Barta24

মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬

English

দুশ্চিন্তা দূরে রাখুন!

দুশ্চিন্তা দূরে রাখুন!
বাদ দিতে হবে অকারণ দুশ্চিন্তার অভ্যাস। ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

জীবনে দুশ্চিন্তা থাকবেই।

তবে তার কাছ থেকে নিজেকে যথাসম্ভব দূরে রাখার চেষ্টা বহাল রাখতে হবে। প্রয়োজনে তো বটেই, অপ্রয়োজনেও দুশ্চিন্তা এসে ভর করে মনে ও মাথায়। এই দুশ্চিন্তা কিংবা উদ্বেগ সুস্থিরতা আনতে দেয় না জীবনে ও প্রতিদিনের কাজে।

নিজেকে এই দুশ্চিন্তার কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখা প্রয়োজন মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার খাতিরেই। প্রতিদিনের হাজারো কাজের চাপ, পারিপার্শ্বিক অস্থিরতার মাঝেও দুশ্চিন্তাকে দূরে রাখা সম্ভব।

সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে দূরে রাখতে হবে

খুব সূক্ষ্মভাবেই ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম, টুইটার, হোয়াটসঅ্যাপের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো মনের উপর প্রভাব ফেলে। যা থেকে দেখা দেয় মানসিক দুশ্চিন্তা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বন্ধুদের সঙ্গে নিজেকে ও নিজের বর্তমান অবস্থাকে নিজের অজান্তেই আমরা তুলনা করি। যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অকারণ উদ্বেগের উদ্রেক করে। বন্ধুর সিক্স প্যাক আছে, বান্ধবী জমকালো শাড়ি কিনেছে কিংবা ভ্যাকেশন কাটাতে থাইল্যান্ডে গিয়েছে- এর মাঝে নিজেকে জড়িয়ে ফেলা, নিজের জন্য মনঃকষ্টে ভোগা ও উদ্বেগের মুখোমুখি হওয়ার মতো ঘটনা নতুন কিছু নয়। তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে বিরতি নিন একটা নির্দিষ্ট সময় পরপর।

দুশ্চিন্তা সাধারণ জীবনের একটি অংশ

একেবারে চিন্তামুক্তভাবে জীবনযাপন করা কারোর পক্ষেই সম্ভব নয়। এই অসম্ভব বিষয়টিকে মেনে নিতে হবে। জানতে ও মানতে হবে, দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হওয়া নিত্য জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। দুশ্চিন্তার বিষয়ে আতঙ্কিত না হয়ে তাকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করা শিখতে হবে। কীভাবে দুশ্চিন্তাকে যথাসম্ভব কমিয়ে ও নিজেকে পারিপার্শ্বিকতার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া যাবে, তার পরিকল্পনা করতে হবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/15/1547541715193.jpeg

কাজটি করে ফেলতে হবে

ইংলিশে খুব সুন্দর একটি শব্দ আছে, প্রক্র্যাস্টিনেশন (Procrastination). যার অর্থ আগত কোন ঘটনাকে আগে থেকে ভেবে ও নিজের মতো করে চিন্তা করে অহেতুক মানসিক দুশ্চিন্তায় ভোগা। এই সমস্যাটি সবার মাঝে আছে কম কিংবা বেশি। কোন কাজ নিয়ে খুব বেশি সময় চিন্তা করলে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ দেখা দিবে। তাই আগে থেকে অহেতুক দুশ্চিন্তা না করে, যত দ্রুত সম্ভব কাজটি করে ফেলতে হবে। অহেতুক দুশ্চিন্তা পরিকল্পনা নষ্ট করে দিতে পারে ক্ষেত্র বিশেষে।

দুশ্চিন্তার শারীরিক লক্ষণগুলো বোঝার চেষ্টা করতে হবে

হুট করে দুশ্চিন্তা দেখা দিলে মানসিক চাপের প্রভাব দেখা দেয় শরীরের উপরেও। দুশ্চিন্তার সঙ্গে অনেকের হাতের তালু ঘামে, অনেকের তেষ্টা পায়, অনেকে চোখে ঘোলা দেখা শুরু করে। আপনার ক্ষেত্রে কোন লক্ষণটি প্রকাশ পায় সেটা বোঝার চেষ্টা করতে হবে। যখনই কোন লক্ষণ দেখা দিবে নিজেকে শান্ত করতে হবে, মাথা থেকে অহেতুক দুশ্চিন্তা বাদ দিতে হবে।

নিজেকে ব্যস্ত রাখতে হবে

অলস সময়েই সাধারণত উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তাগুলো মাথায় জট পাকাতে শুরু করে। নিজেকে তাই ব্যস্ত রাখতে হবে। ছোট কিংবা বড় যেকোন ধরণের কাজের সঙ্গে নিজেকে জড়িত রাখার চেষ্টা করতে হবে। সেটা হতে পারে কারোর সঙ্গে দেখা করা, নিজের পছন্দের কোন কাজ করা, রান্না করা, গান শোনা ইত্যাদি। মূল কথা, পরিস্থিতি ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার উপর নির্ভর করে নিজেকে কাজের সঙ্গে জড়িত রাখতে হবে।

আরও পড়ুন: ক্লান্তিটা যখন শারীরিক নয়, মানসিক!

আরও পড়ুন: রাগ থাকুক নিয়ন্ত্রণে

আপনার মতামত লিখুন :

কোন জিনিস কতদিন পর পরিষ্কার করতে হবে?

কোন জিনিস কতদিন পর পরিষ্কার করতে হবে?
ছবি: সংগৃহীত

নিজের আশেপাশের সবকিছু তথা ঘর ও ঘরের জিনিসপত্র যতবেশি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হবে, নিজেকে ও পরিবারের সবাইকে ততবেশি সুস্থ রাখা সম্ভব হবে। শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক প্রফুল্লতার সাথে সাথে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার সংযোগটা বহু পুরনো। এ কারণে পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে ছাড় দেওয়ার উপায় নেই।

পরিধেয় পোশাক কিংবা অপরিষ্কার থালাবাসন যে প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হয়, সেটা নতুন করে বলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু ঘরে থাকা আয়না কতদিন পর পরিষ্কার করা প্রয়োজন সেটা অনেকেই বুঝতে পারেন না। তবে বাসার অবস্থান ও এলাকাভেদে জিনিসপত্রে ধুলাময়লা জমার ক্ষেত্রে রকমফের দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে কোন আসবাবে ধুলা জমে থাকতে দেখলে দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলতে হবে।

প্রতি সপ্তাহে, প্রতি মাসে কিংবা ৩-৫ মাস অন্তর কোন জিনিসগুলো পরিষ্কার করা প্রয়োজন সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে জিনিসপত্র পরিষ্কার রাখা বেশ অনেকটা সহজ হয়। যে কারণে আজকের ফিচারে খুব গুছিয়ে তালিকা তৈরি করা হয়েছে, যা থেকে জানা যাবে কতদিন পর কোন জিনিসটি পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

প্রতিদিন যা পরিষ্কার করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566123957938.jpg

১. বিছানা গুছিয়ে ঝাড়তে হবে।

২. নোংরা ও এঁটো থালাবাসন জমিয়ে রাখা যাবে না। প্রতিদিনেরটা প্রতিদিন ধুয়ে ফেলতে হবে।

৩. খাবার টেবিল গুছিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।

৪. বাথরুমের মেঝে ঝাঁট দিতে হবে।

৫. রান্নাঘরের থাক ও মেঝে মুছতে হবে।

৬. রান্নাঘরের সিংক পরিষ্কার করতে হবে।

৭ নোংরা পোশাক ধুতে হবে।

৮. ঘর ও বারান্দার মেঝে ঝাড়ু দিতে হবে। মুছতে পারলে সবচেয়ে ভালো।

প্রতি সপ্তাহে যা পরিষ্কার করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566123762608.jpg

১. বিছানা ও বালিশের কভার বদলাতে হবে।

২. রান্নাঘর ও রেফ্রিজারেটরে থাকা পুরনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার ফেলে দিতে হবে।

৩. ঘরের সকল আসবাবের আয়না মুছতে হবে।

৪. বুকশেফলে থাকা বইপত্র থেকে ধুলা ঝাড়তে হবে।

৫. শোকেসের জিনিসপত্র পরিষ্কার করতে হবে।

৬. আসবাবপত্র থেকে ধুলাবালি সরাতে হালকা ভেজা কাপড়ের সাহায্যে মুছতে হবে।

৭. মাইক্রোওয়েভ ওভেনের ভেতরের ও বাইরের অংশ পরিষ্কার করতে হবে।

৮. গোসল করার লোফাহ বা স্পন্স পরিষ্কার করতে হবে।

প্রতি মাসে যা পরিষ্কার করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566123841141.jpg

১. ঘরের কোন ও ছাদের অংশের ধুলাময়লা ঝাড়তে হবে।

২. লাইট ও বাল্বে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করতে হবে।

৩ সোফার কভার ও দরজা, জানালার পর্দা পরিষ্কার করতে হবে।

৪. ডিশওয়াশার ও ওয়াশিং মেশিন পরিষ্কার করতে হবে।

৫. ফ্রিজের ভেতর ও বাইরের অংশ ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে।

৬. টিভি থেকে ধুলাবালি সরাতে পরিষ্কার করতে হবে।

৭. দেয়াল ঘড়ি, ওয়ালম্যাট, বড় ছবির ফ্রেম নামিয়ে মুছে নিতে হবে।

৮. নিত্য ব্যবহারের ব্যাকপ্যাক ধুয়ে নিতে হবে।

৩-৫ মাস পরপর যা পরিষ্কার করতে হবে

১. আসবাবপত্রের নিচের অংশ থেকে ধুলাময়লা বের করতে হবে।

২. কার্পেট পরিষ্কার করতে হবে।

আরও পড়ুন: রোদ কিংবা বৃষ্টি, ছাতা হোক সঙ্গী

আরও পড়ুন: প্রয়োজন কিংবা ফ্যাশনে চাই রোদচশমা!

টি ট্রি অয়েল ব্যবহারে সুরক্ষিত ত্বক

টি ট্রি অয়েল ব্যবহারে সুরক্ষিত ত্বক
টি ট্রি অয়েল

বিভিন্ন ধরনের এসেনশিয়াল অয়েলের মাঝে টি ট্রি অয়েল সবচেয়ে পরিচিত ও প্রচলিত একটি।

এই এসেনশিয়াল অয়েলের অসংখ্য উপকারিতার মাঝে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পায়। শুধু ত্বক নয়, চুলের যত্নেও সমানভাবে ব্যবহৃত হয় টি ট্রি অয়েল। এছাড়াও ডিওডরেন্ট, পোকামাকড় দূর করতে ও মাউথওয়াশ হিসেবেও কার্যকর এই এসেনশিয়াল অয়েল।

টি ট্রি অয়েল ব্যবহার বিধি

টি ট্রি অয়েল ব্যবহারের ক্ষেত্রে খুব কঠিন কোন বিধিনিষেধ নেই। তবে মনে রাখতে হবে, ত্বকে বা চুলে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরাসরি এই তেল ব্যবহার করা যাবে না। ক্যারিয়ার তেল তথা নারিকেল তেল অথবা অলিভ অয়েলের সাথে মিশিয়ে তবেই ব্যবহার করতে হবে এই এসেনশিয়াল অয়েল।

অনেকেই টি ট্রি অয়েল পরিমাণে অনেক বেশি নিয়ে ফেলে। এক্ষেত্রে ১-৩ ফোঁটা ব্যবহার করাই যথেষ্ট। অল্প পরিমাণ এসেনশিয়াল অয়েল থেকেও সম্পূর্ণ উপকারিতা পাওয়া যাবে।

তবে টি ট্রি অয়েল ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে হবে অবশ্য। এই তেল চোখের আশেপাশের অংশ ব্যবহার না করাই শ্রেয়। এতে চোখের আশেপাশের অংশের ত্বকে জ্বালাপোড়া দেখা দেয়। কারণ মুখমণ্ডলের এ অংশের ত্বক তুলনামূলক বেশি পাতলা হয়ে থাকে।

এছাড়া টি ট্রি অয়েল ব্যবহার পূর্বে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া ভালো, এই তেল ব্যবহারে ত্বকে কোন সমস্যা দেখা দেয় কিনা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566115011865.jpg

টি ট্রি অয়েলের উপকারিতা

এই এসেনশিয়াল অয়েলের বিবিধ উপকারিতার মাঝে মূল ও প্রধান কয়েকটি উপকারিতা তুলে ধরা হলো।

শুষ্ক ত্বকের সমস্যা কমায়

যাদের ত্বক খুব শুষ্ক, তাদের জন্য টি ট্রি অয়েল খুব ভালো কাজ করবে। এই তেলটি শুষ্ক ত্বকের জ্বালাপোড়াভাব ও চুলকানির প্রাদুর্ভাব কমায়। বিশেষত এতে থাকা জিংক অক্সাইড শুষ্ক ত্বক ও একজিমার সমস্যা কমাতে কাজ করে।

তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন

টি ট্রি অয়েলের অ্যান্টিসেপটিক উপাদান তৈলাক্ত ত্বকের জন্য উপকারী। একটি গবেষণা জানাচ্ছে,  সানস্ক্রিনের সাথে টি ট্রি অয়েল মিশ্রিত থাকলে ত্বকের তৈলাক্ততা কমে যায় অনেকখানি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566115031078.jpg

ত্বকের প্রদাহ

উপকারী এই এসেনশিয়াল অয়েলের অ্যান্ট-ইনফ্ল্যামেটরি প্রভাব ত্বকের প্রদাহ, ব্যথা ও জ্বালাপোড়ার সমস্যাকে কমিয়ে এনে আরাম প্রদান করে। এমনকি ত্বকের কোন অংশ ফুলে গেলে বা ত্বকে লালচে ভাব দেখা দিলে সেটা কমাতেও কাজ করে টি ট্রি অয়েল।

ক্ষত সারাতে টি ট্রি অয়েল

টি ট্রি অয়েলের অ্যান্টিসেপটিক, অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ধর্ম ত্বকের কাটাছেঁড়া ও ক্ষত সারাতে খুব চমৎকার কাজ করে। ২০১৩ সালের একটি গবেষণা থেকে দেখা গেছে প্রতি ১০ জনের মাঝে ৯ জনের টি ট্রি অয়েল ব্যবহারে ক্ষত দ্রুত ও অল্প সময়ের মাঝে ভালো হয়েছে।

আরও পড়ুন: ব্রণের প্রাদুর্ভাব কমবে ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহারে

আরও পড়ুন: ত্বকের ফাটা দাগ কমাতে ক্যাস্টর অয়েল

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র