Alexa

বিক্রেতা বিহীন স্টলে ম্রো ভাষার প্রথম বই

বিক্রেতা বিহীন স্টলে ম্রো ভাষার প্রথম বই

বিদ্যানন্দতে পাওয়া যাচ্ছে ম্রো ভাষার প্রথম বই 'ম্রো রুপকথা'

ইয়াংঙান ম্রো এর 'ম্রো রুপকথা' বই প্রকাশের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো ম্রো ভাষায় প্রকাশিত হলো বই৷ অমর একুশে গ্রন্থমেলার একমাত্র বিক্রেতাহীন প্রকাশনী বিদ্যানন্দতে পাওয়া যাচ্ছে বইটি।

মেলার ৫৪ তম স্টলটি দেখতে কিছুটা অন্যরকম। ওপরে লেখা রয়েছে এক টাকার আহার। বিক্রেতা না থাকলেও বিদ্যানন্দের স্বেচ্ছাসেবক হুজায়ফা বার্তা২৪.কমকে বলেন, বইটি ইতিমধ্যেই বেশ সাড়া ফেলেছে৷ যদিও স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে বান্দরবনের ম্রো পাড়ায় এরই মধ্যে বইটি বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে।

বইটির ভেতরে সূচী থেকে শুরু করে সবকিছুই ম্রো ভাষার পাশাপাশি বাংলা ভাষায় লেখা রয়েছে। ফলে পাঠকরা অর্থও ধরতে পাচ্ছেন ৷

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/23/1550928308146.jpg

হুজায়ফা বলেন, বান্দরবনে এই বিদ্যানন্দ সংস্থার এতিমখানাও রয়েছে। সেখানে বইটি পাঠানো হয়েছে।

এরই মধ্যে বইটি নিয়ে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা করেছেন। প্রকাশক কিশোর কুমার দাশ তার ফেসবুকে একটি ছবিযুক্ত পোস্টে বলেন, ”পিতৃপুরুষের ভাষায় ছাপানো প্রথম বই দেখছে বাবা, আর সেটা আঁকড়ে ধরতে চাচ্ছে তাঁর সন্তান...

ম্রো ভাষায় প্রথম ছাপানো বই !!! এটাই হচ্ছে আমাদের একুশে ফেব্রুয়ারির উদযাপন।

যে দেশের মানুষ মাতৃভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছে, সে দেশের কিছু মানুষ মাতৃভাষা হারাচ্ছে যুগে যুগে। এগুলো সংরক্ষণের কোন কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ে না।"

তিনি বলেন, "বিদ্যানন্দ প্রকাশনী তাই প্রথমবারের মতো ম্রো ভাষাভাষীর জন্য নিজেদের ফন্টে প্রকাশ করেছে ম্রো রূপকথার গল্প। আর সে বই বিনামূল্যে পৌঁছে দেয়া হয়েছে তাঁদের ঘরগুলোতে।"

মেলার ৫৪ নং স্টলে আসলে দেখা যাবে একটি প্লাস্টিকের বক্সে টাকা রাখা রয়েছে। যারা বই কিনছেন, নিজেদের মতো করেই সেই বক্সে বইয়ের মূল্য রেখে যাচ্ছেন।'

বইটি চট্টগ্রাম বইমেলা'র ১০৯ নং স্টলেও পাওয়া যাচ্ছে।

এক টাকার আহার সম্পর্কে হুজায়ফা বলেন, আমাদের বিভিন্ন প্রকল্প থেকে আয়ের অর্থ দিয়ে দেশের ১২টি স্থানে পথ শিশু ও ষাটোর্ধ্ব প্রবীণদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। এটা ভিক্ষা বা দান নয়, এক টাকার বিনিময়ে তারা আমাদের কাছ থেকে খাবারটি কিনে নেন।

আপনার মতামত লিখুন :