শহীদ জননী

ড. মাহফুজ পারভেজ, কন্ট্রিবিউটিং এডিটর, বার্তা২৪.কম
শহীদ জননী জাহানারা ইমাম/ছবি: সংগৃহীত

শহীদ জননী জাহানারা ইমাম/ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

মধ্য আশির দশকে সাপ্তাহিক বিচিত্রার ঈদ সংখ্যায় 'নিঃসঙ্গ পাইন' নামের একটি উপন্যাস পড়ে চমকে উঠেছিল। অসাধারণ কাহিনী ও বর্ণনায় আপ্লূত হয়ে মনে রেখেছিলাম লেখিকার নাম-জাহানারা ইমাম।

তখনও তিনি আন্দোলনের মাঠে সরব হননি। লেখালেখির ভেতর দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরছেন। প্রস্তুতি নিচ্ছেন ঘাতক-দালালদের বিচারের দাবিকে গণদাবিতে পরিণত করার সংগ্রামের। মুক্তিযুদ্ধের রক্তাক্ত বাংলাদেশে একাত্তরের চেতনাকে উচ্চকিত করার ঐতিহাসিক আন্দোলনের নেতৃত্বে সকল বিঘ্ন ঠেলে এগিয়ে আসছিলেন তিনি।

তারপরের ঘটনাগুলো সংগ্রাম ও আন্দোলনের ইতিবৃত্ত। মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ যেন জেগে উঠেছিল এই শহীদ জননীর অগ্নিস্পর্শে।

গতকাল ছিল তার ৯০তম জন্মদিন। ১৯২৯ সালের ৩ মে শহীদ জননী কথাসাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল আন্দোলনের নেত্রী জাহানারা ইমাম জন্ম গ্রহণ করেন বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে। ৯০তম জন্মদিন স্পর্শী লড়াকু জননী একাত্তরে পালন করে গৌরবময় ভূমিকা। তার ছেলে শাফী ইমাম রুমী দেশের মুক্তিসংগ্রামে অংশ নেন, কয়েকটি সফল গেরিলা অপারেশনের পর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন ও পরবর্তীতে নির্মমভাবে শহীদ হন।

রুমীর শহীদ হওয়ার সূত্রেই জাহানারা ইমাম শহীদ জননীর মযার্দায় ভূষিত হন। এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতিটি আন্দোলনের সামনের কাতারে চলে আসেন তিনি। সে সময়ে সকল ঝুঁকি ও প্রতিবন্ধকতা মাড়িয়ে এগিয়ে চলেন তিনি সাহসের প্রজ্জ্বলিত মশাল হাতে।

১৯৯২ সালের ১৯ জানুয়ারি গঠিত ১০১ সদস্যবিশিষ্ট একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন জাহানারা ইমাম। তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘একাত্তরের দিনগুলি’। মুক্তিযুদ্ধের রক্তাপ্লূত সংগ্রাম ও ত্যাগের বেদনাদীর্ণ কথামালা পুঞ্জিভূত হয়েছে তার এই গ্রন্থে। যে গ্রন্থকে মুক্তিযুদ্ধের বিশ্বস্ত বর্ণনার জন্য দলিলের মর্যাদা দেওয়া হয়।

১৯৯৪ সালের ২৬ জুন আমেরিকার মিশিগান স্টেটের ডেট্রয়েটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার জীবনাবসান ঘটে। সেখান থেকে ঢাকায় এনে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের অম্লান চেতনার দীপ্ত শিখা, শহীদ জননী জাহানারা ইমামকে।