Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

পালং শাকের সাত উপকারিতা

পালং শাকের সাত উপকারিতা
ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখবে পালং শাক, ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

রমজান মাসে খাদ্যাভাসের সময়ে কিছুটা পরিবর্তন আসার ফলে, খাদ্য তালিকাতেও চলে আসে বড়সড় পরিবর্তন।

এই পরিবর্তের ফলে সবজি-শাক খাওয়ার পরিমাণ কমে যায় অনেকটা। যার ফলে খাদ্য পরিপাকজনিত অথবা কোষ্ঠ্যকাঠিন্যের মতো সমস্যাগুলো দেখা দিয়ে থাকে অহরহ। 

এমন ধরনের সমস্যা তো বটেই রমজান মাসসহ পুরো বছর জুড়ে সুস্থ থাকতে খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে পালং শাক। উপকারী এই প্রাকৃতিক উপাদানটির সাতটি মূল উপকারিতা তুলে ধরা হলো।  

ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করে

অবিশ্বাস্য কম মাত্রার কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ পালং শাক ডায়বেটিস আক্রান্ত রোগীদের জন্য সুপার ফুড হিসেবে ধরা হয়। এতে CHO এর মাত্রা কম থাকায় আধা কাপ শাক থেকে পাওয়া যাবে নামমাত্র পরিমাণ গ্লাইসেমিক লোড। রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রতিবেলার খাবারে কার্বোহাইড্রেট গ্রহণের মাত্রা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এতে থাকা আঁশ রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

চোখের জন্য উপকারী

পালং শাকে থাকা পর্যাপ্ত পরিমাণ বেটা ক্যারোটিন, লুটেইন ও জ্যানথিন চোখের জন্য ভীষণ উপকারী। এই উপাদানগুলো চোখনে ম্যাকুলার ডিজেনারেশন তথা দুর্বল দৃষ্টিশক্তির সমস্যা থেকে প্রতিরোধে কাজ করে। এছাড়া চোখের ভেতর জ্বালাপোড়া ও চোখ ফুলে যাওয়ার সমস্যাগুলো কমাতেও ভূমিকা রাখে পালং শাক।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/13/1557735565734.jpg
চোখ সুস্থ রাখবে পালং শাক

 

সাহায্য করে ওজন কমাতে

ওজন কমানোর জন্য পুরো ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ কমাতে চাইলে খাদ্যাভাসে নিম্নমাত্রার ক্যালোরিযুক্ত খাবার রাখার চেষ্টা করতে হবে। উচ্চমাত্রার ক্যালোরিযুক্ত খাবারের পরিবর্তে নিম্নমাত্রার ক্যালোরিযুক্ত খাবার রাখতে হবে তালিকায় এবং কম ক্যালোরিযুক্ত খাবারের মাঝে পালং শাক অনন্য। দেড় কাপ পালং শাক থেকে পাওয়া যাবে ২৬ ক্যালোরি। যা রীতিমত অবিশ্বাস্য।

লোহিত রক্ত কণিকা বৃদ্ধিতে অবদান রাখে

আমাদের শরীরে নতুন কোষ, বিশেষ করে লোহিত রক্ত কণিকা তৈরিতে অবদান রাখে পালং শাকে থাকা ফলেট তথা ভিটামিন-বি৯। এছাড়াও ডিএনএর পরিবর্তন প্রতিরোধ করে এই ভিটামিন। যা ক্যান্সার প্রতিরোধে কাজ করে। মাথা ঘোরার সমস্যা, বমিভাব দেখা দিলে কিংবা ত্বকের সমস্যায় আমরা ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট খেয়ে থাকি। অথচ ফলেট সমৃদ্ধ পালং শাক নিয়মতি খেলে এই সমস্যাগুলোও এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব।

মস্তিষ্ক ও নার্ভাস সিস্টেমের সুস্থতায়

বেশিরভাগ প্রাকৃতিক শাক-সবজিই ভিটামিন-বি৬ সমৃদ্ধ। যা নার্ভাস সিস্টেমকে সুস্থ রাখতে কাজ করে। এছাড়া এতে থাকা পটাশিয়াম মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল, মনোযোগ ও মস্তিষ্কের জ্ঞানীয় কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। সবুজ শাকের মধ্যে পালং শাক থেকে পাওয়া যায় নায়াসিন। যা সামগ্রিকভাবে মস্তিষ্কের সুস্থতায় অবদান রাখে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/13/1557735670717.jpg
পালং শাকে ভালো থাকে হৃদযন্ত্র 

 

ভালো রাখে হৃদযন্ত্র

উপকারী এই খাদ্য উপাদানে থাকা ফলিক অ্যাসিড হোমোসিস্টেন এর মাত্রা কমাতে কাজ করে, যা হৃদরোগ তৈরির জন্য দায়ী। পালং শাকে রয়েছে লুটেইন (Lutein) নামক এক প্রকারের বিশেষ পিগমেন্ট। যা হৃদযন্ত্র সম্পর্কিত সমস্যা প্রতিরোধে কাজ করে। এটা একইসাথে খারাপ কোলেস্টেরলের (LDL) ও ফ্যাটের মাত্রা কমায়।

শক্তি প্রদান করে

ভাবুন তো একবার শাক থেকে যদি শারীরিক শক্তি পাওয়া যায়, তবে কেমন হয়! পালং শাকে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন বি১ ও থায়ামিন থাকে, যা গ্লুকোজ মেটাবলিজমের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এছাটা এটা অন্যান্য খাদ্য উপাদান থেকে শক্তি সঞ্চিত করে এটিপি (Adenosine Triphosphate) এ রূপান্তরিত করে। এছাড়া রিবোফ্লাভিন খ্যাত ভিটামিন-বি২ শরীরে শক্তি উৎপাদনে ভূমিকা রাখে।

আরও পড়ুন: অজানা গুণে ভরপুর সহজলভ্য লাউ

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য উপকারিতায় কার্পণ্যহীন করলা

আপনার মতামত লিখুন :

চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান

চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান
নান, ছবি: সংগৃহীত

সকাল কিংবা বিকালের নাশতায় যারা নিয়মিত রুটি ও পরোটা খান, একটা সময় পরে তাদের রুটিতে অভক্তি দেখা দেয়।

এ সময়ে রুটির বদলে গরম নান খেতে মনে চায়। ফোলা ও গরম নানের সাথে সবজি কিংবা মাংসের ঝোল যেন অমৃতসম।

এই নান কেনার জন্য এলাকার রেস্টুরেন্টে দৌড়ঝাঁপ না করে ঘরে বসে চুলাতেই তৈরি করে নেওয়া যাবে মজাদার গরমাগরম নান। দেখে নিন নান তৈরির রেসিপিটি।

নান তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623276721.JPG

১. ১/৪ কাপ দই।

২. এক চা চামচ চিনি।

৩. এক চা চামচ বেকিং পাউডার।

৪. এক চিমটি বেকিং সোডা।

৫. দুই কাপ ময়দা।

৬. এক চা চামচ লবণ।

৭. দুই টেবিল চামচ তেল।

৮. ১/৪-১/৩ কাপ পানি।

৯. এক টেবিল চামচ কালোজিরা।

১০. ঘি অথবা মাখন।

নান যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623263865.JPG

১. একটি পাত্রে দই, এক চা চামচ চিনি, এক চা চামচ বেকিং পাউডার ও এক চিমটি বেকিং সোডা ভালোভাবে মেশাতে হবে।

২. এতে দুই কাপ ময়দা ও স্বাদমতো লবণ দিয়ে চামচের সাহায্যে ভালোভাবে মেশাতে হবে। মিশ্রণের মাঝখানে দুই টেবিল চামচ তেল অ ১/৪ কাপ পানি দিয়ে ময়দার কাই তৈরি করতে হবে। ময়দার কাই শক্ত হলে পানি ও নরম হলে ময়দা মেশাতে হবে।

৩. ময়দার কাইটি মসৃণ হয়ে আসলে তার উপরে তেল মাখিয়ে পাত্রের মাঝখানে রেখে তার উপরে ভেজা অ পরিষ্কার কাপড় দিয়ে দুই ঘন্টার জন্য ঢেকে রাখতে হবে।

৪. দুই ঘণ্টা পর ময়দার কাই থেকে ছোট ছোট বল তৈরি করে রুটির মতো বেলে নিতে হবে। বেলার সময় তার উপরে কালোজিরা ছড়িয়ে দিতে হবে এবং রুটির মতো গোলাকৃতির না করে লম্বাটে করে নিতে হবে। চাইলে হাত দিয়ে টেনে লম্বাটে করে নেওয়া যাবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623299530.JPG

৫. এবারে চুলায় তাওয়া গরম করে নান দিয়ে দিতে হবে। একপাশ কিছুটা ভাজা হলে ছোট ছোট ছিদ্র দেখা দেবে। এমন হলে নান উল্টে দিয়ে অপর পাশ ভাজতে হবে। এ পাশেও ছোট ছোট ছিদ্র দেখা দিলে আবারো উল্টে দিতে হবে।

তাওয়া থেকে নামানোর আগে নানের উপরে ঘি অ ধনিয়া পাতা কুঁচি ছড়িয়ে দিতে হবে।

আরও পড়ুন: বাড়িতেই তৈরি করুন ভেজিটেবল মমো

আরও পড়ুন: ঘিয়ে তৈরি মুচমুচে নিমকি

কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাচ্ছে চার কারণে!

কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাচ্ছে চার কারণে!
কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাওয়া আর ক্লান্তিবোধ এক নয়, ছবি: সংগৃহীত

প্রতিটি কর্মজীবীকে দিনের সিংহভাগ সময় কাটাতে হয় নিজ কর্মক্ষেত্রে।

কাজের চাপ, ব্যস্ততা, ডেডলাইন, মিটিংসহ সবকিছুর সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে ক্লান্তি দেখা দেয় একটা সময়। সময়মতো বিশ্রাম নিলে এই ক্লান্তিভাব খুব দ্রুত কেটেও যায়। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাওয়া আর ক্লান্তিবোধ এক নয়।

কর্মোদ্যম ফুরিয়ে গেলে শারীরিক ক্লান্তির সাথে মানসিক ক্লান্তি প্রভাব বিস্তার করে। কাজ, ব্যস্ততা, ছুটে চলা- সবকিছুকেই অর্থহীন বোধ হতে থাকে। অসামঞ্জস্যতা দেখা দেয় জীবনে চলার পথে। এমন অবস্থা চলতে একটা সময় জীবনের উপরে বিরক্তিবোধ কাজ করা শুরু করে।

কর্মোদ্যম হারিয়ে যাওয়া বা দম ফুরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বেশ কয়েকটি কারণে দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রফেশনাল প্রেসক্রিপশন ফর লাইফের কোচ সুসান বিয়ালি হাস এমডি। বিগত কয়েক বছর ধরে এ বিষয়ে কাজ করে এবং বহু মানুষকে কাউন্সেলিং করে তিনি বুঝতে পেরেছেন কর্মক্ষেত্রে কর্মোদ্যমতা হারানো শুরু হয় খুব ছোট কিছু থেকেই।

নির্দিষ্ট কোন একটি কারণ

ভিন্ন ভিন্ন কর্মক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের চাপ থাকে, কাজের ধরণ থাকে। সেক্ষেত্রে প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভিন্ন কারণে দেখা দিতে পারে দম ফুরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি। কোচ সুসান জানাচ্ছেন মূলত ছয়টি কারণ কাজ করে এক্ষেত্রে। অতিরিক্ত কাজের চাপ, নিয়ন্ত্রণের অভাব, অপর্যাপ্ত উপহার, কর্মক্ষেত্রে কমিউনিটি সংক্রান্ত সমস্যা, অন্যায্য/ অনৈতিক চর্চা, নৈতিকতার অমিল। এ বিষয়গুলো খুব ধীরে ধীরে কাজের উপর অনাগ্রহ তৈরি করে এবং কর্মোদ্যমতা নষ্ট করে দেয়।

আপনিও কর্মোদ্যম হারিয়ে ফেলেন তবে চেষ্টা করুন কারণটি খুঁজে বের করার। কোন কারণে এমনটা হচ্ছে সেটা শনাক্ত করতে পারলে সেটা সমাধানে কাজ করতে পারবেন।

অন্যের কাজ করা

স্বাভাবিকভাবেই অফিসে নিজের কাজের চাপ থাকে অনেক বেশি। সেখানে অন্যের কাজের বোঝাও যদি মাথায় এসে ভর করে তবে সেটা শারীরিক ও মানসিক চাপ তৈরি করে অনেক বেশি। আপনিও যদি এমনটা করে থাকেন তবে এই অভ্যাসটি খুব দ্রুত পরিহার করতে হবে।

ব্যক্তিগত জীবন ও কর্মজীবনের মাঝে দেয়াল না থাকা

অফিসের কাজ বাসাতে টেনে নিয়ে যাওয়া এবং পরবর্তীতে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে যাওয়ার ফলে স্বাভাবিকভাবেই কোন বিশ্রাম হয় না। মাথার ভেতর সর্বদা কাজের বিষয়গুলো ঘুরঘুর করতে থাকে, যার ফলে প্রচণ্ড মানসিক অশান্তি ও অস্থিরতা দেখা দেয়।

সেক্ষেত্রে কোচ সুসান পরামর্শ দেন- যতই কাজের চাপ থাকুক না কেন বা কাজ শেষ করার তাড়া থাকুক না কেন, কোনভাবেই অফিসের কাজ বাসাতে আনা যাবে না। বাসায় বসেও অফিসের কাজ করা ও অফিসে থাকার মাঝে আদতে কোন পার্থক্য থাকে না। এতে করে পরদিন পুনরায় অফিসে গেলেও বিন্দুমাত্র কর্মোদ্যমতা পাওয়া যায় না।

নিজের যত্ন না নেওয়া

একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের জন্য চব্বিশ ঘণ্টার মাঝে অন্ততপক্ষে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম বাধ্যতামূলক। এর কম হলে শরীর ও মন জুড়ে অপরিসীম ক্লান্তি ভর করে। এছাড়া নিজের যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে যদি হেলাফেলা করা হয়, তার প্রভাব সরাসরি দেখা দেয় কাজের উপর। সারাদিন অফিসে ডেস্কে বসে থেকেও মাথা কাজ করবে না, কাজে মন বসবে না। সেক্ষেত্রে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, নিজের অযত্নও কর্মোদ্যম ফুরিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হিসেবে কাজ করে।

আরও পড়ুন: কর্মক্ষেত্রে দূরে থাকুক আত্ম-সন্দেহ

আরও পড়ুন: সমস্যাটি যখন কর্মক্ষেত্রে!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র