কিছু ঢেউ এসেছে বে অব বেঙ্গল থেকে

মিছিল খন্দকার
অলঙ্করণ কাব্য কারিম

অলঙ্করণ কাব্য কারিম

  • Font increase
  • Font Decrease

৯৮ অ্যালবার্ট স্টিট, ডান্ডি

অচিন দেশের এই ভোর
কিসে যে আচ্ছন্ন হয়ে শেষে
চেনাজানা বৃষ্টি নিয়ে আসে!
অদূরে টয় রিভার—
আর চারপাশে ক্রমাগত ডাকছে সিগাল।
যেনবা জরুরি কোনো সংবাদ আছে তার কাছে
এমনভাবে ডাকে।
মাথার উপরে যে আকাশ সেটা
বাংলাদেশের।
আর নিকটের নদী—
তার কিছু ঢেউ এসেছে বে অব বেঙ্গল থেকে
আমাকে সঙ্গ দিতে।

এভাবে নিজের দেশ সাথে সাথে চলে।

২.
বাজে ইংরেজি সব গান
বাসা, গাড়ি, দোকানপাটে।
যারা চলছে পথেঘাটে
তাদের সঙ্গে চলে কুকুর
(গায়ে রেইনকোটও আছে)
তারা যা পায় শুঁকতে থাকে।
যদি রৌদ্র জানালাতে
এই বৃষ্টি নামল বলে।
কলে গরম ঠান্ডা যেটা
মেলে পছন্দসই পানি।
যত শপের দরজাগুলো
তাদের বিটিশ বুদ্ধি কী যে!
যদি ক্রেতার গন্ধ পেল
খুলে যাচ্ছে নিজে নিজে।
উইকেন্ডের রাতে
গোটা শহর পুরা ফাঁকা
কেবল মাতাল দুয়েকজন—
তারা চেনে না কেউ ঢাকা।
চেনা নেই তো বরিশালও।
হেসে হাই-হ্যালো তাও বলে।
কেবল বাটার-রুটি-ওটস
বার্গার, ফলমূল
খেয়ে চলছে দিন আর রাত
যদি ভাতের জন্য কাতর
তখন বিয়ার নিয়ে বসে
ভাবি, শালার ব্রিটিশ জাতি
যখন দুইশো বছর ধরে
ঠাপে রাখলি ভারতটাকে
কী হয় তবে এসব দোকানপাটে—
যদি ভাতের সাথে ডিম ভাজি, ডাল, আলুভর্তা থাকে!

৩.
কত দূরের সূর্য থেকে
তুমি রৌদ্র আসিয়াছো
কত পাহাড় নদী গাছের সাথে কথা
বলে আমার বারান্দাতে
আসা ফুরফুরে মন নিয়ে
চতুর মেঘকে ফাঁকি দিয়ে।
এই চেয়ারটাতে বসো
যদি আমায় চিনে থাকো
আমি বাংলাদেশি লোক
এই অচিন শহরটাতে
রাখি সতর্ক চোখ-কান
মনে ভাবি যেন কেন—
এসব অন্য পৃথিবীতে
যারা থাকছে মিলেমিছে
তারা যতই ভালো হোক
কোনো সন্দেহপ্রবণ
এবং রেসিস্ট ধরনের
লোক কার্যকারণহীন
যদি ভিন্ন কিছু করে—
তায় রোমাঞ্চে ঠিক থাকছে মিশে ভয়
পানির বোতল ভর্তি করে জিন
আর দুই দুটি ক্যান বিয়ার খাওয়া মন
ভাবে,
ভ্রমণ কেবল ভ্রমণ ফলে নয়!

ওকে, মাই ফ্রেন্ড

কার্ডিফে আমার বন্ধু অ্যালেন।
সে বড় ভালো!
ঘুরিয়ে দেখাল সব
পাবে নিয়ে বিয়ার খাওয়াল।
বাগানে আপেল গাছ
বলল, ‘চাইলে খেতে পারো।
ইফ ইউ ওয়ান্ট—
থেকে যেতে পারো বুধবারও।’
ভ্রমণে কোথায় যাব, তার সবই বলল বিস্তার
বাংলাদেশ শুনে খুশি, জানতে চায় সেই সমাচার।
বলি, যদি পারো তুমি একবার এসো।
কিন্তু অ্যালেন হাসে।
বলে, ‘যেহেতু বয়স বেশি, ফলে আর যাই না বিদেশে।’

বিদেশ

যেন আমরা ভাষার জন্মপূর্বকালে পৌঁছে গিয়েছি কবে।
তাই আমাদের বলার মতোন কথা নেই।
শুধু কিছু অভিযোগ ছুড়ে মারি এ-ওর দিকে।
যেভাবে এইদেশে তুষারের বল নিয়ে খেলে লোকজন।
আননোন এই দেশ তার আননোন মানুষের মধ্যে
ঘুরে ঘুরে একমাস করেছি পার।
হাড়ে ও মাংসে নানান অভিজ্ঞতা হলো জমা।
অদ্যদিন ভ্রমণের শেষ।
ফলে বোধোদয় নিয়ে ভেবে যা পেলাম,
মানুষ একে অপরের কাছে মূলত বিদেশ।

আপনার মতামত লিখুন :