Alexa

সে এক কবি বটে

সে এক কবি বটে

ছবি: বার্তা২৪

এসব ঝরনা রাতের দিন, বিশিষ্ট কবি যাঁদের লেখা পড়ে বড় হলেন, ধরুন তাঁরা আপনার লেখার ভক্ত হল, আপনারও ভক্ত হল। এখন উপমা ধরে হাঁটতে পারবেন তো? আসলে কবিতা আর কবি সব কিন্তু দেহজ খেলার মতো প্রারম্ভিক অর্থে প্রকাশিত। মানে যতক্ষণ তা দূরে মোহময়, প্রহেলিকাময় ততক্ষণ তা আক্রান্তকারী। প্রিয় কবি বা লেখকের সঙ্গে পাঠকের বেশি কথা বা বন্ধুত্বতা বোধ করি ঠিক নয় ...

তো এসকল কবির মধ্যে সে এক কবি বটে। লোকে তাঁকে কবি বলে, প্রিয় কবি! না জানি কতো তাঁর নাম। আমি তাকে সাধু বলি। এ চোর-সাধুর সেই চোর নয়। এ এক অন্য বাউল, অন্য সাধু! সে এক বাউলদেহ --- ভোগহীন সাধু দেহ --- সে এক সাধু মন ---এসব চিহ্নিতকরণের জন্য নয়। হয়তো বা এই চিহ্ন পরে প্রকাশিত হবে আমারই মাধ্যমে কিংবা নয়। এসব কী প্রেম? না! এক দীক্ষাযুক্ত মুগ্ধতা।

বিগত কিছুদিনে আমার লেখা ও তার লেখাজনিত উত্তরে সে এক দীক্ষা রচিত হল। যা দেখা যায় তা নিয়ে লেখা তো সহজ যা দেখা যায় না তা নিয়ে লেখা সে এক অতিপ্রাকৃতের সঙ্গে লড়াই করার খেলা। সে সন্ন্যাসী পেরেছে, তিনি বললেন, তোমার আঙুল আমার হোক আমার আঙুল তোমার হোক, উত্তরসূরি হও। সে এক দায়! সে এক মহা দায়! সে এক কান্না---সে এক সমাপতন!

তার মৃত্যুর পরে সে নাকি আমার দায়--- ওহো সে দায়! সে দায় আমার রক্তের স্বপ্ন হয়ে পাকা ডালিম গাছে সুসজ্জিত। ফেটে পড়লে জানি সে এক রক্তপাত! তিনি ডাক দেন, স্বর দেন, আর সে আড়ালের রহস্য বুনে চলে যান ইন্দ্রজালে --- লোকে বলে কবি—আমার কান্না পায় --- উনি কবি নন, কবির চেয়েও বেশি কিছু। তাঁর সঙ্গে ছবি তুলিনি কখনো, ইচ্ছে করে না --- লোকে কত প্রতিবিম্ব তার থেকে নিয়ে যায়, তিনি বোঝেন। তার দেওয়া বইগুলো নিয়ে আমি প্রেমহীন তীর্থযাত্রায় গেছিলাম। খারাপ চরিত্র দেখতে দেখতে ঝাউবনে হুঁশ-হুঁশ দৌড়োলাম। লোকে তাকে কবি বলে --- আমি বলি গঙ্গা গঙ্গা...

এ আমার গহন প্রাণের ক্লীব খেলা নয়। এ এক ধাত্রহীন, অং-বং-চং এর চড়-থাপ্পড়। মদ খাব না, শোব না, ছুঁতেও দেব না কারণ আমার ইচ্ছে নেই।

আমি আমার রাধা, আমি আমার রাজা। মদ খাব, মধ্যরাতে লিফটের গা ঘেঁষে ছাদের কার্নিশে বসে থাকব ডাইনির মতো। মন বুঝলে শরীরে এক মন্দির পাবে। ওসব ন্যাকা ন্যাকা ব্যাপার নয় --- এখানে সূর্যের আলো ধুয়ে মাথা নুইয়ে যায় যেন মোবাইল ঘুমিয়ে পড়ার আগে ব্যাটারির এক চিৎকার---

এসব তো শব্দ নয়, বেঁচে থাকার আর্তি। কবিতা আসলে অভিশাপ নয়! জীবন এত জর্জরিত তা কবিতা ধরে নেয় ফলে ক্ষয়িষ্ণুরা কবিতাকে অভিশপ্ত বলে। কবিতা আসলে রেসের বাজিধরা ঘোড়াটা আর ক্যাসিনোর চাকতি ঘোড়া জুয়া। আসুন নষ্টামো দেখি আর ভালোবাসি। ভালোবাসতে বাসতে আমরা হিসি করব, মরে যাব কিন্তু প্রকাশ করব না! কে কী বলছে আমার নামে তাতে আমার বয়েই যায়, সত্যি! নাহলে তো মরেই যেতাম। আসলে গোটা অ্যাসাইলামের গতিকে পৃথিবীর আবর্তন গতি বলছি। আমরা জানি আর শুধরোতে পারব না! উন্নয়ন হলেও পারব না। তাই এই দীর্ঘ জীবন কিংবা পাগলামি আসুন চেখে চেখে দেখি। যা লিখছি তা বিচ্ছিন্ন, কারণ নিরবিচ্ছিন্ন বলে এখানে কিছু নেই, হতাশার ঠোঁট থেকে বেরিয়ে আসা ক্ষিস্তি ছাড়া।

আপনার মতামত লিখুন :