Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

দেশে জনপ্রিয় হচ্ছে ট্যাটু

দেশে জনপ্রিয় হচ্ছে ট্যাটু
দেশে জনপ্রিয় হচ্ছে ট্যাটু
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

সৌন্দর্যবর্ধনে শরীরে ট্যাটু করার হার বাড়ছে দেশে। এই ব্যবসাকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু ট্যাটু স্টুডিও। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে বছরে সেবা গ্রহণ করছেন তিন হাজারের বেশি মানুষ। যা প্রতি বছর বাড়ছে ১০ শতাংশ হারে।

তুলির বদলে রোটারি মেশিন আর ক্যানভাসের বদলে শরীর। পার্থক্য শুধু এটুকুই। আর বাকি পুরোটাই শিল্প। যেখানে পদ্মফুল ফুটে উঠে ট্যাটু হয়ে। এই অঞ্চলে যার পরিচিতি উল্কি হিসেবে।

যদিও তা আকার প্রচলন একদমই ছিল না দশ বছর আগেও। তবে রাজধানী ঢাকা আর দেশের বড় শহরগুলোতে তরুণদেরকে কেন্দ্র করে এখন পরিস্থিতি অনেকটাই পাল্টেছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/25/1558775086866.jpg

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার শিক্ষার্থী ও অলিন ট্যাটু স্টুডিওর সত্ত্বাধিকারী সাদমান তৌহিদ অলিন ২০০৮ সালে শখের বসে ট্যাটু আকা শুরু করেন।

তিনি জানালেন, আমি যখন শুরু করি, তখন ট্যাটু সর্ম্পকে মানুষের ধারণাটা খুব বেশি পরিস্কার ছিল না। অনেকেই মনে করতো এটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে করে, আবার অনেকেই মনে করতো এটি কেটে করে। কেউ কেউ ভাবতো অন্য কোন ভাবে শরীরে ট্যাটু আঁকা হয়।

আমার অধিকাংশ গ্রাহক ছিল সঙ্গীতাঙ্গনের মানুষরা। তখন মাসে একজন দুজন করে এসে ট্যাটু আঁকাত। সেখান থেকেই প্রবৃদ্ধি শুরু হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/25/1558775148488.jpg

অলিন আরও বলেন, এখন পরিস্থিতি অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে।

শিল্পীদের হিসাবে রাজধানীতে ছোট-বড় পাঁচটি ট্যাটু স্টুডিও গড়ে উঠেছে। বন্দরনগরী চট্টগ্রামে রয়েছে একটি। এসব স্টুডিওতে প্রতিমাসে প্রায় তিনশ গ্রাহক ট্যাটু আঁকছেন। এদের ৭০ শতাংশই নারী। অধিকাংশের বয়স ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। ট্যাটু করাতে আসেন ৫০-৬০ বছরের মানুষও।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আসাদুল ইসলাম বলেন, ঢাকায় ট্যাটু করার খরচ খুব বেশি নয়। ট্যাটু আর্টিস ভালো সেবা দিচ্ছে। এসব কিছুর পর আমি কেন বিদেশে যাবো। গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে অনেক শিল্পী এখন প্রতিবেশি দেশ ভারত থেকে স্বল্প মেয়াদি প্রশিক্ষণও নিয়ে এসেছে। গড়ে তুলেছে নিজেদের স্টুডিও। যেখানে সবচেয়ে ছোট আকারের ট্যাটুর খরচ আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা।

যা কম বেশি হয়, ট্যাটুর ডিজাইন, আকার আর অবস্থান ভেদে ১০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/25/1558775196498.jpg

ইঙ্কপার্ক ট্যাটু স্টুডিওর শিল্পী অভিজিৎ সাহা বলেন, বড় আকারের ট্যাটু এখনো খুব বেশি মানুষ করে না। ৫ থেকে ৭ আর ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার ট্যাটুই মানুষ বেশি করে।

তিনি আরও বলেন, আমি সারা মাসের কথা চিন্তা করলে লাখ খানেক টাকার ট্যাটু করা যায়। যদি সঠিক ভাবে কাজটি করি।

সাদমান তৌহিদ অলিন বলেন, আগে মানুষ একটি ট্যাটু করার জন্য দেশের বাইরে যেত। এখন দেখা যাচ্ছে, ট্যাটুটা আমাদের কাছ থেকে করছে। আমার কাছ থেকে না করলে অন্য কারো কাছ থেকে করছে। কিন্তু দেশেই ঘোরাফেরা করছে।

তিনি আরও বলেন, আগামী দুই তিন বছরের মধ্যে বিশ্বমানের কিছু শিল্পী আনার চেষ্টা করবো। যাতে মানুষ বিদেশে না গিয়ে বলতে পারে তুমি ভালো ট্যাটু করার জন্য বাংলাদেশে যাও।

শিল্পীরা জানান, ব্যক্তির চাহিদার উপর নির্ভর করেই একেকটি ট্যাটুর নকশা চুড়ান্ত করা হয়। যা আঁকা হয় শতভাগ নিরাপদ পদ্ধতিতে।

আপনার মতামত লিখুন :

খালি পেটে কফি পান নয়

খালি পেটে কফি পান নয়
ছবি: সংগৃহীত

বহুমুখী স্বাস্থ্য উপকারিতা তো আছেই, কফির সুঘ্রাণ ও সুস্বাদের সাথে দিনের শুরু হওয়া অনেকের জন্যেই বাধ্যতামূলক যেন।

অনেকেই ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে, কোন খাবার না খেয়েই কফির পেয়ালায় চুমুক বসান। কিন্তু একদম খালি পেটে কফি পান করা কতটা উপকারী? খালি পেটে কফি পানে কি তার উপকারিতাগুলো শরীর পরিপূর্ণভাবে পায়?

উত্তরে বলতে হবে, না। একদম খালি পেটে নয়, কফি পান করতে হবে হালকা কোন খাবার খাওয়ার পরেই। একদম খালি পেটে কফি পানের ফলে শরীরে কর্টিসল নিঃসরণের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। কর্টিসল শরীরের মেটাবলিজম, রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা ও মানসিক চাপের উপর প্রভাব বিস্তার করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563462138926.jpg

এখন প্রশ্ন হলো, কর্টিসল নিঃসরণের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে কি সমস্যা হবে? এখানে উত্তরে বলতে হবে, হ্যাঁ। গবেষণা থেকে দেখা গেছে, খালি পেটে কফি পানের ফলে কর্টিসলের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা মানসিক চাপ তৈরি করে ও বাড়িয়ে দেয়।

এতে করে খুব দ্রুত মুড বদলে যায় এবং এর ফলে স্বাস্থ্যের উপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে। এছাড়া কফি পাকস্থলিস্থ অ্যাসিড নিঃসরণের মাত্রাও বৃদ্ধি করে। যা অ্যাসিডিক প্রভাব তৈরি করে। ফলে বুক জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

নিজেকে চাঙা রাখতে, সারাদিনের কর্মব্যস্ততার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে ও কফির উপকারিতাগুলো পেতে চাইলে সকালে নাশতা সেরে অথবা হালকা কিছু খেয়ে তবেই কফি পান করতে হবে।

আরও পড়ুন: ব্ল্যাক কফি পানে ওজন কমে?

আরও পড়ুন: কতটুকু কফি পান নিরাপদ?

আরও পড়ুন: কফি পানের সঠিক সময় কোনটি?

ডেঙ্গু প্রতিরোধ: সচেতনতার সাথে প্রয়োজন সঠিক পদক্ষেপ

ডেঙ্গু প্রতিরোধ: সচেতনতার সাথে প্রয়োজন সঠিক পদক্ষেপ
পানি জমলেই জন্ম নেবে মশা, ছবি: সংগৃহীত

মায়ের শীতল হাতের ছোঁয়া আর মমতামাখা ভালোবাসার চাদর জড়িয়েও কমানো যাচ্ছে না তিন বছর বয়সী ঐশীর জ্বর। হাসপাতালের বারান্দায় স্থান হয়েছে ঐশীর, অথচ মা কখনো তাকে খালি পায়ে মেঝেতে নামতে দিত না। ধীরে ধীরে ফ্যাকাসে হয়ে আসছে ঐশীর চেহারা, মাঝে মাঝে বমি করছে। অস্থির মা বারবার ছুটে যাচ্ছে ডাক্তারের কাছে। মেয়ের পাশে অসহায় পিতা নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, বেদনায় পাণ্ডুর মুখ কিন্তু কাঁদতে পারছে না মেয়ের কষ্ট দেখে।

অথচ মায়ের সচেতনতার কমতি ছিলো না কিছুতেই। জুন মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হলে তিনিও সচেতন হয়ে উঠেন। সকাল সন্ধ্যা স্প্রে এবং সন্তান ঘুমালে কয়েল জ্বালিয়ে দেওয়া তার আহার্যের মত নিত্যনৈমেত্তিক কাজ। কিন্তু সাধের বারান্দাতে বাহারি ফুল গাছের সম্ভার তৈরি করেছিলেন। সেখানেই জন্ম নেয় ঘাতক এডিস মশা।

সেক্ষেত্রে সচেতন হয়ে অ্যারোসল স্প্রে বা মশার কয়েলের পাশাপাশি ব্যবহার করতে হবে মশারি। দুপুরের ভাতঘুমে আলসেমি করে মশারি ব্যবহার করে না অনেকেই। এই প্রথার বাইরে বেরিয়ে আসতে হবে। সাথে সন্ধ্যায় হতেই বন্ধ করে দিতে হবে জানাল।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563457264592.jpg

শুধুমাত্র সামাজিক সচেতনতা নয়, সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ রক্ষা করতে পারে ডেঙ্গুর মহামারি। নিজের ঘর ও উঠান থেকে শুরু করতে হবে পরিচ্ছন্নতা। কোন স্থানে কিছুতেই জমতে দেওয়া যাবে না পানি। জলাবদ্ধতা নিরসন করা গেলে আঁতুড় ঘরেই নিধন হবে মহামারি ডেঙ্গু। সাধারণত ফুলের টব, পরিত্যাক্ত ড্রাম, ফেলে দেওয়া বোতল, ভাঙ্গা বালতি ইত্যাদিতে এক বা দুই দিনের জমে যাওয়া পানিতে জন্ম নেয় মশার লার্ভা। আর এক সপ্তাহের ভেতর হয়ে উঠে ঘাতক।

বাংলাদেশে সর্বপ্রথম এডিস মশাবাহী ভয়াবহ ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয় ২০০০ সালে। ৯৩ জন মারা যায় সেবার। সকলে সচেতন হয়ে উঠলে ধীরে ধীরে কমতে থাকে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা।

কিন্তু গত বছর থেকে আবার যেন মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে ডেঙ্গু জ্বর। সরকারি হিসাবমতে গত বছর ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত প্রায় ১০ হাজার রোগীর মাঝে মারা যায় ২৬ জন।

এবারের ডেঙ্গু জ্বর একটু ভিন্ন। শক্তিশালী স্টেইনের ডেঙ্গু ভাইরাস মূলত তৃতীয় প্রজাতির এডিস মশা ছড়াচ্ছে। জুন মাস থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত এই ৫ মাসে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। ইতোমধ্য সরকারি হিসাবে প্রায় সাড়ে চার সহাস্রাধিক ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। মারা গিয়েছে তিন জন। বেসরকারি হিসাবে কয়েকগুন বেশি বলে জানাচ্ছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

বিগতবার থেকে এবার ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ যেমন বেশি তেমনি রয়েছে ভিন্নতা। আগে ডেঙ্গু জ্বর হলে মাথা ব্যথা, চোখের পেছন অংশে ব্যথা হত। কিন্তু এবারের ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ভিন্ন, ধরতেও সময় প্রয়োজন হচ্ছে।

তাই সামান্য জ্বর হলেও অবহেলা না করে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। শিশু, বৃদ্ধ, গর্ভবতী নারী, ডায়বেটিস, লিভার, কিডনী ও রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের ডেঙ্গু জ্বর হলে বিশেষ নজর দিতে হবে।

এ বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর শরীরের তাপমাত্রা খুব বেশি না হলেও দুই-তিন দিনের মধ্য রক্তে প্লাটিলেট কমে যাচ্ছে। তাই সতর্ক থাকতে হবে। বেশি করে পানি ও তরলজাত খাবার দিতে হবে রোগীকে।

এছাড়া এসপেরিন বা এন্টিবায়োটিক ঔষুধ কোনোভাবেই সেবন করা যাবে না। জ্বর নিরাময়ের জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষুধ খেতে হবে। পান করতে হবে ডাবের পানি ও স্যালাইন।

সচেতনতা ও সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণে ডেঙ্গুকে প্রতিরোধ করা খুব কঠিন কিছু নয় মোটেও।

আরও পড়ুন: যেভাবে মশা দূরে থাকবে আপনার কাছ থেকে!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র