Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

English

খুঁড়িয়ে চলা ঐক্যফ্রন্টের ভবিষ্যত কী?

খুঁড়িয়ে চলা ঐক্যফ্রন্টের ভবিষ্যত কী?
জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট
শিহাবুল ইসলাম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন গঠন করেছিলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। শুরুতে জোট গঠন নিয়ে দেশের মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা থাকলেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তা স্তিমিত হয়ে পড়ে। এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, ঠিক মতো চলতে না পারা সরকারবিরোধী এই জোটের ভবিষ্যত কী?

একাদশ জতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জোট নেতাদের বড় বড় কথার ঝুলি প্রতিধ্বনিত হয়েই ফিরে এসেছে, কার্যত কিছুই করতে পারেনি ঐক্যফ্রন্ট। নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে আয়োজিত সমাবেশ ছিল বেশ আশাজাগানিয়া। কিন্তু ৩০ ডিসেম্বরের ভোটের ফল প্রকাশিত হওয়ার পর জোটের পক্ষ থেকে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করা হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেছিলেন ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। কিন্তু তা হয়নি। এমনকি সরকারের বিরুদ্ধে ‘ভোট ডাকাতি ও কারচুপি’র অভিযোগ আনলেও এর প্রতিবাদে সামান্য আন্দোলনও করেনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। নির্বাচনী ট্রাব্যুনালে মামলা করার ঘোষণা দেওয়া হয়, কিছু আসন থেকে মামলাও করা হয়। একই সঙ্গে জাতীয় সংলাপ এবং পুনর্নির্বাচনের দাবিতে জনমত গঠনে ও দেশব্যাপী জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা সফর করবেন বলে ঘোষণা আসে। কিন্তু তাও পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে দেখা যায়নি।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/17/1563379198299.jpgরাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন আছে, তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে বিএনপিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ড. কামাল হোসেনকে কৌশলে ব্যবহার করেছে আওয়ামী লীগ। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মাদ নাসিম তো বলেই দিলেন, ড. কামাল হোসেন সংসদ নির্বাচনে তাদের পক্ষে কাজ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘বিএনপির বন্ধুরা বারবার ভুল করেছে, ২০১৪ সালে একবার গোস্যা করে নির্বাচনে আসেনি। ২০১৮ সালে নির্বাচনে এলো লোক ভাড়া করে। কাকে ভাড়া করল? আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত, অত্যন্ত শিক্ষিত ও বিদগ্ধ নেতা ড. কামাল হোসেনকে ভাড়া করে সামনে দাঁড় করাল। তিনি আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করে মাঠ খালি করে দিলেন। আর আমরা ফাঁকা মাঠে গোল দিলাম। এই হচ্ছে তাদের (বিএনপির) ভাড়াটের মুরোদ। ওরা কামাল হোসেনকে ভাড়া করল ওদের জন্য, আর কাজ করল আমাদের জন্য।’

তবে নাসিমের এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে গণফোরাম।

ভোট প্রত্যাখ্যান করলেও সংসদ সদস্য হিসেবে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা শপথ নেন। নির্বাচনী ট্রাইবুন্যালে মামলা করার পর তার কোনো খোঁজ নেই। নির্বাচনের পর নারী ও শিশু নির্যাতনের প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগে একটি কর্মসূচি ডেকেও পরে তা বাতিল করা হয়। জনস্বার্থেও নেই কোন কর্মসূচি সরকারবিরোধী এ জোটের।

সম্প্রতি ঐক্যফ্রন্ট থেকে বের হয়ে গেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। অপর দিকে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না ঐক্যফ্রন্টের সর্বশেষ স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে অংশ নেননি। জোটের প্রতি বিএনপি নেতাদেরও আগ্রহ কমছে।

রাজধানীর পুরানা পল্টনে জামান টাওয়ারের চতুর্থ তলায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অস্থায়ী কার্যালয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্বাচনের আগে এই ভবনে জোটটির কিছু কার্যক্রম থাকলেও নির্বাচনের পর সংবাদ সম্মেলন, সভা বা কোন অনুষ্ঠানই হয়নি।

এ অবস্থায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ঐক্যফ্রন্টের কোন ভবিষ্যত দেখছেন না। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, ঐক্যফ্রন্টের কোন ভবিষ্যত আমি দেখতে পাচ্ছি না। তারা কিচ্ছু করতে পারবে না, মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে, বিএনপিকেও। সংসদে বলা হয়েছে ড. কামাল হোসেন আওয়ামী লীগের ফর্মুলা বাস্তবায়ন করেছেন। তার কার্যকলাপ দেখে সেটা বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে, কিন্তু সেটা বিশ্বাস করতে চাই না। তিনি নির্বাচনের আগে হুঙ্কার দিলেন কিন্তু নির্বাচনের পর বিড়ালের মতো বসে রইলেন। নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্ট যে ভূমিকা রেখেছে সে জন্য তাদের ওপর জনগণের কোন ভরসা নেই।

দিলারা চৌধুরী আরও বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনটাকে ধ্বংস করে দিল আর তারা (ঐক্যফ্রন্ট) একটা হরতাল ডাকতে পারলো না! তারা দুটি কাজ করতে পারতো, এক. হরতাল ডেকে প্রতিবাদ করা আর দ্বিতীয়টি হলো সংসদে না যাওয়া। এটা বলতে পারি জনগণের বিশ্বাস তাদের ওপর থেকে চলে গেছে।

ঐক্যফ্রন্টের দিকে না তাকিয়ে থেকে বিএনপির যে শক্তি আছে সেটাকেই সংগঠিত করা উচিত বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমদ।

বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে তিনি বলেন, প্রথম থেকেই জোট নিয়ে আশাবাদী ছিলাম না, এখনো না। বিএনপি অনেক বড় রাজনৈতিক দল, এরা যদি কাজ করে সেটাই যথেষ্ট। নির্বাচনের আগে এদের সহানুভূতির প্রয়োজন ছিল, এই মুহুর্তে তার প্রয়োজন আছে বলে মনে করছি না। কাদের সিদ্দিকী চলে গেলেন, আ স ম রব চলে যাবেন কিনা জানি না। বিএনপির সেদিকে তাকানোর দরকার আছে বলে মনে করি না। নিজেদের যে শক্তি আছে এটাকেই সংগঠিত করতে পারলে যথেষ্ট।

এদিকে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, আমরা সবাই দল গোছাচ্ছি, বিএনপির মধ্যেও একটা অস্বস্তি চলছে। ড. কামাল হোসেন চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফিরলেন, আ স ম রবের অপারেশন করা হয়েছে। সব কিছু গুছিয়ে উঠতে আরো কিছুদিন সময় লাগবে। কাদের সিদ্দিকীর বের হয়ে যাওয়া কোন সমস্যা না। ঐক্যফ্রন্ট জনগণের অন্তরে গেঁথে আছে। আমরা দেশের মানুষকে একটা জায়গায় নিয়ে গেছি, তাদের জন্য যা করা দরকার ছিল তা আমরা করতে পারিনি। কিন্তু সরকারের মুখোশ আমরা উন্মোচন করে দিয়েছি দেশের মানুষের কাছে, বিশ্বের কাছে।

আপনার মতামত লিখুন :

জাতীয় পার্টি কার্যকর বিরোধী দল হিসেবে রাজনীতির মাঠে আছে

জাতীয় পার্টি কার্যকর বিরোধী দল হিসেবে রাজনীতির মাঠে আছে
জিএম কাদের

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেছেন, 'বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিশাল শূন্যতা বিরাজ করছে। জনসাধারণের দাবি ও ভাষা বোঝে এমন একটি রাজনৈতিক শক্তি খুঁজছে সাধারণ মানুষ। ঐক্যবদ্ধ জাতীয় পার্টি আরো শক্তিশালী হয়ে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণের রাজনীতি করবে।

সোমবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী অফিসে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবদুস সাত্তার পোদ্দার এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের-এর হাতে ফুল দিয়ে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। এসময় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানিয়ে এসব কথা বলেন।

গোলাম মোহাম্মদ কাদের আরো বলেন, 'জাতীয় পার্টি কার্যকর বিরোধী দল হিসেবে রাজনীতির মাঠে আছে। আমরা সরকারের চোখে আঙ্গুল দিয়ে তাদের ভুল ক্রুটি ধরিয়ে দেবো। আমরা দেশ ও জনগণের পক্ষে ইতিবাচক রাজনীতি করব'।

জাতীয় পার্টির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে সরকারকে বাধ্য করা যায়না। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিলো তখন আওয়ামী লীগ তাদের দাবি আদায়ে সরকারকে বাধ্য করতে পারেনি। আবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বিএনপিও সরকারকে বাধ্য করতে পারেনি। যারা কথায় কথায় সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করতে চায়, সেটা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একেবারেই অসম্ভব। তাই প্রতিটি দলেরই উচিত নির্বাচিত প্রতিটি সরকারকেই রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য ৫ বছর সময় দেয়া এবং পরবর্তী নির্বাচনের জন্য নিজ দলকে সংগঠিত করা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায়, এ্যাড. রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, নাজমা আখতার এমপি, ভাইস চেয়ারম্যান জহিরুল আলম রুবেল, আহসান আদেলুর রহমান এমপি, যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু প্রমুখ।

বিএনপি'র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

বিএনপি'র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা
বক্তব্য রাখছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

পহেলা সেপ্টেম্বর দলের ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। কর্মসূচিগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, র‍্যালি, আলোচনা সভা ও দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও ফাতিহা পাঠ।

সোমবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে বিএনপির এক যৌথসভা শেষে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

১ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। এরপর সকাল ১০টায় বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ও সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের নিয়ে শেরেবাংলা নগরস্থ সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করা হবে। দোয়া ও মোনাজাত শেষে র‌্যালির আয়োজন করা হবে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ২ সেপ্টেম্বর আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পোস্টার ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে

রাজধানী ঢাকা ছাড়াও সারাদেশে বিএনপি তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। পহেলা সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী বিএনপি’র সকল ইউনিট সকাল ৬টায় দলীয় কার্যালয়গুলোতে দলীয় পতাকা উত্তোলন করবে। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের সুবিধানুযায়ী দলের জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের ইউনিটগুলো দিবসটি উপলক্ষে কর্মসূচি গ্রহণ করবে। ঢাকার মতো সারাদেশেও র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করতে বলা হয়েছে।

দুপুরে আয়োজিত যৌথ সভায় উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন-নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, মাহবুবের রহমান শামিম, বিলকিস জাহান শিরিন, সৈয়দ ইমরান সালেহ প্রিন্স, ডা. সাখওয়াত হাসান জীবন. প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী. সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. আব্দুস সালাম প্রমুখ।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র