Alexa

ধনিয়া পাতাতেও আছে স্বাস্থ্য গুণ!

ধনিয়া পাতাতেও আছে স্বাস্থ্য গুণ!

ধনিয়া পাতাতেও রয়েছে নানান উপকারিতা। ছবি: আসিফ

বাঙালি ঘরানার হরেক রান্নায় ধনিয়া পাতা না থাকাটাই অস্বাভাবিক বিষয়।

ভর্তা-ভাজি থেকে শুরু করে ডাল কিংবা মাছের পদেও ধনিয়া পাতার সুঘ্রাণ থাকা চাই। এমনকি পরিবেশনের জন্যেও প্রয়োজন হয় ধনিয়া পাতা।

প্রতিদিন যে খাদ্য উপাদানটি খাওয়া হচ্ছে, তার গুণ কী শুধুই সুগন্ধের মাঝেই সীমাবদ্ধ? মোটেও নয়। খুব পরিচিত ও সাধারণ ধনিয়া পাতারও রয়েছে অবাক করার মতো বেশ কিছু স্বাস্থ্য গুণাগুণ। তারই কিছু এখানে তুলে ধরা হলো।  

চোখকে সুরক্ষিত রাখে

ধনিয়া পাতায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন-এ, যা চোখকে সুস্থ রাখতে ও রাতকানার সমস্যাকে দূরে রাখতে সাহায্য করে। ভাবতেই পারেন, ভিটামিন-এ তো অনেক খাদ্য উপাদানেই পাওয়া যায়, ধনিয়া পাতা থেকে পাওয়া ভিটামিন-এ’র বিশেষত্ব কি? ধনিয়া পাতায় থাকা বিশেষ ধরণের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ক্যারোটেনয়েডস থেকে এই ভিটামিন-এ পাওয়া যায়। যা চোখে স্বাস্থ্যের জন্য আলাদাভাবে উপকারিতা বহন করে।

ভালো রাখে হৃদযন্ত্র

ধনিয়া পাতায় তুলনামূলক বেশি মাত্রায় পলিফেলন অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। এই অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হৃদযন্ত্রের পাশাপাশি লিভারের জন্যে উপকারি ভূমিকা পালন করে। ধনিয়া পাতার রস রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও রক্তের লিপিড প্রোফাইলের মাত্রায় সামঞ্জস্য আনতে কাজ করে।

ডায়বেটিসকে রাখে নিয়ন্ত্রণে

ডায়বেটিসে আক্রান্ত কিছু ইঁদুরের উপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, ধনিয়া পাতার রস রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আনে, খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় ও ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এছাড়া ডায়বেটিসে আক্রান্ত রোগীদের রক্তের লিপিট প্রোফাইলের মাত্রায় অসামঞ্জস্যতা থাকার ফলে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের সৃষ্টি হয়। যার ফল স্বরূপ নেতিবাচক প্রভাব পড়ে হৃদযন্ত্র, কিডনি, লিভারসহ অন্যান্য প্রত্যাঙ্গের উপর। ধনিয়া পাতার রস এই অক্সিডেটিভ স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণে রাখতে বা কমাতে সাহায্য করে।

প্রদাহ কমায় ধনিয়া পাতা

রিউমেতিক ফিভার কিংবা আর্থ্রাইটিসের সমস্যার ফলে শরীরে প্রদাহ ও ফোলাভাব দেখা দিলে, ধনিয়া পাতার রস সেটা কিছুটা কমাতে সাহায্য করে। কীভাবে? ধনিয়া পাতার রসে আছে বেটা-সিটোস্টেরল ও বেটা-সিটোস্টেরলিন। যা প্রদাহ বিরোধী উপাদান হিসেবে কাজ করে। এছাড়া ধনিয়া পাতার পলিফেনল মূলক অ্যান্টি-অক্সিডেন্টও প্রদাহকে কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

অ্যালার্জি, র‍্যাশ ও ক্ষত সারাতে সাহায্য করে

পোকামাকড়ের কামড়, ত্বকের র‍্যাশ, চুলকানির প্রাদুর্ভাব, ত্বকের প্রদাহ ও অ্যালার্জির সমস্যাইয় ধনিয়া পাতার রস খুব উপকারি। অ্যালার্জির জন্য এ জন্য এক কাপ ধনিয়া পাতা ও ১/৩ কাপ পানি একসাথে ব্লেন্ড করতে হবে। এরপর ছেঁকে এই রসটি আক্রান্ত স্থানে দিনে দুইবার মালিশ করতে হবে। প্রদাহের জন্য রসটি দুই টেবিল চামচ করে দিনে দুইবার পান করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন :