Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বইমেলায় শান্তনু চৌধুরীর তিন বই

বইমেলায় শান্তনু চৌধুরীর তিন বই
লেখক শান্তনু চৌধুরীর তিন বইয়ের মোড়ক
নিউজ ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয়েছে লেখক ও সাংবাদিক শান্তনু চৌধুরীর তিনটি বই। এর মধ্যে ১৯ নম্বর স্টলের ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশনী থেকে ‘টেলিভিশন সংবাদ উপস্থাপনা ও কৌশল’, ১২৩-১২৪ নম্বর স্টলের বেহুলা বাংলা প্রকাশনী থেকে প্রেম ও দেশাত্মবোধকের উপন্যাস ‘অর্ধেক প্রেমিকা’, ৩৩৬ নম্বরের কালো প্রকাশনী থেকে সরস রচনা ‘যৌথ জীবনের বিদ্যা’। সবগুলো প্রকাশনীর স্টল বাংলা একাডেমির পাশে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে।

টেলিভিশন সংবাদ উপস্থাপনা ও কৌশল

সময় এখন টেলিভিশন সাংবাদিকতার। সাহসী ও আলোচিত পেশা বলা যায় এটিকে। তরুণ-তরুণীরা নিজেকে মেলে ধরার জন্য ঝুঁকছেন এই পেশায়। তুলে আনছেন তৃণমূল থেকে আলোচিত নানা প্রতিবেদন। বলা যেতে পারে পেশা হিসেবে টেলিভিশন সাংবাদিকতা এখন বেশ আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের কাছে। এর মধ্যে সবারই স্বপ্ন থাকে সংবাদ উপস্থাপক হওয়ার। তাই এ নিয়ে প্রয়োজন আলাদা করে প্রস্তুতির। কারণ এখন আর স্ক্রিপ্ট দেখে খবর পড়ার যুগ নেই। এখন একজন সংবাদ উপস্থাপক মানে প্রথমেই তিনি একজন সংবাদকর্মী। তাকে ধারণা থাকতে হবে সংবাদ নিয়েও। হয়তো আপনার মধ্যে প্রতিভা রয়েছে। কিন্তু সঠিক গাইডনেসের অভাবে সেদিকে বেশ অগ্রসর হতে পারছেন না। যারা শুরুতে টিভি সাংবাদিকতায় আসতে চান তাদের সহযোগিতার জন্য লেখা হয়েছে বইটি। কারণ তাত্ত্বিক আর প্রায়োগিক জ্ঞানই পারে একজন সফল উপস্থাপক সৃষ্টি করতে। বাকিটা চেষ্টা, ধৈর্য আর সংকল্প। বইটির প্রচ্ছদ করেছেন ধ্রুব এষ।

প্রেম ও দেশাত্ববোধের উপন্যাস ‘অর্ধেক প্রেমিকা’

‘আর ইউ ফ্রম ইন্ডিয়া?’ রুমকি কী বলবে। সোজাসুজি ইয়েস বলাইতো সঠিক। কিন্তু অনেক দিন পর অভির সাথে কথা বলতে বলতে ওর মনে হয় ওরতো আরো একটি দেশ আছে, বাংলাদেশ। ভীষণভাবে অনুভব করে ও। একুশে ফেব্রুয়ারি। যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভ্যানিয়ার বাংলাদেশিরা মিলে বানােেলা অস্থায়ী শহীদ মিনার। ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে অনেকে এলেন। কেউ কেউ সাদা কালো পাঞ্জাবিও পরলো। রুমকির চোখ ভিজে উঠে। আগে কখনো এমন হয়নি। ওর দেশতো বাংলাদেশ না। বাংলাদেশ ওকে কোনো পরিচয় দেয়নি। ওর সব সনদ ভারতীয়। কিন্তু মনে পড়ে মেয়েবেলায় স্কুলে অভির সঙ্গে এর ওর গাছ থেকে ফুল চুরি করে ভোরে ভোরে নিয়ে আসতো ওরা। এরপর সেই ফুল শহীদ মিনারে। মানুষ এক দেশ থেকে আরেক দেশে গড়ে স্থায়ী ঠিকানা। কিন্তু ভুলে যেতে পারে কি শেকড়। আত্মার টান। যদি সেখানে থেকে যায় শেকড়েরও গভীর কিছু। এই প্রেম, টানাপড়েন, অভি আর রুমকির বদলে যাওয়া সময়, ফের কাছে আসতে চাওয়ার গল্প নিয়েই উপন্যাস ‘অর্ধেক প্রেমিকা’। বইটির প্রচ্ছদ করেছেন রাজীব দত্ত।

সরস রচনা ‘যৌথ জীবনের বিদ্যা’

ঠিক কী হয় প্রেমে। বুকের ভেতর প্রায়ই কিচিরমিচির। ছটফটানি। যেভাবে কথারা আসে যায়। নব্য সখ্যে ইচ্ছেমতন, দিগ্বিদিক। প্রাণের মানুষটিকে কাছে পাওয়ার উদ্বেলতা। শুধুই কী তাই। আধুনিক সময়ে এসে রঙ বদলেছে ভালোবাসার। প্রেম, যৌনতা, আউটিংয়ের ফাঁকে সেখানে জায়গা করে নিয়েছে দেশ, সমাজ ও রাষ্ট্রচিন্তা। অর্ন্তবাস থেকে অজ্ঞাতবাস মানে দু’জনে হারিয়ে যাওয়ার গল্প। ভালোবাসার শর্ত ও দায়ভার, সমস্ত ব্যাপারেই নিয়ত কিছু বোঝাপড়াও এসে যায় শেষ পর্যন্ত। ভালোবাসা তখন শুধুই অভ্যাস। সেই অভ্যাসেই অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া। ভালোবাসা ভিখিরিও করে, আবার ঋণিও করে। সেসব নিয়েই সরস রচনা ‘যৌথ জীবনের বিদ্যা’। বইটির প্রচ্ছদ করেছেন আবু হাসান।

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উত্তর ঢেমশা গ্রামে জন্ম নেয়া শান্তনু চৌধুরী প্রাতিষ্ঠানিক পাঠ শেষ করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি থেকে শুরু করে আঞ্চলিক সংবাদপত্র এবং রাজধানীতে এসে রাজনৈতিক, ক্রাইমসহ উন্নয়ন সাংবাদিকতার বিভিন্ন বিষয়ে রিপোর্ট করার অভিজ্ঞতা তাকে সমৃদ্ধ করেছে।
শান্তনু চৌধুরীর সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা দেড় যুগেরও বেশি। একুশ শতকের শুরুতে হাতেখড়ি হয় একুশ শতকের দৈনিক স্লোগান নিয়ে আসা প্রথম আলোতে। কাজ করেছেন বেশকয়েকটি দৈনিকে। বর্তমানে কাজ করছেন সময় টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক হিসেবে।

এর আগে তার প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে- ফিরে এসো, নারীসঙ্গ, অন্য সময়ের প্রেম, পর সমাচার এই যে, রসিকা, টেলিভিশন সাংবাদিকতা, সূর্যোদয়ের আগে, অর্ধেক প্রেমিকা, যৌথ জীবনের বিদ্যা উল্লেখযোগ্য।

আপনার মতামত লিখুন :

দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস ও কল্পনা

দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস ও কল্পনা
বাংলায় ঐতিহাসিক নাটকের আদিগুরু অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়

দক্ষিণ এশিয়ার বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস রচনা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক আছে। নৈর্ব্যক্তিক ইতিহাস কতটুকু রচিত হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উত্থাপিত হয় মাঝেমধ্যে। কবির কল্পনা না প্রকৃত ইতিহাস সত্য, এই দ্বন্দ্বের মীমাংসা হয় না।

কারণ, এ অঞ্চলের মানুষ ইতিহাস জেনেছে গল্প, উপন্যাস, নাটকে। শাহজাহান, সিরাজদ্দৌলা, মীর কাসিম সম্পর্কে তথ্যনিষ্ঠ ইতিহাস মানুষ যত কম জানে, তারচেয়ে ঢের বেশি জানে নাটকের আবেগাপ্লুত সংলাপ। ঐতিহাসিক সত্য চাপা পড়ে সাহিত্যিক কৃতকৌশল ও কল্পনার স্তূপের তলে।

ফলে সৃজনে অগ্রাধিকার কার? কবি যা রচিবে তাই কি সত্য? নাকি স্রষ্টাকে ইতিহাসের সত্যের কাছে নতজানু হতেই হবে? এসব প্রশ্ন বারবার গুরুত্বের সঙ্গে সামনে এসে দাঁড়িয়েছে ইতিহাস প্রসঙ্গে।

দক্ষিণ এশিয়া তো বটেই, ঔপনিবেশিক বাংলায় পণ্ডিত সমাজের চিন্তা-চেতনার আবহে এসব প্রশ্ন খুব বড় হয়ে উঠেছিল। বিশেষত অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় রচিত নাটকগুলোকে কেন্দ্র করে বিতণ্ডার সূত্রপাত ঘটেছিল।

অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় ছিলেন ঐতিহাসিক নাটকের আদিগুরু। তিনি নিজেকে মনে করতেন, ইতিহাসের সত্য-প্রতিষ্ঠার একনিষ্ঠ সাধক। এ বক্তব্যের দৃষ্টান্তও তিনি রেখেছেন। সিরাজদ্দৌলা (১৩০৪ বঙ্গাব্দ) ও মীর কাসিম (১৩১২ ব.) বই দুটিতে তিনি তথ্যের ভিত্তিতে এই দুই নবাব সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা ভেঙে দিতে সচেষ্ট হন।

ইংরেজগণ এই দুই দেশপ্রেমিক নায়কের প্রতি যে মিথ্যাচার ও কলঙ্কলেপন করেছিলেন, অক্ষয়কুমার সেগুলোকে চ্যালেঞ্জ করে গবেষকের নিবিষ্টতায় প্রকৃত সত্য উপস্থাপন করেন। তবে তিনি ইতিহাস রচনা করেননি, নাটক লিখেছিলেন। এবং সাহিত্যে ঐতিহাসিক সত্যের সন্নিকটে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। এমনকি, সমকালীন সাহিত্যিকদেরকেও সত্যানুসন্ধানী হতে প্রণোদিত করেছিলেন।

উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, ‘চন্দ্রশেখর’ উপন্যাসে বঙ্কিমচন্দ্র, মীর কাসিম ও তকি খাঁর চরিত্রচিত্রণে ইতিহাসের বিকৃতি ঘটিয়েছেন বলে তীব্র ভাষায় অভিযোগ করতেও দ্বিধা করেননি অক্ষয়কুমার। এ নিয়ে পত্রপত্রিকায় যে বিতণ্ডা শুরু হয়, তাতে রবীন্দ্রনাথ অক্ষয়কুমারের সমর্থনে কলম ধরেন।

তবে কৌশলী রবীন্দ্রনাথ এ কথাও বলেন যে, “ইতিহাসের রসটুকুর প্রতিই ঔপন্যাসিকের লোভ, তার সত্যের প্রতি তাঁর কোনো খাতির নেই।”

রবীন্দ্রনাথের এ কথায় ঔপন্যাসিক কল্পনার অধিকার পেলেও ‘ইতিহাসের মূল রসটুকু’ বা নির্যাস এড়িয়ে যাওয়ার এখতিয়ার পান না। এটাই মোটামুটি মানদণ্ড হয়ে গেছে। অর্থাৎ, ইতিহাসের নির্যাসটুকু নিয়ে কল্পনার আশ্রয় নিয়ে সাহিত্য রচনা করা যেতে পারে। তবে সেটা সাহিত্য নামেই চিহ্নিত ও ব্যক্ত হতে হবে, ইতিহাস নামে নয়।

অক্ষয়কুমারের যুগ পেরিয়ে শতবর্ষ অতিক্রান্ত হলেও ইতিহাস ও সাহিত্যের মিশ্রণ থেমে থাকেনি। বরং আরো বেড়েছে। অতি সাম্প্রতিক লেখকদের কথা উহ্য রেখে একটু পুরনো হিসেবে দৃষ্টান্ত দেওয়া যায় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের। তার ‘সেই সময়’, ‘পূর্ব পশ্চিম’, ‘প্রথম আলো’ ইত্যাদি উপন্যাস মানুষকে আলোড়িত করেছে। বই আকারে বের হওয়ার আগে ‘দেশ’ পত্রিকায় ধারাবাহিক প্রকাশের সময় লেখাগুলোর তথ্য ও সত্যাসত্য নিয়ে এন্তার চিঠি ও ভিন্নমত ছাপা হয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563451116521.jpg

একজন প্রখ্যাত ঐতিহাসিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘আমরা এত পরিশ্রম করে, কত তথ্য-উপাত্ত ঘেঁটে ইতিহাস রচনা করি। কিন্তু মানুষ সেগুলো খুব একটা পড়ে না। ইতিহাসের বই জনপ্রিয় হয় না। আর আপনি ইতিহাসকে উপন্যাসের মধ্যে নিয়ে এত জনপ্রিয় হলেন কেমন করে?’

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় খুব সুন্দর উত্তর দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘মানুষ ইতিহাসের মূল গল্পটি শুনতে চায়। আমি আমার মতো করে গল্পটি বলি।’

মানুষ যত দিন ইতিহাসের মধ্যে শুধু গল্পটি শুনতে চাইবে, ততদিন ইতিহাসের নির্জলা সত্যটি তার কাছে আসতে পারবে না। ইতিহাস আর কল্পনার মাখামাখি চলতেই থাকবে। এটাই সম্ভবত দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ঐতিহাসিক অদৃষ্ট বা হিস্টরিকাল ফেট!

হাঁসের সহিত হইল বিয়া স্থায়ী ঘর

হাঁসের সহিত হইল বিয়া স্থায়ী ঘর
অলঙ্করণ কাব্য কারিম

আরো হাঁস

এইরূপ কান্দে কন্যা নিরালা বসিয়া
হাঁসের লাগিয়া কন্যা ধুড়িল শহর

কান আশে হইছে বিয়া স্বপ্নের ভিতর
ঘটকালি করে আপন মামতো ভাই

হাঁসের সহিত হইল বিয়া স্থায়ী ঘর
কারা পানখিলি খাইয়া গপ মারে তাই

সজিনার তলে বসি কান্দিল তামাম
এর কিবা মানে শুন কান খাড়া করি
চিক চিক করে মনে এ বিয়ার জরি।

হেমন্তের হাঁস

আমার হয়নি ধোয়া ওগো শিশিরের তলে
আমার হয়নি নাচা মিশি যাওয়া ঊর্মিদলে।

আমার মিটিনি নেশা অলিকোলে শোয়া বাকি
আমায় ঢালিনি মৌন নূর বধির জোনাকি!

আমারে চিনিয়া চিনে নাই হেমন্তের হাঁস
আমার পানের পাত্রে বাদ গেছে শ্যামা ঘাস।

আমার ইউসুফ শোনে নাই ভাইদের শোকর
বকুল তলায় আসি হাঁপায় প্রকৃত ভোর।

হাঁসের জলেরা

হাঁসের পায়ের জল
শুকায়, তাই তারা ফের জলে নামে।
একটা কথা আমি ভুলি যাই
হাঁসের কোনো ইচ্ছা নাই।
হাঁসের জলে আমি ভাসি
হাঁসের পায়ের জলে
আমি মুখ ধুইছি,
আমার নিজের মুখ কেন মোর যেনতেন মোকাম ন রে!
আমার চোখে এই ফেরেবি জল ধরা দেয়
যেন বখিল আমি তার কিছু নির্ভরতাময় তর্জমা করি!
দাদি যেই ছাড়ে হাঁস
তারা আমার মরা দাদির জইফ হাঁস!
স্বপ্ন তারা আমার নিকট
তাদের নিকট
আমি তেমন বাস্তব ন রে!

এই বাড়িতে

দেয়ালের পর কাঠবিড়ালির দৌড় দেখি
যেন রইদ নাকফুল হয়,
তারপর সারা সকালটা গড়ায় দেয়াল ধরি,
একটা দোয়েল ডিম জারি হইলে
অনেক দোয়েল চিল্লায়ে ধরে বা গান,
একদিন আসে আসে করি শেষে আসে,
তারার মতন গোল চোখ ঘুঘু তার
চোখের বর্ডার আলতার রঙ পাছে
পায়ের রঙের সাথে মিশিবার চায়,
এ বাড়িতে আসি যেই হাঁসগুলি দুলি দুলি ও বাড়ি ত যায়,
ওদের ঘ্রাণের ভিতর ঘুরি ঘুরি থামি,
বাতাস হবেনে আসল শরিক
আডিয়াকলার ঝাড়ের নিকটে আসি,
আমি শুনি জলের মর্মর কলপাড়ে তড়পায়,
তারে ঢাকিবার আরো মিহি ধ্বনি আছে
এ বাড়ির অনেক অ-বাক কণ্ঠস্বর আছে!


প্রত্যাবর্তনের লজ্জা
(কবি আল মাহমুদকে)

ভাইয়ের ডাক শুনি উঠি রাতদুপারে স্বপ্নের ভিতর। যেন
বাতাসের ডাক শুনি ঢেউ উঠে তৎপর।
দেখি আব্বা আগেই উঠছেন, নিজ হাতে আতাফল, গাছপাকা তরমুজ
পরম আদরে ছেনি দিই কাটি কাটি ফালি ফালি করি খাওয়াইতেছেন,
খা, আহারে কতদিন খাস নাই!
আম্মা তজবিহ হাতে এক হাতে ভাইরে বাতাস করতেছে, আয়েশা ফুল তোলা
একটা রুমাল দিই কইলো, এইটা দিয়া মুখ মুইছো, মাথা মুইছো, চোখের কান্দন মুইছো না গো ভাই!
অথচ ভাই মারা গেছে তার চল্লিশাও পার হয় নাই। উনি কবরতে উঠি আসছেন, উনার চোখ দুইটা
তারার নিভু নিভু, এট্টু সর্দি লাগছে ক্যাল, ভাই হাঁকি কইলো, বকনা বাছুরটারে খ্যাতের আইলে
বান্ধিলি অইডা তো দড়ি ছিড়ি সব পাকাধান সাবাড় করবেনে!
আম্মা কান্দে আর ইশারা করে, ঠোঁট টিপে আঙুলে, কন, একদম চুপ!
ভাই যে মারা গেল শুক্রবার, ভাই নিজেই জানে না!
তাই আমাদের সংসারে কাঁঠাল পাতার নারকেল ছায়ার লোভে
পড়ি ঝোঁকে ঝোঁকে আইস্যে আগের মতো ধমক দিতেছে আমাদের সংসারে
জায়গা মতো, আব্বা কইলেন, খবরদার তোরা চুপ থাক,
ও যেন না জানে পাছে, ও মরি গেছে, পাছে বেচারা কষ্ট পাবে!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র