হাসান রোবায়েতের একগুচ্ছ কবিতা

হাসান রোবায়েত
অলঙ্করণ শতাব্দী জাহিদ

অলঙ্করণ শতাব্দী জাহিদ

  • Font increase
  • Font Decrease

বসন্তের বাইরে

সমস্ত পাহাড় ব্যেপে বৃষ্টি আসছে
আর তুমি হাসির মাতম থেকে কুড়িয়ে যাচ্ছো নদীতীর
তারাদের অন্ত্রনালী
কিভাবে প্রাচীন রোদের থেকে গাঢ় করে হেম!
অশোকের নিঃশব্দ পাতায়
ওই সম্মুখে
মরণের রুধির কাজল
গাভীদের চোখ বেয়ে নেমে যায় অভিপ্রায়ের দিকে—

মায়ের সাথে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়ে

মায়ের সাথে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়ে
তোমাকে রাস্তা পেরোচ্ছে ভেবে
এই বিদেশি প্রভাত
বসে থাকে ঝিম ধরে
অনিশ্চিত কমলার পাশে—
তুমি কি দলিল লেখকের স্মৃতি!
অযথা বাসের থেকে
পুরনো মবিল ঝরে যায়
তোমার আম্মার সাথে আরো আরো মা
হাতের আঙুলে খেলা করে—

পুতুলের কাপড় পাল্টাতেও যে সেলসম্যান
শরমে মরণ ডাকে খুব
নির্বিঘ্নে সেও
ঢুকে পড়ে রেটিনায়—

মায়ের সাথে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়ে
তুমি কি জনশ্রুতি
বিমিশ্র সংবিধানের!

এন্টিকৃষির দিকে

আমার ক্ষমা কি সমস্ত গ্রন্থির থেকে ভারী হয়ে
নিরুত্তর পুরুষের দিকে
ফেলে আসে জটিলতা!
সামান্য ঘূর্ণির কাছে এই এক অবশিষ্ট উড্ডীন, নেমে যাও স্বতন্ত্র হিংসায়—
পরশ্রী-ভর্তি যত দুপুরের ফেনা
রেখে আসে লোকাচার, টাকা পাঠানোর শিষ্টতা!

কাঠ কি অনুধাবনের চেয়েও সরল—!
এমন বিমাতার কাছে আমার পৌরুষলীন ত্বক
ফালতু শ্রদ্ধাবোধে নুয়ে যায়—
যেন গত শীতে আমিও টিকিট কাটিনি বাসের!
রাস্তায়, অজস্র ইগোর পাশে একটি মাজার
শুয়ে থাকে আব্রুহীন, সাবঅল্টার্ন দূরে—

শোনো বীজ, প্রাণপণ আরবান
রবারের বিশুদ্ধতা নিয়ে উড়ে যাও পথে পথে এন্টিকৃষির দিকে—

সাবকনসাস

ঝরা ভাব নিয়ে একটি সামান্য পাতা
নুয়ে আছে হিংসার ওপর
কানা বিড়াল তার চিৎকার শুনবে বলে
ঝিম ধরে বসে আছে লোমে

মাবুদ, ভাষা দাও তাকে—
ম্যাজিক রিয়ালিজম আর কত দিন
সইবে প্রভূত ভর এই বাস্তবতার কালে!
আমাদের সমস্ত পয়সাই তো হাওয়া হয়ে গেল
ব্রোমাজিপাম কিনে—

পাতাটি পড়লে অন্তত খস খস শব্দ হতো জুতায়

আজিমপুর

খুব মনে হয়—একদিন আজিমপুর ঘুরে যাওয়া যেত। ফাঁকা অথচ শ্যামলা সেই অনাত্মীয়ের মুখ ভেবে ওড়া হতো সিসায়, অনিশ্চিত মনোকার্বনে—বিস্ত্রস্ত কড়য়ের নিচে যদি কেউ ছুড়ে দেয় হিম—অধুনা পাথর, তবে কি সারফেস থেকে স্নায়ুর ভেতর অভ্রমান হবে ছাঁচ! আজিমপুর কি একটি সুরের মথ মহা-সাঁতারের নিচে!

কিছু কিছু ফুল ঝরার পরেই ভালো লাগে

রুজা

এমন প্রেমে তো পড়লে না!
যেন দীর্ঘ রোদে
ধীরে ধীরে
ছড়িয়ে পড়ছে ব্যালেরিনা

বিশ্ব রোডের এই সন্ধ্যায় বিপন্ন কাঁপছে ভালগার
যে কালাম
সমস্ত বাগবিধি ফেলে খুব বন্যা আনে ত্বকে—

কাঠের চৈত্র এসে কত গান শিরীষ করছে হাওয়ায়

এমন প্রেমে তো পড়লে না!
ঘুঙুর ছড়িয়ে তুলা উড়ে যায় চারদিক—

ইউটোপিয়া

তোমার ভেতর তাপবিকিরণ
বাউলপথের দেশ
পারের ছলে ডুবল সাঁকো
অনর্থ নির্দেশ—

ভাবি, এমন হবার ছিল কী—!
আয়না ভেঙে ছড়িয়ে পড়ে নিজের মুখশ্রী!

বললে হয়তো ফুরিয়ে যাবে কথা
রাস্তাখাদের ছিন্ন ধুলায়
ডাকছে ময়ূরতা—

মিডলক্লাসের কন্যা তুমি
কেমন তোমার হিয়া!
শালের ছায়ায় সূর্য ডোবে
গভীর ইউটোপিয়া—!

তোমার চুরির গোল ধারণাই শুধু
সারা জীবন থাকল অন্যতর
ব্যক্তিগত ওড়না শুকাও আজও
চিরকালের ঝাপসা ছাদের ’পর

ভাবি, এমন হবার ছিল কী—!
আয়না ভেঙে ছড়িয়ে পড়ে নিজের মুখশ্রী!

আপনার মতামত লিখুন :