Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

জোটের ভাঙাগড়ায় চিন্তিত নয় বিএনপি

জোটের ভাঙাগড়ায় চিন্তিত নয় বিএনপি
বিএনপির পতাকা ও ঐক্যফ্রন্টের লোগো
শিহাবুল ইসলাম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে তৈরি হয়েছিল ২০ দলীয় জোট। তিনি কারান্তরীণ হওয়ার পর একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে আগে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেয় বিএনপি।

সম্প্রতি ঐক্যফ্রন্ট থেকে বের হয়ে গেছে শরিক দল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। অন্যদিকে নতুন জোট গঠন করছেন ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।

জোটের ভাঙাগড়ার বিষয়ে পাত্তাই দিচ্ছেন না বিএনপি নেতারা। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির এখন মূল লক্ষ্য দলের চেয়ারপারসনকে কারামুক্ত করা। একই সঙ্গে দল পুনর্গঠন করে সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করা।

গত ২৭ জুন অলি আহমদ ‘জাতীয় মুক্তি মঞ্চ’ নামে একটি জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটেও থাকবেন। খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ ১৮ দফা দাবি নিয়ে ‘জাতীয় মুক্তি মঞ্চ’ গঠনের কথা বলা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন আছে জোটে মূল্যায়ন না পাওয়ায় আলাদাভাবে শক্তি সঞ্চার করতে চাচ্ছেন বিএনপির সাবেক এই নেতা। শক্তি সঞ্চার করে বিএনপির ওপর চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করবেন তিনি।

অপর দিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অস্তিত্ব ও কোনো কর্মকাণ্ড নেই দাবি করে গত ৮ জুলাই জোট থেকে বের হয়ে যান কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।

ঐক্যফ্রন্টের ভাঙন এবং ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়কের নতুন জোট গঠন- এগুলো সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে হতে পারে বলে মনে করছেন বিএনপি নেতারা। বলা যায় এসব বিষয় নিয়ে দলটির নেতারা আদতে কিছুই ভাবছেন না। অলি আহমদের উদ্যোগকে ইতিবাচক বলেও মনে করছেন বিএনপির কেউ কেউ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম 'জাতীয় মুক্তি মঞ্চ' ঘোষণার দিন উপস্থিত থাকলেও পরে আর এ বিষয়ে আগ্রহ দেখাননি। অন্যদিকে ২০ দলীয় জোটের বৈঠকেও উপস্থিত হচ্ছেন না তিনি।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে কাদের সিদ্দিকীর বেরিয়ে যাওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দুই-একটা লোক বেরিয়ে যাচ্ছে, আসছে-যাচ্ছে। বরাবরই হচ্ছে, এটা হবেই। সবাই একই রকম হয় না। বিভিন্ন রকম চিন্তাবোধ থাকে।

জোটের এসব বিষয় নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, আমরা একটা রাজনৈতিক বিশ্বাস নিয়ে কাজ করি। সে বিশ্বাসের সঙ্গে যারা একমত তাদের সঙ্গে আমাদের জোট। নির্বাচনের আগে ঐক্যফ্রন্ট গঠন করা হয়েছে। নির্বাচন শেষ, এখন তিনি জোটের সঙ্গে থাকতে চান না। তাকে তো জোর করে কেউ জোটে নিয়ে আসে নাই। নিজের সিদ্ধান্তে এসেছেন, এখন আবার নিজের সিদ্দান্তে সরে গেলেন। আবার হয়তো নিজের সিদ্ধান্তে চলে আসবেন।

নজরুল ইসলাম খান আরো বলেন, অলি আহমদ বলেছেন তিনি ২০ দলীয় জোটে আছেন, থাকবেন। তবে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে তিনি কিছু একটা করতে চান। আমাদের ২০ দলেরও সিদ্ধান্ত ছিল, জোটের মধ্যে যে সংগঠনগুলি রয়েছে তারাও খালেদা জিয়ার মুক্তি আদায়ে চেষ্টা করবে। পার্থক্যটা এই যে, তিনি এটাকে একটা মঞ্চ হিসেবে নাম দিয়েছেন। কিন্তু কীভাবে তিনি এটা করলেন, তার সঙ্গে কারা কারা আছেন সেটা পরিষ্কার নয়। বিভিন্ন দলের ভিন্ন ভিন্ন চিন্তা-ভাবনা আছে, থাকবে। এটা পড়ে ঠিক হয়ে যায়।

আপনার মতামত লিখুন :

‘লবিং নয়, যোগ্যতা দিয়েই ছাত্রলীগের নেতা হতে হবে’

‘লবিং নয়, যোগ্যতা দিয়েই ছাত্রলীগের নেতা হতে হবে’
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

বাংলাদেশে অধিকার আদায়ের সব আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) অবদান আছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল। শনিবার (২০ জুলাই) জবি ছাত্রলীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নেতৃত্বে যেই আসুক তাকে মেনে নিয়ে শেখ হাসিনার স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানাচ্ছি। যার ছাত্রত্ব আছে জবি ছাত্রলীগের নেতৃত্ব তাকেই দেওয়া হবে।

সম্মেলনের প্রধান বক্তা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, লবিং তদবির করে নেতা হওয়া যাবে না। ছাত্রলীগের নেতা হতে হলে যোগ্যতা দিয়েই নেতা হতে হবে।

সম্মেলনের উদ্বোধক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বলেন, প্রার্থীদের সবাই পদ পাবে না। তাই পদ না পেয়ে হারিয়ে যাওয়া যাবে না। একজন ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এক হয়ে কাজ করতে হবে।

সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক আশরাফুল ইসলাম টিটনের সভাপত্বিতে ও যুগ্ম আহবায়ক জামাল উদ্দীনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নজিবুল্লাহ হীরু, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু এবং ছাত্রলীগের সাবেক নেতৃবৃন্দ।

উল্লখ্য, সকালে সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের আসতে দেরি হওয়ায় সম্মেলন শুরু হয় বিকেল ৩টায়।

দেশে মেগা প্রকল্পের নামে মেগা লুট চলছে: ফখরুল

দেশে মেগা প্রকল্পের নামে মেগা লুট চলছে: ফখরুল
চট্টগ্রামে বিভাগীয় সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘সরকার উন্নয়নের নামে ঢোল পিটিয়ে মেগা প্রকল্পের নামে মেগা হরিলুট করছে। দেশের ব্যাংকগুলো রুগ্ন হয়ে গেছে। গোটা অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ঋণ নির্ভর হয়ে পড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশ গভীর অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে পড়বে।’

শনিবার (২০জুলাই) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নাসিম ভবনের সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাজেট ঘোষণার পরই গ্যাস, জ্বালানিসহ প্রত্যেকটা জিনিসের দাম বাড়ানো হয়েছে। নিজেরা ঢোল বাজিয়ে দেশে উন্নয়নের লহরী ভরিয়ে দিয়েছে। দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের কথা বাদ দিয়ে তারা লুটপাটকারীদের সুবিধার্থে কালো টাকা সাদা করার ব্যবস্থা করে দিয়েছে।’

নির্বাচন কমিশনারের হজ প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, ‘সাংবিধানিক ব্যবস্থা এত লজ্জাজনক অবস্থায় গেছে, যেখানে নির্বাচন কমিশনার একটি দলের তত্ত্বাবধায়কের সদস্য হয়ে হজ করতে যাচ্ছেন। উপহার হিসেবে আপনাকে হজ করতে পাঠানো হলো। এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে পারে না।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, মামলায় ভারাক্রান্ত হয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা পালিয়ে গিয়ে রিকশা চালাচ্ছেন, হকারের কাজ করছেন। খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারাবন্দী করে রেখেছে। আইনজীবীদের শত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শেখ হাসিনার নির্দেশ ছাড়া তাঁর মুক্তি মিলছে না।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563634869186.gif

এর আগে বক্তব্যের শুরুতে ফখরুল দেশের বন্যর্তদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিএনপি নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান।

দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, ‘সরকারের একঘেয়েমির কারণে পৃথিবীর কেউ আমাদের দেখতে পারে না। অবিলেম্বে রোহিঙ্গাদের তাদের ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। নির্বাচিত সরকার এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।

চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আউয়াল মিন্টু, আবদুল্লাহ আল নোমান, সুকুমার রায়, গিয়াস উদ্দিন কাদের, বরকত উল্লাহ বুলু, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম, খন্দকার মোশারফ হোসেন, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সাবেক চিফ হুইপ জয়নাল আবেদীন ফারুক সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।

এদিকে বিভাগীয় সমাবেশ ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে বিরাজ করে উৎসবের আমেজ। দলীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠানের অনুমতি থাকলেও নেতাকর্মীদের আগমনে সমাবেশ ছড়িয়ে পড়ে কাজীর দেউড়ি, লাভলেইন এলাকায়।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র