Alexa

মন মানে না বৃষ্টি হলো এত

মন মানে না বৃষ্টি হলো এত

ছবি: বার্তা২৪

মন মানে না বৃষ্টি হলো এত
সমস্ত রাত ডুবো নদীর পাড়ে
আমি তোমার স্বপ্নে পাওয়া আঙুল
স্পর্শ করি জলের অধিকারে

শ্রদ্ধেয় কবি উৎপল কুমার বসু, না তিনি নেই নয়, তিনি আরো বেশি করে রয়ে গেলেন, কারণ কবিতারা রয়ে গেছে আসলে কবিতারা থেকে যায়।

এই দীর্ঘযাপনে কাব্যময় সমভিব্যহারে কবি ক্রমশ আছেন...গত ৩রা অক্টোবর, ২০১৫ তে তিনি পার্থিব ভাবে গত হয়েছেন, কিন্তু কবিতায় তিনি যিনি সকলকে একটা জার্ক দিয়ে গেলেন,

“যে সৌন্দর্য অবলুপ্ত হতে তাকে আমি যত্রতত্র দেখি
সেও হাত পেতে ভিক্ষা করছে আর দশটা ভিখিরির মতো”

কবিতার মূর্ছনাকে আরো নাড়িয়ে দিতে দিতে যতদিন কবি বাঁচেন তারা শিল্প ততদিন নাবালক হয়ে বাড়তেই থাকে, মৃত্যু তাকে হয়ত মূল্যায়ন দেয় না কিন্তু গতির স্থিতি থেকে আমরা তাকে ধরতে পারি, সমাপ্তির পর শব্দ যখন জোরে বাজে আমরা ঘোরে বাজতে থাকি, নিরঙ্কুশ শব্দ শ্রমিকের কখনো মৃত্যু হতে পারে না।

“ব্যথা-বেদনার সঙ্গে উদ্ভিদের কত মিল খুঁজে পাই
গোপন সংস্থা তারা
কখন প্রকাশ পাবে প্রকৃতিই জানে” (পিয়া মন ভাবে)

এই যে গাঢ় চিন্তন এর যে প্রকৃত স্তর সেখানে বড় চমক লাগে, দর্শনে স্তর থেকে স্তরে কীভাবে যাতায়াত শিখলে মানুষ প্রাকৃতিক ভাবে প্রকৃতিস্থ হন ভাবতে ভাবতে অবাক হতে হয়! শ্রদ্ধেয় কবি জয় গোস্বামী তাঁর “পুরী সিরিজের কবি” গ্রন্থে অসাধারণ মূল্যায়ন করেছিলেন কবি উৎপল কুমার বসুর কবিতা...হয়ত কবির লেখার কোনো একক মাত্রা থাকে না, কিন্তু যৌথ মুক্তবন্ধ আঙ্গিকে সে ব্যাপৃত হতে থাকে।

আসলে এ তো শব্দ পরিপুষ্ট সেই কবির বিনাদায়ের দায়গ্রস্ত দায়, এ থেকে মুক্তি হয়ও না, কবি নিজেও চান না।

কবি বলেছেন “এ-শ্রমের অন্ত কবে? শুরু বা কোথায়? পূর্ণপুরুষের
মতো প্রেমে অবরোহ কবে বা গিয়েছে জানা”

হ্যাঁ ঠিক এভাবেই যা কহতব্য তা উপ্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে উন্মুক্ত পরাগমিলনের মত তাঁর নিরবিচ্ছিন্ন বৃহত্তর ভাবনার কর্ষণক্ষেত্র হয়ে!

কতদিন পর দেখা --- ভুলে গেছি আপনি না তুমি ক'রে
বলতাম --- ঐ শকটের ভাঙা চাকাটিকে হেসে বলি---
কোথায় কোথায় না ঘুরেছি তোমার সঙ্গে --- তাহলে তুমিই হোক;
কুয়োর শুকনো পাড়ে শতছিন্ন দড়িটাকে সস্নেহে একত্র করি---
কতদিন তুমি যে আমার স্নানজল তুলে দিতে; ও মৃতকলস,
সেই শৈশব থেকে তুমি এ-তৃষিতের বৃষ্টিমাতা হয়ে আছ,
আজ ফাটল ধরেছে; পুরোনো বাড়ির চৌকাঠ পার হয়ে, ঘরে ঢুকে
মনে হল ঐ দরজাকে আপনি-ই বলা ভালো---
কেননা আমার বাল্যের ছুটোছুটি শেষ হলে সে-ই তো রুদ্ধ হত
প্রতি সন্ধ্যা, সশব্দে ও আশঙ্কায় । তাকে আজো ভয় করি
আর সে-ও কি আমাকে, অন্তত কিছুটা, অবিশ্বাস না ক'রে পারছে? (কতদিন পর দেখা)

একটি মৃদু ভাব কি চরাচরব্যাপী ছড়িয়ে যাচ্ছে তুমি আর আপনি –র রসাভাষে , কবির শৈশব, বৃষ্টিমাতা, তৃষিত এ শব্দলালিমা ঢুকে যায় মনের অন্দরমহলে।

মূর্ত মহল থেকে স্বাভাবিক –এর যে কারণকে হারিয়ে ফেলেছি আমরা সেই জায়গা কবি তুলে , বারান্দায় ফুটে ওঠা সাধারণ এক ফুল ছিল কবির কাছে বিস্ময় , কারণ জীবন... পূর্ব ও উত্তর জীবন সব তার কাছে প্রতিবন্ধকতাহীন ভাবে রচিত হলেই যেন তা উত্তরণ, আর সত্যিই তো তাই ... কেউ কেউ বলেন কাব্যভাষা! আসলে অনন্তের প্রেক্ষক তো কেউ নেই , জীব আর জড় কাউন্টার স্ট্রেইন হয়ে বসে আছে, একজন কবি যদি গাঠনিক ক্রিয়ায় না বদলান , না খোলেন তবে পরিণতি কিসের, যাপনের মতো সবটাই বদলায়, শিক্ষা, অভিজ্ঞতা যদি রূপায়ণ নাই ঘটালো তবে দর্শন কি? এবং কেন? আমরা প্রান্তিকতা থেকেই উদ্ভুত হই সকলে শুধু প্রাবল্য কে বিচারের অক্ষমতায় হারিয়ে যায়, এইখানে শ্রদ্ধেয় কবি অনবদ্য ... সে আমার সম্মুবার্তাতেই আমায় ঝাঁ ঝাঁ করিয়ে দেখায় দেখা জিনিসের অদেখা খেলা। কবি উৎপল কুমার বসু তাকে নিয়ে কিছু মাত্র আলোচনা সিদ্ধান্তে নেওয়াতে পারেনি, পারেনি বলেই তিনি আলাদা ও বৃহত্তর ও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ! এমন কবি মানে। তো কেবল তাঁর কবিতারা... কবি আছেন, কোথাও যান নি, দৃশ্যমান থেকে অদৃশ্যমানের পর্ববিভাগ চলছে কেবল। তাঁর অদৃশ্যমান স্থিতির প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা ও প্রণাম...