রংপুরে দলীয় কোন্দলে ডুবতে পারে জাতীয় পার্টি

সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
জাতীয় পার্টির লগো

জাতীয় পার্টির লগো

  • Font increase
  • Font Decrease

রংপুর-৩ (সদর) আসনের উপ-নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ হতে পারছে না জাতীয় পার্টি। দলের অনেক নেতাকর্মীই ক্যাম্পেইনের পাশাপাশি ভোটদান থেকে বিরত থাকতে চান। অন্যদিকে, কিছু নেতাকর্মী প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ভাতিজা বিদ্রোহী প্রার্থী আসিফ শাহরিয়ারের পক্ষে কাজ করছেন বলে জানা গেছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসির বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেছেন, ‘মেয়র (মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা) সাহেব যে ঘোষণা দিয়েছে আমরা সেই ঘোষণাতেই রয়েছি। আমরা বহিরাগত কোনো প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামছি না। আর ভোট দিতে যাওয়ারও কোনো কারণ নেই। আমরা কাকে ভোট দিতে যাব।’

তাহলে পার্টির গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন হচ্ছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার ব্যক্তি স্বাধীনতা রয়েছে, কারও পক্ষে কাজ করা বা না করার। আর পার্টি যদি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় নেবে। তাতে ভয় পাই না।’

আরও পড়ুন: শাহজালাল মাজার জিয়ারত করে প্রচারণায় নামবেন সাদ

ইয়াসির বলেন, ‘অনেক নেতাকর্মী আমাকে জানিয়েছে, তারা জাপার প্রার্থীর পক্ষে নয়, বিদ্রোহী প্রার্থী আসিফ শাহরিয়ারের পক্ষে কাজ করতে চায়। আমি তাদের বলেছি, এ বিষয়ে আমি হ্যাঁ কিংবা না কোনটাই বলব না।’

তিনি আরও বলেন, ‘হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এক কথা আর অন্য যেকোনো প্রার্থীর ক্ষেত্রে ভিন্ন কথা। সব ভোটার কিন্তু পার্টি করে না। সাধারণ ভোটারের সংখ্যাও কিন্তু অনেক। তারা জাপার প্রার্থীকে চেনেন না। এই শ্রেণির ভোটাররা ফলাফল বদলে দিতে পারে। এমনকি বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হয়ে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।’

মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘শুনতেছি আওয়ামী লীগও প্রার্থী প্রত্যাহার করতে পারে। তাহলে আওয়ামী লীগ নেতারাও অনেকে ভোট দিতে যাবে না। বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে দূরে রয়েছে। যারা জাতীয় পার্টির তথা এরশাদের প্রকৃত সমর্থক। আর কিছু আছে দলছুট যারা বিভিন্ন মতাদর্শের লোক, জাতীয় পার্টিতে ভিড়েছে। এমন কিছু নেতাকর্মী সাদের পক্ষে মাঠে রয়েছে। এই কর্মী দিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া সম্ভব না।’

আরও পড়ুন: আ’লীগের সমর্থন চায় জাতীয় পার্টি

ভোটার সমর্থনের ব্যাপারে জাতীয় পার্টির প্রার্থী রাহগীর আর মাহি সাদ এরশাদ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘আমার সঙ্গে নব্বই শতাংশ নেতাকর্মী রয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অন্যরাও মাঠে নামবে বলে আশা করছি। আমি নির্বাচনে জয়ের বিষয়ে আশাবাদী।’

নির্বাচনের এই সংকটের সময়ে জিএম কাদেরও কিছুটা বিড়ম্বনার মধ্যে থাকবেন। কারণ, জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদে কাদেরকে বহাল রাখতে যারা আন্দোলন করেছিলেন, তারাই এখন নির্বাচন বর্জনের ডাক দিয়েছেন। যাদের আন্দোলনের ওপর ভর করে আজকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান পদে আসীন জিএম কাদের। তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেওয়া কিংবা তাদেরকে বাদ দিয়ে রংপুরে গিয়ে নির্বাচনী ক্যাম্পেইন করা বিড়ম্বনার মধ্যে পড়তে হতে পারে।

সব মিলিয়ে উভয় সংকটে রয়েছে জাতীয় পার্টি। দলীয় কোন্দল নিরসন করা না গেলে পরাজয়ের শঙ্কাও দেখছেন কেউ কেউ।

আরও পড়ুন: দলের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই: জিএম কাদের

আরও তিনদিন সময় রয়েছে মনোনয়ন প্রত্যাহারের। সেই আশায় বুক বেঁধে আছেন জাতীয় পার্টির নেতারা। তারা মনে করছেন, এ সময়ের মধ্যে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাতীয় পার্টির সমর্থনে সরে দাঁড়াতে পারেন। কারণ, একাদশ সংসদ নির্বাচনে জোট থেকে আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

গত ১৪ জুলাই হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে আসনটি শূন্য ঘোষিত হয়। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ৫ অক্টোবর ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

রংপুর সদর উপজেলা ও সিটি করপোরেশন নিয়ে গঠিত এ আসনের মোট ভোটার রয়েছে ৪ লাখ ৪২ হাজার ৭২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২১ হাজার ৩১০ জন এবং ২ লাখ ২০ হাজার ৭৬২ জন নারী ভোটার।

এর আগে গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনেও আসনটিতে ইভিএমে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। সেই ভোটে ১ লাখ ৪২ হাজার ৯২৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী রিটা রহমান পেয়েছিলেন ৫৩ হাজার ৮৯ ভোট। এবারও ইভিএম’এ ভোটগ্রহণ করা হবে। এবার নির্বাচনেও বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন রিটা রহমান।

আপনার মতামত লিখুন :