দীর্ঘসূত্রিতায় বোনা আছি আমি এ যাবত

তানিম কবির
অলঙ্করণ কাব্য কারিম

অলঙ্করণ কাব্য কারিম

  • Font increase
  • Font Decrease

বরফশক্তি
[কোনো এক রাশান নদীকে]

যেন চলে গেছি ফিরে;
জাপানি ভাষায় কথা বলা কোনো রাশিয়ান নদী তীরে

ফেরা তবু একদিন বের হওয়াহীন হতে পারে তাও
বুঝলাম চেনা লাগতেই পারে
ভালুকের বিছানাও

সবকিছু খুবই মানিয়ে যাওয়ার পর থেকে শুরু হয়ে
এসে ভর করে—গায়ে ও গতরে
চোখ কান ভুরু হয়ে

অভিব্যক্তি অবধি পৌঁছে সুনশান মিশে থাকে
যেন চলে গেছি কাকে—

না নিয়েই তবু ফিরবার মতো বলা নেই কওয়া নেই
যেন যা হয়েছে একবার তার—দুইবার হওয়া নেই

দুখি আমরা

আমরা দুজন দুইটা ভিন্ন দ্বীপের মধ্যে আটকা আছি
চিরস্থায়ী দুখের সঙ্গে সকাল সন্ধ্যা টাটকা আছি
পৃথক পৃথক অপ্রাপ্তিযোগ এই জীবনকে ব্যাকুল করে
রাখল যেন একটা ফেরি একুল থেকে সেকুল করে
পুত্রহারা পিতার মতো—মায়ের মতো অবিশ্বাসে
এদিক থেকে সেদিক ঘুরে দিচ্ছে বাড়ি বুকের শ্বাসে
আমরা দুজন ব্যস্ত আছি ভিন্ন দ্বীপের কাঁকড়া খোঁজায়
না জেনেও টের পাওয়া আর কাকতালীয় দুচোখ বোজায়
কিন্তু ছিলাম পৃথক, আছি, থাকব পৃথক সম্ভবত
শাশ্বত দূর, অদূর হতে হাত বাড়াবে বংশগত

বড় বড় স্ট্যাটাসগুলা

তোমাকে ছেড়ে আসার পরে তোমার
বড় বড় স্ট্যাটাসগুলা আর পড়া হয় নাই
সবসময় ভাবছি কখনো তুমি সংক্ষেপে
স্ট্যাটাস দিবা
আর তাতেই আমি সব বুইঝা নিব এবং
আবারও তোমাকে বাইন্ধা ফেলব কিছু
নির্ভুল অনুমান দ্বারা
অন্তত কয়েক মাস তোমার সকল চলাফেরা
চোখ বন্ধ করলেই হবে দৃশ্যমান
কিন্তু তা হলো কই
এরপর থেকে তোমার সব স্ট্যাটাসই বড়
দুতিন লাইন পড়েই খেই হারিয়ে ফেলতে
ফেলতে আমি আজ ক্লান্ত
তোমার বড় বড় স্ট্যাটাসগুলা পড়তে
পড়তে সঙ্গতি উড়ে যায়, এক লাইনের
সাথে জোড়াই লাগানো যায় না
আরেক লাইন
কোথায় শিখলা এসব বড় স্ট্যাটাস দেওয়া
আগেও কি এমনই ছিলা?

সন্তরণরাশি

বিদেশি গবেষণায় কত কিছু প্রমাণিত হয়
তোমার হাসির মানে তোমারি অভ্যন্তরে রয়
দেখে আমি পুলকিত ভূগর্ভস্থ মিষ্টিআলুর কষ
থেকে হয়ে উদ্ভূত উল্লম্ফনের ঝাঁকিতে অবশ
ছিলাম কয়েক মৃত্যু সমপরিমাণ বাসনার
পাপেটে মোড়ানো কোনো মিশনারি পরিষেবাবৎ
তোমার হাসির মানে আরো প্রাচীন শাসন ব্যবস্থার
দীর্ঘসূত্রিতায় বোনা আছি আমি এ যাবত

রকেট এগুইতেছে

শীতের মধ্যেও তুমি ফুটিয়েছো মেনথল তোমার
আমার ব্যবসা ভেঙে চৌচির পড়ে আছে ঘাসে
ঘোলাটে কেনই আর রঙিনও বা কেন এ-দুপাশ
তিউনেশিয়ার কোনো সমুদ্র উপকূলবর্তী
অচেনা না-থাকা কোনো শহরের উপকণ্ঠে কি
পৌঁছে গিয়েছি মোরা অবিরাম শাল্টু টেনে টেনে?
অসমর্থিত দৃশ্যের মধ্যে ঢুকে পড়ে বসে আছি যেন
অতিকায় পাণ্ডুরবর্ণ কুয়াশারা ঘনীভূত হয়ে
আমাদেরকে পুরে নিচ্ছে শামুক-সদৃশ কুণ্ডলিতে
উগড়ে ভিতরে নিয়ে ফ্যা ফ্যা করে ছেড়ে দিয়ে দিয়ে
প্রতিবেশে মন্থর এ-যাওয়ার দাগ ফেলে ফেলে
রকেট এগুইতেছে ধীরলয়ে হাওয়া বয়ে বয়ে...

আপনার মতামত লিখুন :