Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

গাছকে সুস্থ রাখতে ছ’পা বিশিষ্ট রোবট 'হেক্সা'

গাছকে সুস্থ রাখতে ছ’পা বিশিষ্ট রোবট 'হেক্সা'
ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

বেশ কয়েকদিনের জন্য বাইরে কোথাও বেড়াতে গেলে ঘরের গাছপালা নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তাতেই থাকতে হয়।

গাছগুলো ঠিকঠাকমতো রোদ পাবে তো, গাছগুলো সুস্থ থাকবে তো! এমনকি বাসাতে থাকা হলেও নানান কাজের ব্যস্ততায় গাছগুলো রোদযুক্ত স্থানে সরিয়ে রাখা কিংবা গাছে পানি দেওয়ার বিষয়টি ভুল হয়ে যায়।

যেহেতু সময়ের সঙ্গে প্রযুক্তিও টেক্কা দিয়ে সামনের দিকে এগুচ্ছে, ঘরের প্রিয় গাছগুলো নিয়ে দুশ্চিন্তা করার দিনগুলোও হয়তো শেষের দিকে চলে এসেছে।

'দ্য হেক্সা প্ল্যান্ট' নামক ছয়-পা বিশিষ্ট ছোট একটি রোবট আবিষ্কার করা হয়েছে শুধুমাত্র গাছদের দেখভালের জন্য। এই রোবটটি তার মাথার পটে থাকা গাছটিকে রোদের আলো দেওয়ার জন্য ঘরময় একা একা ঘুরাঘুরি করে ঠিকঠাক রোদযুক্ত স্থানে গিয়ে থিতু হবে।

শুধু তাই নয়। গাছটির যতটুকু রোদের আলো প্রয়োজন, ঠিক ততটুকু সময়ই রোবটটি রোদের আলোতে থাকবে। গাছের রোদের আলোর প্রয়োজন পরিপূর্ণ হয়ে গেলে ও তাপমাত্রা বেড়ে গেলে হেক্সা নিজ থেকেই ছায়াযুক্ত স্থান খুঁজে বের করে সেখানে চলে যাবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/06/1557141313345.JPG
রোবট হেক্সা

 

এছাড়া গাছের পানি দেওয়ার বিষয়েও সমান নজর রাখবে হেক্সা। গাছে পানির প্রয়োজন হলে সে আপনাকে খুঁজে বের করবে, আপনার আশেপাশে ঘুরঘুর করবে এবং আপনার উপর তার নিজস্ব ভাষায় রাগারাগি করবে। গাছকে পানি দেওয়ার বিষয়টি কোনভাবেই আপনাকে ভুলে যেতে দিবে না এই রোবট।

এক প্রদর্শনীতে ছায়ায় থাকা একটি সূর্যমুখী ফুলকে মরে যেতে দেখে এমন ধরনের রোবট তৈরির আইডিয়া আসে রোবটিক্স প্রতিষ্ঠান ভিনক্রস ইঙ্ক. এর প্রতিষ্ঠাতা সান তিয়াঙ্কির মাথায়। ‘আমি ভাবছিলাম এই জিনিসটা যদি ৩০ ফুট এলাকা জুড়ে হেঁটে বেড়াতে পারতো তবে ফুলটি রোদের আলোতে তরতাজা থাকতে পারতো’, এমনটাই বলেন তিনি। এরপরেই ঘরোয়া গাছকে ভালো ও জীবিত রাখার মিশনে নেমে পড়েন তিনি এবং আবিষ্কার করেন চমৎকার আমুদে রোবট হেক্সা।

আমুদে বলার কারণ হলো, হেক্সা শুধুই আপনার গাছের দেখভাল নয়, আপনার দিকেও সমানভাবে নজর রাখবে। তার শরীরে হাত রাখলে সে ঘুরবে, নাচবে ও আপনার সাথে খেলায়ু মত্ত হবে। মজার এই রোবটের সাথে খেলাধুলা করে মন খারাপ করে রাখার কোন উপায়ই নেই একদম।

যদিও বানিজ্যিকভাবে হেক্সাকে এখনও বাজারজাত করা হয়নি, তবে প্রতিটি হেক্সা রোবটের মূল্য পড়বে ৯৪৯ মার্কিন ডলার তথা বাংলাদেশী মূদ্রায় ৭৯,৮৫০ টাকা।

আরও পড়ুন: ‘বাবল বয়’ রোগ সারাতে এইচআইভি!

আরও পড়ুন: জাপান আনলো হাইটেক বাই-ফোকাল চশমা

আপনার মতামত লিখুন :

খালি পেটে কফি পান নয়

খালি পেটে কফি পান নয়
ছবি: সংগৃহীত

বহুমুখী স্বাস্থ্য উপকারিতা তো আছেই, কফির সুঘ্রাণ ও সুস্বাদের সাথে দিনের শুরু হওয়া অনেকের জন্যেই বাধ্যতামূলক যেন।

অনেকেই ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে, কোন খাবার না খেয়েই কফির পেয়ালায় চুমুক বসান। কিন্তু একদম খালি পেটে কফি পান করা কতটা উপকারী? খালি পেটে কফি পানে কি তার উপকারিতাগুলো শরীর পরিপূর্ণভাবে পায়?

উত্তরে বলতে হবে, না। একদম খালি পেটে নয়, কফি পান করতে হবে হালকা কোন খাবার খাওয়ার পরেই। একদম খালি পেটে কফি পানের ফলে শরীরে কর্টিসল নিঃসরণের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। কর্টিসল শরীরের মেটাবলিজম, রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা ও মানসিক চাপের উপর প্রভাব বিস্তার করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563462138926.jpg

এখন প্রশ্ন হলো, কর্টিসল নিঃসরণের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে কি সমস্যা হবে? এখানে উত্তরে বলতে হবে, হ্যাঁ। গবেষণা থেকে দেখা গেছে, খালি পেটে কফি পানের ফলে কর্টিসলের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা মানসিক চাপ তৈরি করে ও বাড়িয়ে দেয়।

এতে করে খুব দ্রুত মুড বদলে যায় এবং এর ফলে স্বাস্থ্যের উপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে। এছাড়া কফি পাকস্থলিস্থ অ্যাসিড নিঃসরণের মাত্রাও বৃদ্ধি করে। যা অ্যাসিডিক প্রভাব তৈরি করে। ফলে বুক জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

নিজেকে চাঙা রাখতে, সারাদিনের কর্মব্যস্ততার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে ও কফির উপকারিতাগুলো পেতে চাইলে সকালে নাশতা সেরে অথবা হালকা কিছু খেয়ে তবেই কফি পান করতে হবে।

আরও পড়ুন: ব্ল্যাক কফি পানে ওজন কমে?

আরও পড়ুন: কতটুকু কফি পান নিরাপদ?

আরও পড়ুন: কফি পানের সঠিক সময় কোনটি?

ডেঙ্গু প্রতিরোধ: সচেতনতার সাথে প্রয়োজন সঠিক পদক্ষেপ

ডেঙ্গু প্রতিরোধ: সচেতনতার সাথে প্রয়োজন সঠিক পদক্ষেপ
পানি জমলেই জন্ম নেবে মশা, ছবি: সংগৃহীত

মায়ের শীতল হাতের ছোঁয়া আর মমতামাখা ভালোবাসার চাদর জড়িয়েও কমানো যাচ্ছে না তিন বছর বয়সী ঐশীর জ্বর। হাসপাতালের বারান্দায় স্থান হয়েছে ঐশীর, অথচ মা কখনো তাকে খালি পায়ে মেঝেতে নামতে দিত না। ধীরে ধীরে ফ্যাকাসে হয়ে আসছে ঐশীর চেহারা, মাঝে মাঝে বমি করছে। অস্থির মা বারবার ছুটে যাচ্ছে ডাক্তারের কাছে। মেয়ের পাশে অসহায় পিতা নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, বেদনায় পাণ্ডুর মুখ কিন্তু কাঁদতে পারছে না মেয়ের কষ্ট দেখে।

অথচ মায়ের সচেতনতার কমতি ছিলো না কিছুতেই। জুন মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হলে তিনিও সচেতন হয়ে উঠেন। সকাল সন্ধ্যা স্প্রে এবং সন্তান ঘুমালে কয়েল জ্বালিয়ে দেওয়া তার আহার্যের মত নিত্যনৈমেত্তিক কাজ। কিন্তু সাধের বারান্দাতে বাহারি ফুল গাছের সম্ভার তৈরি করেছিলেন। সেখানেই জন্ম নেয় ঘাতক এডিস মশা।

সেক্ষেত্রে সচেতন হয়ে অ্যারোসল স্প্রে বা মশার কয়েলের পাশাপাশি ব্যবহার করতে হবে মশারি। দুপুরের ভাতঘুমে আলসেমি করে মশারি ব্যবহার করে না অনেকেই। এই প্রথার বাইরে বেরিয়ে আসতে হবে। সাথে সন্ধ্যায় হতেই বন্ধ করে দিতে হবে জানাল।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563457264592.jpg

শুধুমাত্র সামাজিক সচেতনতা নয়, সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ রক্ষা করতে পারে ডেঙ্গুর মহামারি। নিজের ঘর ও উঠান থেকে শুরু করতে হবে পরিচ্ছন্নতা। কোন স্থানে কিছুতেই জমতে দেওয়া যাবে না পানি। জলাবদ্ধতা নিরসন করা গেলে আঁতুড় ঘরেই নিধন হবে মহামারি ডেঙ্গু। সাধারণত ফুলের টব, পরিত্যাক্ত ড্রাম, ফেলে দেওয়া বোতল, ভাঙ্গা বালতি ইত্যাদিতে এক বা দুই দিনের জমে যাওয়া পানিতে জন্ম নেয় মশার লার্ভা। আর এক সপ্তাহের ভেতর হয়ে উঠে ঘাতক।

বাংলাদেশে সর্বপ্রথম এডিস মশাবাহী ভয়াবহ ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয় ২০০০ সালে। ৯৩ জন মারা যায় সেবার। সকলে সচেতন হয়ে উঠলে ধীরে ধীরে কমতে থাকে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা।

কিন্তু গত বছর থেকে আবার যেন মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে ডেঙ্গু জ্বর। সরকারি হিসাবমতে গত বছর ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত প্রায় ১০ হাজার রোগীর মাঝে মারা যায় ২৬ জন।

এবারের ডেঙ্গু জ্বর একটু ভিন্ন। শক্তিশালী স্টেইনের ডেঙ্গু ভাইরাস মূলত তৃতীয় প্রজাতির এডিস মশা ছড়াচ্ছে। জুন মাস থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত এই ৫ মাসে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। ইতোমধ্য সরকারি হিসাবে প্রায় সাড়ে চার সহাস্রাধিক ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। মারা গিয়েছে তিন জন। বেসরকারি হিসাবে কয়েকগুন বেশি বলে জানাচ্ছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

বিগতবার থেকে এবার ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ যেমন বেশি তেমনি রয়েছে ভিন্নতা। আগে ডেঙ্গু জ্বর হলে মাথা ব্যথা, চোখের পেছন অংশে ব্যথা হত। কিন্তু এবারের ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ভিন্ন, ধরতেও সময় প্রয়োজন হচ্ছে।

তাই সামান্য জ্বর হলেও অবহেলা না করে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। শিশু, বৃদ্ধ, গর্ভবতী নারী, ডায়বেটিস, লিভার, কিডনী ও রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের ডেঙ্গু জ্বর হলে বিশেষ নজর দিতে হবে।

এ বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর শরীরের তাপমাত্রা খুব বেশি না হলেও দুই-তিন দিনের মধ্য রক্তে প্লাটিলেট কমে যাচ্ছে। তাই সতর্ক থাকতে হবে। বেশি করে পানি ও তরলজাত খাবার দিতে হবে রোগীকে।

এছাড়া এসপেরিন বা এন্টিবায়োটিক ঔষুধ কোনোভাবেই সেবন করা যাবে না। জ্বর নিরাময়ের জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষুধ খেতে হবে। পান করতে হবে ডাবের পানি ও স্যালাইন।

সচেতনতা ও সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণে ডেঙ্গুকে প্রতিরোধ করা খুব কঠিন কিছু নয় মোটেও।

আরও পড়ুন: যেভাবে মশা দূরে থাকবে আপনার কাছ থেকে!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র