কিশোরগঞ্জ-২ আসনে যুদ্ধাপরাধ ইস্যুতে চাঞ্চল্য!

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

কিশোরগঞ্জ: হঠাৎ বদলে গেছে দৃশ্যপট। কিশোরগঞ্জ-২ নির্বাচনী আসনে যুদ্ধাপরাধ ইস্যুতে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য।

কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ-২ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে আওয়ামী লীগে আসা এক সম্ভাব্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে যুদ্ধপরাধের সুস্পষ্ট অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। সাংবাদিক সন্মেলন ও প্রতিবাদ সমাবেশের পর এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা।

সূত্র জানায়, 'কিশোরগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগের ছদ্মাবরণে একজন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীর অনবরত ক্ষমতার চর্চার কারণে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতার মূল্যবোধ ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে। এই অপশক্তিকে যে কোনো মূল্যে প্রতিহত করতে মুক্তিযোদ্ধারা বদ্ধপরিকর।'

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা বার্তা২৪.কমকে জানান, 'একজন সম্ভাব্য প্রার্থী ছাড়াও আরেকজন সম্ভাব্য প্রার্থীর পরিবারের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা বিরোধিতার অভিযোগ রয়েছে। আমরা কিশোরগঞ্জ-২ আসনে যুদ্ধাপরাধী, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী কোনো প্রার্থীকে মেনে নেবো না।'

একাধিক প্রার্থীর মনোনয়নের দৌঁড়ে যুদ্ধাপরাধ ইস্যু সামনে চলে আসায় বদলে গেছে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের দৃশ্যপট। খোদ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য। মুক্তিযোদ্ধারা মাঠে নামায় পাল্টে গেছে ভোটের চিত্র।

যোগাযোগ করা হলে আওয়ামী লীগের কিশোরগঞ্জ জেলা কমিটির একাধিক সদস্য বার্তা২৪.কমকে বলেন, 'নির্বাচনী রাজনীতিতে অভিযোগ, পাল্টা-অভিযোগ থাকতেই পারে। তবে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়ায় কারো বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার পক্ষে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা কাজ করবে না। আমরা সব সময় স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে নিয়েই রাজনীতি করি। নির্বাচনেও আমরা স্বাধীনতার পক্ষেই অবস্থান নেবো।'

উল্লেখ্য, কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ-২ নির্বাচনী আসনটি আওয়ামী লীগের কাছে বরাবরই প্রেস্টিজ ইস্যু। কারণ এ আসনে অতীতে আওয়ামী লীগের হয়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন এক সময়ের মন্ত্রী ও বিরোধী দলের নেতা আসাদুজ্জামান খান এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক গোলাপ মিয়া।

আসনটি আওয়ামী লীগের জন্য প্রেস্টিজ ইস্যু আরও একটি কারণে যে, একদা কটিয়াদী থেকে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী মনোরঞ্জন ধর এবং পরবর্তীতে সিনিয়র নেতা অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান খান চুন্নু মিয়া নির্বাচিত হয়েছিলেন।

বর্তমানে পাকুন্দিয়া ও কটিয়াদী মিলে একটি আসন হলেও উভয় উপজেলার আওয়ামী লীগ আসনটি দখলে রাখাকে ঐতিহ্য ও প্রেস্টিজ ইস্যু বলে মনে করে। এমতাবস্থায় আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত কাউকে প্রার্থী হিসাবে মেনে নেবে না স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।

আপনার মতামত লিখুন :