Barta24

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

টুথপেস্ট নয়, নারিকেল তেলে পাওয়া যাবে দাঁতের সুরক্ষা!

টুথপেস্ট নয়, নারিকেল তেলে পাওয়া যাবে দাঁতের সুরক্ষা!
দাঁত ভালো থাকবে নারিকেল তেলের ব্যবহারে, ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

আমাদের দিনের শুরু হয় টুথপেস্টে দাঁত মেজে।

চিরাচয়িত এই নিয়মে হুট করে যদি পরিবর্তন আনা হয়, তবে কেমন হয়? টুথপেস্টের বদলে নারিকেল তেল ব্যবহারে দাঁত মাজার কথা বলা হলে অবাক না হয়ে উপায় নেই। কিন্তু গবেষকেরা নানান পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও গবেষণা শেষে জানাচ্ছেন, দাঁতের সুরক্ষা ও সুস্বাস্থ্য রক্ষার্থে টুথপেস্টের চাইতেও উপকারী ভূমিকা পালন করে প্রাকৃতিক নারিকেল তেল।

আমাদের স্যালাইভা তথা লালাতে থাকা এনজাইমের সাথে নারিকেল তেলের সংযোগে উৎপাদিত উপাদান ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে ও দাঁতের ক্ষয়রোগ প্রতিরোধে কাজ করে।

আয়ারল্যান্ডের অ্যাথলোন ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজির (AIT) গবেষকেরা মানুষের মুখের স্ট্রেপটোকক্কাস (Streptococcus) ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে নারিকেল তেলের কার্যকারিতা পরীক্ষা করেন। ফলাফল থেকে দেখা যায় নারিকেল তেল মুখের লালার সাথে মিশ্রিত হয়ে এই ব্যাকটেরিয়াসহ অন্যান্য ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতেও বাধা প্রদান করে।

গবেষকেরা পরীক্ষার জন্য নারিকেল তেলের পাশাপাশি ভেজিটেবল অয়েল, অলিভ অয়েল নিয়েও পরীক্ষা করেন। দেখা গেছে, খুব স্বল্প পরিমাণ নারিকেল তেল থেকেও ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গিয়েছে।

গবেষণার প্রধান ড্যামেইন ব্র্যাডলি জানান, তাদের গবেষণার ফলাফল থেকে দেখা গেছে- মানুষের পাচনতন্ত্রে রয়েছে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল কার্যক্রম। তিনি বিশ্বাস করেন, তাদের তথ্য ভবিষ্যতে দাঁতের সুরক্ষায় কার্যকরি ভূমিকা পালন করবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/12/1560338465745.jpg

সবার সুবিধার্থে এখানে তিনটি কারণ তুলে ধরা হলো, যা আরও ভালোভাবে বোঝাতে সাহায্য করবে কেন টুথপেস্টের চাইতে নারিকেল তেলের ব্যবহার দাঁতের জন্য উপকারী।

নারিকেল তেল প্রাকৃতিক ও নিরাপদ

দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, বেশিরভাগ টুথপেস্টেই থাকে নানাবিধ কেমিক্যাল ও টক্সিন উপাদান। ক্ষতিকর উপাদানের মাঝে প্রধান তিনটি হলো-

ট্রাইক্লোসান – এটা হরমোনাল সমস্যা তৈরি করে এবং অ্যান্টিবায়োটিক রেসিস্টেন্স তৈরি করে শরীরে। কিছু ক্ষেত্রে ক্যান্সার তৈরির কারণো এই উপাদানটি।

ফ্লোরাইড – এটা হলো বিষাক্ত ইন্ডাস্ট্রিয়াল বর্জ্য পদার্থ, যা বেশ কিছু টুথপেস্টে পাওয়া যায়।

সারফ্যাকট্যান্টস – এটা হলো সোডিয়াম লরেথ সালফেট (SLS), যা এক ধরনের ফোমিং উপাদান। এর ফলে খাবারে অরুচির সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে।

অন্যদিকে নারিকেল তেল সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ ও প্রাকৃতিক একটি উপাদান। যা মুখের ভেতরের ও দাঁতের সার্বিক সুরক্ষা ছাড়া কোন ক্ষতি করে না।

ক্যাভিটি প্রতিরোধ করে

ফিচারের শুরুতেই উল্লেখ করা হয়েছিল, নারিকেল তেল স্ট্রেপটোকক্কাস (Streptococcus) ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে। এই ব্যাকটেরিয়া মূলত ক্যাভিটি তৈরির জন্য দায়ী। নারিকেল তেল ব্যবহারে দাঁত এক্ষেত্রে অনেকটাই সুরক্ষিত থাকে।

তৈরি করা যাবে নারিকেল তেলের পেস্ট

চাইলে ঘরেই তৈরি করে নেওয়া যাবে নারিকেল তেলের পেস্ট। দুই টেবিল চামচ বেকিং সোডা ও দুই টেবিল চামচ পরিমাণ নারিকেল তেল মিশিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে কাঙ্ক্ষিত নারিকেল তেলের পেস্ট।

আরও পড়ুন: ঘরেই বানিয়ে নিন পেপারমিন্ট-নারিকেল তেলের টুথপেস্ট

আরও পড়ুন: চিনির বিকল্পে চার উপাদান

আপনার মতামত লিখুন :

বাস্তবেই রয়েছে কল্পনার ‘জর্স’

বাস্তবেই রয়েছে কল্পনার ‘জর্স’
জর্স, ছবি: ক্যারিনা মেইওয়াল্ড

ছোটবেলায় কল্পনার জগতে ঘোড়া ও জেব্রার মিশেলে হাইব্রিড ও কাল্পনিক এক প্রাণীর কথা ভেবে আনন্দ পেতাম আমরা অনেকেই।

ইউনিকর্নের মতোই এমন ধরণের প্রাণী শুধু কল্পনার জগতেই বন্দী থাকবে, এমন ধারণা বদ্ধমূল হয়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক।

কিন্তু পুরো বিশ্বকে চমকে দিয়েছে ঘোড়া ও জেব্রার হাইব্রিডে জন্ম নেওয়া, অবাক করে দেওয়ার মতো প্রাণী ‘জর্স’। জেব্রা ও হর্স এর মিশেলে রাখা হয়েছে এই প্রাণীটির নাম।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/26/1561546232830.jpg

জার্মানির ঘোড়া বিষয়ক ফটোগ্রাফার ক্যারিনা মেইওয়াল্ডের ক্যামেরায় ধরা পরে জর্সের উপস্থিতি। তার তোলা ছবিগুলো প্রকাশিত হওয়ার পর পুরো ইন্টারনেট জগত অবাক ও বিস্মিত হয়ে পড়েছে।

জেব্রা স্ট্যালিওন ও হর্স মের এর মাঝে হাইব্রিড তথা শংকরের ফলে জন্ম নেয় ছবির জর্স, যার নাম জুরি। প্রায় ছয় বছরের বেশি সময় ধরে ঘোড়াদের ছবি তোলার কাজে সময় ব্যয় করা ক্যারিনা জানান, দেড় বছর বয়সী জুরির ছবি তুলতে গিয়ে সে বুঝতে পেরেছেন- ঘোড়াদের চাইতে স্বভাবে ও আচরণে অনেকটা ভিন্ন হয়ে থাকে জর্স।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/26/1561546264018.jpg

নতুন এই প্রাণীটির মধ্যে বন্য প্রাণীর সহজাত স্বভাব প্রকট আকারে দেখা যায়। যে কারণে শক্তিশালী এই প্রাণীটির ছবি তলার জন্য ক্যারিনাকে নতুন পদ্ধতি বের করতে হয়েছিল।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/26/1561546289760.jpg

যেখানে ঘোড়া বেশ হালকা চালে থাকার মতো প্রাণী, সেখানে জর্স যেন লড়াই করার জন্য সদা প্রস্তুত। ঘোড়াদের মাঝে আগ্রহভাব কাজ করে। এদিকে জর্স ঠিক তার উল্টো। তারা খুব সহজেই বিরক্ত হয়ে যায়। মূলত এ কারণেই জর্সদের ছবি তোলার বিষয়টি বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল।

আফ্রিকার দুর্গম স্থানগুলোতে ট্রেকিংয়ের মাধ্যমে জিনিসপত্র আনা নেওয়ার কাজের জন্যেই জর্স ব্রিড করা হয়। শক্তিশালী, হালকা খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত ও প্রবল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ঘোড়া ও জেব্রার মিশেল জন্ম নেওয়া জর্স চমৎকার একটি প্রাণী।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/26/1561546301758.jpg

ক্যারিনা জানান, আফ্রিকার বাইরে খুব সীমিত কিছু অঞ্চলে জর্সের দেখা পেয়েছেন তিনি। তবে এই ব্রিড খুবই দুর্লভ হওয়ায় এদের দেখা সচরাচর পাওয়াই যায় না।

আরও পড়ুন: কল্পনা নয়, বাস্তবেই মিলবে যে সকল প্রাণীর খোঁজ!

আরও পড়ুন: যে পাখিগুলো কাগজে তৈরি!

আঙুরের সাতকাহন 

আঙুরের সাতকাহন 
আঙ্গুর ফল

আঙুর ফলের গোড়াপত্তন শুরু হয়েছে হাজার বছর আগে। সুস্বাদু ও সুমিষ্ট এই ফলের বাহারি রঙের মাত্রায় রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুণ। উচ্চ ভিটামিন সমৃদ্ধ  এই ফল আপনার হার্টকে রাখে সুস্থ।

আঙুরের সাত গুণাবলি--

গ্যাস্ট্রিকের প্রদাহ থেকে মুক্তি:

দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস্ট্রিক থেকে শুরু হয় বাতের ব্যথা। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্য। রোগের সূত্রপাত হিসেবে ধরা হয় গ্যাস্ট্রিকের প্রদাহকে। দেহের প্রতিরক্ষাকারী কোষগুলোকে নষ্ট করে, ক্যানসার কিংবা হার্টের রোগে ভোগায় এই প্রদাহ। গবেষণা বলছে, আঙুর হতে পারে গ্যাসের ব্যথার স্থায়ী সমাধান।

২৪ জন পুরুষের মধ্যে চালানো একটি জরিপে দেখা যায়, প্রতিদিন ১.৫ কাপ আঙুরের রস অথবা নির্দিষ্ট পরিমাণে আঙুরের গুঁড়া শরীরের গ্যাসের প্রদাহকে কমিয়ে দেয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561452636554.jpg

বুদ্ধিমত্তা বাড়ায়:

এক গবেষণায় দেখা যায়, তিন মাস ধরে প্রতিদিন ২৫০ গ্রাম করে আঙুর ফল ১১১ জন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষকে খাওয়ানোর ফলে তাদের স্মৃতি, মনোযোগ এবং  বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ঘটেছে।

এমনকি প্রতিদিন আঙুর ফল আপনার মেজাজকে রাখে নিয়ন্ত্রণে। পাশাপাশি ব্লাড সুগারের মাত্রাকেও পরিমিত পর্যায়ে রাখতে সাহায্য করে।

হাড়ের ক্ষয় রোধ করে:

হাড়ে লবণের মাত্রাকে ঠিক রেখে ক্ষয়রোধ করতে সাহায্য করে আঙুর ফল। হাড়ে প্রয়োজনীয় পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561452652760.jpg

ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া  ধবংসকারী:

দেহের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ইনফেকশন ঘটায়, এমন ভাইরাস ধ্বংস করতে সাহায্য করে আঙুর ফল। প্রতিদিন খেলে ভিটামিন সি-এর অভাব পূরণ হয়। ফলে মৌসুমি ঠাণ্ডা কাশি কিংবা জ্বর আপনাকে কাবু করতে পারবে না। এমনকি আঙুর ডায়রিয়া সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে।

রোগ প্রতিরোধকারী ক্ষমতা বৃদ্ধি:

ক্যানসার, হৃদরোগ কিংবা ডায়াবেটিসের মতো রোগের প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে আঙুর ফল। বেটাকেরোটিন, লুটিন ,এলাজিক এসিড সমৃদ্ধ এই ফল দীর্ঘস্থায়ী রোগকেও প্রতিরোধ করতে সক্ষম।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561452669126.jpg

তারুণ্য ধরে রাখে:

আঙুর ফলের পুষ্টিগুণ তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। ত্বকের বলিরেখা দূর করে আঙুর। স্বাস্থ্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি-এর চাহিদা পূরণ করে ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতেও সাহায্য করে।

আঙুরে প্রোটিন সমৃদ্ধ ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার এবং অ্যান্টি অক্সিজেন রয়েছে। সুতরাং তুমি তোমার সকাল কিংবা বিকেলের নাস্তায় রাখতে পারো আঙুর ফল। এমনকি গ্রীষ্মের দিনগুলোতে ঠাণ্ডা আঙুর হতে পারে দারুণ একটা নাশতা।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র