক্রান্ত হয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা পালিয়ে গিয়ে রিকশা চালাচ্ছেন, হকারের কাজ করছেন। খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারাবন্দী করে রেখেছে। আইনজীবীদের শত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শেখ হাসিনার নির্দেশ ছাড়া তাঁর মুক্তি মিলছে না।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563634869186.gif

এর আগে বক্তব্যের শুরুতে ফখরুল দেশের বন্যর্তদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিএনপি নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান।

দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, ‘সরকারের একঘেয়েমির কারণে পৃথিবীর কেউ আমাদের দেখতে পারে না। অবিলেম্বে রোহিঙ্গাদের তাদের ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। নির্বাচিত সরকার এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।

চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আউয়াল মিন্টু, আবদুল্লাহ আল নোমান, সুকুমার রায়, গিয়াস উদ্দিন কাদের, বরকত উল্লাহ বুলু, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম, খন্দকার মোশারফ হোসেন, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সাবেক চিফ হুইপ জয়নাল আবেদীন ফারুক সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।

এদিকে বিভাগীয় সমাবেশ ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে বিরাজ করে উৎসবের আমেজ। দলীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠানের অনুমতি থাকলেও নেতাকর্মীদের আগমনে সমাবেশ ছড়িয়ে পড়ে কাজীর দেউড়ি, লাভলেইন এলাকায়।

জিএম কাদেরের সঙ্গে রওশন এরশাদের বৈঠক

জিএম কাদেরের সঙ্গে রওশন এরশাদের বৈঠক
রওশন এরশাদ ও জিএম কাদের, ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের সঙ্গে জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা রওশন এরশাদ একান্তে বৈঠক করেছেন।

শনিবার (২০ জুলাই) দুপুরে গুলাশানস্থ রওশন এরশাদের বাসভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দুপুরের খাবার খেয়ে তারা দীর্ঘ সময় পার্টির বর্তমান কর্মসূচি এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

বৈঠক শেষে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, ‘বেগম রওশন এরশাদ আমাদের অভিভাবক। তার পরামর্শে জাতীয় পার্টিকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাব। জাতীয় পার্টিতে অনৈক্য ও বিভেদের কোনো স্থান নেই। সবাইকে নিয়েই জাতীয় পার্টি গণমানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে এগিয়ে যাবে।’

রওশন এরশাদ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে আর্শিবাদ করেছেন বলেও জানা গেছে।

রওশন এরশাদের বাসভবনে আরও উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যরিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, যুগ্ম মহাসচিব হাসিবুল ইসলাম জয় ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জেষ্ঠ্যপুত্র রাহগির আল মাহি সাদ এরশাদ।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র