শিক্ষার্থীরা বেয়াদবি নয়, দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে: ফখরুল

ঢাকা: কোমলমতি শিক্ষার্থীরা কারো সঙ্গে দুর্ব্যবহার কিংবা বেয়াদবি করেনি। তারা সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল নিরাপদ সড়কের এবং তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই তারা গাড়ির কাগজপত্র পরীক্ষা করাটাকে অন্যতম প্রাথমিক কাজ হিসেবে গ্রহণ করেছিল।

শুক্রবার (১০ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, সতীর্থ ভাই-বোনদের নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গড়ে উঠা শিশু-কিশোরদের এই যুগান্তকারী আন্দোলন ছিল শান্তিপূর্ণ। গাড়ির কাগজপত্র চেক করার মতো গঠনমূলক এবং উপযুক্ত কাগজপত্র না থাকায় মন্ত্রী, বিচারপতি, পুলিশ কর্মকর্তা, সরকারী কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষের প্রতি তাদের সম আচরণ ছিল দৃষ্টান্তমূলক ও শিক্ষণীয়।

তিনি বলেন, সড়কে রিক্সাগুলোকে এক লাইনে চলার এবং অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার বিগ্রেডের গাড়ির জন্য নির্দিষ্ট লাইন ফাঁকা রাখার মতো আইনি ও আধুনিক ব্যবস্থাও করা সম্ভব তা প্রমাণ করে দেখিয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ঢাকায় ২ জন স্কুল ছাত্র-ছাত্রীর অকাল ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের যে অভূতপূর্ব ঐক্যবদ্ধ এবং সুশৃঙ্খল প্রতিরোধের ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতি ও আন্দোলনের ইতিহাসে এক নতুন মাত্রা সৃষ্টি করেছে।

তিনি আরো বলেন, দেশের সকল শ্রেণী পেশার মানুষ, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংঠগন এমনকি দেশের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও পুলিশ কর্মকর্তারাও শিশু-কিশোরদের ৯ দফা দাবী আন্দোলন ও কার্যক্রমের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। আমরাও বিএনপি’র পক্ষ থেকে এবং ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে তাদের ন্যায্য ও জরুরি এসব দাবিতে নৈতিক সমর্থন ঘোষণা করেছি।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, জনগণের জানমাল রক্ষায় ক্রমাগত ব্যর্থ ও অযোগ্য সরকার প্রথম দিন থেকেই এই আন্দোলনে ষড়যন্ত্র ও উসকানি আবিষ্কারের অপচেষ্টা চালাতে থাকে। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে জনগণের সব ন্যায্য আন্দোলনে সরকার একই কাজ করেছে এবং এই সুযোগে বিরোধী দল ও মতের নেতা-কর্মী ও আন্দোলনে সক্রিয়দের বিরুদ্ধে হায়েনার মতো আক্রমণ চালিয়েছে।

প্রস্তাবিত ‘সড়ক পরিবহন আইন’ অধিকতর সংশোধনের দাবি করে ফখরুল বলেন, সংশোধিত এই আইনে ছাত্র-ছাত্রীদের দাবীকৃত নিরাপদ সড়ক অর্জিত হবে না। এই আইনে সড়ক পরিবহন খাতে মানুষ হত্যা ও অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনা এড়ানোর স্পষ্ট দিক নির্দেশনা কিংবা কঠোর শাস্তির বিধান নেই। দুর্ঘটনায় মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড বলা হবে কিনা এটা নির্ধারণের দায়িত্ব নিরপেক্ষ যোগ্য, সংশ্লিষ্ট কাউকে রাখা হয়নি। এ ব্যাপারে হাইকোর্টের মতামতেরও গুরুত্ব দেয়া হয়নি। আমরা এই আন্দোলন এবং দীর্ঘদিন ধরে যারা নিরাপদ সড়কের জন্য কাজ করছেন তাদের সাথে অর্থবহ আলোচনা করে প্রস্তাবিত আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধনীর দাবী জানাচ্ছি।

রাজনীতি এর আরও খবর

//election count down