Barta24

শনিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৯, ২ ভাদ্র ১৪২৬

English

নগরে ডায়াবেটিস মেলা

নগরে ডায়াবেটিস মেলা
ছবি: সংগৃহীত
প্রভাষ আমিন


  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশে অনেক রকম মেলা হয়, বইমেলা, বাণিজ্য মেলা, ফল মেলা, ফুল মেলা, মধু মেলা, শেয়ার বাজার মেলা; মেলার কোনো শেষ নেই। নগরে এবার বসছে ডায়াবেটিস মেলা। বই মেলায় বই মিললেও ডায়াবেটিস মেলায় ডায়াবেটিস পাওয়া যাবে না, বরং পাওয়া যাবে ডায়াবেটিস থেকে মুক্তির উপায়। না ডায়াবেটিস একবার ধরলে মুক্তির উপায় নেই, উপায় আছে নিয়ন্ত্রণের। সেটাই জানা যাবে ডায়াবেটিস মেলায়।

ডায়াবেটিস আশীর্বাদ না অভিশাপ? যে রোগ একবার ধরলে আর ছাড়ে না, বরং তিলে তিলে টেনে নেয় মৃত্যুর দিকে; তাকে তো সবাই অভিশাপই বলবেন। কিন্তু যে ব্যাধি থেকে মুক্তির কোনো পূর্ব প্রস্তুতি নেই, তাকে অভিশাপ ভেবে নিজের ভাগ্যকে শাপ শাপান্ত করে তো লাভ নেই। বরং চাইলে আপনি ডায়াবেটিসকে আশীর্বাদে বদলে দিতে পারেন। যে রোগ আপনাকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঢেলে দিচ্ছে, চাইলে সেই রোগই আপনার জীবন লম্বা করতে পারে।

ডায়াবেটিস নেই, এমন মানুষ অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করেন। মনে করেন, আমি সুস্থ, যা ইচ্ছা তাই করতে পারব, আমার কিছু হবে না। তাতে তার শরীরে গোপনে নানা রোগ বাসা বাধে। একদিন হুট করে মরে যান। কিন্তু সেই লোকেরই ডায়াবেটিস ধরা পড়ে গেলে বাধ্য হয়ে তাকে নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করতে হয়। খাওয়া, ঘুম সব নিয়ম মেনে। লোভ সামলাতে হয়। সকালে হাঁটতে হয়।

সবমিলিয়ে জীবন চলে আসে দারুণ রুটিনে। যেটা আসলে সবারই দরকার। ডায়াবেটিস হলে ভয়ে আমরা মানি, নইলে মানি না। মানলে যেটা হয় হুট করে মরার ঝুঁকি কমে যায়। আয়ু বেড়ে যায়। যে রোগ আপনার আয়ু বাড়িয়ে তাকে অভিশাপ বলবেন কোন মুখে। তবে সাবধান, ডায়াবেটিসকে আশীর্বাদ ভেবে উৎফুল্ল হওয়ার সুযোগ নেই। নিয়মে একটু ঢিল পড়লেই, ডায়াবেটিস আপনাকে ধ্বংস করে দেবে।

ডায়াবেটিস একা নয়, সুযোগ পেলে ডায়াবেটিস আরও অনেককে আমন্ত্রণ জানিয়ে আনবে। রক্তে চিনি বেড়ে গেলে আপনার ঘা শুকাবে না, অপারেশন করতে পারবেন না, ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়ে যাবে আপনার কিডনি, লিভারসহ অন্যান্য অঙ্গ। তাই ডায়াবেটিস বিশেষ করে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস আসলে ভয়ঙ্কর অভিশাপ। ডায়াবেটিস ঠেকানোর কোনো উপায় নেই।

বজ্রপাতের মতো আচমকা হানা দিতে পারে যে কারো শরীরে, যে কোনো বয়সে। বংশে কারো ডায়াবেটিস থাকলে ঝুঁকি বেশি, তবে না থাকলেও হতে পারে। বয়স ৪০ পেরুলে ডায়াবেটিস আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি, তবে আগেও হতে পারে। ডায়াবেটিস ভূমিকম্পের মতো, বজ্রপাতের মতো; কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই আঘাত করবে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, 'নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করলে ডায়াবেটিস সংক্রমণের আশঙ্কা কমে যায়। তারপরও ডায়াবেটিস আপনার শরীরে বাসা বেঁধে ফেললে তাকে অভিশাপ বানাবেন না আশীর্বাদ, সেটা কিন্তু আপনার ওপর নির্ভর করছে।'

তবে আপনি যাতে ডায়াবেটিসকে আশীর্বাদ বানাতে পারেন, সে জন্য আপনার পাশে দাঁড়াতে, কৌশল শেখাতেই বসছে তিনদিনের ডায়াবেটিস মেলা। কংগ্রেসিয়া নামের একটা সংগঠন এই মেলার আয়োজন করছে। রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে আগামী ১১ এপ্রিল দুপুর ২টায় শুরু হয়ে মেলা চলবে ১৩ এপ্রিল বিকেল ৩টা পর্যন্ত। ডায়াবেটিস মেলায় এক ছাদের নিচে মিলবে সব সেবা।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, ডায়াবেটিস সচেতনতা ছড়িয়ে দেয়া এবং ডায়াবেটিসের যত্ন ও সেবাদানকারী সকল প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ডায়াবেটিস রোগীর যোগাযোগ স্থাপন করা, জনসাধারণকে সম্ভাব্য ডায়াবেটিসের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করা, কর্মশালা, বক্তৃতা ছাড়াও হাতে-কলমে ডায়াবেটিসের যত্ন ও নিয়ন্ত্রণের শিক্ষাদান এবং সুলভে ডায়াবেটিসের পণ্য ও সেবা প্রদানের আকাঙ্ক্ষা থেকেই এ মেলার আয়োজন।

সারা বিশ্বে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় বাংলাদেশের অবস্থান নবম স্থানে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশে ডায়াবেটিস রোগী রয়েছে প্রায় ৯০ লাখ, বছরে বাড়ছে আরও ১ লাখ রোগী। ডায়াবেটিস প্রতিরোধে এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে বিশ্বে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ৫৫ কোটি ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, 'সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করলে রোগী নিজেই ডায়াবেটিস রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে জীবনযাপন পদ্ধতি ও খাদ্যাভ্যাসে ব্যাপক পরিবর্তনের কারণে ডায়াবেটিস মহামারী আকার ধারণ করছে। এ মহামারী ঠেকাতে কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে সকলকে। এরকম একটি উদ্যোগই ডায়াবেটিস মেলা।'

তিনদিনের এই মেলায় ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগী, তাদের পরিবারের অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ, চিকিৎসক, পুষ্টিবিদসহ ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত যে কেউ অংশগ্রহণ করতে পারবেন। মেলায় অংশগ্রহণ করতে কোন প্রবেশ মূল্য লাগবে না। যে কেউ যে কোন সময় যে কোন সেশনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। তবে যারা ডায়াবেটিস মেলার নির্ধারিত ওয়েবসাইট কিংবা ফেসবুক পেজে ‘ডায়াবেটিস মেলা’য় নিবন্ধন করবেন তারা মেলার পক্ষ থেকে নিয়মিত আপডেট পাবেন।

আপনার যদি ডায়াবেটিস থাকে, তাহলে তো আপনি আসবেনই। না থাকলেও আসুন, জেনে রাখুন ভবিষ্যৎ সতর্কতাগুলো। সুস্থ থাকুন, দীর্ঘ নিরোগ জীবন লাভ করুন।

আপনার মতামত লিখুন :

তিন উপাদানে ডিটক্সিফাইং পানীয়

তিন উপাদানে ডিটক্সিফাইং পানীয়
ডিটক্সিফাইং পানীয়

অন্যান্য সময়ের চাইতে ঈদের সময়টাতে তেল, চর্বি ও উচ্চমাত্রার ক্যালোরিযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া হয়।

এতে করে সহজেই শরীরের উপর ক্ষতিকর প্রভাব পরে। এই ক্ষতিকর প্রভাব কাটানোর জন্য প্রয়োজন হয় ডিটক্সিফাইং পানীয়। যা শরীর থেকে ক্ষতিকর প্রভাবকে দূর করে সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে।

এমন পানীয় তৈরিতে সাধারণত খুব বেশি উপাদান প্রয়োজন হয় না। আজকের বিশেষ ডিটক্সিফাইং পানীয়টি তৈরিতেও মাত্র তিনটি সহজলভ্য উপাদান প্রয়োজন হবে। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এই পানীয়টি পান করলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যাবে।

ডিটক্সিফাইং পানীয় তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566047849609.jpg

১. একটি বড় লেবুর রস।

২. ১-২ ইঞ্চি পরিমাণ আদা কুঁচি।

৩. এক চা চামচ হলুদ গুঁড়া।

৪. দুই কাপ পরিমাণ পানি।

৫. এক চিমটি কালো গোলমরিচ গুঁড়া (ঐচ্ছিক)

ডিটক্সিফাইং পানীয় যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566047866015.jpg

পানি ফুটিয়ে নামিয়ে এতে লেবুর রস, আদা কুঁচি, হলুদ গুঁড়া ও গোলমরিচ গুঁড়া মিশিয়ে পুনরায় চুলায় বসিয়ে ফুটিয়ে নিতে হবে। তৈরি হয়ে গেলে নামিয়ে কুসুম গরম থাককাকালী সময়ে পান করতে হবে।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে উপকারী পাঁচ পদের জুস

আরও পড়ুন: আহ, মশলা চা!

কতখানি নিকোটিন থাকে একটি সিগারেটে?

কতখানি নিকোটিন থাকে একটি সিগারেটে?
ছবি: সংগৃহীত

প্রশ্নাতীতভাবে ধূমপান সবচেয়ে বাজে ও ক্ষতিকর একটি অভ্যাস।

এ বদভ্যাসের দরুন নিজের স্বাস্থ্য তো বটেই, পাশাপাশি অন্যের স্বাস্থ্যও ঝুঁকির মাঝে পড়ে যায়। ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে অবগত হওয়ার পরেও বেশিরভাগ ধূমপায়ী এই অভ্যাসটি বাদ দিতে চান না। তবে এর বিপরীত চিত্রও রয়েছে। অনেকেই চেষ্টা করেন স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এই অভ্যাসটিকে পাশ কাটিয়ে উঠতে। তবে ধূমপায়ী, অধূমপায়ী ও ধূমপান ত্যাগ করার চেষ্টা করছেন যারা, প্রত্যেকেই একটি বিষয় সম্পর্কে জানার আগ্রহ প্রকাশ করেন- একটি সিগারেটে কতখানি নিকোটিন থাকে! চলুন এই বিষয়টি জানানো যাক।

প্রতিটি সিগারেটে থাকে ৭০০০ ভিন্ন ভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল। যার মাঝে সবচেয়ে ক্ষতিকর হলো নিকোটিন (Nicotine). হাজারো ধরনের কেমিক্যালের ভেতর এই নিকোটিন তৈরি হয় তামাক পাতা থেকে। তামাক পাতা থেকে তৈরি হওয়া এই উদ্ভিজ কেমিক্যাল নিকোটিনেই ধূমপায়ীদের আসক্তি তৈরি হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566042274926.jpg

মেডিকেশন অ্যাডভোকেট জেসন রিড জানান, প্রতিটি সিগারেটে গড়ে এক মিলিগ্রাম পরিমাণ নিকোটিন থাকে। এছাড়া এক গবেষণা থেকে দেখা গেছে সিগারেটের ধরনের উপর নির্ভর করে এক একটি সিগারেটে ১.২-১.৪ মিলিগ্রাম পরিমাণ নিকোটিন থাকে। স্বল্প নিকোটিনযুক্ত ‘সিগারেট লাইট’ এ ০.৬-১ মিলিগ্রাম পরিমাণ নিকোটিন থাকে। তবে সাধারণ সিগারেটের মতো সিগারেট লাইটেও একই ধরনের সিগারেট বুস্ট তথা সিগারেটের প্রভাব থাকে।

এছাড়া নিকোটিন গ্রহণের মাত্রা ধূমপায়ীর উপর নির্ভর করে। সিগারেটে কত জোরে টান দিচ্ছে এবং সিগারেট পাফের কতটা নিকটবর্তী স্থান পর্যন্ত সিগারেট পান করছে- এই দুইটি বিষয়ের উপর নির্ভর করেও নিকোটিন গ্রহণের মাত্রায় তারতম্য দেখা দেয়।

আরও পড়ুন: ধূমপানে অন্ধত্ব!

আরও পড়ুন: প্যাসিভ স্মোকিংয়ে ক্যানসার ঝুঁকিতে আমরা সবাই!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র