Alexa

‘এখন অনেক ভালো আছি’: হেলাল হাফিজ

‘এখন অনেক ভালো আছি’: হেলাল হাফিজ

কবি হেলাল হাফিজের (ডানে) সঙ্গে লেখক/ ছবি: সংগৃহীত

‘যে জলে আগুন জ্বলে’র কবি হেলাল হাফিজের শারীরিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে। ল্যাবএইডের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রফেসর মনজুর রহমান গালিবের অধীনে তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে রক্তসহ প্রাথমিক কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়েছে তাঁর।

বুধবার (২২ মে) রাত সাড়ে ৮টায় কবিকে আলট্রাসনোগ্রাফি ও এমআরআই করার জন্য কেবিন থেকে ল্যাবে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় কবি এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘এখন অনেক ভাল আছি, দোয়া করো।’

মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে কবি হেলাল হাফিজকে ল্যাবএইড হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে তাঁকে ভর্তি করে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। কবি জ্বর, সর্দি-কাশি, চোখ, কান ও নিউরোলজিক্যাল সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে দ্রুত স্যালাইনসহ ওষুধপত্র দেওয়া হয়।

চিরকুমার ও হোটেলে একাকী জীবন কাটানো কবি হেলাল হাফিজ অনেকদিন ধরেই শারিরীক নানা জটিলতায় ভুগছেন। গত সপ্তাহে জ্বর হওয়ার পর থেকে কবি কিছু খেতে পারছেন না। তিনি তোপখানার একটি হোটেল কক্ষে রাত কাটান এবং দিনে জাতীয় প্রেসক্লাবে কাটান ও খাওয়া দাওয়া করেন। কবির সিনিয়র কয়েকজন সাংবাদিক কয়েকদিন ধরেই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। কিন্তু আজন্ম অভিমানী কবি নিজের চিকিৎসার ব্যাপারেও চরম উদাসীন ও অনীহ।

মঙ্গলবার কবি প্রেসক্লাবে সকালের নাস্তা, দুপুর ও রাতের খাবার খেতে যাননি। রাতে তাঁর শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে থাকে। জাতীয় প্রেসক্লাবের নিয়মিত যাতায়াতকারী কবি হেলাল হাফিজকে সারাদিন না দেখে অনেক সাংবাদিক তার হোটেল কক্ষে খোঁজ নিতে যান। পরিস্থিতি খারাপ দেখে সিনিয়র কয়েকজন সাংবাদিক কবিকে ল্যাবএইড হাসপাতালে নিয়ে যান।

বুধবার দিনের অনেকটা সময় কবিকে স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়। তিনি দীর্ঘক্ষণ ঘুমিয়ে ছিলেন। সন্ধ্যার দিকে কবির সঙ্গে দেখা করেন বেশ কয়েকজন প্রিয়জন। এদের মধ্যে ছিলেন কবি হাসান হাফিজ, সাংবাদিক আবদুল মান্নান, কবি জলি ফেরদৌসী সহ অনেকে।

রাত ৮টায় হাসপাতালে কবির সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি বিছানা থেকে উঠে নার্সের সহায়তায় বাথরুম থেকে হাতমুখ ধুয়ে আসেন। এ সময় তাঁকে বেশ সতেজ দেখাচ্ছিল। একান্ত আলাপে কবি এ সময় বলেন, ‘হাসপাতালে আসার আগে হোটেল কক্ষে মনে হচ্ছিল, আমার শরীর পুরো কলাপ্সড করছে, আমি বোধ হয় আর কারও সঙ্গে কথা বলতে পারব না। হাত দিয়ে ফোন তুলে কাউকে খবর দেওয়ারও শক্তি তখন পাচ্ছিলাম না।’

তিনি বলেন, ‘এখন কিছুটা ভালো লাগছে। মনোবলও পাচ্ছি।’ কথাবার্তার সময় হাসপাতালের সহকারী হুইল চেয়ারসহ কবিকে পরীক্ষার জন্য নিয়ে যেতে এলে তিনি বলে উঠেন, ‘চলুন, আমি পুরো তৈরি।’

হাসপাতালের করিডোরে কবির সঙ্গে আকস্মিক শিল্পী ও টিভি ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ারের দেখা হয়। শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার কবিকে জিজ্ঞেস করেন এখন কেমন আছেন? তিনি উত্তর দেন- ‘ভালো আছি’।

কবি হেলাল হাফিজ একটি মাত্র কাব্যগ্রন্থ ‘যে জলে আগুন জ্বলে’র মাধ্যমে বাংলা কবিতার জগতে স্থান করে নেন। এর আগে ঊনসত্তুরের গণআন্দোলনের সময় তাঁর ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’ র পঙক্তি ‘এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাওয়ার তার শ্রেষ্ঠ সময়, এখন যৌবন যার মিছিলে যাওয়ার তার শ্রেষ্ঠ সময়’ ঢাকার দেয়ালের ভাষা হয়ে উঠে এবং গণ আন্দোলনে তরুণ সমাজকে উজ্জীবিত করে তলে।

পরে ‘কবিতা একাত্তর’ নামে তার আরেকটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হলেও তাতে পুরনো কবিতার সঙ্গে কয়েকটি নতুন কবিতা স্থান পায়। ফলে কবি হেলাল হাফিজ প্রথম কাব্যগ্রন্থের ৫৬টি কবিতা দিয়েই প্রেম ও বিরহের কবি হিসেবে দুই বাংলায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেন।

আপনার মতামত লিখুন :