আন্নির কয়েকটি কবিতা

আন্নি
অলঙ্করণ শতাব্দী জাহিদ

অলঙ্করণ শতাব্দী জাহিদ

  • Font increase
  • Font Decrease

অঙ্গদের থিয়েটারে

চলার পথে আমাদের হাতেরা একে অন্যকে
স্পর্শ করবে কি না এমন
সিদ্ধান্ত যখন আমরা নিতে থাকি
তখন হাতেরা বড়ই বিভ্রান্তিতে থাকে
ফলে কখনো হালকা ছুঁয়ে আবার
কখনো প্রায় না ছুঁয়ে একটু কেঁপে ওঠে।
আর অন্য অঙ্গেরা যেন বান্ধবীর
এই বিভ্রান্তে মুখ টিপে
একে অপরকে একটু গুঁতা মেরে
বাঁকা হাসি হাসতে থাকে।
আমাদের আশেপাশের অন্য শরীরের অঙ্গরাও
তাদের স্বঅনুভূতি প্রকাশ করে
কেউ একটু ছি ছি করে
কিছু চোখ বড় হয়, কতক চোখের রাগ
হাতগুলো ব্যকুল হয়, সংকোচনও দেখা যায়।
আর অঙ্গদের এই কার্যকলাপে
পা বেচারার একটু ঝামেলা হয়
বাস্তববাদী পায়েদেরকে সরকার মস্তিষ্ক
একটু ধীর করে দেয়
যেন এই নাটকের সেও চরিত্র।
ফলে বিভিন্ন শরীরের পায়েরা
একত্রিত হয়ে পড়ে
বিদ্রোহ নিয়ে তাদের কথাবার্তা চলে
তারা উত্তরণের পথ খোঁজে
অনেক পায়ের আন্দোলনে
মস্তিষ্ক সরকারেরা রাজনীতি রক্ষায়
শারীরিক স্থিরতা আনার চেষ্টায়
এ নাটকের সমাপ্তি ঘটায়।

কাদার শহরে

যত ভাবি কাদা থেকে সরে যাব
ততবার কাদাগুলো জিন্স বেয়ে
আমার নাভি দিয়ে ঢুকে বুকে গিয়ে লাগে
কাদার ব্যাকটেরিয়া পচায় আমার মন।

বর্ষাকালে  গ্রামে যাই না আর
চারকোণা ফাঁক দিয়ে দেখি কদাকার বৃষ্টি
পিচে জমে নোংরা পানি আর কাদা
কাদার কলঙ্ক ঘুচবে না এই বর্ষায়।

তবু সকাল সন্ধ্যা আমি পচা কাদায় আটকে রই
কাদার ফুল বানিয়ে কড়া রোদে শুকাই
শহরের রোদে ব্যাকটেরিয়া মরে না
কাদার শহরে স্বপ্ন দেখি বিস্তর মরুভূমি।

ভিজ্যুয়াল

অপেক্ষার কিছু কিছু স্টপেজে দাঁড়িয়ে
কল্পনারা রুট বদলের ভঙ্গিতে
ভদ্র সমাপ্তি এবং ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি ছাড়াই
কখনো স্নিগ্ধ বেগুনি রঙের ঘাসফুল
আবার কিছু সময় মাতাল ড্রাইভার।

চলন্ত স্টিমারের আওয়াজের সাথে সাথে
কাশফুলেদের ধীর নৃত্য, যেন
অলৌকিক আমার এ অবস্থান
কড়া রোদের ভ্রমও হতে পারে
কাশফুলেদের মাঝে একলা তুমি দাঁড়িয়ে।

ভিড়ের শহরে একটু জমাট-বাঁধা পানি
আমি ডুবে যাই পিচের গভীরে
লাভা ছাড়িয়ে নামতে নামতে দেখি
তোমার বুকে মাথা রেখেছি
লাভার তাপে শরীরে অদ্ভুত আরাম অনুভূত হয়।

বিষাদের রূপ

বিষাদগুলো চারা গাছের মতন
অল্প অল্প দুলে স্পর্শের আকুতি জানায়
বহু দূরে চলে গেছি ভেবেও বারবার
ফিরে তাকাই, কচি বিষাদের চারা সন্তানরূপ
মাতৃত্ব বহন করার শক্তি আমার নেই, ইচ্ছা আছে।

চারিদিকের আনন্দেরা এই অল্প শীতেই
জমে স্থির হয়ে যাচ্ছে, বিষাদের তাপমাত্রা হাই।
ছোট রাস্তায় নানা আকারের জীব ও জড়
তার মাঝে ডুবে গিয়ে দেখি বিষাদের চারাগাছ
দুলছে, খেলছে আর আমাকে হারাচ্ছে।

দেয়াল দেখছিলাম

অতিথি পাখির মতো বিষাদেরা বহুদূর থেকে
যেন কেবল আশ্রয়ের খোঁজেই
আমার কাছে আসছে, আসতেই থাকছে
অহেতুক কিছু মায়া নিয়ে আমি বুকে পুরে নিচ্ছি
সাদা সাদা বিষাদ পাখি, দমটা বুঝি নিয়েই যাবে।
দেয়ালের ছোপ ছোপ রক্তগুলো
নেগেটিভ না পজেটিভ?
না জমে গেলে কত লিটার হতে পারত
এগুলোর সাথে কি মশার রক্ত মিশে আছে
রক্তের কথা ভাবতে গিয়ে রক্ত বহনকারীর কথা ভুলে যাই।
মনে দেয়াল তুলে দিয়ে সারা দেয়ালে দেখি
মাকড়সার কয়েক স্তরে স্তরে জাল
প্রতি জালে কিছু ডিম
যেন স্তরে স্তরে সাজানো পরিবার
যেন ঝুলে চেয়ে আছে আমার দিকে।
আমি এক অতিকায় জীব, যার তুলে দেয়া দেয়ালে
আশ্রিত, ভীত হাজারও মাকড়সা পরিবার
কিছু খসে যাওয়া পলেস্তারা
ক্ষতের মতো জঘন্য দেখতে
ভালো দেয়ালে সম্ভ্রান্ত মাকড়সারা থাকে বা অতীব বুদ্ধিমানেরা
ভালো দেয়ালে আদৌ কি মাকড়সা থাকে।
অথর্ব আটটা পা নিয়ে কি অথর্ব জীবন
আমার ছিমছাম শরীর, দুইটা পেশীবহুল পা
সর্বোচ্চ ওজনের পুষ্ট ব্রেইন
চোখে পানিও আসে, দুঃখ ধুয়ে যায়
তবুও মাকড়সায় আমার হিংসা হয়।
জালের স্বপ্ন দেখি আর তাতে পরিবার
স্বল্প মাকড়সা প্রাণ, সুন্দর স্বল্প জীবন
আমার খালি হিংসা হয়।

আপনার মতামত লিখুন :