Barta24

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

কেউ কী কাঁদছে...

কেউ কী কাঁদছে...
ছবি: বার্তা২৪
তানিয়া চক্রবর্তী


  • Font increase
  • Font Decrease

আজ পুনরায় একটি নতুন অলৌকিক গল্প পাঠকদের জন্য রাখা হল। গল্পের নাম ‘কেউ কী কাঁদছে’।

নেহা ও ঈশান আজ প্রায় পাঁচ বছর পূর্ণ করল তাদের দুজনের প্রেমের। গার্লফ্রেন্ড তার একটু আলাদা। বেশি স্টাইলিশ উপহার আর ইদানিং পছন্দ করে না নেহা। একটা নিরিবিলি জায়গা, বই, আর ঈশানের সঙ্গ পেলেই নেহা দারুণ খুশি। তাই নেহাকে অবাক করার জন্য অন্যরকম একটা প্ল্যান কষেছে ঈশান।

ঈশান একটা বাড়ির খোঁজ পেয়েছে। একটা গ্রাম পেরিয়ে জনবসতি থেকে অনেক দূরে , প্রায় ভাঙ্গাচোরা একটা বাড়ি। বাড়ির মধ্যেও কিছুই নেই। এরকম একটা ভাঙ্গা বাড়িতে কেমখাট পেতে, বেলুন লাগিয়ে,কেক রেডি করে, ওয়াইন সাজিয়ে ঈশান নেহাকে ফোন করে।

ঈশান বলে, ‘রেডি তো? দুটো দিন আমার জন্য মনে আছে তো? আমি এখনি তোমাকে আনতে যাব। একঘন্টার মধ্যে গিয়ে যেন রেডি পাই’। নেহা বলে, ‘জায়গাটা কোথায় তো বলো?’। ঈশান কিছু না বলে ফোন রেখে দেয়। ঈশান বাইকে চেপে বাড়িটা থেকে বেরোতেই এক ভদ্রলোককে অবাক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে। লোকটা সাইকেল নিয়ে এগিয়ে আসে আর বলে ‘এখানে কী করছেন ভাই?’ ঈশান ভাবে এই লোকটাকে কী বলা ঠিক হবে যে তারা দুজনে প্রেমিক-প্রেমিকা থাকবে! এমনি এখন যা অবস্থা কদিন আগে মেট্রোতে হল। চুম্বনের জন্য কিনা মার! একটু ভেবে ঈশান বলে ‘কিছুই না দাদা শহরের ভিড় থেকে দূরে বন্ধুরা আড্ডা দেব একটু’।

লোকটা বলে ওঠে ‘যাই করো বাবা এখানে রাতে থেকো না। জায়গাটা অভিশপ্ত । বাপ-দাদুর থেকে শুনে আসছি। এদিক দিয়ে বিকেলের পর লোকজনও যায় না। বাপ-মায়ের ছেলে কেন বিপদ টানবে?’ ঈশান একটু গম্ভীর হয়ে বলে ‘দেখুন দাদা, প্রথমত আমি এসব মানি না। আর দ্বিতীয়ত, খারাপ যদি হয় বাড়িতেও হতে পারে। দয়া করে আপনি আসুন’ বলে বাইকে স্টার্ট দেয় ঈশান।

বিকেলে তারা প্রেমিক-প্রেমিকা দু’জনে এই বাড়িতে এসে পৌঁছোয়। দরজা খুলেই আয়োজন দেখে, জঙ্গলের মধ্যে এই বাড়ি দেখে আনন্দে পাগল হয়ে যায় নেহা। এর চেয়ে ভালো সারপ্রাইজ আর হয়না! একটা অজানা জঙ্গলের মধ্যে নামগোত্রহীন বাড়িতে তারা আজ থাকবে এর থেকে ভাল অ্যাডভেঞ্চার কী আর হয়! বিদেশি বহু ছবিতে সে দেখেছে কর্মব্যাস্ত জীবনের থেকে মুক্তি নিতে বিদেশের ছেলেমেয়েরা কিরকম একা একা বেরিয়ে পড়ে তারপর জঙ্গলের মধ্যে তাবু খাটিয়ে সে এক অনিশ্চিতের স্বপ্ন। আজ পুরো না হলেও সেই স্বপ্ন পূরণ হয় কিছুটা নেহার।

ভাঙা বাড়ির মধ্যে একটাই ঘর। ঘর থেকে বেরোলে একটা সরু লন দিয়ে গেলে মেন গেট। আর ঘর থেকে বেরোলে বামপাশে লাগোয়া বাথরুম। একদম টুটে-ফুটে যাওয়া ভাঙ্গা বাড়ি। বহুদিনের পুরোনো।কিছুটা শিক-বার করা । একটা প্রাচীনের গন্ধ! নেহার ঘোর লাগে।নেহা ঈশানকে জড়িয়ে ধরে। তারা ঘনিষ্ঠ হয়। নেহা ঈশানকে কবিতা পড়ে শোনায়। দুজনে গান গায়। তারপর কেক কেটে , ওয়াইন খেয়ে রাতে শুতে যায়।

(ক্রমশ, আগামী রোববার বাকি অংশ)

আপনার মতামত লিখুন :

৯০ বছরেও সরব দার্শনিক হেবারমাস

৯০ বছরেও সরব দার্শনিক হেবারমাস
দার্শনিক জার্গেন হেবারমাস, ছবি: দ্য রিডার্স বুরে্য'র সৌজন্যে

তিনি বলেছিলেন, ‘রাজনৈতিক আশ্রয় ব্যক্তি মানুষের মৌলিক মানবাধিকার’। গণতন্ত্র, আইনের শাসন, নাগরিক অধিকার, মিডিয়া ও জনপরিসর নিয়ে কথা বলেছেন বার বার। ৯০ বছর পেরিয়েও সরব রয়েছেন জার্মান দার্শনিক জার্গেন হেবারমাস, যাকে গণ্য করা হয় সমকালীন বিশ্বের জীবিত দার্শনিকদের মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী একজন হিসাবে।

ফিলসফি, পলিটিক্স, সোসিওলজি, মিডিয়া ও কমিউনিকশেনের কনটেম্পোরারি থিওরি রূপে তার বক্তব্য পড়ানো হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর ক্লাসে। কিন্তু ১৯২৯ সালের ১৮ জুন জন্ম গ্রহণকারী এই দার্শনিক পাঠ্যপুস্তকের অক্ষরে সীমাবদ্ধ থাকতে নারাজ। যে কোনও আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক বিষয়ে এই অশীতিপর পণ্ডিত বিতর্ক করতে ওস্তাদ। নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের প্রশ্নে সোশ্যাল ডিবেট করতে তিনি কখনো পিছপা হন না।

জীবনীকার ক্রিস্টান নিপ ও সেবাইন ওয়েইজ দার্শনিক হেবারমাসের ৯০ বছরের কর্মময় জীবন ঘেঁটে দেখেছেন, নাৎসি নিপীড়ন থেকে উদ্বাস্তু সমস্যা পর্যন্ত বিশাল ক্ষেত্রে তিনি কাজ করেছেন। লেখালেখি ও গবেষণার পাশাপাশি পালন করেছেন অ্যাক্টিভিস্টের ভূমিকা। নব্য জাতীয়তাবাদের উগ্রতা উত্থানকে ঠেকাতে মাঠে নেমেছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নকে মানবিকতা ও মানবাধিকারের পক্ষে থাকতে বার বার সতর্ক করেছেন।

‘এ কারণেই নিৎসে, হেগেল, মার্কস, ওপেনহেইমার প্রমুখ বিশ্ববিশ্রুত জার্মান দার্শনিকের তালিকার সর্বশেষ রত্ন রূপে চিহ্নিত করা হয় তাকে’, বলেছেন জীবনীকারদ্বয়। তিনি পরিচিত জার্মান ফিলসফির যথাযোগ্য উত্তরাধিকার রূপেও।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/21/1561122057228.jpg

৯০ বছর পেরিয়ে ১৭০০ পৃষ্ঠা ও তিন খণ্ডে লিখিত ‘হিস্ট্রি অব ফিলসফি’ বা ‘দর্শনের ইতিহাস’ নামক পাণ্ডুলিপিটি প্রকাশে ব্যস্ত আছেন হেবারমাস। শুধু দর্শনের ইতিহাস বা ইতিবৃত্ত নয়, দর্শন মানব সভ্যতার পক্ষে ও বিপক্ষে কেমন ভূমিকা রেখেছে, সে মূল্যায়ন করেছেন তিনি তার বিশালায়ন গবেষণায়, যাতে দর্শনের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকগুলোও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

ইউরোপের চিন্তাজগতে জার্মান ফিলসফিকে বলা হয় সর্বশ্রেষ্ঠ আর ফরাসিরা এগিয়ে নন্দনতত্ত্বের দিক থেকে। জার্মান ফিলসফির শক্তিশালী স্তম্ভ হলো ‘ফ্র্যাঙ্কফুট স্কুল অব থট’, যার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা তিনি। শিক্ষকতা ও গবেষণা ছাড়াও তিনি জীবনের অধিকাংশ সময় কাটিয়ে এখনো বসবাস করছেন জার্মানির এই শহরেই। শহরের বৌদ্ধিক প্রতীক বা আইকন তিনি, যিনি বিশ্বকে নাড়া দিয়েছেন এ শহর থেকে, শহরবাসী এমনটিই বিশ্বাস করে।

গণআন্দোলন ও ছাত্র আন্দোলনের গণতান্ত্রিক অভিমুখকে বার বার জারিত করেছেন তিনি তার চিন্তা, তত্ত্ব ও দর্শন নিয়ে। মিডিয়া ডিসকোর্সে তিনি ‘জনপরিসর তত্ত্ব’ দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ-পাণ্ডিত্যপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

হেবারমাস ঐতিহাসিক পর্যালোচনা করে দেখিয়েছেন যে, সতেরো ও আঠারো শতকের ইউরোপের সেলুন, কফিশপ মুক্ত আলোচনার ক্ষেত্র ছিল। সেসব জনপরিসরে রাষ্ট্র ও সমাজের নানা আলোচনা অবাধে হয়েছে, সংবাদপত্রে পক্ষে-বিপক্ষে লেখা হয়েছে, যা বুর্জোয়া মতাদর্শ বিকাশে সহায়ক ছিল। কিন্তু করপোরেট যুগে সংবাদপত্র বিজ্ঞাপন ও পণ্যবাণিজ্যের খপ্পরে পড়ে গেছে। জনপরিসরের গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডার বদলে এখন বিজ্ঞাপনদাতা ও মালিক পক্ষের স্বার্থচর্চা করা হচ্ছে।

হেবারমাসের চিন্তায় মিডিয়া কাঠামো ও মালিকানায় যে অবক্ষয়চিত্র দেখা যাচ্ছে, তাতে পাবলিক ইন্টারেস্ট ও পাবলিক স্ফিয়ার নষ্ট হয়ে গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকারের জায়গাটিও সঙ্কুচিত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যক্তিগতভাবে নাগরিক ও সামষ্টিকভাবে জনগণ। আরও যে বিপদ এর ফলে আসতে পারছে, তা হলো, মালিকানার হাত ধরে মৌলবাদ, উগ্রতা, শোষণ ও অর্থের দাপট, যাতে ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক-জাতিগত সংখ্যালঘু, নারী, শিশু, অবহেলিত প্রান্তিকজনের স্বার্থ ও অধিকারের আলোচনা কমছে এবং এদের এজেন্ডা উপযুক্ত গুরুত্ব পেতে ব্যর্থ হচ্ছে।

জার্মান দার্শনিক হেবারমাস, যিনি সমকালের বরিষ্ঠ চিন্তক হিসাবে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি, তিনি ব্যক্তিগত কর্মপ্রবণতা ও সচলতার যে অনন্য উদাহরণ ৯০ বছর স্পর্শ করেও সকলের সামনে উপস্থাপন করেছেন, তা তার তত্ত্বসমূহের মতোই অনুপ্রেরণাদায়ী, দৃষ্টান্তমূলক ও প্রণোদনায় ভরপুর।

শুক্রবার রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’র মৃত্যুবার্ষিকী

শুক্রবার রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’র মৃত্যুবার্ষিকী
কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ/ ছবি: সংগৃহীত

আগামীকাল ২১ জুন শুক্রবার তারুণ্য ও সংগ্রামের দীপ্ত প্রতীক কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’র ২৮তম মৃত্যুবার্ষিকী। বাংলা কবিতায় অবিসস্মরণীয় এই কবির শিল্পমগ্ন উচ্চারণ তাকে দিয়েছে সত্তরের অন্যতম কবি স্বীকৃতি। ১৯৯১ সালের ২১ জুন মাত্র ৩৫ বছর বয়সে মারা যান রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ।

কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার রুদ্র স্মৃতি সংসদ কবির গ্রামের বাড়ি বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার মিঠাখালী ইউনিয়নের মিঠাখালীতে শোভাযাত্রা সহকারে কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মিলাদ মাহফিল, দোয়া ও স্মরণ সভার আয়োজন করবে। স্মরণসভা শেষে রুদ্রের কবিতা আবৃত্তি ও রুদ্রের গান পরিবেশিত হবে।

অকালপ্রয়াত এই কবি নিজেকে মিলিয়ে নিয়েছিলেন আপামর নির্যাতিত মানুষের আত্মার সঙ্গে। সাম্যবাদ, মুক্তিযুদ্ধ, ঐতিহ্য চেতনা ও অসাম্প্রদায়িকবোধে উজ্জ্বল তাঁর কবিতা। ‘জাতির পতাকা আজ খামচে ধরেছে সেই পুরোনো শকুন’ এই নির্মম সত্য অবলোকনের পাশাপাশি উচ্চারণ করেছেন অবিনাশী স্বপ্ন ‘দিন আসবেই দিন সমতার’।

যাবতীয় অসাম্য, শোষণ ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে অনমনীয় অবস্থান তাকে পরিণত করেছে ‘তারুণ্যের দীপ্ত প্রতীকে’। একই সঙ্গে তাঁর কাব্যের আরেক প্রান্তর জুড়ে রয়েছে স্বপ্ন, প্রেম ও সুন্দরের মগ্নতা।

মাত্র ৩৫ বছরের (১৯৫৬-১৯৯১) স্বল্পায়ু জীবনে তিনি সাতটি কাব্যগ্রন্থ ছাড়াও গল্প, কাব্য নাট্য ও ‘ভালো আছি ভালো থেকো’ সহ অর্ধ শতাধিক গান রচনা করেছেন। এমনকি একাধিক গানে সুরারোপও করেছেন। পরবর্তীকালে এ গানটির জন্য তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি প্রদত্ত ১৯৯৭ সালের শ্রেষ্ঠ গীতিকারের (মরণোত্তর) সম্মাননা লাভ করেন।

‘উপদ্রুত উপকূল’ ও ‘ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম’ কাব্যগ্রন্থ দুটির জন্য ‘সংস্কৃতি সংসদ’ থেকে পরপর দু’বছর ‘মুনীর চৌধুরী সাহিত্য পুরস্কার’ লাভ করেন। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র