‘বিএনপি কখনও খুনের দায়ে পড়েনি’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

  • Font increase
  • Font Decrease

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি কখনও কোনো খুনের দায়ে পড়েনি। কিন্তু আওয়ামী লীগ বিরোধী দলের হাজার হাজার নেতা-কর্মীদের খুন করেছে।

রোববার (২৫ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে বিএনপির সাবেক মহাসচিব প্রয়াত আব্দুস সালাম তালুকদারের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, কয়েকদিন আগে তথ্যমন্ত্রী বলেছেন যে, বিএনপি একটি খুনির দল। তিনি ভুলে গেছেন যে, তারা ১৯৭২ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই খুন শুরু করেছিলেন। সেদিনও তারা রক্ষীবাহিনী তৈরি করে তাদের নেতা-কর্মীরা বিরোধী দল যারা করতেন তাদের হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে খুন করেছে। সেদিন সিরাজ শিকদারকে খুন করা হয়েছিল, এরকম অসংখ্য নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ হত্যা করা হয়েছিল।

বিএনপি কিন্তু খুনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়, বিএনপি কখনও খুনের দায়ে পড়ে নাই। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে আমাদের হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে খুন করেছে, গুম করেছে, নির্যাতন করেছে, নিপীড়ন করেছে, গণতান্ত্রিক সমস্ত পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে, এখানে গণতান্ত্রিক স্পেস বলতে আর কিছু তারা রাখেনি।

সরকার সবদিকে ব্যর্থ হয়েছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তারা অর্থনীতি, শিক্ষা ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে নষ্ট করেছে। ডেঙ্গু কী আকার ধারণ করেছে! হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছে, সরকারের অব্যবস্থাপনার কারণে।

তিনি বলেন, গত দুই বছর ধরে রোহিঙ্গারা এদেশে এসেছে। তখন খালেদা জিয়া সেই লন্ডন থেকে স্টেটমেন্ট দিয়ে বলেছিলেন, যারা বিতাড়িত হচ্ছে মিয়ানমারে তারা এখানে এসে আশ্রয় নেবে, তাদের আশ্রয় দিতে হবে। কিন্তু একই সঙ্গে তারা যেন সম্মান নিয়ে, নাগরিকত্ব নিয়ে দেশে ফিরে যেতে পারে সেই ব্যবস্থাও সরকারকে করতে হবে। এই দুই বছরে সরকার এতই ব্যর্থ হয়েছে যে, দিনক্ষণ ঠিক করেও সাড়ে ৩ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠাতে পারলো না।

সরকার সুপরিকল্পিতভাবে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে এমন অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, শুধু গণতন্ত্র নয়, তারা রাজনীতিকে ধ্বংস করছে। ১/১১ তে যে ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল বিরাজনীতিকরণের সেই ধারাই এখন চলছে। সব রাজনৈতিক দলগুলোকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে তাদের একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। এই দেশে বিচার ব্যবস্থা বলতে কিছু নেই, ন্যায়-নীতি বলতে কিছু নেই।

তিনি আরও বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ভেঙে তছনছ করে দিয়েছে তারা। সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে ভেঙে দিয়ে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠার সমস্ত ব্যবস্থা তারা করেছে। এটা অঘোষিত বাকশাল।

স্মরণসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড.আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন :