সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় বা কমিশন জাপা সমর্থন করে

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদের, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদের, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

সংখ্যালঘুদের প্রাপ্যতা দেখাশোনার জন্য সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় বা কমিশন থাকতে পারে। যাতে তারা তাদেরর প্রাপ্য পেতে পারে। এটাকে জাতীয় পার্টি (জাপা) সমর্থন করে বলে জানিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

শনিবার (২৪ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে শ্রীকৃষ্ণ সেবা সংঘ আয়োজিত ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা জানান।

জিএম কাদের বলেন, ‘স্বাধীনতার এতো বছর পরে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়নের প্রশ্ন উঠছে এটা বড়ই লজ্জার। যদিও আমি সংখ্যালঘু শব্দটা থাকার পক্ষে নই। আমরা সবাই বাংলাদেশি এটা আমাদের সবার পরিচয়।’

আরও পড়ুন: কে পাচ্ছেন এরশাদের শূন্য আসনের লাঙ্গল

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতা অনেকটা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। আমাদের এই সম্প্রীতির ইতিহাস হাজার বছর ধরে চলে আসছে। ৯৫ শতাংশ মানুষ সম্প্রীতির পক্ষে। আর ৫ শতাংশ মানুষ হয়তো এর বিরুদ্ধে থাকতে পারে। এরা সমাজের মঙ্গল চায় না।’

জাপার চেয়ারম্যান বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদি আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উদাহরণ টেনে সঠিক কথাই বলেছেন। আমাদের দেশে একই চত্বরে পাশাপাশি মসজিদ মন্দির রয়েছে। একই সময়ে নামাজ ও পূজা চলে। এমন উদাহরণ খুব কমই পাওয়া যাবে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566631723229.jpg

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষ ধার্মিক তবে গোড়া না। আমি মনে করি যে যত ধার্মিক তাকে তত অসাম্প্রদায়িক হতে হবে। ধর্মগুলো সৃষ্টি হয়েছে সমাজে শান্তির জন্য। সব ধর্মেই শান্তির কথা বলা হয়েছে।’

জিএম কাদরে বলেন, ‘আমাদের জনপ্রিয় দলগুলো কোনোটাই কিন্তু সাম্প্রদায়িক নয়। তবে এদের ভেতরে প্রবেশ করে কিছু লোক এটা বিনষ্ট করার অপচেষ্টা করে।’

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘কাশ্মীর ইস্যু ভারতের অভ্যন্তরীণ ইস্যু। ভারত তার সংবিধান কাটবে না, জোড়া লাগাবে এটা তাদের বিষয়। এটা নিয়ে আমাদের মাথা না ঘামানোই ভালো। আমাদের মাথা ঘামাতে হবে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে।’

আরও পড়ুন: জাতীয় পার্টির বিভাগীয় সাংগঠনিক কমিটি গঠন

শত্রু সম্পত্তি আইন বাতিলের জন্য সোচ্চার থাকার জন্য হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অনুরোধও জানান তিনি।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি তাপস কুমার পাল বলেন, ‘জন্মাষ্টমীর দিনে কেনো নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হলো। কারা এরা, এদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এরা বাংলাদেশের ভালো চায় না। এদের চিহ্নিত করতে হবে।’

শ্রীকৃষ্ণ সেবা সংঘের আহ্বায়ক নকুল চন্দ্র বলেন, ‘প্রিয়া সাহা আমেরিকায় গিয়ে যে কথা বলেছেন, সেই বক্তব্য তার ব্যক্তিগত, এটা হিন্দু সম্প্রদায়ের বক্তব্য নয়। আমরা এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নই। সরকার যদি কষ্ট পেয়ে থাকে এর জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি।’

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন- জাতীয় পার্টির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সোমনাথ দে, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ থ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, ঢাকা মহানগরের সভাপতি চিত্তরঞ্জন দাস, ডিএসসিসির ৫৯ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আকাশ কুমার ভৌমিক প্রমুখ।সভা পরিচালনা করেন আয়োজক সংগঠনের সদস্য সচিব সুজন দে।

আপনার মতামত লিখুন :