‘সরকার জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচি

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচি

  • Font increase
  • Font Decrease

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, মানুষের বিরুদ্ধে কাজ করছে। জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলেই দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে আটকে রেখেছে। জনগণকে মিথ্যা মামলা দিয়ে, হত্যা করে, ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায় এই সরকার।

সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত র‌্যালির উদ্বোধনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। এ দিন বিকেল সাড়ে ৩টায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু করে মালিবাগ মোড় ঘুরে আবার কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র‌্যালি।

কর্মসূচির উদ্বোধনী বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই সরকার গোটা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে, ট্যাক্স বাড়িয়েছে। কিন্তু জনগণের কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারেনি। তারা লুট করে ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। ২৭ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে।


বিএনপি মহাসচিব বলেন, এ সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে বন্দী করে রেখেছে। লাখো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে। তারা একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বাকশাল প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এ দেশের সাধারণ মানুষ যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলাম। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া সেই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। সেই স্বাধীনতা, গণতন্ত্রকে অন্যের দ্বারা পদদলিত করতে দেব না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, আপনারা (আওয়ামী লীগ) লাখ লাখ নেতাকর্মীর নামে মামলা দিয়েছেন কিন্তু দেখেন আজকে এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কোনো নেতাকর্মীর অভাব নাই। খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে। জেল খাটিয়ে একটা নেতাকর্মীকেও বিএনপি থেকে সরাতে পারেননি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আগামী দিনে রাজপথ দখল করতে হবে। নেত্রীকে মুক্ত করতে হলে রাজপথে আন্দোলন ছাড়া কোনো উপায় নেই। খালেদা জিয়ার মুক্তিতে একমাত্র বাধা এই সরকার। এই সরকারের পতন ছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয়। তাই খালেদা জিয়ার মুক্তি নয়, আসুন সরকার পতনের আন্দোলনে নামি।


কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, আহমেদ আযম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাড. রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, শাহ মোহাম্মদ নেসারুল হক, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. দেওয়ান সালাউদ্দিন বাবু, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ শামছুল আলম তোফা, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভুইয়া জুয়েল, কৃষকদলের সদস্য সচিব কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, কৃষকদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এ স কে শাদি, মাইনুল ইসলাম মিয়া প্রমুখ।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র‌্যালিতে অংশ নিতে দুপুর থেকেই ঢাকা ও এর আশপাশের জেলা থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা নয়াপল্টনে উপস্থিত হন। বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ঘোড়ার গাড়ি, ব্যান্ডপার্টি নিয়ে নেতাকর্মীরা সমবেত হন। এ সময় তারা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে স্লোগান দেন।


১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। পরে এক সেনা বিদ্রোহে তিনি নিহত হওয়ার পর দলটির হাল ধরেন তার স্ত্রী খালেদা জিয়া। তিনি দুর্নীতির দুটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। অসুস্থতাজনিত কারণে বর্তমানে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন খালেদা জিয়া।

আপনার মতামত লিখুন :