মেয়র আ জ ম নাছির বললেন মহিউদ্দিন চৌধুরীকে মনে পড়ে

চট্টগ্রাম: ছয় মাস আগে গত বছরের ডিসেম্বরে পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে গেছেন চট্টগ্রামের আওয়ামী রাজনীতির কিংবদন্তি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী। রাজনীতির মাঠে, সামাজিকতায়, আপ্যায়নে, সংগঠনকে সংগঠিত করা ও মানুষকে কাছে টানা একই সঙ্গে ভালোবাসবার এক অসাধারণ আর বিরল মনের অধিকারী ছিলেন তিনি।

মহিউদ্দিনের অনুসারীই হয়ে রাজনীতি শুরু করেছিলেন আ জ ম নাছির উদ্দীন। নেতায় নেতায় বিভাজনের রাজনীতিতে অনেক ঘটনা প্রবাহের পর নাছির চলে গেলেন প্রয়াত শিল্পপতি ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর কাছে। কয়েকবছর পর সেখানেও টানাপড়েন। নাটকীয়ভাবেই আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আ জ ম নাছিরকে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক করলেন। মেয়র মনোনয়ন দেওয়ার পর নাছির এখন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রও।

১৭ বছর  টানা মেয়র ছিলেন এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী। বয়স ও বার্ধক্য এ বিবেচনায় মনোনয়ন পাননি তিনি। পেয়েছেন আ জ ম নাছির উদ্দীন। জীবদ্দশায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের গৃহকর নিয়ে প্রথম প্রতিবাদ করেন দলীয় মেয়রের বিরুদ্ধে মহিউদ্দিন চৌধুরী। তখন মেয়র হলেন আ জ ম নাছির।

তাঁর সেই প্রতিবাদে শেষ পর্যন্ত গৃহকর বাড়ানোর উদ্যোগ থেকে সরে আসে করপোরেশন। মহিউদ্দিন চৌধুরী মারা যাওয়ার ছয় বছর আগে দেশের শীর্ষ স্থানীয় ও মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ এক প্রভাবশালী শিল্পপতি বলেছিলেন,  চৌধুরী না থাকলে চট্টগ্রাম আসলে অভিভাবকহীন হয়ে পড়বে।’

মহিউদ্দিন চৌধুরীকে এখনও মনে রেখেছে চট্টগ্রামবাসী। অন্যদের মতো তাঁর (মহিউদ্দিন চৌধুরী) কথা মনে পড়ে মেয়র ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনেরও। সে কথাই বার্তা২৪ এর সঙ্গে ছোট এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে গত বুধবার রাতে বলেছেন আ জ ম নাছির উদ্দীন।

প্রশ্ন : মহিউদ্দিন চৌধুরীকে মনে পড়ে আপনার?

আ জ ম নাছির : মনে পড়বে না কেন, খুব মনে পড়ে। কত স্মৃতি, কত কথা। সুসময়-দুঃসময় পার করেছি। তিক্ততাও ছিল। অস্বীকার করারও উপায় নেই যে তিনি আওয়ামী রাজনীতির একজন বটগাছ ছিলেন। বিন্দু থেকে নিজেকে সিন্দুতে পরিণত করেছেন।

প্রশ্ন : জীবদ্দশায় আপনার সঙ্গে তো দূরত্ব ছিল, ছিল বিরোধও?

আ জ ম নাছির : এ বিরোধ স্বার্থ নিয়ে নয়। মতভিন্নতা ছিল বিভিন্ন সাংগঠনিক ইস্যুতে। হয়তো আমাদের মধ্যে ইনফরমেশন গ্যাপ ছিল। দুজনের শুভাকাক্সক্ষীরাই এ বিরোধ তৈরি করেছে হয়তো নিজেদের স্বার্থের জন্য অথবা নেতার প্রিয়ভাজন হওয়ার জন্য। আমিতো শেষ দিন পর্যন্ত একই সঙ্গে রাজনীতি করেছি, কর্মসূচি পালন করেছি।

প্রশ্ন : মহিউদ্দিনের কোন গুণ আপনাকে আকৃষ্ট করে, প্রেরণা জোগায়?

আ জ ম নাছির : মানুষকে কাছে টানার এক অদ্ভুত গুণ ছিল তাঁর। বকা দিয়েছেন ঠিকই আবার পরক্ষণে কাছে টেনে নিয়েছেন নেতাকর্মীদের। বকা যে দিয়েছেন সেটি শতভাগ যৌক্তিক ছিল-এটা বোঝা যেত অনেক পরে। এতটাই বিরল গুণের অধিকারী ছিলেন মহিউদ্দিন ভাই। আর দলকে সংগঠিত করার ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতাও ছিল অপরিসীম।

প্রশ্ন : মহিউদ্দিন চৌধুরী মানুষকে খুব খাওয়াতে পছন্দ করতেন। ইদানিং আপনার ভেতরেও এ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে?

আ জ ম নাছির : চট্টগ্রামবাসী অতিথিপরায়ণ। এটি আমাদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও রেওয়াজ। মহিউদ্দিন চৌধুরী এক সঙ্গে রীতি ও রেওয়াজকে যেমন গুরুত্ব দিয়েছেন তেমনি আপ্যায়নের এ কৌশলও অবলম্বন করেছেন। এক বেলা ভাত খাইয়ে একজন মানুষের মন সহজেই জয় করে ফেলা যায়। হয়তো টাকা দিয়েও সেটি আপনি পারবেন না। তিনি আজীবন দল আর মানুষের জন্য নিবেদিত ছিলেন। এটা কেউ স্বীকার করুক আর নাই করুক তাতে কিছু যাবে আসবে না।

প্রশ্ন : তার মানে মহিউদ্দিনের পথেই আপনি এগুতে চান?

আ জ ম নাছির : শোনেন, আওয়ামী লীগ একটি মাল্টিক্লাস পলিটিক্যাল পার্টি। অনেক মত-পথের মানুষ নিয়ে আমাদের চলতে হয়। চট্টগ্রামে দলকে সুসংগঠিত করার ক্ষেত্রে মহিউদ্দিন চৌধুরী যা করেছেন যা দেখিয়ে গেছেন সেটিইতো আমাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। আমি চেষ্টা করছি আমার সামর্থ্যের মধ্যে মানুষকে আপ্যায়ন করবার। চট্টগ্রামে আওয়ামী রাজনীতির মহীরূহ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। দলের ভালো চাইলে তাঁর পথ অনুসরণ করে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলতে হবে।

রাজনীতি এর আরও খবর