Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

নৌকার বিপক্ষে অবস্থানকারীদের আর মনোনয়ন নয়: প্রধানমন্ত্রী

নৌকার বিপক্ষে অবস্থানকারীদের আর মনোনয়ন নয়: প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় সংসদ ভবনে আওয়ামী লীগ সংসদীয় দলের সভায় বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ছবি: সংগৃহীত
শাহজাহান মোল্লা
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

নৌকা প্রতীকে বিজয়ী হয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যেসব সংসদ সদস্য নৌকার বিপক্ষে অপস্থান নিয়েছেন তাদের বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এমপিদের উদ্দেশ্যে বলেন, যারা নৌকা মার্কা নিয়ে নির্বাচন করে বিজয়ী হয়েছে তারা এখন নিজ নিজ এলাকায় নৌকার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে, এটা তো আমাদের দেখতেই হবে। আগামীতে তাদের আর মনোনয়ন দেওয়া হবে না। এছাড়া দল ও সংসদে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য এমপিদের কঠোর বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) রাতে জাতীয় সংসদ ভবনের নবম তলায় সরকারি দলের সভাকক্ষে আওয়ামী লীগ সংসদীয় দলের সভায় এই নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে সাবেক মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, এ কে এম শামীম ওসমান, ফজলে নূর তাপস, আতিউর রহমান আতিক, মমতাজ বেগম ও মুন্নুজান সুফিয়ান বক্তব্য রাখেন।

বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের কয়েকজন সিনিয়র নেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। বৈঠকে আওয়ামী লীগ প্রধান বলেন, এমপিদের শৃঙ্খলা রক্ষার নির্দেশ দিয়ে বলেন, প্রত্যেককে নিজ নিজ এলাকার প্রতি আরও বেশি মনোযোগী হতে হবে।

দলের মধ্যে যেসব এমপি শৃঙ্খলা ভঙ্গ করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নৌকা মার্কা নিয়ে নির্বাচন করে এমপি হয়ে এখন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেই নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের বিষয়টা তো আমাদের দেখতেই হয়। আগামী নির্বাচনে তাদের আর মনোনয়ন দেওয়া হবে না। নৌকা মার্কা নিয়ে বিজয়ী হয়ে এলাকায় নৌকার বিরুদ্ধে কাজ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে শুক্রবার দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকা এবং সংসদে পরিপূর্ণ শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সংসদ সদস্যদের প্রতি তাগিদ দিয়ে বলেন, যার যার এলাকায় যান, দলীয় কর্মকাণ্ডে মনোযোগী হন, নেতা-কর্মীসহ জনগণের পাশে থাকুন, তাদের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হয়ে কাজ করুন। তিনি প্রত্যেক জেলা-উপজেলায় দলের নিজস্ব কার্যালয় স্থাপনের তাগাদা দিয়ে বলেন, যেসব জেলা বা উপজেলায় নিজস্ব দলীয় কার্যালয় নেই, দ্রুত সেখানে কার্যালয় নির্মাণ করতে হবে। এ ব্যাপারে তিনি পরিপূর্ণ রিপোর্ট দেওয়ার জন্য বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদের নির্দেশ দেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/11/1562867260518.jpg

এছাড়া যেসব মন্ত্রী এখনও ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাট ছাড়েননি তাদের উদ্দেশ্য বলেছেন, ন্যাম ভবনের প্রতি এতই যদি দরদ থাকে তাহলে মন্ত্রিপাড়ার বাসা ছেড়ে ন্যাম ভবনে ওঠেন। এখানে গাড়ী চালক, পিয়নদের জন্য না। ন্যাম ভবন ছেড়ে অন্যদের থাকার সুযোগ করে দেন।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে দলের মধ্যে কোনো ধরণের কোন্দল-দ্বন্দ্বে জড়িত না হওয়ার জন্য সংসদ সদস্যদের নির্দেশ দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, কোনোভাবেই কোন্দল বা দ্বন্দ্বে জড়িত হবেন না। এ সময় সাবেক এক মন্ত্রীর নাম উল্লেখ না করে তাকে তীব্র ভৎর্সনা করে তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাচনে দলের মনোনীত নৌকার প্রার্থীর বিরোধীতা করেছেন। বিরোধীতা করতে গিয়ে সংঘর্ষে একজন কর্মীর প্রাণ গেছে। এসব কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। যে যত বড় নেতাই হোন না কেন, দলের বিরোধীতা কিংবা শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে কাউকেই ছাড়া হবে না। অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবার সংসদে দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বাজেট দেওয়া হয়েছে। বাজেট বাস্তবায়নকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। তাই নিজ নিজ এলাকায় যেয়ে গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ যেন দ্রুত সম্পন্ন হয় সেদিকে নজর রাখবেন। উন্নয়নের কাজকে ত্বরান্বিত করুন। মনে রাখবেন, দেশের জনগণ আমাদের ওপর পূর্ণ আস্থা-বিশ্বাস রেখে ভোট দিয়েছে। জনগণের সেই ভোটের মর্যাদা আমাদের রক্ষা করতে হবে। বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে আরও ত্বরান্বিত করতে হবে।

সূত্র জানায়, বৈঠকে আওয়ামী লীগের সংসদীয় সম্পাদক নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের দলের ফাণ্ডে বার্ষিক চাঁদা বাকি থাকার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী দ্রুত যেসব সংসদ সদস্যদের দলের বার্ষিক চাঁদা বাকি রয়েছে তা দ্রুত পরিশোধের নির্দেশ দেন।

আপনার মতামত লিখুন :

দেশে মেগা প্রকল্পের নামে মেগা লুট চলছে: ফখরুল

দেশে মেগা প্রকল্পের নামে মেগা লুট চলছে: ফখরুল
চট্টগ্রামে বিভাগীয় সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘সরকার উন্নয়নের নামে ঢোল পিটিয়ে মেগা প্রকল্পের নামে মেগা হরিলুট করছে। দেশের ব্যাংকগুলো রুগ্ন হয়ে গেছে। গোটা অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ঋণ নির্ভর হয়ে পড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশ গভীর অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে পড়বে।’

শনিবার (২০জুলাই) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নাসিম ভবনের সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাজেট ঘোষণার পরই গ্যাস, জ্বালানিসহ প্রত্যেকটা জিনিসের দাম বাড়ানো হয়েছে। নিজেরা ঢোল বাজিয়ে দেশে উন্নয়নের লহরী ভরিয়ে দিয়েছে। দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের কথা বাদ দিয়ে তারা লুটপাটকারীদের সুবিধার্থে কালো টাকা সাদা করার ব্যবস্থা করে দিয়েছে।’

নির্বাচন কমিশনারের হজ প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, ‘সাংবিধানিক ব্যবস্থা এত লজ্জাজনক অবস্থায় গেছে, যেখানে নির্বাচন কমিশনার একটি দলের তত্ত্বাবধায়কের সদস্য হয়ে হজ করতে যাচ্ছেন। উপহার হিসেবে আপনাকে হজ করতে পাঠানো হলো। এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে পারে না।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, মামলায় ভারাক্রান্ত হয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা পালিয়ে গিয়ে রিকশা চালাচ্ছেন, হকারের কাজ করছেন। খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারাবন্দী করে রেখেছে। আইনজীবীদের শত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শেখ হাসিনার নির্দেশ ছাড়া তাঁর মুক্তি মিলছে না।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563634869186.gif

এর আগে বক্তব্যের শুরুতে ফখরুল দেশের বন্যর্তদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিএনপি নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান।

দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, ‘সরকারের একঘেয়েমির কারণে পৃথিবীর কেউ আমাদের দেখতে পারে না। অবিলেম্বে রোহিঙ্গাদের তাদের ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। নির্বাচিত সরকার এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।

চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আউয়াল মিন্টু, আবদুল্লাহ আল নোমান, সুকুমার রায়, গিয়াস উদ্দিন কাদের, বরকত উল্লাহ বুলু, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম, খন্দকার মোশারফ হোসেন, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সাবেক চিফ হুইপ জয়নাল আবেদীন ফারুক সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।

এদিকে বিভাগীয় সমাবেশ ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে বিরাজ করে উৎসবের আমেজ। দলীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠানের অনুমতি থাকলেও নেতাকর্মীদের আগমনে সমাবেশ ছড়িয়ে পড়ে কাজীর দেউড়ি, লাভলেইন এলাকায়।

জিএম কাদেরের সঙ্গে রওশন এরশাদের বৈঠক

জিএম কাদেরের সঙ্গে রওশন এরশাদের বৈঠক
রওশন এরশাদ ও জিএম কাদের, ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের সঙ্গে জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা রওশন এরশাদ একান্তে বৈঠক করেছেন।

শনিবার (২০ জুলাই) দুপুরে গুলাশানস্থ রওশন এরশাদের বাসভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দুপুরের খাবার খেয়ে তারা দীর্ঘ সময় পার্টির বর্তমান কর্মসূচি এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

বৈঠক শেষে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, ‘বেগম রওশন এরশাদ আমাদের অভিভাবক। তার পরামর্শে জাতীয় পার্টিকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাব। জাতীয় পার্টিতে অনৈক্য ও বিভেদের কোনো স্থান নেই। সবাইকে নিয়েই জাতীয় পার্টি গণমানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে এগিয়ে যাবে।’

রওশন এরশাদ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে আর্শিবাদ করেছেন বলেও জানা গেছে।

রওশন এরশাদের বাসভবনে আরও উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যরিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, যুগ্ম মহাসচিব হাসিবুল ইসলাম জয় ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জেষ্ঠ্যপুত্র রাহগির আল মাহি সাদ এরশাদ।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র