মানহানির দুই মামলায় জামিন পেলেন খালেদা জিয়া

কোর্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

 

ঢাকা: বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মানহানির দুই মামলায় জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। মামলা দুইটি মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে ভুয়া জন্মদিন পালন ও যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেওয়ার অভিযোগের মামলায় এ জামিন করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৩১ জুলাই) ‍দুপরে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েসে এ আদেশ দেন।

আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে  জামিন  আবেদনের ওপর শুনানি করেন তার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার। শুনানি শেষে আদালত বেলা ২টার দিকে আদেশ দিবেন বলে জানান। পরবর্তীতে আদালত জামিনের আদেশ দেন।

গত ১১ জুলাই এ জামিনের আবেদন করা হলে ৩১ জুলাই শুনানির দিন ঠিক করেন একই বিচারক।

এর আগে গত ৫ জুলাই ঢাকা মহানগর হাকিম খুরশীদ আলম মানহানির ভুয়া জন্মদিন পালনের মামলায় এবং মহানগর হাকিম আহসান হাবীব যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেওয়ার মামলায় জামিন নামঞ্জুর করেন। ওই আদেশের বিরুদ্ধে দায়রা আদালতে জামিনের আবেদন করা হয়।

মামলা দু’টির বিবরণে বলা হয়, গত ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী ‘স্বীকৃত স্বাধীনতা বিরোধীদের গাড়িতে জাতীয় পতকা তুলে দিয়ে দেশের মানচিত্র এবং জাতীয় পতাকার মানহানি ঘটানোর অভিযোগে আদালতে একটি মানহানির মামলা দায়ের করেন।

এরপর গত বছর ২৫ ফেব্রুয়ারি তেজগাঁও থানার ওসি (তদন্ত) এবিএম মশিউর রহমান মামলার প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর তা আমলে নিয়ে প্রাক্তন এ প্রধানমন্ত্রীকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন আদালত। মামলাটিতে গত বছরের ১২ অক্টোবর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

অপর আরেকটি মামলায়ৃ বলা হয়, গত ২০১৬ সালের ৩০ আগষ্ট ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রাক্তন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী জহিরুল ইসলাম ভুয়া জন্মদিন পালনের অভিযোগে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। মামলাটিতে ২০১৬ সালের ১৭ নভেম্বর আদালত খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, বেগম খালেদা জিয়ার একাধিক জন্মদিন নিয়ে ১৯৯৭ সালে ১৯ ও ২২ আগষ্ট দুই জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর মেট্টিক পরীক্ষার মার্কশিট অনুযায়ী জন্ম তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৪৬ সাল। ১৯৯১ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে একটি দৈনিকে তার জীবনী নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জন্মদিন ১৯ আগস্ট ১৯৪৫ সাল। তার বিবাহের কাবিননামায় জন্মদিন ৪ আগস্ট ১৯৪৪ সাল। সর্বশেষ ২০০১ সালে মেশিন রিডেবল পার্সপোর্ট অনুযায়ী তার জন্মদিন ৫ আগস্ট ১৯৪৬ সাল।

মামলায় বলা হয়, বিভিন্ন মাধ্যমে তার ৫টি জন্মদিন পাওয়া গেলেও কোথাও ১৫ আগস্ট জন্মদিন পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় তিনি ৫টি জন্মদিনের একটিও পালন না করে ১৯৯৬ সাল থেকে ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকীর জাতীয় শোক দিবসে আনন্দ উৎসব করে জন্ম দিন পালন করে আসছেন। শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য তিনি ওইদিন জন্মদিন পালন করেন।

আপনার মতামত লিখুন :