অল্পতেই পার পাবেন আ’লীগের শৃঙ্খলাভঙ্গকারীরা!

রেজা-উদ্-দৌলাহ ও তপন কান্তি রায়, স্টাফ করেসপেন্ডন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.ডটকম
আওয়ামী লীগের দলীয় পতাকা

আওয়ামী লীগের দলীয় পতাকা

  • Font increase
  • Font Decrease

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ ও ওয়ার্কিং কমিটির সভা শুক্রবার (১২ জুলাই)। বিকেল ৪টায় গণভবনে সভা দুটি অনুষ্ঠিত হবে। দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন।

রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কারণে সভাদুটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ইতোমধ্যেই ওয়ার্কিং কমিটির সভার এজেণ্ডা ও তার সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে বেশ কৌতূহল তৈরি হয়েছে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মাঝে।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সদ্য অনুষ্ঠিত পাঁচ ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া মন্ত্রী-এমপিরদের নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে শুক্রবারের বৈঠক থেকে। সেই ইঙ্গিতও দেন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আগামীকাল ওয়ার্কিং কমিটি ও উপদেষ্টা কাউন্সিলের মিটিং করব আমরা। এ বৈঠক থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত নেব।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, এতদিন দলের বিদ্রোহী ও শৃঙ্খলাভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাদের সাংগঠনিক শাস্তির সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে আওয়ামী লীগ। তবে তাদের কঠোরভাবে তিরষ্কার করা হবে। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতের জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করে দেওয়া হবে। তবে সবকিছু নির্ভর করবে দলীয় সভাপতির মর্জির ওপর।

এবারের পাঁচ ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মোট ১৪৩ জন দলীয় প্রার্থীর পরাজয় হয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে এই নির্বাচনে বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কাছে পরাজিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, কমপক্ষে ৫৫ মন্ত্রী-এমপি রয়েছেন যারা উপজেলা নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গেছেন। অনেকে নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থীদের দাঁড় করিয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের হারিয়ে দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, দলের তৃণমূল সম্মেলনেও বিরোধিতা করছেন। তাদের বিরুদ্ধে নিজ বলয় ভারী করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে ত্যাগী ও পরিশ্রমী নেতাদের বাদ দিয়ে নিজ আত্মীয়-স্বজন কেন্দ্রিক কমিটি তৈরি করার অভিযোগ উঠেছে। অনেক সময় দলীয় সিদ্ধান্তকে তোয়াক্কাই করেন না তারা।

এর আগে ৭ জুলাই সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে দলের ভূমিকা পর্যালোচনা করা হয়। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকরা বৈঠকে তাদের সাংগঠনিক রিপোর্ট তুলে ধরেন। সে সময় তারা কমপক্ষে ৫৫ জন এমপি/মন্ত্রীকে দলের শৃঙ্খলাভঙ্গকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ওই বৈঠক থেকে বিদ্রোহী ও শৃঙ্খলাভঙ্গকারীদের বিষয়ে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেছিলেন, ‘ডিসিপ্লিন ব্রেক করার আসকারা পেলে এর প্রবণতা বাড়ে। তাই আমরা এর লাগাম টেনে ধরতে চাই। তাদের বিষয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে ওয়ার্কিং কমিটির মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হবে। কেউ এমপি ও মন্ত্রী হয়ে দলের বিরুদ্ধে কাজ করলে, তাকে মনোনয়ন দেওয়া নাও হতে পারে। কম গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হতে পারে। নানারকম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, কালকের বৈঠকে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বিষয় নিয়েই পর্যালোচনা করা হবে। উপজেলা নির্বাচনে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন, যেসব সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী শৃঙ্খলাভঙ্গ করেছেন তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হতে পারে।

তিনি আরো বলেন, দলের নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযান ও আগামী জাতীয় সম্মেলন আয়োজন নিয়েও দলীয় সভাপতি আমাদের দিক নির্দেশনা দেবেন।

আপনার মতামত লিখুন :