Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

বদভ্যাসগুলো বাদ দিতে হবে এখন থেকেই!

বদভ্যাসগুলো বাদ দিতে হবে এখন থেকেই!
নখ কামড়ানোর অভ্যাসটি শরীরে ইনফেকশন তৈরি করতে পারে, ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

কোন বদভ্যাসের কথা বলা হচ্ছে এখানে?

আমাদের প্রতিদিনের জীবনে বেশ কয়েকটি অভ্যাসকে আমরা স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে ধরে নেই। অথচ এই সাধারণ অভ্যাসগুলোই আমাদের স্বাস্থ্যহানীর অন্যতম বড় কারণ। সঠিক তথ্যের অভাবে প্রতিনিয়ত একই অভ্যাস চালু রাখার ফলে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হয় শরীরে।

জেনে রাখুন নিজের সুস্থতার খাতিরে কোন বদভ্যাসগুলো আজ থেকেই পরিহার করা প্রয়োজন।

মূত্র বিসর্জনে দেরী করা

জ্বি, এই অভ্যাসটিকেই একদম প্রথমে রাখতে হবে এই তালিকার। দ্য ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস হেলথ সাইন্স সেন্টারের ফ্যামিলি এন্ড কম্যুনিটি মেডিসিনের ভাইস চেয়ার গ্র্যান্ট ফওলার, এমডি জানান, মূত্র আটকে রাখার ফলে তার বেগ উল্টোদিকে ও উপরের দিকে প্রবাহিত হয়। যা ব্লাডারে ব্যাকটেরিয়া তৈরির সম্ভবনা বাড়িয়ে দেয়। এই ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ক্ষেত্রবিশেষে কিডনি পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়। যা থেকে প্রস্টেট ইনফেকশন দেখা দিতে পারে। এ কারণে যখনই প্রস্রাবের বেগ অনুভূত হবে দ্রুত নিজেকে হালকা করে নিতে হবে। কোনভাবে এক্ষেত্রে কালক্ষেপণ করা যাবে না।

নখ কামড়ানো

নার্ভাস বোধ করলে কিংবা দুশ্চিন্তার সময় অনেকেই মনের ভুলে নখ কামড়ানো শুরু করে। এছাড়াও অকারণে নখ কামড়ানোর বদভ্যাসটি দেখা যায় অনেকের মাঝেই। এর ফলে নখ ক্ষতিগ্রস্থ হয়, নখের চারপাশের ত্বকে ইনফেকশন তৈরি হয়। শুধু তাই নয়, নখ মুখের সংস্পর্শে আসায় শরীরে ক্ষতিকর ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করে অবলীলায়। যা শ্বাসনালীর ক্ষতি করার পাশপাশি বিভিন্ন ধরণের ইনফেকশন তৈরি করে।

দাঁত ব্রাশ ও ফ্লস না করা

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/09/1552111881418.jpg

‘দাঁত থাকতে দাঁতের মর্জাদা বোঝে না’ বহুল ব্যবহৃত এই প্রবাদটি বরাবরের মতোই সত্য। প্রতিদিন অন্তত দুইবার দাঁত ব্রাশ করা ও ফ্লস করার নিয়মটি মেনে চললে দাঁত যেমন সুস্থ থাকবে, ঠিক একইভাবে দাঁতের এই স্বাভাবিক পরিচর্যা বাদ দিয়ে দিলে দাঁতের নানাবিধ সমস্যা দেখা দিবে খুব অল্প সময়ের মাঝেই। দাঁত ব্রাশ ও ফ্লস করা এড়িয়ে গেলে খাবারের ক্ষুদ্র কণা দাঁতে জমে দাঁতের ক্ষয়রোগ দেখা দেয়। এছাড়াও দাঁতের মাড়ি ফুলে যাওয়া, ইনফেকশন হওয়া, মাড়ি থেকে রক্তপাত হওয়ার মতো সমস্যাগুলোও দেখা দেওয়া শুরু করে।

সকল স্থানে সানস্ক্রিন ব্যবহার না করা

রোদের ক্ষতিকর আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য সান্সক্রিন ব্যবহার আবশ্যক। তবে সান্সক্রিন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হয় শুধুমাত্র মুখের ত্বকে। বড়জোর হাতের ত্বকে ব্যবহার করা হলেও গলা, ঘাড় ও পায়ের অংশ অনাবৃতই থেকে যায়। অথচ রোদের তীব্র আলোতে এই স্থানের ত্বকও ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং এই সকল স্থানেও সানস্ক্রিন ব্যবহারে মনযোগী হওয়া প্রয়োজন।

লম্বা সময় কম্পিউটারের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকা

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/09/1552111896326.jpg

দীর্ঘসময় কম্পিউটারের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে ‘কম্পিউটার স্ক্রিন সিনড্রোম’ দেখা দেয়। এতে করে চোখে খুব দ্রুত ক্লান্তিভাব চলে আসে, রেটিনাল ড্যামেজের সম্ভবনা বৃদ্ধি পায়। অফিসের কাজের জন্যে যদি কম্পিউটারের ব্যবহার বেশি করা প্রয়োজন হয় তবে ‘২০-২০-২০’ নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দেন চক্ষু বিশেষজ্ঞরা। এই নিয়মে প্রতি বিশ মিনিট পর ২০ সেকেন্ডের বিরতি নিতে হবে এবং ২০ ফিট দূরত্বের কোন বস্তুর দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। এতে করে চোখ দূরের বস্তু দেখার জন্য প্রস্তুত হয় এবং চোখের ক্লান্তি দূর হয়।

আরও পড়ুন: যে সকল কাজে কমবে পিরিয়ডকালীন পেটে ব্যথা

আরও পড়ুন: ঘুম আসবে মাত্র ৬০ সেকেন্ডেই!

আপনার মতামত লিখুন :

ঠোঁটের সৌন্দর্যে দারুচিনি

ঠোঁটের সৌন্দর্যে দারুচিনি
ছবি: সংগৃহীত

ত্বকের পরিচর্যা ও যত্নের পাশপাশি ঠোঁটের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

সঠিক যত্ন যেমন  ঠোঁটকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে, ঠিক তেমনভাবে অযত্নে ঠোঁটে দেখা দিতে পারে নানাবিধ সমস্যা। তবে আজকের ফিচারটি মূলত ঠোঁটের যত্ন নিয়ে নয়, প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহারে কীভাবে ঠোঁটকে আকর্ষণীয় দেখানো যাবে সেটাই জানানো হয়েছে।

প্রাকৃতিক উপাদানের মাঝে দারুচিনি ঠোঁটকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তুলতে সবচেয়ে বেশি কার্যকর। প্রাকৃতিক এই উপাদানে থাকে ক্যাসিয়া অয়েল (Cassia Oil), যা একধরণের প্রশান্তিদায়ক এবং ত্বকের জন্য নিরাপদ উপাদান। তবে এটা ব্যবহারে ঠোঁটের রক্ত চলাচলের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। ফলে ঠোঁট উজ্জ্বল, লালচে ও ফোলা দেখায়।

তাই দারুচিনিকে সবচেয়ে নিরাপদ, সহজলভ্য, সস্তা ও প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে ধরা হয় ঠোঁটের সৌন্দর্যবর্ধক উপাদান হিসেবে। জেনে নিন দারুচিনি ব্যবহারে ঠোঁটের সৌন্দর্যবর্ধনে তিনটি ভিন্ন লিপ স্ক্রাব তৈরির প্রক্রিয়া।

দারুচিনি ও চিনির লিপ স্ক্রাব

এই লিপ স্ক্রাবটি তৈরিতে প্রয়োজন হবে এক টেবিল চামচ দারুচিনি পাউডার, এক টেবিল চামচ চিনি, এক টেবিলচামচ অলিভ অয়েল অথবা নারিকেল তেল। এই উপাদানগুলো মিশিয়ে নিতে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে চিনি যেন সম্পূর্ণ গলে না যায়। হাতের আঙ্গুলের সাহায্যে এই স্ক্রাব ঠোঁটে ম্যাসাজ করে পাঁচ মিনিট রেখে দিতে হবে। এরপর পানিতে পরিষ্কার করে নিতে হবে।

দারুচিনি ও আদার লিপ স্ক্রাব

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/22/1566463547394.JPG

এই লিপ স্ক্রাবটি তৈরিতে প্রয়োজন হবে এক-তৃতীয়াংশ চা চামচ দারুচিনি গুঁড়া, এক-তৃতীয়াংশ আদা গুঁড়া, এক ফোঁটা পিপারমিন্ট এসেনশিয়াল অয়েল, এক চা চামচ আমন্ড অয়েল। সকল উপাদান ভালোভাবে মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করতে হবে। এই পেস্ট ঠোঁটে পাঁচ মিনিট ম্যাসাজ করে মিনিটখানেক রেখে দিয়ে এরপর ধুয়ে ফেলতে হবে।

দারুচিনি ও মধুর লিপ স্ক্রাব

এতে প্রয়োজন হবে এক চা চামচ দারুচিনি গুঁড়া, আধা চা চামচ মধু ও আধা চা চামচ অলিভ অয়েল। উপাদান তিনটি একসাথে মিশিয়ে ঠোঁটে ম্যাসাজ করে দশ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। এরপর কুসুম গরম পানিতে ঠোঁট ধুয়ে লিপবাম ব্যবহার করতে হবে।

আরও পড়ুন: যেমন হওয়া প্রয়োজন স্পর্শকাতর ত্বকের যত্ন

আরও পড়ুন: ত্বকের তিন যত্নে টমেটোর রস

পাঁচ কারণে পান করুন আঙুরের রস

পাঁচ কারণে পান করুন আঙুরের রস
আঙুরের রস

মৌসুমি ফলগুলো বছরের শুধু নির্দিষ্ট একটি সময়েই পাওয়া যায়।

সেদিক থেকে আঙুর প্রাধান্য পাবে অনেক বেশি। পুরো বছর জুড়ে সহজলভ্য এই ফলটি শুধু খেতেই সুমিষ্ট ও সুস্বাদু নয়, হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক ও ত্বকের জন্যেও চমৎকার উপকারিতা বহন করে।

গবেষণালব্ধ তথ্য থেকে জানা যায়, আঙুর থেকে পাওয়া যাবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্টও। সেদিক থেকে আঙুরের রসকে বলা যেতে পারে আধুনিক সময়ের ডিটক্স ড্রিংক।

প্রায় ৬০০০ বছর আগে থেকেই আঙুর তার ঔষধি গুণাগুণের জন্য পরিচিত। এক্ষেত্রে ধন্যবাদ দিতে হয় মিশরিয়দের। তারাই প্রথম আঙুর, আঙুরের রস, আঙুরের মদ ও তার গুণাগুণের সাথে পরিচিত করায়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/22/1566455706012.jpg

আঙুরের রসের উপকারিতাগুলো কী?

অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান সমৃদ্ধ আঙুরের রস হাইপারটেনশন ও চেহারায় বয়সের ছাপ দেখা দেওয়ার প্রক্রিয়া স্লথ করে দেয়। এমনতর আরও বহু উপকারিতা রয়েছে এই ফলের রসে, যার মাঝে প্রধান কয়েকটি উপকারিতা তুলে ধরা হলো।

দূরে রাখে হৃদরোগ

শুরুতেই উল্লেখ করা হয়েছে, আঙুরে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এছাড়া রয়েছে কোয়েরসেটিন, প্রোসায়ানাইডস, ট্যানিন ও স্যাপনিনসের মতো ফাইটোকেমিক্যালস। এই অ্যান্টি-অক্সিডেন্টগুলো হৃদযন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতে থেরাপিউটিক প্রক্রায়ার মতো কাজ করে বলে জানাচ্ছে বেশ কিছু গবেষণা।

বিশেষ করে লাল আঙুর রক্তের ভালো কোলেস্টেরল (HDL) এর মাত্রা বৃদ্ধিতে এবং খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) এর মাত্রা হ্রাস করতে কাজ করে। এতে করে খুব সহজেই হৃদযন্ত্রের উপর বাড়তি চাপ পড়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

বয়স্কদের স্মৃতিশক্তি হারানোর প্রক্রিয়া স্লথ করে

আঙুরের রসের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান নিউরনাল সিগন্যালে ইতিবাচক প্রভাব রাখতে কাজ করে। নিয়মিত আঙুরের রস পানে ডিমেনশিয়ার সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনাকে হ্রাস করে। রেসভারট্রল এর মতো অ্যাকতিভ পলিফেনল মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তির উপর প্রভাব বিস্তার করে এবং নতুন তথ্য শেখা, মুড ভালো করা ও স্মৃতিশক্তিকে প্রখর করায় সাহায্য করে।

রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ও ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণ করে

অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হলো ডায়বেটিস দেখা দেওয়ার অন্যতম বড় একটি কারণ। পরিমিত মাত্রায় আঙুরের রস পানে ইনস্যুলিন রেসিস্ট্যান্সের মাত্রা হ্রাস করে। এতে থাকা ফ্ল্যাভনোলস, রেসভেরাট্রল ও ফেনলিক অ্যাসিড হলো প্রধান অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/22/1566455724535.JPG

এতে রয়েছে অ্যান্টি-ক্যানসার উপাদান

লাল আঙুরের রস ডিএনএর ক্ষতির মাত্রা কমাতে কাজ করে, যা থেকে ক্যানসার দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কোরিয়াতে হওয়া একটি গবেষণা থেকে দেখা গেছে, নিয়মিত লাল আঙুরের রস মানে ডিএনএর অক্সিডেটিভ ড্যামেজের মাত্রা কমে যায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

শুধু তাই নয়,  আঙুরের ফাইটোকেমিক্যালস কোলন ক্যানসারের কোষ ধ্বংসে কাজ করে। কেমোথেরাপি চলাকালীন সময়ে ফ্ল্যাভনয়েড সমৃদ্ধ আঙুরের রস কেমোর সাইড ইফেক্ট তথা- বমিভাব, মাথাঘোরানো কমাতে সাহায্য করে।

সুস্থ রাখে পাকস্থলী

প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে আঙুরের রস যোগ করার ফলে পাকস্থলীর মাইক্রোবিয়াল পরিবেশ পরিবর্তন করে দেয়। আঙুরের রসের পলিফেলনস প্যাথোযেনস, অক্সিডেন্টিভ স্ট্রেস ও প্রদাহ থেকে পাকস্থলিকে রক্ষা করে। এছাড়া এতে থাকা আঁশ খাদ্য পরিপাকে সহায়ক।

আরও পড়ুন: মৌসুমি ফল জামের সাত উপকারিতা

আরও পড়ুন: আট উপকারিতার আতা ফল

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র