Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

দুশ্চিন্তা দূরে রাখুন!

দুশ্চিন্তা দূরে রাখুন!
বাদ দিতে হবে অকারণ দুশ্চিন্তার অভ্যাস। ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

জীবনে দুশ্চিন্তা থাকবেই।

তবে তার কাছ থেকে নিজেকে যথাসম্ভব দূরে রাখার চেষ্টা বহাল রাখতে হবে। প্রয়োজনে তো বটেই, অপ্রয়োজনেও দুশ্চিন্তা এসে ভর করে মনে ও মাথায়। এই দুশ্চিন্তা কিংবা উদ্বেগ সুস্থিরতা আনতে দেয় না জীবনে ও প্রতিদিনের কাজে।

নিজেকে এই দুশ্চিন্তার কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখা প্রয়োজন মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার খাতিরেই। প্রতিদিনের হাজারো কাজের চাপ, পারিপার্শ্বিক অস্থিরতার মাঝেও দুশ্চিন্তাকে দূরে রাখা সম্ভব।

সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে দূরে রাখতে হবে

খুব সূক্ষ্মভাবেই ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম, টুইটার, হোয়াটসঅ্যাপের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো মনের উপর প্রভাব ফেলে। যা থেকে দেখা দেয় মানসিক দুশ্চিন্তা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বন্ধুদের সঙ্গে নিজেকে ও নিজের বর্তমান অবস্থাকে নিজের অজান্তেই আমরা তুলনা করি। যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অকারণ উদ্বেগের উদ্রেক করে। বন্ধুর সিক্স প্যাক আছে, বান্ধবী জমকালো শাড়ি কিনেছে কিংবা ভ্যাকেশন কাটাতে থাইল্যান্ডে গিয়েছে- এর মাঝে নিজেকে জড়িয়ে ফেলা, নিজের জন্য মনঃকষ্টে ভোগা ও উদ্বেগের মুখোমুখি হওয়ার মতো ঘটনা নতুন কিছু নয়। তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে বিরতি নিন একটা নির্দিষ্ট সময় পরপর।

দুশ্চিন্তা সাধারণ জীবনের একটি অংশ

একেবারে চিন্তামুক্তভাবে জীবনযাপন করা কারোর পক্ষেই সম্ভব নয়। এই অসম্ভব বিষয়টিকে মেনে নিতে হবে। জানতে ও মানতে হবে, দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হওয়া নিত্য জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। দুশ্চিন্তার বিষয়ে আতঙ্কিত না হয়ে তাকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করা শিখতে হবে। কীভাবে দুশ্চিন্তাকে যথাসম্ভব কমিয়ে ও নিজেকে পারিপার্শ্বিকতার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া যাবে, তার পরিকল্পনা করতে হবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/15/1547541715193.jpeg

কাজটি করে ফেলতে হবে

ইংলিশে খুব সুন্দর একটি শব্দ আছে, প্রক্র্যাস্টিনেশন (Procrastination). যার অর্থ আগত কোন ঘটনাকে আগে থেকে ভেবে ও নিজের মতো করে চিন্তা করে অহেতুক মানসিক দুশ্চিন্তায় ভোগা। এই সমস্যাটি সবার মাঝে আছে কম কিংবা বেশি। কোন কাজ নিয়ে খুব বেশি সময় চিন্তা করলে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ দেখা দিবে। তাই আগে থেকে অহেতুক দুশ্চিন্তা না করে, যত দ্রুত সম্ভব কাজটি করে ফেলতে হবে। অহেতুক দুশ্চিন্তা পরিকল্পনা নষ্ট করে দিতে পারে ক্ষেত্র বিশেষে।

দুশ্চিন্তার শারীরিক লক্ষণগুলো বোঝার চেষ্টা করতে হবে

হুট করে দুশ্চিন্তা দেখা দিলে মানসিক চাপের প্রভাব দেখা দেয় শরীরের উপরেও। দুশ্চিন্তার সঙ্গে অনেকের হাতের তালু ঘামে, অনেকের তেষ্টা পায়, অনেকে চোখে ঘোলা দেখা শুরু করে। আপনার ক্ষেত্রে কোন লক্ষণটি প্রকাশ পায় সেটা বোঝার চেষ্টা করতে হবে। যখনই কোন লক্ষণ দেখা দিবে নিজেকে শান্ত করতে হবে, মাথা থেকে অহেতুক দুশ্চিন্তা বাদ দিতে হবে।

নিজেকে ব্যস্ত রাখতে হবে

অলস সময়েই সাধারণত উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তাগুলো মাথায় জট পাকাতে শুরু করে। নিজেকে তাই ব্যস্ত রাখতে হবে। ছোট কিংবা বড় যেকোন ধরণের কাজের সঙ্গে নিজেকে জড়িত রাখার চেষ্টা করতে হবে। সেটা হতে পারে কারোর সঙ্গে দেখা করা, নিজের পছন্দের কোন কাজ করা, রান্না করা, গান শোনা ইত্যাদি। মূল কথা, পরিস্থিতি ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার উপর নির্ভর করে নিজেকে কাজের সঙ্গে জড়িত রাখতে হবে।

আরও পড়ুন: ক্লান্তিটা যখন শারীরিক নয়, মানসিক!

আরও পড়ুন: রাগ থাকুক নিয়ন্ত্রণে

আপনার মতামত লিখুন :

চার উপাদানে খেজুর গুড়ের আইসক্রিম

চার উপাদানে খেজুর গুড়ের আইসক্রিম
খেজুর গুড়ের আইসক্রিম, ছবি: সংগৃহীত

খেজুর গুড়ের পায়েস নিশ্চয় খাওয়া হয়েছে, কিন্তু খেজুর গুড়ে তৈরি আইসক্রিম কি খাওয়া হয়েছে কখনো?

চিনির মিষ্টি নয়, গুড়ের মিষ্টিতে তৈরি এই আইসক্রিমে পাওয়া যাবে একেবারেই ভিন্ন ঘরানার অচেনা স্বাদ।

বাইরের তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে আইসক্রিম খাওয়ার ইচ্ছাটাও তাড়া দিতে থাকে। এই সুযোগে ঘরে বসে ফ্রেশ দুধ ও গুড় দিয়ে তৈরি করে নিন অচেনা স্বাদের মিষ্টান্ন খেজুর গুড়ের আইসক্রিম।

খেজুর গুড়ের আইসক্রিম তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563538258867.JPG

১. দুই কাপ ক্রিম।

২. এক কাপ দুধ।

৩. চারটি ডিমের কুসুম।

৪. আধা কাপ খেজুর গুড়।

খেজুর গুড়ের আইসক্রিম যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563538280218.JPG

১. একটি পাত্রে ভালোভাবে ডিমের কুসুমগুলো ফেটিয়ে নিতে হবে।

২. ভিন্ন একটি সসপ্যানে ক্রিম ও দুধ একসাথে মিশিয়ে জ্বাল দিয়ে বলক আনতে হবে।

৩. গরম দুধ ও ক্রিমের মিশ্রণের এক-চতুর্থাংশ ডিমের কুসুমে দিয়ে পুনরায় ভালোভাবে হুইস্ক করতে হবে তথা ফেটিয়ে নিতে হবে।

৪. এবারে ডিমের মিশ্রণটি সস্প্যানে দিয়ে পুনরায় জ্বাল দিতে হবে এবং গুড় মেশাতে হবে। সকল উপাদান ভালোভাবে মিশে গেলে কাস্টার্ডের মতো ঘন মিশ্রণ তৈরি হবে।

৫. মিশ্রণ ঘন হয়ে আসলে কিছুক্ষণ নেড়েচেড়ে কাঁচের পাত্রে ঢেলে ঠাণ্ডা করতে হবে। ঠাণ্ডা হয়ে এলে পাত্রের মুখ বন্ধ করে ডিপ ফ্রিজে সারারাতের জন্য রেখে দিতে হবে।

পরদিন সকালে নাশতার সাথে উপভোগ করুন খেজুর গুড়ের আইসক্রিম।

আরও পড়ুন: দশ মিনিটে বাদামের স্বাদে কুলফি মালাই

আরও পড়ুন: গরমে স্বস্তি আনবে তিন ভিন্ন স্বাদের কোল্ড কফি

হৃদরোগের ঝুঁকি কমে দারুচিনি গ্রহণে

হৃদরোগের ঝুঁকি কমে দারুচিনি গ্রহণে
দারুচিনিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ঝাল ও মিষ্টি উভয় ধরনের খাবার তৈরিতেই দারুচিনি বাড়তি স্বাদ ও গন্ধ যোগ করে।

আমাদের রান্নায় দারুচিনি ব্যবহারের মূল কারণ হলো ফ্লেভার, তবে আরও একটি বিশেষ কারণে নিত্যদিনের খাদ্যাভ্যাসে দারুচিনি রাখা প্রয়োজন। প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণ দারুচিনি গ্রহণে আপনার হৃদযন্ত্র সুস্থ থাকবে। সেই সাথে নিয়ন্ত্রণে থাকবে ডায়বেটিসের সমস্যাটিও।

মশলা হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া এই উপাদানটিতে থাকা শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও পলিফেনল শরীরে অক্সিডেটিভ ড্যামেজ থেকেও রক্ষা করতে কার্যকরি। গবেষণা জানাচ্ছে, দারুচিনি গুঁড়া গ্রহণ বেশ কয়েকদিক থেকেই সুস্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ। তেমন কয়েকটি স্বাস্থ্য উপকারিতা জেনে রাখুন।

প্রদাহ কমায় দারুচিনি

বেশ কিছু গবেষণা জানাচ্ছে, দারুচিনিতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট প্রদাহ বিরোধী তথা অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান হিসেবে কাজ করে। পেশীর ব্যথাভাব, ফোলাভাব, শরীরের কোন অংশে হুটহাট ব্যথা দেখা দেওয়ার মতো সমস্যাগুলো কমাতে কাজ করে দারুচিনি।

ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে কাজ করে দারুচিনি

রক্তে চিনি ও ইনস্যুলিনের মাত্রার হেরফেরের উপরেই নির্ভর করে মেটাবোলিজমের মাত্রা ও টাইপ-২ ডায়বেটিস দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা। বেশ কিছু পরীক্ষা থেকে দেখা গেছে দারুচিনি গুঁড়া গ্রহণে ডায়বেটিস রোগীদের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। দারুচিনি শুধু রক্তে চিনির মাত্রাই নয়, ইন্স্যুলিন সেনসিটিভিটিকেও নিয়ন্ত্রণে কার্যকরি ভূমিকা পালন করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563531546124.jpg

হৃদরোগ দূরে রাখে দারুচিনি

প্রতিদিন ১২০ মিলিগ্রাম পরিমাণ দারুচিনি গ্রহণে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL), ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। ভিন্ন একটি গবেষণার ফলাফল বলছে- যারা নিত্যদিনের খাবারে হলুদ ও দারুচিনি গুঁড়া রাখে, তাদের রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা পূর্বের চাইতে কমে যায়। খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকলে হৃদরোগ দেখা দেওয়ার ঝুঁকিও কমে যায় তুলনামূলক অনেক বেশি।

ইনফেকশন কমাতে সাহায্য করে

সিনামন এক্সট্র্যাক্ট তেলে রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল উপাদান, যা প্রায় সকল ধরনের ইনফেকশনের বিরুদ্ধে কাজ করে। দারুচিনিতে থাকা সিনাম্যালডিহাইড (Cinnamaldehyde) হলো প্রধান উপাদান, যা ইনফেকশন দ্রুত সারাতে কাজ করে। বিশেষত ইষ্ট ইনফেকশনের বিরুদ্ধে দারুচিনির তেল সবচেয়ে উপকারী।

মুখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী

এক্ষেত্রে ধন্যবাদ দিতে হবে দারুচিনিতে থাকা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রভাবকে, যা মুখের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে কাজ করে। গবেষণা থেকে দেখা গেছে দারুচিনি দাঁতের ক্ষয়রোগ ও মুখে বাজে গন্ধ হওয়া প্রতিরোধে কাজ করে।

আরও পড়ুন: গরম আবহাওয়ায়, সুস্থতায় ডাবের পানি

আরও পড়ুন: ঘুম আনতে সাহায্য করবে এই খাবারগুলো

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র