কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে মুখোমুখি আ.লীগ-জাপা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

 

কিশোরগঞ্জ: জেলা সদর সংলগ্ন করিমগঞ্জ ও তাড়াইল উপজেলা নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের নির্বাচনী ময়দানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সরকারের শরিক জাতীয় পার্টি (জাপা) মুখোমুখি লড়াই চালাচ্ছে। দুই শরিকের প্রচারণায় প্রতিনিয়ত উত্তাপ বাড়ছে। আসন্ন নির্বাচনের মনোনয়ন পেতে কোনও দলই বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে নারাজ।

নিজেদের দখলে থাকা কিশোরগঞ্জ-৩ আসনটি ধরে রাখতে মরিয়া জাতীয় পার্টি। আওয়ামী লীগ চায়, যে কোনও মূল্যে আসনটি নিজেদের কব্জায় আনতে। দুই দলের সরাসরি প্রচারণা ও নির্বাচনী যুদ্ধে ছিটকে পড়েছে বিএনপি। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী ড. ওসমান ফারুকের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ ওঠায় অনেকটা বেকায়দায় দলটি এখন নেতৃত্ব শূন্য। ফলে ভোটের মাঠে পাল্লা দিয়ে লড়ে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি।

আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের রাজনীতিতে জোটগত কারণে বার বার সুবিধা পাচ্ছে জাতীয় পার্টি। সবশেষ দুটি নির্বাচনে মহাজোটের মনোনয়ন পেয়ে লাঙল প্রতীকে নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বর্তমান শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Aug/17/1534491215218.jpg

কিন্তু বার বার এমনটি দিতে চায় না স্থানীয় আওয়ামী লীগ। আগামী নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে লাঙ্গল নয়, নৌকা প্রতীক চায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ। কারণ করিমগঞ্জ ও তাড়াইল উপজেলা নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ-৩ আসনটি আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত। ১৯৯১ ও ৯৬ সালের নির্বাচনে পরপর দু'বার আসনটি দখলে রাখে আওয়ামী লীগ নেতা ড. মিজানুল হক। এরপর ২০০১ সালে অষ্টম সংসদ নির্বাচনে জয়ী হন বিএনপি'র কেন্দ্রীয় নেতা ড. এম ওসমান ফারুক।

এরপর পাল্টে যায় চিত্র। ভোটের রাজনীতিতে সুবিধা পেয়ে এগিয়ে যায় জাতীয় পার্টি। সবশেষ দুটি নির্বাচনে মহাজোটের পক্ষ থেকে নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু। এ অবস্থায় আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মধ্যে তৈরি হয়েছে মনোনয়ন যুদ্ধ ও রাজনৈতিক মেরুকরণ।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাপা এ আসনে দলীয় প্রার্থী হিসাবে মজিবুল হক চুন্নুকে এককভাবে নির্ধারণ করলেও আওয়ামী লীগে বিভিন্ন প্রার্থীর তৎপরতা রয়েছে। সাবেক এমপি ড. মিজানুল হক ছাড়াও কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ নেতা, বিএমএ সভাপতি, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ডা. মাহাবুব ইকবাল এবং শিল্পপতি ও করিমগঞ্জ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা নাসিরুদ্দিন আওলাদ মাঠে রয়েছেন।

কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র বার্তা২৪.কমকে জানায়, 'স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এ আসনে বার বার জাতীয় পার্টিকে মনোনয়ন দেওয়ায় চরম ক্ষুব্ধ। এতে দলের সাংগঠনিক শক্তির ভয়ানক ক্ষতি ও অবক্ষয় হয়েছে। জাতীয় পার্টি প্রীতিতে এবারও তাদেরকে মনোনয়ন দেওয়া হলে এ নির্বাচনী আসনে আওয়ামী লীগ প্রচন্ড বিপদের সম্মুখীন হবে।'

সূত্র আরও জানায়, দলীয়  মনোনয়ন নিশ্চিত করার প্রয়োজনে আওয়ামী লীগের তিন সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে একজনকে চূড়ান্ত করার জন্য আলোচনা চলছে।

 

আপনার মতামত লিখুন :