Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ঐতিহাসিক অধ্যাপক মুশিরুল হাসান স্মরণে

ঐতিহাসিক অধ্যাপক মুশিরুল হাসান স্মরণে
অধ্যাপক মুশিরুল হাসান
হাসিবুর রহমান
অতিথি লেখক


  • Font increase
  • Font Decrease

অধ্যাপক মুশিরুল হাসানকে সেই প্রথম দেখা। তখন এম এ ক্লাসের ছাত্র। শীতকালের বেশ ঠাণ্ডা পড়ছে। তারই মধ্যে  ১৯৯৯ সালের শেষে কলকাতায় 'ভারতীয় ইতিহাস কংগ্রেসে'র অধিবেশন।

মহাসাড়ম্বরে এই ইতিহাস কংগ্রেস ছিল আমাদের ছাত্র কালের শ্রেষ্ঠ পাওনা।

মনে পড়ে , অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনের কথা।

আলিপুর ক্যাম্পাসের চতুর্থ কিংবা পঞ্চম তলে ফার্স্ট সেশনের লেকচার চলছে। অল্প বয়সী এক ঐতিহাসিক বিলেতি উচ্চারণে পেপার প্রেজেন্ট করে চলেছেন ঝড়ের গতিতে। চেয়ার করছিলেন  ঐতিহাসিক সুমিত সরকার। তখনও তাঁকে চেনার কোন উপায় ছিল না। দেখলাম লেকচার শেষে তিনি  সুমিত সরকারের সঙ্গে  সটান প্রফেসর চৌধুরীর চেম্বারে ঢুকলেন (ঐতিহাসিক সুশীল চৌধুরী )।

সুশীলবাবুর ঘরেই বেশ জমিয়ে আড্ডা চলছে। সুমিত সরকার দেশের নাম করা ঐতিহাসিক। দিল্লীতে পড়ান। ইনি ঐতিহাসিক সুশোভন সরকারের সুযোগ্য পুত্র।  সপ্রতিভ, শান্ত স্বভাবের বিনয়ী মানুষ।

আমাদের কৌতুহল দেখে সুশীল বাবুও আমাদের ঘরে আসতে বললেন।  পরিচয় করিয়ে দিয়ে  বললেন, ইনি প্রফেসর মুশিরুল হাসান, জামিয়াতে পড়ান। এই সময়ের খুব ব্রিলিয়ান্ট স্কলার,  তাঁর অন্য আরও একটা  পরিচয় আছে। উনি ঐতিহাসিক মহিবুল হাসানের পুত্র।

অধ্যাপক মুশিরুলের নাম তখনও না শুনলেও মহিবুল হাসানকে আমরা বিলক্ষণ জানতাম। কারণ তিনি টিপু সুলতানের ইতিহাস লিখে সুনাম ছড়িয়েছেন। তাঁর গবেষণা বাদ দিয়ে  টিপুর ইতিহাস আজও অসম্পূর্ণ। যা হোক, তাঁর পুত্র মুশিরুল যে একসময় বিখ্যাত হতে পারেন তা খুব স্বাভাবিক।

সোমবার (১০ ডিসেম্বর) তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে ঐতিহাসিক মহলে একটা  শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। বলা যায় ভারতীয় ইতিহাস দুনিয়ায় আরও এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের ইন্দ্রপতন হলো।

খ্যতনামা ঐতিহাসিক মুশিরুল হাসান মাত্র ৭১ বছর বয়সে  চলে গেলেন। মেওয়াট থেকে দিল্লীগামী পথে গত চারবছর আগে এক ভয়ানক গাড়ি  দূর্ঘটনার কবলে পড়ে এ যাবৎ তিনি বিছানাগত ছিলেন। ঐতিহাসিক  মুশিরুল হাসান পিতারই  উত্তরসূরী ছিলেন। ১৯৪৯ সালে ১৫ আগস্ট বিলাসপুরে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বর্ণময় জীবনের একাধারে মুশিরুল হাসানের কেবল ঐতিহাসিক হিসেবেই খ্যাতি অর্জন করেননি, ঐতিহাসিক ঘরানার বাইরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, জাতীয় মহাফেজখানার ডাইরেক্টরের দ্বায়িত্ব পালন করেন।

তাঁর জীবনের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ দিক ফুটে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখ্য প্রশাসক হয়ে কর্মভার গ্রহণ করা। প্রায় তিন বছর যাবৎ জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য এবং পাঁচ বছর উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে দক্ষতার সঙ্গে  উপাচার্যের দ্বায়িত্ব পালন করেন তিনি। মুশিরুল হাসানকে আধুনিক জামিয়া মিলিয়ার রূপকার হিসেবে বর্ণনা করা হয়।

মুশিরুলের লেখাপড়ার সূত্রপাত আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে, পরে কেমব্রিজে গবেষণা এবং দেশে ফিরে ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে আধুনিক ইতিহাসের অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। তাঁর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের একটা পর্বে, ২০১০ সালে ভারতীয় ইতিহাস কংগ্রেসের সভাপতি মনোনীত হন তিনি।

"ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড স্টাডি", "দ্য সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন ইন্ডিয়ান সাউথ এশিয়া", "প্যারিস সেন্টার অব সাউথ এশিয়ান স্টাডিজ", ইউনিভার্সিটি অব কেমব্রিজ, অক্সফোর্ডের  সেন্ট অ্যান্টনি কলেজ সহ বহু গবেষণামূলক ইনস্টিটিউটে জড়িয়ে ছিলেন। গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে  ছিলেন তিনি। তাঁর প্রশংসনীয় কাজের মধ্যে "পার্টিশন অব ইন্ডিয়া" এবং "কমিউনালিজম" অন্যতম। পার্টিশন নিয়ে তাঁর চুলচেরা বিশ্লেষণ বিজ্ঞজনেদের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষন করেছে। তাছাড়া দক্ষিণ এশিয়ায় ইসলাম প্রসারের ইতিহাস বিশেষজ্ঞ হিসেবে লব্ধঐতিহাসিক তিনি। তাঁর কর্মময় জীবনে অসংখ্য মৌলিক গবেষণামূলক গ্রন্থ, গ্রন্থ সম্পদনা, প্রবন্ধ লিখেছেন।

এমন বিদগ্ধ ঐতিহাসিককে অকালে হারিয়ে গভীর মর্মবেদনা অনুভব করছি। তাঁর বিদেহী আত্মার চির শান্তি ও কল্যাণ কামনা করি।

লেখক পশ্চিম বঙ্গের ইতিহাস গবেষক।

আপনার মতামত লিখুন :

হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকবেন লক্ষ পাঠকের হৃদয়ে

হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকবেন লক্ষ পাঠকের হৃদয়ে
হুমায়ূন আহমেদ

 

তিনি বলেছিলেন, তার মৃত্যুতে কেউ যেন না কাঁদে। বিষাদ কণ্ঠে গেয়েছিলেন গান, ‘মরিলে কান্দিস না আমার দায় রে জাদু ধন। মরিলে কান্দিস না আমার দায়।’

কিন্তু সাত বছর আগে সুদূর আমেরিকায় তিনি যখন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন, তখন পুরো বাংলাদেশ কেঁদেছিল তার জন্য। শুধু সেদিনই নয়, বাংলা সাহিত্যের ভক্ত-অনুরাগীরা প্রতিটি দিনই তাকে স্মরণ করেন। তার কথা ভাবেন। হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকবেন লক্ষ পাঠকের হৃদয়ে।

১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর জন্ম নিয়ে হুমায়ূন আহমেদ মৃত্যুবরণ করেন ২০১২ সালের ১৯ জুলাই। জীবনের প্রতিটি দিন তিনি ছিলেন সৃষ্টিশীল ও কর্মমুখর। জীবনকে উপভোগ করেছেন তিনি সৃজনের বিবিধ উপাচারে।

হাওর-বাওর-গানের দেশ বৃহত্তর ময়মনসিংহের নেত্রকোণার মোহনগঞ্জের নানাবাড়িতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। একই জেলার কেন্দুয়ার কুতুবপুর তার পিতৃভূমি।

পিতার চাকরির সুবাদে হুমায়ূনের শৈশব-কৈশোর কেটেছে বাংলাদেশের বহু স্থানে। সিলেটের মীরাবাজার, চট্টগ্রাম শহর, পিরোজপুরের মনকাড়া প্রকৃতিতে। যেসব কথা তার লেখায় বারবার ফিরে এসেছে।

স্বাধীনতার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নের স্নাতকোত্তর পাশ করেন তিনি। পিএইচডি ডিগ্রি নেন আমেরিকার থেকে। শুরু করেন অধ্যাপনা।

কিন্তু তার ভাগ্য মিশে ছিল সাহিত্যে। সার্বক্ষণিক লেখালেখি, নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাণকে তিনি বেছে নেন। ‘শঙ্খনীল কারাগার’ ও ‘নন্দিত নরকে’ উপন্যাসের মাধ্যমে যে লেখক জীবনের সূচনা ঘটে, তা পরিণত হয় বাংলা সাহিত্যের অবিস্মরণীয়-জনপ্রিয় লেখক সত্তায়।

গল্প-উপন্যাসের জাদুকরী ক্ষমতায় অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল পাঠকগোষ্ঠী তৈরি করেন তিনি। মানুষ লাইন ধরে কেনে তার বই। প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি হয় হাজার হাজার কপি। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এমন ঘটনা ছিল অভূতপূর্ব।

আর তিনি ছিলেন মেধা, প্রতিভা ও জনপ্রিয়তার এক বিরল ব্যক্তিত্ব। সমকাল তো বটেই বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি গড়েছিলেন পাঠকপ্রিয়তার তুঙ্গস্পর্শী রেকর্ড। যে রেকর্ড কারো পক্ষে ভাঙা আদৌ সম্ভব হবে না।

‘অচিনপুর’, ‘মেঘ বলেছে যাব যাব’, ‘আজ জোছনা রাতে সবাই গেছে বনে’, ‘লীলাবতী’, ‘মধ্যাহ্ন’, ‘অচিনপুর’, ‘বাদশাহ নামদার’, ‘দেয়াল’, এমন তিন শতাধিক পাঠকনন্দিত উপন্যাসের রচয়িতা হুমায়ূন আহমেদ বাংলা কথাসাহিত্যে অর্জন করেন নিজস্ব পরিচিতি ও ভূগোল। একা লড়াই করে সাহিত্যের পাঠক সৃষ্টির পাশাপাশি মৃতপ্রায় প্রকাশনাকে বাঁচিয়ে দেন তিনি।

টিভি নাটকেও জনপ্রিয়তার ইতিহাস গড়েন তিনি। ‘এইসব দিনরাত্রি’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘অয়োময়’, ‘দূরে কোথাও’, এমন হৃদয়ছোঁয়া নাটকের মাধ্যমে ছোটপর্দায় টেনে আনেন হাজার হাজার দর্শক।

চলচ্চিত্র নির্মাণ করেও সোনা ফলিয়েছেন হুমায়ূন। সিনেমাহলমুখী করেছেন মানুষকে। তার নির্মিত ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘দুই দুয়ারী’, ‘ঘেটু পুত্র কমলা’র মতো ছবি বাণিজ্য সফল ও পুরস্কৃত হয়েছে।

নাটক ও চলচ্চিত্রে তিনি লোকবাংলার বহু গান চমৎকারভাবে ব্যবহার করেছেন। সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নার কথা বলেছেন। মানব-মানবীর অন্তর্গত হৃদয়ের দাহ ও বিষাদকে তুলে ধরেছেন অনন্য সুষমায়। তাকে ঘিরে শিল্প, সাহিত্য, নাটক, চলচ্চিত্রের এক নান্দনিক জগত উন্মোচিত হয়েছিল।

প্রেম ও রহস্যময় বেদনার প্রতীক নগ্নপদে হলুদপাঞ্জাবির ‘হিমু’ তার অনবদ্য সৃষ্টি। যুক্তিবাদী বিশ্লেষক মিসির আলীর মতো চরিত্রও তিনি সৃষ্টি করেছেন। হুমায়ূনের এই দুই চরিত্রের কথা বাংলা সাহিত্যের পাঠক সহজে ভুলবে না। ভুলবে না এমন আরো অনেক মানবিক চরিত্র ও কাহিনীর নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদকেও।

মুক্তিযুদ্ধের মহান শহীদ, পুলিশ অফিসার বাবার জেষ্ঠ্য সন্তান হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্টির পুরোটা জুড়েই আছে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ। হুমায়ূনের উপন্যাস ‘১৯৭১’, ‘জোছনা ও জননীর গল্প’, ‘উতল হাওয়া’ এবং চলচ্চিত্র ‘আগুনের পরশমণি’ বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের হৃদয়স্পর্শী কাহিনীচিত্র। যুদ্ধাপরাধ, মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লেখার পাশাপাশি আন্দোলনও করেছেন তিনি।

প্রেম ও বিরহ হুমায়ূনের লেখার মূল উপজীব্য হলেও তিনি তার লেখায় অপরূপ দক্ষতায় স্পর্শ করেছেন রাজনৈতিক, ঐতিহাসিক, সামাজিক ঘটনাবলি। লেখার মায়াবী টানে তিনি পৌঁছে গেছেন মানুষের নিবিড় সান্নিধ্যে। নীল জোছনায় বেদনাহত একটি তরুণ কিংবা নীলপদ্ম হাতে একটি তরুণীর স্মৃতি-সত্তা পেরিয়ে হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকবেন মানুষের চেতনার গহীন প্রদেশে। হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকবেন লক্ষ পাঠকের হৃদয়ে।

কাঙ্গাল হরিনাথের ১৮৬তম জন্মবার্ষিকী

কাঙ্গাল হরিনাথের ১৮৬তম জন্মবার্ষিকী
ছবি: সংগৃহীত

সাংবাদিকতার পথিকৃৎ, সাহিত্যিক, সমাজসেবক ও নারী জাগরণের অন্যতম দিকপাল কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদারের ১৮৬তম জন্মদিন আজ শনিবার (২০ জুলাই)। 

কালজয়ী এই সাংবাদিক ১২৪০ সালের ৫ই শ্রাবণ (ইংরেজি ১৮৩৩) কুষ্টিয়া জেলার (তদানীন্তন নদীয়া) কুমারখালী শহরের কুন্ডুপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম হলধর মজুমদার ও মায়ের নাম  কমলিনী দেবী।

হরিনাথ মজুমদার ছিলেন বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। শৈশবেই মাতৃ ও পিতৃহারা হয়ে চরম দারিদ্র্যতার মধ্যদিয়ে বেড়ে উঠেন তিনি। তিনি অত্যাচার ও জুলুমের বিরুদ্ধে ছিলেন আপসহীন।

তৎকালীন সময়ে তিনি (১৮৫৭ সাল) প্রাচীন জনপদ কুমারখালীর নিভৃত গ্রাম থেকে হাতে লেখা পত্রিকা 'মাসিক গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা' প্রকাশ করেন। গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকায় তিনি ইংরেজ নীলকর, জমিদার ও শোষক শ্রেণির অত্যাচার, জুলুম, ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার ও সামাজিক কু-প্রথার বিরুদ্ধে খবর প্রকাশ করেন। হাজারো বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে তিনি পত্রিকাটি প্রায় একযুগ প্রকাশ করেছিলেন।পরবর্তীতে মাসিক থেকে পাক্ষিক এবং ১৮৬৩ সালে সাপ্তাহিক আকারে কলকাতার গিরিশচন্দ্র বিদ্যারত্ন প্রেস থেকে নিয়মিত প্রকাশ করেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563602039922.jpg
কাঙ্গাল হরিনাথের লেখা পত্রিকা 'মাসিক গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা' 

 

১৮৭৩ সালে কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার তঁর সুহৃদ অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়’র বাবা মথুরনাথ মৈত্রয়’র আর্থিক সহায়তায় কুমারখালীতে এম, এন প্রেস স্থাপন করে, গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা’র প্রকাশনা অব্যাহত রাখেন।

কুষ্টিয়ার প্রবীণ সাংবাদিক আবদুর রশীদ চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার ৬৩ বছরে জীবনকালে তিনি সাংবাদিকতা, আধ্যাত্ম সাধন, সাহিত্যচর্চা সহ নানাধরণের সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। মূলত তিনি ছিলেন সাংবাদিকতা পেশার একজন সংগ্রামী মানুষ।

কালজয়ী এই সাংবাদিক জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ শনিবার (২০ জুলাই) কাঙ্গাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘর মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563602126966.jpg
কাঙ্গাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘর মিলনায়তন

 

কাঙ্গাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘর য়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ।

বিশেষ অতিথি থাকবেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সচিব (যুগ্ম সচিব) মোঃ আবদুল মজিদ, কুমারখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল মান্নান খান, পৌর সভার মেয়র মোঃ সামছুজ্জামান অরুণ। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসাবে থাকবেন, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক ড.আবুল আহসান চৌধুরী।

সাংবাদিক কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার প্রায় ৪০টি গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁর কয়েকটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। তবে বেশিরভাগ অপ্রকাশিত রয়ে গেছে। তাঁর গ্রন্থগুলোর মধ্যে বিজয় বসন্ত একটি সফল উপন্যাস। গবেষকদের মতে, কাঙ্গাল হরিনাথ রচিত বিজয় বসন্ত উপন্যাসটিই বাংলা ভাষায় লেখা প্রথম উপন্যাস। 

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563602157692.jpg
কাঙ্গাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘর মিলনায়তনের সামনের চিত্র 

 

গ্রামীণ সাংবাদিকতার এবং দরিদ্র কৃষক ও অসহায় সাধারণ মানুষের সুখ-দু:খের একমাত্র অবলম্বন কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদারের স্মৃতি রক্ষার্থে সরকারি উদ্যোগে কুমারখালীতে সাংবাদিক কাঙ্গাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ করা হলেও এখনো অবহেলিত রয়েছে এই কালজয়ী সাংবাদিকের জন্মভিটা (বাস্তুভিটা)।

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীসহ কবি-সাহিত্যিকদের ভাষ্যমতে, কাঙ্গাল হরিনাথ ব্যবহৃত ও গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা’র সেই মুদ্রণ যন্ত্রটি এখনো অযত্ন অবহেলায় অন্ধকার একটি ভাঙা ঘরে পড়ে রয়েছে। তাই অনতিবিলম্বে ঐতিহ্যবাহী এই মুদ্রণ যন্ত্রটি কাঙ্গাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘরে স্থানান্তর এবং কাঙ্গালের সমাধিসহ জন্মভিটা (বাস্তুভিটা) সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।  

কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার বাংলা ১৩০৩ সালের ৫ বৈশাখ (ইংরেজি ১৮৯৬ সাল, ১৬ এপ্রিল) নিজ বাড়িতে দেহত্যাগ করেন। 

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র