Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ইফতারিতে কী খাবেন ও এড়িয়ে যাবেন!

ইফতারিতে কী খাবেন ও এড়িয়ে যাবেন!
ইফতারি হোক উপকারী খাদ্য সমৃদ্ধ, ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

রমজান মাসে সেহেরি ও ইফতারিতে কী খাবেন ও কী এড়িয়ে যাবেন তার উপরে নির্ভর করে শারীরিক সুস্থতা ও শারীরিক শক্তি।

সারাদিন রোজা থাকার পর স্বাভাবিকভাবেই ইফতারিতে অনেক বেশি খাবার একসাথে খাওয়ার প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন অনেকেই। ফলাফল স্বরূপ খেয়ে ফেলেন তেলেভাজা, অধিক চিনিযুক্ত অস্বাস্থ্যকর খাবার।

যা শুধু ক্ষুধাভাব দূর করতেই কাজ করে, স্বাস্থ্যের উপকারে আসে না। এছাড়া এ ধরনের খাবার গ্রহণের ফলে খুব সহজেই বুক জ্বালাপোড়া, গ্যাসভাব দেখা দেওয়া, পেট ফুলে যাওয়ার মতো কষ্টদায়ক সমস্যাগুলো দেখা দিতে থাকে।

অন্যদিকে রমজান মাস জুড়ে সঠিক খাদ্যাভ্যাস স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে। এর মাধ্যমে শারীরিক বেশ কিছু সমস্যা কমে যায় লক্ষণীয়ভাবে। ইফতারিতে স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার থাকলে পরবর্তী রোজা রাখার ক্ষেত্রে সুবিধা হয় ও শরীর সেইভাবে প্রস্তুত হয়।

আজকের এই ফিচার থেকে তাই জেনে নিন ইফতারিতে কী খাবেন ও এড়িয়ে যাবেন।

যা খাবেন ইফতারিতে

পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার

আমাদের শরীরে বহু প্রত্যাঙ্গের পরিপূর্ণ কার্যকারিতার জন্য প্রয়োজন হয় পটাশিয়াম। দীর্ঘসময় না খেয়ে থাকার ফলে শরীরে কিছুটা হলেও পটাশিয়ামের ঘাটতি দেখা দেয়। যা থেকে ক্লান্তিভাব ও শরীরের বিভিন্ন অংশের পেশীতে ব্যথাভাবের সৃষ্টি হয়। পটাশিয়ামের ঘাটতি দূর করতে ও পরবর্তী দিনের জন্য পর্যাপ্ত পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবারে প্রাধান্য দিতে হবে ইফতারির মেন্যুতে। মটরশুঁটি, গাড় সবুজ শাক, আলু, দই, অ্যাভোকাডো, তরমুজ, মাশরুম ও কলা রাখতে হবে ইফতারির মেন্যুতে। পুষ্টির পাওয়ার হাউজ খেজুর থেকেও পাওয়া যাবে পর্যাপ্ত পরিমাণ পটাশিয়াম।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/07/1557213909486.jpg
পটাশিয়াম সমৃদ্ধ ফল কলা

 

পান করতে হবে পর্যাপ্ত পানীয়

এটা তো বলাই বাহুল্য যে ইফতারিতে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানীয় পান করতে হবে। তবে একবারে কয়েক গ্লাস পানি পান করা যাবে না। এতে পাকস্থলীর ওপর বাড়তি চাপের সৃষ্টি হয়। রোজা ভাঙার পর ধীরেসুস্থে দুই গ্লাস সমপরিমাণ পানি পান করতে হবে এবং ইফতারি থেকে সেহেরির সময়ের মাঝে ৮-১০ গ্লাস পানি পান করার চেষ্টা করতে হবে। পানির পাশাপাশি ডাবের পানি ও ফলের রসও রাখা যাবে।

বাদাম

কাজুবাদামে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ উপকারী ফ্যাট, যা লম্বা সময় অভুক্ত থাকার পর শরীরে শক্তি যোগাতে প্রয়োজনীয়। এছাড়া বাদাম পেট ভরা রাখতে কাজ করে।

জলীয় অংশ সমৃদ্ধ সবজি

শসা, লেটুস পাতার মতো জলীয় অংশ সমৃদ্ধ সবজিকে প্রাধান্য দিতে হবে ইফতারিতে। এই গরমে দীর্ঘসময় পানি ও খাবার ব্যাতীত শরীর শুষ্ক হয়ে ওঠে আর্দ্রতা হারিয়ে। সেক্ষেত্রে এমন ধরনের সবজি খুবই উপকারী।

যা এড়িয়ে যাবেন ইফতারিতে

কার্বোনেটেড পানীয়

প্রসেসড পানীয় তথা কার্বোনেটেড পানীয় পান করা থেকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে যেতে হবে। এই সকল পানীয় অনেক বেশি চিনিসমৃদ্ধ হওয়ায় ওজন বৃদ্ধির সম্ভবনা থাকে সবচেয়ে বেশি। এছাড়াও সারাদিন সম্পূর্ণ অভুক্ত থাকার পর কোমল পানীয় পানে রক্তে চিনির মাত্রা হুট করে অনেক বেশি বেড়ে যায়। যা থেকে বৃদ্ধি পায় ডায়বেটিস দেখা দেওয়ার সম্ভবনা। চিনিযুক্ত এই সকল পানীয় পানের পরিবর্তে চিনিবিহীন শরবত পান করতে হবে।

অধিক চিনিযুক্ত খাবার

যে সকল খাবারে অনেক বেশি মাত্রায় চিনি রয়েছে, সে খাবারগুলো সম্পূর্ণ বাদ দিতে হবে ইফতারির মেন্যু থেকে। চকলেট, কেক, পেস্ট্রি, ক্যান্ডি খেতে যতই ভালো লাগুক না কেন, ইফতারিতে কখনোই এমন ধরনের খাবার রাখা উচিৎ নয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/07/1557213981334.jpg
এড়িয়ে যেতে হবে চিনিযুক্ত খাবার

 

তেলেভাজা খাবার

প্রচলিত বেগুনী, চপ, বড়া, সমুচা, কিংবা তেলেভাজা খাবারে পুষ্টিগুণ থাকে না বললেই চলে। উপরন্তু এই সকল খাবার খাওয়ার ফলে বুক জ্বালাপোড়াসহ পেটের নানাবিধ সমস্যা তৈরি হয়।

আরও পড়ুন: কী রাখবেন সেহেরিতে?

আরও পড়ুন: সাত উপকারের এক মটরশুঁটি

আপনার মতামত লিখুন :

তেজগাঁওয়ে 'দ্যা গ্যারেজ ফুডকোর্ট'

তেজগাঁওয়ে 'দ্যা গ্যারেজ ফুডকোর্ট'
দ্যা গ্যারেজ ফুডকোর্ট ও কয়েকটি মেন্যু, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় বলা চলে, পুরোটাই অফিস পাড়া। সকাল থেকে সন্ধ্যা কিংবা রাত- প্রতিনিয়তই চলছে কাজ। কিন্তু এই এলাকায় ছিল না ভালো কোনো খাবারের জায়গা। হাতেগোনা যে কয়টা রেস্টুরেন্ট আছে তার কোনোটাতে হয় দাম বেশি রাখা হয় কিংবা খাবার স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে তেজগাঁওয়ে শুরু হয়েছে 'দ্যা গ্যারাজ ফুডকোর্ট'।

তেজগাঁও শান্তা টাওয়ার মোড় বা ব্র্যাক ব্যাংক অনিক টাওয়ারে যেতে গলির মুখেই ২২২ নাম্বার হাউজে এই ফুডকোর্ট অবস্থিত। রয়েছে ২০০টির বেশি আসন। তবে ফুডকোর্টটি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত না হলেও বড় বড় ফ্যানের মাধ্যমে ঠাণ্ডা বাষ্প দিয়ে জায়গাটি শীতল করার ব্যবস্থা আছে।

তেজগাঁওয়ে 'দ্যা গ্যারেজ ফুডকোর্ট'

সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্তমানে এই ফুডকোর্টে জুসবারসহ প্রায় ১০টি দোকান আছে। এসব দোকানে নুডলস, বার্গার, দই ফুচকা, দোসা, রাজকচুরি, ফ্রাইড রাইস, ফ্রাইড চিকেন, লাঞ্চ আইটেম, চাপ, পরোটা, এগ রোল এবং চাপরোল পাওয়া যায়। আর বেভারেজ আইটেমের মধ্যে রয়েছে- কোল্ড কফি, হটকফি, এসপ্রেসো কফিসহ আনারস, আম ও সিজনাল নানা ফ্রুট জুস।

এখানে চিকেন ও বিফ চাপ ১৫০ টাকা, চিকেন চাপ প্যাকেজ মিল ১৮০ টাকা, পরোটা ২০ টাকা, চিকেন রোল ১০০ টাকা, বিফ রোল ১২০ টাকা, এগরোল ৪০ টাকা, বিফ তেহারি ১৫০ টাকা, চিকেন খিচুরি ও বেগুন ভাজি ১৮০ টাকায় পাওয়া যায়।

তেজগাঁওয়ে 'দ্যা গ্যারেজ ফুডকোর্ট'

এছাড়া দোসা এক্সপ্রেসে দোসা পাওয়া যাবে ১৮০–৩৫০ টাকায়।

'হাক্কা ঢাকায়' সেট মেন্যু ৩২৯–৫২৯ টাকা। এপিটাইজার আইটেমের পাওয়া যাচ্ছে ১৯৯-৩০০ টাকায়, যার মধ্যে রয়েছে চিকেন, প্রন ডাম্পলিং, হাক্কা চিকেন উইংস। রাইস এবং নুডুলস আইটেমের মধ্যে আছে চিকেন, প্রন এবং বিফ ফ্রাইড রাইস ও নুডুলস, যার দাম পড়বে ১৯৯-৩০০ টাকা। এছাড়াও রয়েছে রাইস, চিকেন চিলি ও ফ্রাইড চিকেন এর একটি লাঞ্চ মেন্যু, যার দাম ধরা হয়েছে ১৯৯ টাকা।

তেজগাঁওয়ে 'দ্যা গ্যারেজ ফুডকোর্ট'

চিজ এক্সপ্রেসে স্লাইস পিজ্জার দাম পড়বে ১২৯ টাকা। এছাড়াও সর্বোচ্চ ১৬ ইঞ্চি পিজ্জা পাওয়া যাবে এক হাজার ২৪৯ টাকায়।

দ্যা গ্যারাজ কফিতে এসপ্রেসো কফি পাওয়া যাবে ১০০ টাকায়। এছাড়াও আমরিকানো ১৩০ টাকা, মকা ২২০ টাকা, ডেজার্ট আইটেম ১০০-২৫০ টাকা, হট ড্রিঙ্কস ২০০ টাকা, চা ৩৫ টাকা, আইসড কফি ১৫০-২৫০ টাকা, সিজনাল ফ্রুট জুস ১৩০ টাকা। রয়েছে জনপ্রিয় টেকআউট বার্গারের ফুড স্টলও।

ফুডকোর্টতির ইনচার্জ বদিউজ্জামান জানান, গত মে মাসে এর যাত্রা শুরু হয়। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ফুডকোর্ট খোলা থাকে।

চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান

চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান
নান, ছবি: সংগৃহীত

সকাল কিংবা বিকালের নাশতায় যারা নিয়মিত রুটি ও পরোটা খান, একটা সময় পরে তাদের রুটিতে অভক্তি দেখা দেয়।

এ সময়ে রুটির বদলে গরম নান খেতে মনে চায়। ফোলা ও গরম নানের সাথে সবজি কিংবা মাংসের ঝোল যেন অমৃতসম।

এই নান কেনার জন্য এলাকার রেস্টুরেন্টে দৌড়ঝাঁপ না করে ঘরে বসে চুলাতেই তৈরি করে নেওয়া যাবে মজাদার গরমাগরম নান। দেখে নিন নান তৈরির রেসিপিটি।

নান তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623276721.JPG

১. ১/৪ কাপ দই।

২. এক চা চামচ চিনি।

৩. এক চা চামচ বেকিং পাউডার।

৪. এক চিমটি বেকিং সোডা।

৫. দুই কাপ ময়দা।

৬. এক চা চামচ লবণ।

৭. দুই টেবিল চামচ তেল।

৮. ১/৪-১/৩ কাপ পানি।

৯. এক টেবিল চামচ কালোজিরা।

১০. ঘি অথবা মাখন।

নান যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623263865.JPG

১. একটি পাত্রে দই, এক চা চামচ চিনি, এক চা চামচ বেকিং পাউডার ও এক চিমটি বেকিং সোডা ভালোভাবে মেশাতে হবে।

২. এতে দুই কাপ ময়দা ও স্বাদমতো লবণ দিয়ে চামচের সাহায্যে ভালোভাবে মেশাতে হবে। মিশ্রণের মাঝখানে দুই টেবিল চামচ তেল অ ১/৪ কাপ পানি দিয়ে ময়দার কাই তৈরি করতে হবে। ময়দার কাই শক্ত হলে পানি ও নরম হলে ময়দা মেশাতে হবে।

৩. ময়দার কাইটি মসৃণ হয়ে আসলে তার উপরে তেল মাখিয়ে পাত্রের মাঝখানে রেখে তার উপরে ভেজা অ পরিষ্কার কাপড় দিয়ে দুই ঘন্টার জন্য ঢেকে রাখতে হবে।

৪. দুই ঘণ্টা পর ময়দার কাই থেকে ছোট ছোট বল তৈরি করে রুটির মতো বেলে নিতে হবে। বেলার সময় তার উপরে কালোজিরা ছড়িয়ে দিতে হবে এবং রুটির মতো গোলাকৃতির না করে লম্বাটে করে নিতে হবে। চাইলে হাত দিয়ে টেনে লম্বাটে করে নেওয়া যাবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623299530.JPG

৫. এবারে চুলায় তাওয়া গরম করে নান দিয়ে দিতে হবে। একপাশ কিছুটা ভাজা হলে ছোট ছোট ছিদ্র দেখা দেবে। এমন হলে নান উল্টে দিয়ে অপর পাশ ভাজতে হবে। এ পাশেও ছোট ছোট ছিদ্র দেখা দিলে আবারো উল্টে দিতে হবে।

তাওয়া থেকে নামানোর আগে নানের উপরে ঘি অ ধনিয়া পাতা কুঁচি ছড়িয়ে দিতে হবে।

আরও পড়ুন: বাড়িতেই তৈরি করুন ভেজিটেবল মমো

আরও পড়ুন: ঘিয়ে তৈরি মুচমুচে নিমকি

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র