Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

চমৎকার সম্পর্কের গাঁথুনিতে মা ও মেয়ে

চমৎকার সম্পর্কের গাঁথুনিতে মা ও মেয়ে
মা ও মেয়ের মাঝে বোঝাপড়া হোক বন্ধুর মতো, ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

মা-মেয়ের সম্পর্কটি একেবারেই অন্যরকম হয়।

অন্য সকল সম্পর্কের চাইতে একেবারেই ভিন্ন, আলাদা। দু’জনের মাঝে সম্পর্কটি কখনো দারুণ বন্ধুত্বপূর্ণ, মধুর। কখনো দূরত্বের, জটিল। কখনো একে-অপরকে বুঝে উঠতেই পার হয়ে যায় এক জীবন। আবার কখনো পরস্পরের সবচেয়ে কাছের মানুষটি হয়ে ওঠেন একে-অন্যের।

মায়ের সাথে মেয়ের সম্পর্কটি যেমনই হোক না কেন, মায়ের স্থানে মা চিরদিন অপরিবর্তনশীল। সন্দেহাতীতভাবে এটাও সত্য যে, প্রতিটি সম্পর্কের মাঝেই আসে চরাই-উৎরাই, আসে দোটানা। মা-মেয়ের সম্পর্কের মাঝেও একটা নির্দিষ্ট সময় পর তৈরি হয় কিছু ‘ইস্যু’। যা সম্পর্কের মাঝে সৃষ্টি করে ‘ব্যবধান’।

এক্ষেত্রে ভুল সিদ্ধান্ত, ভুল বোঝাবুঝি, অহেতুক অভিমান, অতিরঞ্জিত প্রত্যাশা দায়ী অনেকাংশে। কারণ যেটাই হোক না কেন, মা-মেয়ের মাঝে সম্পর্কটি সবসময় সাবলীল থাকবে, এমনটা চান প্রতিটি মা ও মেয়ে। চমৎকার এ সম্পর্কের মাঝে যে কারণগুলো সমস্যা তৈরি করে থাকে তার কয়েকটি এখানে আলোচনা করা হল।

পরিবর্তনটা প্রয়োজন নিজের

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যেটা দেখা যায়, উভয়েই ভাবেন সম্পর্কটি ভালো হতো যদি আমার মা বা মেয়ে পরিবর্তন হতো। এক্ষেত্রে মনে রাখা প্রয়োজন, দু’জনেই সম্পর্ন আলাদা মানুষ। তাদের নিজস্ব পছন্দ-অপছন্দ ও স্বকীয়তা রয়েছে। রয়েছে নিজস্বতা। কেউই অন্যের জন্য নিজেকে পরিবর্তন করতে বাধ্য নয়। তবে মনে রাখা প্রয়োজন সম্পর্ক থেকে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে অন্যের জন্য কিছুটা ছাড় দিয়েই। মা যদি মেয়ে বুঝতে চেষ্টা করেন, তার মতামতকে গুরুত্ব দেন, মেয়ে কি পছন্দ করে সেটা জানার চেষ্টা করেন তবে সম্পর্কে দূরত্ব অনেকটা কমে যায়। একইভাবে মায়ের সাথে বয়সের ব্যবধান থাকায় চলতি সময়ের সবকিছু তিনি বুঝতে পারবেন না। মায়ের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে, তার অপছন্দের সাথে তাল মিলিয়ে নিজের মতামতকে উপস্থাপন করলে অনেক সমস্যাই সমাধান হয়ে যায়।

প্রত্যাশা হতে হবে বাস্তবসম্মত

মা ও মেয়ে উভয়েই একে-অন্যের প্রতি প্রতাশ্যা রাখেন আকাসসম। এটাই স্বাভাবিক। ছোটবেলা থেকেই মেয়েরা মায়ের কাছ থেকে সর্বোচ্চ যত্ন ও সুরক্ষার মাধ্যমে বড় হয়। ফল মায়ের প্রতি মেয়েদের প্রত্যাশার ধরণ থাকে অনেক বেশি। অন্যদিকে সর্বোচ্চটুকু দিয়ে গড়ে তোলা মেয়ের প্রতিও স্বাভাবিকভাবে মায়ের প্রত্যাশার পারদ আকাশছোঁয়া হয়ে যায়। এক্ষেত্রে সমস্যাটি হলো, কোনভাবে কোন প্রত্যাশা পূরণ না হলেই অনেক বেশি কষ্ট পেতে হয়। যা থেকে সম্পর্কের মাঝে দুরত্ব তৈরি হয়। তাই উভয়ের উভয়ের প্রতি প্রত্যাশা হতে হবে বাস্তবসম্মত।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/04/1556949844271.jpg
মা ও মেয়ের মাঝে বোঝাপড়া হোক বন্ধুর মতো।

 

নিজেকে তার স্থানে চিন্তা করা

ইংলিশে খুব ভালো একটি প্রবাদ আছে, Put oneself in someone's shoes. যার অর্থ হলো নিজেকে অন্যের স্থানে ভাবা, তার পরিস্থিতিতে নিজেকে কল্পনা করা। এর মাধ্যমে খুব দারুণভাবেই অন্যের মানসিক অবস্থা, ভীতি, আশংকা, দুশ্চিন্তা ও কোন ঘটনা দেখার ভঙ্গী সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়। মেয়ের সবকিছুটা মা কখনোই হ্যাঁ তে হ্যাঁ মিলাবেন না। তেমনিভাবে মায়ের সকল সিদ্ধান্ত মেয়ের মনঃপুত হবে না। উভয়ের পরিস্থিতি বোঝার জন্য তাই উভয়কেই উভয়ের স্থান থেকে বোঝার চেষ্টা করতে হবে।

প্রথম পদক্ষেপটা নিজের নিতে হবে

মা-মেয়ের মাঝে মনোমালিন্য হতেই পারে। এমনকি ঝগড়া হলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু বিরূপ সময়ের শেষে পরিস্থিতি যখন ঝিমিয়ে গেছে তখন যে আগে অন্যের কাছে গিয়ে কথা বলবে, মান ভাঙাবে সেটা নিয়েই শুরু হয় এক স্নায়ুযুদ্ধ। মা ভাবেন, ও তো আমার মেয়ে। ওরই তো আমার কাছে আগে আসার কথা। ওই তো আগে আমার সাথে কথা বলবে! ওদিকে মেয়ে ভাবে, আমি তো তার মেয়ে, মা নিশ্চয় সব জানে আমি কি চাই। মা-ই তো আমার কাছে আগে আসবে, আমাকে আদর করে দিবে, কথা বলবে!

খুবই অমূলক এই স্নায়ুযুদ্ধ। এমন ভাবনা উভয়পক্ষেরই বাদ দিতে হবে। মনোমালিন্য কিংবা তর্ক যাই হোক না কেন, সবশেষে নিজেকে আগে এগিয়ে নিতে হবে কথা বলার জন্য পরিস্থিতি ঠাণ্ডা করার জন্য। মা কেন আগে আসলো না, মেয়ে কেন কথা বললও না- এমন ভাবনা শুধু দূরত্বই তৈরি করে।

অমূল্য এই সম্পর্কের মাঝে কোন সমস্যার দেখা দিক, এমনটা কেউই চান না। অযাচিত কোন কারণে চমৎকার এই সম্পর্কের গাঁথুনি যেন নষ্ট না হয়, তাইতো সেদিকে মা ও মেয়ে উভয়েরই খেয়াল রাখতে।

আরও পড়ুন: সন্তানকে বলুন আপনার ব্যর্থতার গল্পটি

আরও পড়ুন: সম্পর্কে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ

আপনার মতামত লিখুন :

তেজগাঁওয়ে 'দ্যা গ্যারেজ ফুডকোর্ট'

তেজগাঁওয়ে 'দ্যা গ্যারেজ ফুডকোর্ট'
দ্যা গ্যারেজ ফুডকোর্ট ও কয়েকটি মেন্যু, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় বলা চলে, পুরোটাই অফিস পাড়া। সকাল থেকে সন্ধ্যা কিংবা রাত- প্রতিনিয়তই চলছে কাজ। কিন্তু এই এলাকায় ছিল না ভালো কোনো খাবারের জায়গা। হাতেগোনা যে কয়টা রেস্টুরেন্ট আছে তার কোনোটাতে হয় দাম বেশি রাখা হয় কিংবা খাবার স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে তেজগাঁওয়ে শুরু হয়েছে 'দ্যা গ্যারাজ ফুডকোর্ট'।

তেজগাঁও শান্তা টাওয়ার মোড় বা ব্র্যাক ব্যাংক অনিক টাওয়ারে যেতে গলির মুখেই ২২২ নাম্বার হাউজে এই ফুডকোর্ট অবস্থিত। রয়েছে ২০০টির বেশি আসন। তবে ফুডকোর্টটি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত না হলেও বড় বড় ফ্যানের মাধ্যমে ঠাণ্ডা বাষ্প দিয়ে জায়গাটি শীতল করার ব্যবস্থা আছে।

তেজগাঁওয়ে 'দ্যা গ্যারেজ ফুডকোর্ট'

সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্তমানে এই ফুডকোর্টে জুসবারসহ প্রায় ১০টি দোকান আছে। এসব দোকানে নুডলস, বার্গার, দই ফুচকা, দোসা, রাজকচুরি, ফ্রাইড রাইস, ফ্রাইড চিকেন, লাঞ্চ আইটেম, চাপ, পরোটা, এগ রোল এবং চাপরোল পাওয়া যায়। আর বেভারেজ আইটেমের মধ্যে রয়েছে- কোল্ড কফি, হটকফি, এসপ্রেসো কফিসহ আনারস, আম ও সিজনাল নানা ফ্রুট জুস।

এখানে চিকেন ও বিফ চাপ ১৫০ টাকা, চিকেন চাপ প্যাকেজ মিল ১৮০ টাকা, পরোটা ২০ টাকা, চিকেন রোল ১০০ টাকা, বিফ রোল ১২০ টাকা, এগরোল ৪০ টাকা, বিফ তেহারি ১৫০ টাকা, চিকেন খিচুরি ও বেগুন ভাজি ১৮০ টাকায় পাওয়া যায়।

তেজগাঁওয়ে 'দ্যা গ্যারেজ ফুডকোর্ট'

এছাড়া দোসা এক্সপ্রেসে দোসা পাওয়া যাবে ১৮০–৩৫০ টাকায়।

'হাক্কা ঢাকায়' সেট মেন্যু ৩২৯–৫২৯ টাকা। এপিটাইজার আইটেমের পাওয়া যাচ্ছে ১৯৯-৩০০ টাকায়, যার মধ্যে রয়েছে চিকেন, প্রন ডাম্পলিং, হাক্কা চিকেন উইংস। রাইস এবং নুডুলস আইটেমের মধ্যে আছে চিকেন, প্রন এবং বিফ ফ্রাইড রাইস ও নুডুলস, যার দাম পড়বে ১৯৯-৩০০ টাকা। এছাড়াও রয়েছে রাইস, চিকেন চিলি ও ফ্রাইড চিকেন এর একটি লাঞ্চ মেন্যু, যার দাম ধরা হয়েছে ১৯৯ টাকা।

তেজগাঁওয়ে 'দ্যা গ্যারেজ ফুডকোর্ট'

চিজ এক্সপ্রেসে স্লাইস পিজ্জার দাম পড়বে ১২৯ টাকা। এছাড়াও সর্বোচ্চ ১৬ ইঞ্চি পিজ্জা পাওয়া যাবে এক হাজার ২৪৯ টাকায়।

দ্যা গ্যারাজ কফিতে এসপ্রেসো কফি পাওয়া যাবে ১০০ টাকায়। এছাড়াও আমরিকানো ১৩০ টাকা, মকা ২২০ টাকা, ডেজার্ট আইটেম ১০০-২৫০ টাকা, হট ড্রিঙ্কস ২০০ টাকা, চা ৩৫ টাকা, আইসড কফি ১৫০-২৫০ টাকা, সিজনাল ফ্রুট জুস ১৩০ টাকা। রয়েছে জনপ্রিয় টেকআউট বার্গারের ফুড স্টলও।

ফুডকোর্টতির ইনচার্জ বদিউজ্জামান জানান, গত মে মাসে এর যাত্রা শুরু হয়। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ফুডকোর্ট খোলা থাকে।

চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান

চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান
নান, ছবি: সংগৃহীত

সকাল কিংবা বিকালের নাশতায় যারা নিয়মিত রুটি ও পরোটা খান, একটা সময় পরে তাদের রুটিতে অভক্তি দেখা দেয়।

এ সময়ে রুটির বদলে গরম নান খেতে মনে চায়। ফোলা ও গরম নানের সাথে সবজি কিংবা মাংসের ঝোল যেন অমৃতসম।

এই নান কেনার জন্য এলাকার রেস্টুরেন্টে দৌড়ঝাঁপ না করে ঘরে বসে চুলাতেই তৈরি করে নেওয়া যাবে মজাদার গরমাগরম নান। দেখে নিন নান তৈরির রেসিপিটি।

নান তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623276721.JPG

১. ১/৪ কাপ দই।

২. এক চা চামচ চিনি।

৩. এক চা চামচ বেকিং পাউডার।

৪. এক চিমটি বেকিং সোডা।

৫. দুই কাপ ময়দা।

৬. এক চা চামচ লবণ।

৭. দুই টেবিল চামচ তেল।

৮. ১/৪-১/৩ কাপ পানি।

৯. এক টেবিল চামচ কালোজিরা।

১০. ঘি অথবা মাখন।

নান যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623263865.JPG

১. একটি পাত্রে দই, এক চা চামচ চিনি, এক চা চামচ বেকিং পাউডার ও এক চিমটি বেকিং সোডা ভালোভাবে মেশাতে হবে।

২. এতে দুই কাপ ময়দা ও স্বাদমতো লবণ দিয়ে চামচের সাহায্যে ভালোভাবে মেশাতে হবে। মিশ্রণের মাঝখানে দুই টেবিল চামচ তেল অ ১/৪ কাপ পানি দিয়ে ময়দার কাই তৈরি করতে হবে। ময়দার কাই শক্ত হলে পানি ও নরম হলে ময়দা মেশাতে হবে।

৩. ময়দার কাইটি মসৃণ হয়ে আসলে তার উপরে তেল মাখিয়ে পাত্রের মাঝখানে রেখে তার উপরে ভেজা অ পরিষ্কার কাপড় দিয়ে দুই ঘন্টার জন্য ঢেকে রাখতে হবে।

৪. দুই ঘণ্টা পর ময়দার কাই থেকে ছোট ছোট বল তৈরি করে রুটির মতো বেলে নিতে হবে। বেলার সময় তার উপরে কালোজিরা ছড়িয়ে দিতে হবে এবং রুটির মতো গোলাকৃতির না করে লম্বাটে করে নিতে হবে। চাইলে হাত দিয়ে টেনে লম্বাটে করে নেওয়া যাবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623299530.JPG

৫. এবারে চুলায় তাওয়া গরম করে নান দিয়ে দিতে হবে। একপাশ কিছুটা ভাজা হলে ছোট ছোট ছিদ্র দেখা দেবে। এমন হলে নান উল্টে দিয়ে অপর পাশ ভাজতে হবে। এ পাশেও ছোট ছোট ছিদ্র দেখা দিলে আবারো উল্টে দিতে হবে।

তাওয়া থেকে নামানোর আগে নানের উপরে ঘি অ ধনিয়া পাতা কুঁচি ছড়িয়ে দিতে হবে।

আরও পড়ুন: বাড়িতেই তৈরি করুন ভেজিটেবল মমো

আরও পড়ুন: ঘিয়ে তৈরি মুচমুচে নিমকি

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র