সিলেটে অস্তিত্ব সংকটে জাতীয় পার্টি!

নাবিল চৌধুরী, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, সিলেট
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সাংগঠনিক তৎপরতা না থাকায় সিলেটে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে একাদশ জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। অভিযোগ আছে, জাতীয় কিংবা স্থানীয় বিষয়ে কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় না জেলার দলীয় নেতাকর্মীদের। এমনকি তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে জেলা বা কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নেতাদের নেই কোনো যোগাযোগ। শুধুমাত্র জোট-মহাজোটের আসন ভাগাভাগির মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে দলটির রাজনীতি।

সিলেট জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় নেতারা টাকার বিনিময়ে সিলেটে কমিটি করছেন, মনোনয়ন দিয়েছেন। সিলেটের অনেককে টাকার বিনিময়ে কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ দেওয়া হচ্ছে। জেলার জাতীয় পার্টির দায়িত্বশীলদের দলের প্রতি মনোযোগ নেই। মহাজোটের শরিক হিসেবে আসন ভাগাভাগির মাধ্যমে সংসদ সদস্য হওয়াই নেতাদের লক্ষ্য।

জাপা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের শুরুতে সিলেট জেলা জাতীয় পার্টির সম্মেলনে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে প্রেসিডিয়াম সদস্য এটিইউ তাজ রহমানকে আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ওসমান আলীকে সদস্য সচিব করা হয়। এই কমিটিকে তিন মাসের মধ্যে সম্মেলন করতে বলা হলেও আজ পর্যন্ত সম্মেলন করতে পারেনি তারা। ২০১৬ সালের ৮ অক্টোবর সাবেক সাংসদ ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী আহ্বায়ক ও আব্দুল হাই কাইউমকে সদস্য সচিব করে গঠন করা হয় মহানগর জাতীয় পার্টির কমিটি। কমিটি অনুমোদনের তারিখ হতে তিন মাসের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় দফতরে জমা দিতে বলা হয়। তবে তিন বছরেও তা করা হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, অর্থের বিনিময়ে জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টিতে দুই জনকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। দুই কমিটির আহ্বায়কের দলের কার্যক্রমে মন নেই। যোগাযোগ নেই তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে। কর্মীরা তাদের খুঁজেও পান না। সামনে নির্বাচন না থাকায় রাজনীতিতে তাদের তৎপরতাও নেই।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেটে পাঁচটি আসনে প্রার্থী দেয় জাতীয় পার্টি। তবে সবকয়টিতে জামানত হারান লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করা দলটির প্রার্থীরা। এর মধ্যে সিলেট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী ও সিলেট-৫ আসনের সেলিম উদ্দিনও রয়েছেন। মহানগর জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী সিলেট-২ আসনে ক্ষমতাসীন জোটর প্রার্থী হয়েও নির্বাচনে জামানত হারান। এছাড়া নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে লাঙ্গল প্রতীকের জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা মাহবুবুর রহমান চৌধুরী পান ৫০২ ভোট, সিলেট-৩ আসনে জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব মো. উছমান আলী দুই হাজার ৯১৬ ভোট, জেলার আহ্বায়ক ও প্রেসিডিয়ামের সদস্য তাজ উদ্দিন তাজ রহমান ৪২৩ ভোট পান। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কয়েকটি উপজেলায় প্রার্থী হয়েও জামানত হারান জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা।

সিলেট মহানগর জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব আব্দুল হাই কাইয়ুম দাবি করেন, জাতীয় পার্টি জনগণের দল। এই দলে টাকা দিয়ে কমিটি বা কোনো মনোনয়ন দেওয়া হয় না। সিলেট নগরের ১৬টি ওয়ার্ডে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ও ১১টিতে আহ্বায়ক কমিটি রয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটি চাইলে মহানগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হবে।

আব্দুল হাই কাইয়ুম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেমন হয়েছে তা নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না। নির্বাচন এরকম না হলে আমরা ভালো করতাম। নির্বাচন কেমন হয়েছে দেশবাসী দেখেছে। তবে বর্তমান সংসদে জাতীয় পার্টিই প্রকৃত বিরোধী দল।'

জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব ওসমান আলী বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'সিলেট বিভাগে কেন্দ্রীয় কমিটির অর্ধশত নেতা আছেন। সিলেটে তাদের অবস্থান নেই। অনেকে অর্থের মাধ্যমে পদ-পদবি পেয়েছেন। অনেকে টাকা দিয়ে মনোনয়ন নিয়েছেন বলে শুনেছি। জেলা কমিটির আহ্বায়ক তাজ উদ্দিন ঢাকায় ব্যবসা করেন। নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই।'

আপনার মতামত লিখুন :