Barta24

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

যে ৬ সময়ে হাত পরিষ্কার করা অপরিহার্য

যে ৬ সময়ে হাত পরিষ্কার করা অপরিহার্য
পরিষ্কার হাতে পাওয়া যাবে শারীরিক সুস্থতা, ছবি: সংগৃহীত
লাইফস্টাইল ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

দৈনন্দিন জীবনের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অঙ্গটি হলো হাত।

প্রতিদিন অসংখ্য কাজের মাধ্যমে প্রায় পাঁচ হাজারের মতো জীবাণুর সংস্পর্শে আসে হাত। খাদ্য গ্রহণ কিংবা মুখে হাত দেওয়ার মাধ্যমে এসব জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি করে। এ বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে প্রতিবছর ১৫ই অক্টোবর বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালন করা হয়।

মেয়ো ক্লিনিকের মতে, হাত ধোয়ার মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও অন্যান্য জীবাণু দূর হয়। এছাড়া রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রগুলো পরামর্শ দিয়ে থাকে, সাবান অথবা হাত স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করা উচিৎ। গবেষণার মতে, এই দুইটি উপাদান ব্যবহার জীবাণু দূর করার ক্ষেত্রে অনেকটা কার্যকর।

এদিকে আমাদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও বেশ কিছু অপরিষ্কার জিনিস ধরতে হয় এবং সেই হাতেই অনেক সময় খাবার খেতে হয়। এতে সহজেই জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে নানান ধরণের শারীরিক ক্ষতি করে থাকে। আজকের ফিচার থেকে জেনে নিন, সুস্থ থাকতে চাইলে কোন কোন সময়ে অবশ্যই হাত ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।

টাকা

বর্তমানে অনেকেই কার্ডে টাকা আদান-প্রদান করলেও, কিছু ক্ষেত্রে টাকা দিয়েই কাজ সমাধান করতে হয়। বিশেষজ্ঞরা টাকার নোট পরীক্ষা করে এতে কয়েক হাজার মানুষসহ পশুর জীবাণু ও ভাইরাস পেয়েছেন। এছাড়াও কিছু গবেষণায় ই-কোলাই, সেলমোনেল্লা রোগের মতো ভাইরাস দেখা গিয়েছে।

যেহেতু একটি টাকার নোট বছরের পর বছর ব্যবহার করা হয় এবং এতে কতখানি জীবাণু নিয়ে নোটটি আপনার কাছে আসে তা গণনা করা দুষ্কর, তাই নিজেকে সুস্থ রাখতে টাকা লেনদেনের পর দ্রুত হাত ধুয়ে নিতে হবে।

বিভিন্ন হ্যান্ডেল

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561443125659.jpg

প্রতিদিন ঘর বা বাইরে দরজা, হ্যান্ডেল, বাসের সিট, জানালা, সিঁড়ি, লিফট ধরা হয়। কলোম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ক্যাটি বুরিস জানান, ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস ছড়িয়ে পরার আগেই হাত পরিষ্কার করা উচিৎ। বিশেষ করে লোকাল যানবাহন- বাস, ট্রেন, গাড়ি, রিকশা ইত্যাদি এবং বাথরুমের দরজা ধরার পর অবশ্যই হাত ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। কারন প্রতিদিন মানুষজন হাজারো জীবাণু নিয়ে এসব ধরছে এবং জীবাণুগুলো একজন থেকে আর একজনের কাছে ছড়িয়ে পড়ছে।

রেস্টুরেন্টের মেন্যু

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561443100886.jpg

বন্ধুবান্ধব, পরিবারের সাথে প্রায়ই ঘুরতে যাওয়া হয় রেস্টুরেন্টে, গিয়েই দেখা হয় মেন্যু কার্ড। প্রতিদিন শত কাস্টমার এসে সেটি ধরে দেখেন। তাদের হাতে থাকা জীবাণুগুলো প্রবাহিত হয় সেই মেন্যুতে এবং পরবর্তী সকলের কাছে ছড়িয়ে যায়। অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা একটি মেন্যু পরীক্ষা করে দেখেন, সেটিতে  প্রায় ১,৮৫,০০০টি ব্যাকটেরিয়া রয়েছে। তাই মেন্যু দেখার পর ও খাবার খাওয়ার আগে অবশ্যই হাত পরিষ্কার করতে হবে।

পশুপাখি

অনেকেই রাস্তাঘাটি প্রাণী দেখলেই ধরে আদর করেন। শারীরিক ও স্বাস্থ্য বিশ্লেষক নেসোচি অকেকে-ইগবোকউই বলেছেন, কুকুর বিড়ালের মতো পশু অসংখ্য ব্যাকটেরিয়া-ভাইরাস বহন করে থাকে। এদিকে ঘরে পালিত পশুদের ঘরের সদস্য হিসেবেই দেখা হয়। তাই বেশিরভাগ সময় হাত ধোয়ার ব্যাপারটি এড়িয়ে যাওয়া হয় কিন্তু তা একেবারেই উচিৎ নয়।

বই-কলম

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561443114481.jpg

অন্যের কাছ থেকে বই, খাতা, কলম কিছু নিয়ে ব্যবহারের পর অবশ্যই সাথে সাথে হাত পরিষ্কার করে নিতে হবে। কারণ এতে থাকতে পারে হাজারো জীবাণু। ওয়াল স্ট্রীট জার্নালে প্রকাশিত গবেষণার তথ্য মতে, অফিসে ব্যবহৃত একটি কলমে ১০ গুন বেশি জীবাণু রয়েছে। এছাড়াও অনেকে কলম মুখে দিয়ে কামড়ায়, চাবায়- যা থেকেও ব্যবহৃত কলমে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত হয়। 

হাসপাতাল

হাসপাতাল বা ক্লিনিক চিকিৎসকের কাছ থেকে চিকিৎসা গ্রহণের পর যত দ্রুত সম্ভব হাত ও মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। প্রতিনিয়ত সেখানে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীরা আসে। এতে করে উক্ত স্থানটিসহ সেখানকার সবকিছুর সাথেই জীবাণু উপস্থিতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন: হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহারে যে বিষয়গুলো জানা জরুরি

আরও পড়ুন: বিত্তবান হতে গড়ে তুলতে হবে ‘তিন অভ্যাস’

আপনার মতামত লিখুন :

ভিন্নমাত্রায় কাসুন্দি ইলিশ

ভিন্নমাত্রায় কাসুন্দি ইলিশ
কাসুন্দি ইলিশ, ছবি: সংগৃহীত

মাছের বাজারে এখন ইলিশের দাপট।

এ সুযোগে ইলিশ মাছের পছন্দসই রেসিপি রাঁধার পাশাপাশি একটু ব্যতিক্রম রেসিপিও রেঁধে নিতে পারেন। আমাদের দেশে সর্ষে ইলিশ বা সরিষা ইলিশ অতি জনপ্রিয় ও প্রচলিত একটি ইলিশের রেসিপি। এবারে সেই সরিষা ইলিশের মতোই ঝাঁজ নিয়ে ভিন্ন ঘরানায় তৈরি করুন কাসুন্দি ইলিশ। কাসুন্দির ঝাঁজ ও হালকা টকভাব সহজেই ইলিশে যোগ করবে ভিন্নমাত্রা।

কাসুন্দি ইলিশ তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/23/1563883624853.JPG

১. মাথা ও লেজসহ ইলিশ মাছের ছয়টি বড় টুকরা।

২. চার টেবিল চামচ কাসুন্দি।

৩. ১০০ গ্রাম পরিমাণ টকদই।

৪. দুই টেবিল চামচ পেস্তা বাটা।

৫. ৫-৬টি কাঁচামরিচ ফালি।

৬. আধা চা চামচ রসুন বাটা।

৭. এক চা চামচ হলুদ গুঁড়া।

৮. চার টেবিল চামচ সরিষা তেল।

৯. স্বাদমতো লবণ।

কাসুন্দি ইলিশ যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/23/1563883641018.JPG

১. মাছের টুকরোগুলো ভালোভাবে কেটে ও ধুয়ে এতে লবণ ও হলুদ গুঁড়া মাখিয়ে মেরিনেট করে রেখে দিতে হবে।

২. মাছের অন্যান্য টুকরাগুলো ভাজার প্রয়োজন নেই। তবে মাথা ও লেজের অংশ কিছুটা ভেজে নিতে হবে।

৩. ভিন্ন একটি পাত্রে কাসুন্দি, পেস্তা বাটা, টকদই, লবণ ও হলুদ গুঁড়া একসাথে ভালোভাবে মেশাতে হবে।

৪. চুলাতে কড়াই বসিয়ে সরিষার তেল গরম করে এতে কাসুন্দির-দইয়ের মিশ্রণ ও রসুন বাটা দিয়ে নাড়তে হবে। কিছুক্ষণ নাড়ার পর এতে কাঁচামরিচ ফালি ও স্বাদমতো লবণ দিতে হবে।

৫. মিনিট পাঁচেক নাড়ার পর মাছের টুকরোগুলো দিয়ে অল্প আঁচে পনের মিনিটের জন্য কড়াইয়ের মুখ ঢেকে রাখতে হবে।

৬. পনের মিনিট পর কড়াইয়ের ঢাকনা খুলে মাছগুলো সাবধানের সাথে উল্টে দিয়ে আবারো পনের মিনিটের জন্য ঢেকে রাখতে হবে।

৭. এর মাঝে মাছ সিদ্ধ হয়ে আসবে এবং ঝোল টেনে আসবে। প্রয়োজনে আধা কাপ পানি দেওয়া যাবে।

মাছ মাখামাখা হয়ে আসলে নামিয়ে ভাতের সাথে পরিবেশন করতে হবে।

আরও পড়ুন: মাছের রেজালায় স্বাদের বদল

আরও পড়ুন: ভেটকি মাছের বেগম বাহার

পরিবারের বয়োবৃদ্ধ সদস্যের মানসিক সুস্থতায়

পরিবারের বয়োবৃদ্ধ সদস্যের মানসিক সুস্থতায়
বয়স্ক ব্যক্তিদের সাথে সময় কাটানো তাদের মানসিক সুস্থতায় ভূমিকা রাখে, ছবি: সংগৃহীত

পরিবারের একদম বয়স্ক মানুষটি হন সবচেয়ে আপন, সবচেয়ে কাছের ও ভালোবাসার।

তার কাছেই যেন শত গল্প ও মায়ার ঝুলি জমে থাকে। কিন্তু বয়সের ভারে ন্যুজ হয়ে পড়া মানুষটিও একটা সময় পরে কেমন যেন দূরের হয়ে যান। হয়ে যান বিচ্ছিন্ন ও দুর্বোধ্য।

বয়স বৃদ্ধির সাথে অবধারিতভাবে দেখা দিতে শুরু করে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা। ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হাড়ের ক্ষয়, কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি, দৃষ্টিশক্তিজনিত সমস্যাসহ সাধারণ সমস্যাগুলোর সাথে যুক্ত হয় চেনা অথবা অচেনা ছোট-বড় আরও কয়েক ধরনের শারীরিক অসুস্থতা।

তবে বয়োবৃদ্ধদের শারীরিক সমস্যার সাথে দেখা দিতে শুরু করে মানসিক সমস্যাও। সেটা কেমন? খেয়াল করে দেখবেন, তারা সহজে কোন কিছু মনে রাখতে পারেন না। দুপুরে যদি জানতে চাওয়া হয়- সকালে কী খেয়েছেন, তবে সঠিকভাবে উত্তর দিতে পারবেন না। একইসাথে মানুষের নাম, চেহারা ভুলে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দেয়।

এছাড়া দেখা দেয় অকারণে ও আকস্মিক মেজাজের পরিবর্তন। পুরনো কোন কথা মনে করে অঝোরে কান্নাকাটি করা, সামান্য কোন সমস্যায় অতিরিক্ত রেগে যাওয়া, খুঁতখুঁত করা, একই কথা বারবার বলার মতো লক্ষণগুলো বয়স বৃদ্ধির সাথে সম্পর্কিত।

এ কারণে একজন বয়োবৃদ্ধ মানুষের শারীরিক সুস্থতায় যত্ন নেওয়ার সঙ্গে মানসিক সুস্থতার জন্যেও যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে ভারতের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বোপানা শ্রীধর জানাচ্ছেন কোন তিনটি বিষয়ের প্রতি বাড়তি নজর দেওয়া প্রয়োজন।

খাদ্যাভ্যাস

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/23/1563877234210.jpg

নিত্যদিনের খাদ্যাভ্যাস ও খাবারের পুষ্টির উপরে মানসিক সুস্থতা অনেকখানি নির্ভর করে। শ্রীধর পরামর্শ দেন, বয়স্কদের প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে কাজুবাদাম রাখার জন্য, যা মস্তিষ্কের সুস্থতায় অনেকখানি অবদান রাখে। এতে থাকা ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬ অ্যাসিড সরাসরি মস্তিষ্কের সুস্থতা নিশ্চিতে কাজ করে। এছাড়া লো ফ্যাট খাদ্য উপাদান ও যথাসম্ভব প্রাকৃতিক উপাদান বেশি রাখার উপরেও জোর দেন তিনি।

শরীরচর্চা

বয়স্কদের জন্য শরীরচর্চার বিষয়টি কঠিন মনে হলেও, একদম হালকা ঘরানার ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজও তাদের জন্য অনেক বড় উপকারিতা বহন করবে। এতে করে ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকা, ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকা, হাড়ের উপকারিতার মতো সুবিধার পাশপাশি মন প্রফুল্ল ও প্রশান্ত থাকবে। স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি মনোযোগেও লক্ষণীয় পরিবর্তন আসবে।

যোগাযোগ

পাশ্চাত্যে একটি বিষয়ের প্রচলন রয়েছে। সমবয়সী অনেকে একসাথে দেখা করা, গল্প করা, সময় কাটানো, একেঅপরের সাথে যোগাযোগ করা। সামাজিকতার এই আয়োজনে অংশগ্রহণে বৃদ্ধদের আগ্রহী করা হয়। এতে করে তাদের মনঃ ভালো থাকে ও মস্তিষ্কে ইতিবাচক প্রভাব পরে। সেদিক থেকে দেখতে গেলে আমাদের দেশে বয়োবৃদ্ধরা বেশ একাকী সময় কাটান ও একা হয়ে পরেন। এতে করে তারা খুব অল্পতে বিষণ্ণ হয়ে পরেন এবং বৃদ্ধ বয়সের বিষণ্ণতা থেকেই দেখা যায় মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যাগুলো। সেক্ষেত্রে পরিবারের সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে বয়োবৃদ্ধদের সাথে সময় কাটানো এবং তাদের একাকীত্ব দূর করার প্রতি।

আরও পড়ুন: আয়ুর্বেদে বাড়বে স্মৃতিশক্তি

আরও পড়ুন: পুষ্টির অভাবে বিষণ্ণতা দেখা দেয় কি?

 

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র