গড়িয়ে পড়ছি সবখানে

পদ্ম
অলঙ্করণ কাব্য কারিম

অলঙ্করণ কাব্য কারিম

  • Font increase
  • Font Decrease

গল্প ১

একটা বাঘ, ইন্দুর আর আমি একদিন চরম টাল হয়ে কেবল পিকক থেকে বের হইছি। হঠাৎ একটা কুত্তার বাচ্চা এসে আমার প্যান্ট কামড়ায়ে ধরে বলে ‘আমার আব্বা কই?’ এ কথা শুনে ইন্দুর আগায়ে এসে কয়, ‘এই তো আমি তোদের আব্বা।’ এ নিয়ে তখন তুমুল গোণ্ডগোল। এমন সময় শাহবাগ থানার এসআই হঠাৎ পিকআপ নিয়ে এসে হাজির, বিলাইরে দেখেই সে বলে ওঠে, ‘এই আপনে গাড়িতে উঠেন।’

গল্প ২

গণ্ডার আর বিউটিপার্লারের বিয়েতে ল্যাপটপ এসে তুমুল গণ্ডগোল করতেছে, বারবার হ্যাং হয়ে যাচ্ছে আর রি-স্টার্ট নিচ্ছে। আর ঐদিকে ক্যামেরা তো থামেই না, অস্থির হয়ে যার তার গায়ে পাগলের মতো ফ্লাশ ছুড়ে মারছে। এসব দেখে মেয়ের বাপ যেই পুলিশকে ফোন দিতে যাবে ঠিক তখনি ধুপ করে কারেন্ট চলে গেল।

অমাবস্যার পাগল

অনেক দূরের আষাঢ় মাস
বিরক্তিকর পথের ভিড়
ভিজে যাচ্ছি বৃষ্টির ’পরে রাইগেন না
ট্রাফিক ভাইয়ের ছাতার তল
বিজ্ঞাপনের লেবেনচুস
দশ জনারে জায়গা দিল থানার ছাদ
অপরাধীর চিন্তা নাই মাগনা খাবে মটরডাল
বাইরে মানুষ তুমুল জোরে বাঁচতে চায়
ভিতরে আর জায়গা নাই
সামনে গেলে বর্ডার পার
অমাবশ্যায় পাগল বলে চাকরি দাও।

জন্মদিনের গান

আজ আমার জন্মদিন
আমি কোনো স্যোশাল মিডিয়াতে নাই
চাকরি করি আর হঠাৎ হঠাৎ হাতিরঝিলে মাতলামি
আমার মাথায় দশটা সেলাই আর বন্ধুর দাঁত পড়ে গেছে
তবুও ইচ্ছা করে চাঁদপুর মোহনার ঝাঁপ দিয়ে
উত্তাল ঢেউয়ে ডুবে ডুবে মজা নিই খুব।

ক্ষণিকের দেশে

প্রতীক্ষার পা ধরে বসে আছে বুড়াবুড়ি গাছ
ওদের তলে বসে আবেগে চুমু খায় একজোড়া হাসি
কী এক তরঙ্গধ্বনি ছড়িয়ে পড়ে ঘাসে!
জুতা পায়ে আমি বুঝি না তার ভাব
হেঁটে যেতে যেতে মায়া লাগে ক্ষণিকের দেশে
পাতাঝরানিরা রোজ রোজ বেঁচে উঠতে চায় সঙ্গমের ঘামে
লাজলজ্জার পাশে বেহায়া কলম যা খুশি লিখে যায়
আমি শুধু বাধ্য হই আঙুল চালাতে

পৃথিবী ও শে

পৃথিবীতে হেঁটে যেতে যেতে
আজ এই বিকালের পরী
আকাশের ছাদে একা ওড়ে
পথ এসে বলে পায়ে পড়ি

আমি তো শুনিনি সেই গান
রেডিওতে প্রতিদিন বাজে
আমাকে এখানে আটকাও
গড়িয়ে পড়ছি সবখানে

চুমুকে চুমুকে প্রিয় হাসি
আছড়ে পড়ছে ভাঙা গ্লাসে
এখানে অজস্র রাত কালি
ধুর আর লিখব না পথে।

বঙ্গোপসাগর

একটা হাতি মরে পড়ে আছে সাগরতটে
ঐপারে যাওয়া যায় নাকি?
মনের বাসনা একা দক্ষিণ সাগর তীরে ধীর সুরে ভাসে তোমারি সম্মোহনে,
ঠান্ডা বাতাস আছড়ে পড়ে প্রাণে
তোমাকে দেখতে পাই আত্মার অন্তঃস্থলে

তুমি নিজ থেকে বলো কী আছে আমার?
এ-খোলা প্রান্তরে প্রাচীন-এ আকাশের নিচে

তুমি বুকের খাঁচায় হাত দিয়ে দেখো কত আগাছায় ভরা এই ঘনঝোপ
যেখানে ছোট ছোট পাখিরা সব একসাথে ঘর বেঁধে থাকে।

সকালের তেজ

সকালের স্কুল ড্রেস সাদা
মায়ের হাতটা ছেড়ে
আট বছরের ছেলে
মগবাজারের মোড়ে
লাফ দিয়ে পার হলো কাদা।

করলা আমি খাই না

করলা তিতা তাই আমি কখনোই খাইতে চাইনি
এজন্য ছোটবেলায় আম্মুর হাতে কয়েকবার মাইরও খাইছি
আমার যেসব বন্ধুরা ছোটবেলায় করলা খাইত না
বড় হয়ে দেখি ওদের অনেকেই এখন করলা খায়
ওরা বলে করলা নাকি খুব মজার
আমি বুঝি না তিতা কিভাবে মজা হয়!
তবে চারুকলায় পড়ার সময় অনেকবার করলার ড্রইং করছি
করলার ড্রইং খুব মজার।

হঠাৎ তুই!

একটা রেস্টুরেন্টে কালো একটা প্রজাপতি
হঠাৎ মন ভালো করে দিল আমার।
তুই কে রে নীল?
কালোর ভিতরে লাল চুম্বক!
আকাশ না মৃত্যুর, শেষ না সকালের গান?
দূরপাল্লার জাহাজের তীক্ষ্ণ হুইসেলের ফণা আমার
মনহারা অমানুষ, যন্ত্রাংশের কারাগার
ছড়ানো কাচের রক্তে রাঙানো আঁধারের দাগ।

আপনার মতামত লিখুন :