দনিয়া আরমানদোর পর্ণকুটির

মঈনুস সুলতান

  • Font increase
  • Font Decrease

মাস দুয়েক ধরে আমি নিকারাগুয়ার ইসতেলি বলে একটি মফস্বল শহরে বাস করছি। অদূর ভবিষ্যতে লাতিন আমেরিকায় পেশাদারী কাজের ধান্দায় আমার এসপানিওল বা স্প্যানিশ ভাষা শেখার প্রয়োজন হয়েছে। তো, ইসতেলি শহরে আছে ইসকুয়েলা হোরাইজনতি বলে চমৎকার একটি এসপানিওল ভাষা শেখার স্কুল। ওখানে আমি ছাত্র হিসাবে পড়াশোনা করছি। মি. চার্লসের সাথে ইসকুয়েলাতে আমার পরিচয় হয়েছে। তাঁর পুরো নাম চার্লস ডেভান। বয়স সত্তর, তবে ব্যায়াম করা পেটানো দেহের জন্য তাঁকে দেখায় মেরেকেটে বাষট্টির মতো। এক সময় কাজ করতেন আমেরিকান এয়ার ফোর্সে, বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত, ভ্রমণ করেন, নিজেকে হিস্টোরিয়ান হিসাবে পরিচয় দিতে ভালোবাসেন। কিসের ইতিহাস, কেন তিনি তা লিখছেন, ইত্যাদি এখনো আমি ভালো করে বুঝে উঠতে পারিনি।

মি. চার্লস বর্তমানে এসপানিওলের কোনো ক্লাসের ছাত্র নন। তবে বছর দেড়েক আগে তিনি এ ইসকুয়েলাতে এসে এসপানিওলের ওপর একটি কোর্স করেছেন। সে সূত্রে শিক্ষয়িত্রী সিনোরিতাদের সাথে তাঁর বন্ধুত্ব খুবই মজবুত। তিনি প্রায়ই তাঁদের জন্য এক্সপেনসিভ চকোলেট বার নিয়ে আসেন। তারপর, আঙিনায় হোমওয়ার্ক করার জন্য পেতে রাখা চেয়ার-টেবিলে বসে পুরানো পত্রিকা খুঁটিয়ে পড়েন। এবং আমাকে অবসর দেখলে আলোচনা জুড়ে দেন। তাঁর আলাপের প্রিয় প্রসঙ্গ হচ্ছে—নিকারাগুয়ার বংশানুক্রমের ডিক্টেটর শাসক গোষ্ঠী তথা সমোজা পরিবারের রাজনৈতিক গলদ কোথায় ছিল? সান্দিনিস্তা বলে বামপন্থী বিপ্লবীরা ক্ষমতায় এসেছে মূলত কিসের জোরে? আর শহরের তরুণদের মধ্যে ইদানীং ছড়াচ্ছে যে ড্রাগস ও ভায়োলেন্স, তা রোধ করা যায় কিভাবে ইত্যাদি।

গ্যালারিতে মৃতদের ছবিগ্যালারিতে মৃতদের ছবি

ইসতেলি শহরে মি. চার্লস পর্যটক হিসাবে একটি হোটেলে মাসওয়ারি কড়ারে বসবাস করছেন। তিনি ক্যাটাগরিতে পর্যটক হলেও কী কারণে জানি শহরের আওয়ারা তরুণদের নানা কিসিমের প্রকল্পে যুক্ত করে মাতিয়ে রেখেছেন। এ ধরনের একটি প্রকল্প হচ্ছে—মস্ত রঙিন কাপড় পালের মতো উড়িয়ে তাদের রলারস্কেট করা শেখানো। তাঁর আস্তানা হচ্ছে বিপ্লবী যুদ্ধে আত্মাহুতি দেওয়া মৃতদের স্মরণে সৃষ্ট একটি গ্যালারি। নিকারাগুয়ার সাম্প্রতিক বিপ্লবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোদদপুষ্ট সমোজা চক্রকে সশস্ত্র সংগ্রামের ভেতর দিয়ে উৎখাত করে ক্ষমতায় আসে প্রগতিশীল বাম ধারার সান্দিনিস্তা পার্টি। এ যুদ্ধে ইসতেলি শহরের তিনশো মানুষ আত্মহুতি দেন। তাঁদের ফটোগ্রাফস্, পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের কাটিং, কাপড়-চোপড়, বুটজুতা ও বন্দুক দিয়ে দনিয়া নিনো আরমানদো বলে এক মহিলা গড়ে তুলেছেন এ স্মারক গ্যালারি।

যুদ্ধে দনিয়া নিনো’র দুটি ছেলের মৃত্যু হয়। প্রথমে তাঁর চৌদ্ধ বছর বয়সের ছোট ছেলেকে সমোজা চক্রের সৈনিকরা প্রকাশ্যে ধর্ষণ করে হত্যা করে। পরে মৃত্যু হয় আঠারো বছরের বড় ছেলের। বিপ্লবী ক্রিয়াকর্মের সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে তাঁর কাটা মুণ্ডু প্রদর্শিত হয় শহরের পার্কে।

গ্যালারিতে কোনো আর্থিক অনুদান নেই। মি. চার্লস ওখানে মৃত যোদ্ধাদের জননীদের সাক্ষাৎকার নিয়ে ল্যকেল হিস্ট্রি লেখার একটি প্রজেক্ট করছেন। তাঁর প্ররোচনায় আমিও গ্যালারিতে স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে কিছু কাজে সামিল হচ্ছি। এ সুবাদে গ্যালারির ব্যবস্থাপক দনিয়া নিনো আরমানদোর সাথে আমাদের দুজনের তৈরি হচ্ছে হার্দিক সম্পর্ক। আর সত্যি কথা বলতে—দনিয়া নিনোর আচরণে এমন কিছু আছে, যার জন্য তাঁকে আমার আত্মীয়-স্বজনদের মতো আপন মনে হয়। তিনি দিন দুয়েক গ্যালারিতে আসেননি। মহিলা সম্ভবত অসুস্থ। মি. চার্লস প্রস্তাব করেন—চলো সুলতান, তাঁর বাড়িতে যাই, দেখে আসি—কী রকম আছেন দনিয়া, কী হয়েছে তাঁর? দনিয়ার আর্থিক অবস্থা কেমন, তাঁর পরিবারের সকলে কিভাবে বসবাস করেন, এ বিষয়টি জানতে আমার আগ্রহ আছে। তার ওপর বিকালবেলা আমার কোনো কাজবাজ নেই, তাই আমি কোনো চিন্তা-ভাবনা না করে রওয়ানা হই, মি. চার্লসের সাথে দনিয়া নিনোর বসতবাড়ির দিকে।

ছাপড়া কফিশপের সামনে পাবলিক বাস

ছাপড়া কফিশপের সামনে পাবলিক বাস

খুবই সংক্ষিপ্ত শর্টকার্ট পথ ধরে মি. চার্লস আমাকে নিয়ে আসেন শহরের লাগোয়া মিরাফ্লোর পাহাড়ের বেইসে। পথের ধারের এক ছাপড়া কফিশপে বসে আমরা পাবলিক বাসের অপেক্ষা করি। একটা বিষয়ে খটকা লাগে—মি. চার্লস ছোট শহরের চিপাগলি ও কোনাকুনি সব শর্টকার্ট এত ভালো করে চেনেন কিভাবে? তিনি কফিশপ থেকে দনিয়া নিনো আরমানদোর বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য কিছু সালচিচা বা মশলাদার সসেজ কেনেন। পাবলিক বাসে ছাদের ওপরও কয়েকজন মানুষ বসে আছেন। ভেতরের ভিড়ে আমরা রড ধরে দাঁড়াই। মিরাফ্লোর পাহাড়ের গোড়ায় টিলা-টক্কর ও মাঠ-প্রান্তরে ছড়ানো বেইসটি বিশাল। চাষীরা মিষ্টিআলু, যব ও তামাকের ক্ষেতে কাজ করছে। পাহাড়ের গোড়া পেঁচিয়ে উঠে যাওয়া সড়ক ধরে খানিক আগ বাড়িয়ে বাসটি উল্টা দিকের সমতলে থামলে, আমরা নেমে পড়ে চষাক্ষেতের ওপর দিয়ে হেঁটে চলে আসি দনিয়া নিনোর বাড়িতে।

তাঁর বাড়ির হাতায় খোলামেলা বেশ কিছু জমি। তাতে ফলছে শাকসবজি, ঘাস খাচ্ছে কয়েকটি গরু ও ছাগল। দুটি মুর্গা কককক করে তাড়া করে এসে উড়াল দিয়ে উঠে বসে ঘরের চালে। তাঁর ঘরটি দ্বিতল হলেও অবস্থার নিরিখে তা পর্ণকুটির। অনেক বছর তাতে সারাই-মেরামত হয়নি বলে তা বেজায় রকম ঝুরঝুরে হয়ে আছে। মোরগের ককককে সজাগ হয়ে কে যেন কেশে গলা সাফ করে বলে ওঠেন—মিরা, কিয়েন ভিনো, বা দেখো তো কে আসলো? আমরা ততক্ষণে চলে এসেছি সামনের আঙিনায়। দাওয়ায় মাদুর পেতে শুয়েছিলেন দনিয়া নিনো, তিনি উঠে বসলে দেখি, তাঁর চুলে বেড় দিয়ে পেঁচানো একটি লতা, তাতে গোঁজা রঙিন পাখির পালক। শরীর তাঁর খারাপ করেছে সকাল থেকেই, তাই তিনি গ্যালারিতে যেতে পারেননি। মাঝেমাঝে তাঁর এরকম হয়—মাথার আধখানা জুড়ে তীব্র ব্যথা। এ রকম চলে যায় দিন দুয়েক। লতা দিয়ে পেঁচিয়ে পালক গুঁজলে একটু উপশম হয়।

মিরাফ্লোর পাহাড়ের দৃশ্য

মিরাফ্লোর পাহাড়ের দৃশ্য

বারান্দায় একটি চেয়ারে বসে তাঁর স্বামী ডন আরমানদো। তিনি বসে বসে মৃদু স্বরে শুনছেন ট্রানজিসটার রেডিও। তাঁর সামনের বেঞ্চে বসে মি. চার্লচ আমার সাথে ডন আরমানদোর পরিচয় করিয়ে দেন। তারপর, তাঁকে এক প্যাকেট মার্লবরো সিগ্রেট উপহার দেন। ডন আরমানদো একটি সিগ্রেট ধরিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে বলেন—সারা জীবন আমি স্লোগান দিয়েছি আবাহো এল ইমপিরিয়েলইজমো ইয়াংকি, বা নিপাত যাক মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ, তবে অই দেশের একটা জিনিস আমি পছন্দ করি, তা হচ্ছে মার্লবরো সিগ্রেট, স্বাদে বড়ই মোলায়েম। তিনি আরেক দফা ধোঁয়া ছেড়ে আমার দিকে এক শলা বাড়িয়ে দেন। চোখ থেকে গড়িয়ে নেমে আসা জল মুছলে আমি খেয়াল করে বুঝতে পারি, তিনি দেখতে পান খুবই সামান্য, তাঁর চোখের মণি দুটোকে দেখায় শ্যাওলা মাখা মার্বেলের গুলির মতো। মি. চার্লস দনিয়া নিনোর সাথে আঙিনায় লাউ-কুমড়ার মাঁচা দেখতে গেলে, ডন আরমানদোর সাথে আমার কথাবার্তা বেশ জমে ওঠে।

দৃষ্টি স্বল্পতা নিয়ে জন্মাননি তিনি। পেশায় চাষী ডন আরমানদো বিপ্লবের আগে মিরাফ্লোরে মরালেস পরিবারের বিশাল কফি এস্টেট ফিনকা নেবলিনাতে কাজ করতেন। মূলত কফি চাষের লোক হলেও এস্টেটের ডাকসাঁইটে মালিক সিনিওর মরালেস যখন মিষ্টিআলু ইত্যাদির এক্সটেনশন শুরু করেন, ক্ষেতে রসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রভৃতি দেওয়ার ভার পড়ে ডন আরমানদোর ওপর। একবার সিনিওর মরালেস আমেরিকান এক কোম্পানির কাছ থেকে সংগ্রহ করেন এনহাইড্রাস এমোনিয়া বলে এ ধরনের সার। এটি স্প্রে করার সময় অসাবধানতায় কিছু ফিউম বা বিষাক্ত বাষ্প লিক করে বাতাসের ঝাপটায় এসে লাগে ডন আরমানদোর চোখমুখে। কিছুক্ষণের ভেতর তিনি চোখে ঝাপসা দেখতে শুরু করেন। ফুলে ওঠে তাঁর চোখমুখ, জ্বালা-যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে এক পর্যায়ে সজ্ঞাহীন হলে প্রতিবেশি চাষীরা তাঁকে হ্যামোকে শুইয়ে নিয়ে যায় স্থানীয় হাসপাতালে। পাঁচদিন পর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে। দিন পনের পর তাঁর চোখে কিছু আলো ফিরে আসে বটে, কিন্তু আগের মতো দেখার পুরাপুরি ক্ষমতা তিনি আর ফিরে পাননি কখনো। সে থেকেই ডন আরমানদো অর্ধেক অন্ধ, কাজকর্ম আর কিছু করতে পারেননি তেমন করে। মূলত বেকার ঘর-বৈঠকি জীবন যাপন করছেন প্রায় তেইশ-চব্বিশ বছর হলো।

দনিয়া নিনো বারান্দার কোনায় স্টোভ জ্বেলে ফ্রাইপ্যানে ভাজছেন লালচে কফি বিন। তাঁর পাশে টুলে বসে ঘরের মানুষের মতো সহজাত ভঙ্গিতে গালগল্প করছেন মি. চার্লস। আমরাও একটু-আধটু কথা বলি। বিপ্লবের আগে এ বাড়িটিও ছিল মরালেস পরিবারের কফি এস্টেটের সম্পত্তি। চাষী হিসাবে ডন ও দনিয়া তাদের বালবাচ্চা নিয়ে এখানেই বাস করছিলেন। দৃষ্টিক্ষমতা খানিক ফিরে আসতেই সিনিওর মরালেসের কর্মচারীরা এসে তাঁকে আবার ক্ষেতে বিষাক্ত এনহাইড্রাস এমোনিয়া স্প্রে করার জন্য চাপ দিতে থাকে। তিনি এ রসায়নিক স্পর্শ করতে অস্বীকার করলে তাঁর পরিবারকে একুশ দিনের উকিল নোটিশ দিয়ে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়। একই সাথে ফিনকা নেবলিনাতে চাষী হিসাবে কাজ করার অধিকারও হারান তিনি।

দনিয়া আরমানদোর পর্ণকুটির

দনিয়া আরমানদোর পর্ণকুটির

তারপর দেশে বিপ্লব হলো। মরালেস পরিবারের এস্টেট সমাজতান্ত্রিক সরকার হুকুম-দখল করে নিলে ডন ও দনিয়া এ বাড়িতে ফিরে আসার আইনীস্বত্ব লাভ করেন। ফিনকা নেবলিনাও ইদানীং ভাগ করে দেওয়া হয়েছে যেসব চাষী বিপ্লবে শরীক ছিলেন তাঁদের মধ্যে। এ পরিবারের দুটি ছেলে যেহেতু মুক্তিসংগ্রামে আত্মাহুতি  দিয়েছে; তার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁরা পেয়েছেন ফিনকা নেবলিনায় পাঁচ একরের কফি প্ল্যানটেশনের একটি প্লট। তাদের মেঝো ছেলে ওই পাঁচ একরে চাষবাস করে। সে বাসও করছে মিরাফ্লোরের মিডল লেয়ারে।

বারান্দার মাঝামাঝি ছোট্ট একটি টেবিলের ওপর কাঠের ক্রুশের পাশে পানি ভরা বউলে রাখা কিছু তাজা ফুল। তাতে এসে বসে একটি প্রজাপতি। আমি এ বেদির ওপর দেয়ালে টাঙানো জোড়া ফটোগ্রাফসের দিকে তাকাই। আত্মাহুতি দেওয়া ছেলে দুটোর ছবি আমি গ্যালারিতে দেখেছি, তাই তাঁদের চিনতে কোনো অসুবিধা হয় না। হামানদিস্তায় আধপোড়া কফি বিন কুটছেন দনিয়া নিনো, চারদিকে ছড়াচ্ছে তীব্র স্মোকি সৌরভ। ডন কাশতে কাশতে আরেকটি মার্লবরো ধরিয়ে চোখের জল মুছে বলেন—দেশে বিপ্লব হলো, যে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হয়েছিলাম সেখানেও ফিরে এসেছি, আমাদের মেঝো ছেলের কফি বিক্রি করে অবস্থাও খারাপ যাচ্ছে না; তারপরও আমরা ঠিক ইনসাফ পেলাম না। চুপাসংগ্রেজ বা ব্লাডসাকার সিনিওর মরালেস এখনো বেঁচেবর্তে আছে। এ আনসিয়ানো রিএকশনারিও, বা এ বুড়া প্রতিক্রিয়াশীলের নাতনি এখানকার একটি ভাষা বিদ্যালয় ইসকুয়েলা হোরাইজনতিতে বিদেশিদের এসপানিওল শেখায়।

দনিয়া নিনো ও মি. চার্লস আমাদের জন্য নিয়ে আসেন দু পেয়ালা কফি। আমি চুমুক দিতে গিয়ে দেখি, ডন আরমানদো উবু হয়ে হাতড়ে চেয়ারের নিচ থেকে বের করে আনছেন পোড়ামাটির এক সানকি। তাতে বেশ খানিকটা কফি ঢেলে শিস দিয়ে তিনি কাকে যেন ডাকেন। আঙিনা থেকে তাঁর কাছে  চলে আসে একটি ছাগল। সে ঘোলাচোখে ঘাড় কাত করে আমাদের কথাবার্তা শোনে। তার চোখের দিকে তাকিয়ে আমি চমকে উঠি, চুন লাগা পাথরের মতো তার রঙ। অন্ধ প্রাণীটি ডন আরমানদোর হাতে ধরা সানকি থেকে চেটে চকাস চকাস করে কালো কফি খায়। আর তিনি আপসোস করে বলেন—বিপ্লবের সময় আমরা ট্রেড ইউনিওন করেছি, কথা হয়েছিল লিবারেশনের পর দেশ থেকে উচ্ছেদ করা হবে বিষাক্ত রসায়নিক সার ও কীটনাশক, কিছু হলো কি? শুনি আজকাল আমেরিকান কোম্পানিগুলো ফিরে এসেছে, কৃষকদের তারা দিচ্ছে কিছু ফ্রি কীটনাশক। এগুলো মিশে যাচ্ছে পশুচারণ ভূমির পানির উৎসে। এতে অন্ধ হয়ে গেছে এ এলাকার বেশ কিছু গরু ও ছাগল। এ ছাগলটি অন্ধ হলে আমার প্রতিবেশি একে কসাইখানায় বিক্রি করে দিতে চেয়েছিল। আমি শুনতে পেয়ে তাকে কিনে নেই। ছাগলটি ঘাড় বাঁকা করে যেন আলাপের সরোৎসার বুঝতে পেরে চেটে দেয় ডন আরমানদোর হাত।

আপনার মতামত লিখুন :