Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ক্লান্তিটা যখন শারীরিক নয়, মানসিক!

ক্লান্তিটা যখন শারীরিক নয়, মানসিক!
ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

জীবনে বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে হয় সবাইকেই।

বিপদ ও আশঙ্কার মাঝে কাটাতে হয় অনেকগুলো সময়। দীর্ঘদিন মানসিক চাপের মুখে থাকার ফলে পরিবর্তন আসে মানসিক অবস্থায় ও আবেগে। ক্লান্তি ভর করে শরীরে, বিষণ্ণতার ছায়া পড়ে মনের উপর। নিজেকে জোর করে এই সময়গুলোতে প্রাণবন্ত ও হাসিখুশি রাখার সকল চেষ্টাই যেন বৃথা হয়ে যায়। জীবনের ইতিবাচক দিকগুলোর প্রতি মনোযোগ দিতে চাইলেও, দিনশেষে দেখা যায় ফলাফল শূন্য।

বারংবার যে ক্লান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে সেটাকে শারীরিক ক্লান্তি হিসেবে ধরে নিলেও, এই ক্লান্তিটা আসলে মানসিক। দীর্ঘদিনের মানসিক বিষাদ ও বিষণ্ণতার ভারে শরীর নয়, ক্লান্ত হয়েছে পড়েছে মন। শারীরিক ক্লান্তির জন্য যেমন বিশ্রামের প্রয়োজন হয়, অনুরূপভাবে মানসিক ক্লান্তির জন্যেও প্রয়োজন বিশ্রাম ও যত্ন।

কিন্তু আপনার ক্লান্তিটা যে আসলে শারীরিক নয় সেটা বুঝবেন কীভাবে? মানসিক ক্লান্তির ক্ষেত্রে কিছু লক্ষণীয় লক্ষণ প্রকাশ পায়। তেমন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ জানানো হলো।

১. দিনের বেশিরভাগ সময় বিশ্রাম নিতে ও শুয়ে থাকতেই ইচ্ছা করবে। সারাদিনেই ঘনঘন ঘুম পাবে। তবে রাতের বেলা ঘুম ভাব হালকা হয়ে যাবে এবং প্রচন্ড অস্থিরতা দেখা দিবে। কোনক্রমে ঘুমিয়ে পড়লেও দুঃস্বপ্ন দেখে ঘুম ভেঙে যাবার মতো সমস্যা দেখা দিবে।

২. মানসিক ক্লান্তির ছাপ শরীরেও পড়ে। ফলে সমস্ত শরীরে ব্যথাভাব দেখা দেওয়া শুরু করবে। শারীরিক ব্যথাভাবের সঙ্গে মাথা ঘোরানো, পেটে ব্যথা, ঘোলা দেখা ও অকারণে প্রচন্ড মাথাব্যথা হবে।

৩. কুশলাদি জানতে চাইলে সঠিকভাবে কোন উত্তর দিতে পারবেন না। ‘কেমন আছেন’? খুব সহজ স্বাভাবিক প্রশ্নটাও তখন জটিল বলে মনে হবে। কারণ আসলেও আপনি জানেন না, আপনি কেমন আছেন, কেমন বোধ করছেন! মন ও মাথার ভেতর কি কাজ করছে, সেটা আপনি নিজেও জানেন না সঠিকভাবে। কারণ নিজের অনুভূতিগুলোকে পরিপূর্ণভাবে প্রকাশ করার মতো কোন শব্দ জানা নেই আপনার।

৪. ভালো ও সুস্থ থাকার জন্য শরীর ও মনের মেলবন্ধন খুবই জরুরি। অথচ আপনার শারীরিক অবস্থা ও মানসিক অবস্থার মাঝে কোন সামঞ্জস্যতা নেই একেবারেই। অকারণেই বিচলিত বোধ করা, অস্থিরতা যেন নিত্য সঙ্গী।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Nov/25/1543134551757.jpeg

৫. হুট করেই খুব আবেগশূন্য হয়ে যাবে মন। কোন ঘটনাই মনকে স্পর্শ করতে পারবে না। আবার হুট করেই অকারণে মন অনেক বেশি আর্দ্র হয়ে উঠবে। তুচ্ছাতিতুচ্ছ কারণেও মন খারাপ হয়ে যাবে, চোখে পানি আসবে।

৬. ঘনঘন প্যানিক অ্যাটাক হবে ও সর্বক্ষণ দুশ্চিন্তা ঘুরবে মাথায়।

৭. সবসময় অনেক মানুষের মাঝে থাকার পরেও নিজেকে খুব বেশি একা বলে মনে হবে। কারোর সঙ্গে কথা বলার মতো ইচ্ছাও দেখা দিবে না। কেউ আগ্রহ নিয়ে কথা বলতে চাইলেও বিরক্তি দেখা দিবে।

৮. হুট করেই প্রচন্ড রাগ উঠবে। অথচ রাগ ওঠার পেছনে যুক্তিযুক্ত কোন কারণ, কোন ঘটনা খুঁজে পাওয়া যাবে না। রাগের সঙ্গে ঈর্ষাকাতরতা ও ঘৃনাবোধ বৃদ্ধি পাবে।

লক্ষণগুলো কি আপনার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে? তবে সবার প্রথমে নিজেকে সময় দিন, নিজের যত্ন নিন, নিজেকে বুঝতে চেষ্টা করুন। যে কাজগুলো করতে ভালোলাগে সেটার সঙ্গে নিজেকে ব্যস্ত করে তুলুন। পছন্দের গান, পছন্দের খাবার ও পছন্দের মানুষের সঙ্গে সময় কাটান। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজের সমস্যা, নিজের মানসিক অবস্থা নিয়ে কোন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলুন।

আরও পড়ুন: মানসিক সুস্বাস্থ্যে প্রয়োজন ‘পরিমিত’ শরীরচর্চা

আরও পড়ুন: একটু শুনবেন কি?

আপনার মতামত লিখুন :

তেজগাঁওয়ে 'দ্যা গ্যারেজ ফুডকোর্ট'

তেজগাঁওয়ে 'দ্যা গ্যারেজ ফুডকোর্ট'
দ্যা গ্যারেজ ফুডকোর্ট ও কয়েকটি মেন্যু, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় বলা চলে, পুরোটাই অফিস পাড়া। সকাল থেকে সন্ধ্যা কিংবা রাত- প্রতিনিয়তই চলছে কাজ। কিন্তু এই এলাকায় ছিল না ভালো কোনো খাবারের জায়গা। হাতেগোনা যে কয়টা রেস্টুরেন্ট আছে তার কোনোটাতে হয় দাম বেশি রাখা হয় কিংবা খাবার স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে তেজগাঁওয়ে শুরু হয়েছে 'দ্যা গ্যারাজ ফুডকোর্ট'।

তেজগাঁও শান্তা টাওয়ার মোড় বা ব্র্যাক ব্যাংক অনিক টাওয়ারে যেতে গলির মুখেই ২২২ নাম্বার হাউজে এই ফুডকোর্ট অবস্থিত। রয়েছে ২০০টির বেশি আসন। তবে ফুডকোর্টটি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত না হলেও বড় বড় ফ্যানের মাধ্যমে ঠাণ্ডা বাষ্প দিয়ে জায়গাটি শীতল করার ব্যবস্থা আছে।

তেজগাঁওয়ে 'দ্যা গ্যারেজ ফুডকোর্ট'

সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্তমানে এই ফুডকোর্টে জুসবারসহ প্রায় ১০টি দোকান আছে। এসব দোকানে নুডলস, বার্গার, দই ফুচকা, দোসা, রাজকচুরি, ফ্রাইড রাইস, ফ্রাইড চিকেন, লাঞ্চ আইটেম, চাপ, পরোটা, এগ রোল এবং চাপরোল পাওয়া যায়। আর বেভারেজ আইটেমের মধ্যে রয়েছে- কোল্ড কফি, হটকফি, এসপ্রেসো কফিসহ আনারস, আম ও সিজনাল নানা ফ্রুট জুস।

এখানে চিকেন ও বিফ চাপ ১৫০ টাকা, চিকেন চাপ প্যাকেজ মিল ১৮০ টাকা, পরোটা ২০ টাকা, চিকেন রোল ১০০ টাকা, বিফ রোল ১২০ টাকা, এগরোল ৪০ টাকা, বিফ তেহারি ১৫০ টাকা, চিকেন খিচুরি ও বেগুন ভাজি ১৮০ টাকায় পাওয়া যায়।

তেজগাঁওয়ে 'দ্যা গ্যারেজ ফুডকোর্ট'

এছাড়া দোসা এক্সপ্রেসে দোসা পাওয়া যাবে ১৮০–৩৫০ টাকায়।

'হাক্কা ঢাকায়' সেট মেন্যু ৩২৯–৫২৯ টাকা। এপিটাইজার আইটেমের পাওয়া যাচ্ছে ১৯৯-৩০০ টাকায়, যার মধ্যে রয়েছে চিকেন, প্রন ডাম্পলিং, হাক্কা চিকেন উইংস। রাইস এবং নুডুলস আইটেমের মধ্যে আছে চিকেন, প্রন এবং বিফ ফ্রাইড রাইস ও নুডুলস, যার দাম পড়বে ১৯৯-৩০০ টাকা। এছাড়াও রয়েছে রাইস, চিকেন চিলি ও ফ্রাইড চিকেন এর একটি লাঞ্চ মেন্যু, যার দাম ধরা হয়েছে ১৯৯ টাকা।

তেজগাঁওয়ে 'দ্যা গ্যারেজ ফুডকোর্ট'

চিজ এক্সপ্রেসে স্লাইস পিজ্জার দাম পড়বে ১২৯ টাকা। এছাড়াও সর্বোচ্চ ১৬ ইঞ্চি পিজ্জা পাওয়া যাবে এক হাজার ২৪৯ টাকায়।

দ্যা গ্যারাজ কফিতে এসপ্রেসো কফি পাওয়া যাবে ১০০ টাকায়। এছাড়াও আমরিকানো ১৩০ টাকা, মকা ২২০ টাকা, ডেজার্ট আইটেম ১০০-২৫০ টাকা, হট ড্রিঙ্কস ২০০ টাকা, চা ৩৫ টাকা, আইসড কফি ১৫০-২৫০ টাকা, সিজনাল ফ্রুট জুস ১৩০ টাকা। রয়েছে জনপ্রিয় টেকআউট বার্গারের ফুড স্টলও।

ফুডকোর্টতির ইনচার্জ বদিউজ্জামান জানান, গত মে মাসে এর যাত্রা শুরু হয়। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ফুডকোর্ট খোলা থাকে।

চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান

চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান
নান, ছবি: সংগৃহীত

সকাল কিংবা বিকালের নাশতায় যারা নিয়মিত রুটি ও পরোটা খান, একটা সময় পরে তাদের রুটিতে অভক্তি দেখা দেয়।

এ সময়ে রুটির বদলে গরম নান খেতে মনে চায়। ফোলা ও গরম নানের সাথে সবজি কিংবা মাংসের ঝোল যেন অমৃতসম।

এই নান কেনার জন্য এলাকার রেস্টুরেন্টে দৌড়ঝাঁপ না করে ঘরে বসে চুলাতেই তৈরি করে নেওয়া যাবে মজাদার গরমাগরম নান। দেখে নিন নান তৈরির রেসিপিটি।

নান তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623276721.JPG

১. ১/৪ কাপ দই।

২. এক চা চামচ চিনি।

৩. এক চা চামচ বেকিং পাউডার।

৪. এক চিমটি বেকিং সোডা।

৫. দুই কাপ ময়দা।

৬. এক চা চামচ লবণ।

৭. দুই টেবিল চামচ তেল।

৮. ১/৪-১/৩ কাপ পানি।

৯. এক টেবিল চামচ কালোজিরা।

১০. ঘি অথবা মাখন।

নান যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623263865.JPG

১. একটি পাত্রে দই, এক চা চামচ চিনি, এক চা চামচ বেকিং পাউডার ও এক চিমটি বেকিং সোডা ভালোভাবে মেশাতে হবে।

২. এতে দুই কাপ ময়দা ও স্বাদমতো লবণ দিয়ে চামচের সাহায্যে ভালোভাবে মেশাতে হবে। মিশ্রণের মাঝখানে দুই টেবিল চামচ তেল অ ১/৪ কাপ পানি দিয়ে ময়দার কাই তৈরি করতে হবে। ময়দার কাই শক্ত হলে পানি ও নরম হলে ময়দা মেশাতে হবে।

৩. ময়দার কাইটি মসৃণ হয়ে আসলে তার উপরে তেল মাখিয়ে পাত্রের মাঝখানে রেখে তার উপরে ভেজা অ পরিষ্কার কাপড় দিয়ে দুই ঘন্টার জন্য ঢেকে রাখতে হবে।

৪. দুই ঘণ্টা পর ময়দার কাই থেকে ছোট ছোট বল তৈরি করে রুটির মতো বেলে নিতে হবে। বেলার সময় তার উপরে কালোজিরা ছড়িয়ে দিতে হবে এবং রুটির মতো গোলাকৃতির না করে লম্বাটে করে নিতে হবে। চাইলে হাত দিয়ে টেনে লম্বাটে করে নেওয়া যাবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623299530.JPG

৫. এবারে চুলায় তাওয়া গরম করে নান দিয়ে দিতে হবে। একপাশ কিছুটা ভাজা হলে ছোট ছোট ছিদ্র দেখা দেবে। এমন হলে নান উল্টে দিয়ে অপর পাশ ভাজতে হবে। এ পাশেও ছোট ছোট ছিদ্র দেখা দিলে আবারো উল্টে দিতে হবে।

তাওয়া থেকে নামানোর আগে নানের উপরে ঘি অ ধনিয়া পাতা কুঁচি ছড়িয়ে দিতে হবে।

আরও পড়ুন: বাড়িতেই তৈরি করুন ভেজিটেবল মমো

আরও পড়ুন: ঘিয়ে তৈরি মুচমুচে নিমকি

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র