জোটের ভাঙাগড়ায় চিন্তিত নয় বিএনপি

শিহাবুল ইসলাম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
বিএনপির পতাকা ও ঐক্যফ্রন্টের লোগো

বিএনপির পতাকা ও ঐক্যফ্রন্টের লোগো

  • Font increase
  • Font Decrease

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে তৈরি হয়েছিল ২০ দলীয় জোট। তিনি কারান্তরীণ হওয়ার পর একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে আগে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেয় বিএনপি।

সম্প্রতি ঐক্যফ্রন্ট থেকে বের হয়ে গেছে শরিক দল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। অন্যদিকে নতুন জোট গঠন করছেন ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।

জোটের ভাঙাগড়ার বিষয়ে পাত্তাই দিচ্ছেন না বিএনপি নেতারা। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির এখন মূল লক্ষ্য দলের চেয়ারপারসনকে কারামুক্ত করা। একই সঙ্গে দল পুনর্গঠন করে সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করা।

গত ২৭ জুন অলি আহমদ ‘জাতীয় মুক্তি মঞ্চ’ নামে একটি জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটেও থাকবেন। খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ ১৮ দফা দাবি নিয়ে ‘জাতীয় মুক্তি মঞ্চ’ গঠনের কথা বলা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন আছে জোটে মূল্যায়ন না পাওয়ায় আলাদাভাবে শক্তি সঞ্চার করতে চাচ্ছেন বিএনপির সাবেক এই নেতা। শক্তি সঞ্চার করে বিএনপির ওপর চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করবেন তিনি।

অপর দিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অস্তিত্ব ও কোনো কর্মকাণ্ড নেই দাবি করে গত ৮ জুলাই জোট থেকে বের হয়ে যান কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।

ঐক্যফ্রন্টের ভাঙন এবং ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়কের নতুন জোট গঠন- এগুলো সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে হতে পারে বলে মনে করছেন বিএনপি নেতারা। বলা যায় এসব বিষয় নিয়ে দলটির নেতারা আদতে কিছুই ভাবছেন না। অলি আহমদের উদ্যোগকে ইতিবাচক বলেও মনে করছেন বিএনপির কেউ কেউ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম 'জাতীয় মুক্তি মঞ্চ' ঘোষণার দিন উপস্থিত থাকলেও পরে আর এ বিষয়ে আগ্রহ দেখাননি। অন্যদিকে ২০ দলীয় জোটের বৈঠকেও উপস্থিত হচ্ছেন না তিনি।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে কাদের সিদ্দিকীর বেরিয়ে যাওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দুই-একটা লোক বেরিয়ে যাচ্ছে, আসছে-যাচ্ছে। বরাবরই হচ্ছে, এটা হবেই। সবাই একই রকম হয় না। বিভিন্ন রকম চিন্তাবোধ থাকে।

জোটের এসব বিষয় নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, আমরা একটা রাজনৈতিক বিশ্বাস নিয়ে কাজ করি। সে বিশ্বাসের সঙ্গে যারা একমত তাদের সঙ্গে আমাদের জোট। নির্বাচনের আগে ঐক্যফ্রন্ট গঠন করা হয়েছে। নির্বাচন শেষ, এখন তিনি জোটের সঙ্গে থাকতে চান না। তাকে তো জোর করে কেউ জোটে নিয়ে আসে নাই। নিজের সিদ্ধান্তে এসেছেন, এখন আবার নিজের সিদ্দান্তে সরে গেলেন। আবার হয়তো নিজের সিদ্ধান্তে চলে আসবেন।

নজরুল ইসলাম খান আরো বলেন, অলি আহমদ বলেছেন তিনি ২০ দলীয় জোটে আছেন, থাকবেন। তবে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে তিনি কিছু একটা করতে চান। আমাদের ২০ দলেরও সিদ্ধান্ত ছিল, জোটের মধ্যে যে সংগঠনগুলি রয়েছে তারাও খালেদা জিয়ার মুক্তি আদায়ে চেষ্টা করবে। পার্থক্যটা এই যে, তিনি এটাকে একটা মঞ্চ হিসেবে নাম দিয়েছেন। কিন্তু কীভাবে তিনি এটা করলেন, তার সঙ্গে কারা কারা আছেন সেটা পরিষ্কার নয়। বিভিন্ন দলের ভিন্ন ভিন্ন চিন্তা-ভাবনা আছে, থাকবে। এটা পড়ে ঠিক হয়ে যায়।

আপনার মতামত লিখুন :