শীতের হাওয়া আজ একাই প্রহরী

আল ইমরান সিদ্দিকী
অলঙ্করণ কাব্য কারিম

অলঙ্করণ কাব্য কারিম

  • Font increase
  • Font Decrease

সাপ

বনে-জঙ্গলে ঘুরতে আমার ভালোই লাগে
কিন্তু ঘুরি না, ছোবল খাবার বিপুল ভয়ে;
র‌্যাটেল স্নেক ও কপারহেডের নাম শুনেছি
গুগল করেছি, ছবিও দেখেছি—এই সময়ে

বসন্তে যদি গাছে গাছে ফুল, ডাকছে পাখি
কার্ডিনাল ও জে বার্ড ডাকছে সারাটা দিন
জানি আমি দূর স্বদেশে আমার এখনো আছে
বসন্তকাল—কৃষ্ণচূড়ার ফুলে রঙিন।—

ফ্ল্যাট স্যান্ডেল, চেক শাড়ি পরে মেয়েরা হাঁটে
পায়ের গোড়ালি দেখা যায়, পায়ে ধুলাও লাগে—
সেই দৃশ্যের গভীরে কোথাও সহজ-মতো
জীবনের এক হাতছানি বাজে ফাগুনরাগে।

বসন্তকালে বের হয়ে পড়ে সাপেরা সব
বাংলার সাপ সবগুলি আমি চিনতে পারি।
এ দেশি সাপের আচার-বিহার জানি না কিছু;
বসন্তরূপ ছুঁতে গিয়ে শেষে জানে না মরি।

চোখ

মা আমার, এই দেশে একবার তুমি এসো
বাবাকে নিয়ে
অসংখ্য চেরির ফাঁক দিয়ে
একবার সূর্যোদয় দেখো;

দেখো:
কিভাবে দুপুরে একজন গর্ভবতী ডেফোডিলের সামনে শুয়ে হাসে।
কিভাবে ঝুলন্ত পাখির বাসায় এক কাঠবেড়ালি নিশ্চুপ বসে থাকে।
কিভাবে বালক শিলমাছ একা একা বালির ওপরে থাকে শুয়ে।

তোমাদের কোনোদিন দেখা হলো না সমুদ্র ও পর্ব্বতমালা!

তোমাদের কথা মনে হলে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসে
বোলো না আমিই তোমাদের চোখ বিশাল দুনিয়া জুড়ে।

পাখসাট

আমি দড়ি হাতে যাব
রেড ওক গাছের তলে।
আমি দড়ি টাঙাব
রেড ওক গাছে
শেষ বিকালে টাঙাব ফাঁসির দড়ি।
আমার কিছুই ভালো লাগে না।

আমি ফাঁসির দড়িতে পা দিয়ে
উঠে যাব রেড ওক গাছে,
রেকাবে পা দিয়ে ঘোড়ায় যেভাবে চড়ে।
কালো হয়ে আসা লাল পাতার ফাঁক দিয়ে
লাল সূর্য দেখব
সিগারেট ফুঁকব, ব্রাউজ করব
তুমি হায় হায় করলেও আমি নামব না।

ভোরহিস টাউন সেন্টার

উঠে গেছে মেসি’স, আছে ভস্কভ’স
টাউন সেন্টার ফাঁকা আর বোকা
ছোট ছোট দোকান বন্ধই প্রায়
দূর থেকে মানুষ খায় শুধু ধোঁকা।

কিন্তু আমার তো খুব ভালো লাগে
সারে সারে দোকান, পাঁচতলা বাড়ি
যেনবা সে নিজেই ছোট্ট শহর
শীতের হাওয়া আজ একাই প্রহরী।

প্রায় পরিত্যক্ত কত যে শহর
ছড়িয়ে আছে এই আমেরিকা জুড়ে;
মলিন ক্যামডেনে রাটগার্স আছে
বের হয়ে আসব এমবিএ করে।

টাউন সেন্টার ভালোই তো ছিল;
বুঝি না কী কারণ, মানুষ আসে না
মরা ফুল গাছের মরা সেন্টার
সামনে পাবে ফিরে নিজের চেতনা?—

হতে পারে তেমন, মানুষ আসবে
খাবারের দোকান কোলাহল পাবে;
গাছে গাছে তখন কত চেরিফুল
মানুষ বসে বসে রৌদ্র পোহাবে।—

হয়তোবা আমার আসাই হবে না
ব্যস্ততা থাকায় ঘেঁষব না কাছে
যেরকম তোমার শবল সময়ে
থাকছি বসে আমি দূর পরবাসে।

স্টোন স্টেক

পাথরগুলি দাঁড় হয়েছে একের ওপর এক
মনে হলো সাজানো জেন পাথরের স্টেক;
ও জেন সাধু, ও জেন সাধু, আমি ঘুমের ঘোরে
ডাকি তোমায়, ডাকি তোমায় শুধু
পায়ের তলে ধুধু বালি
আমি লিখব না আর কিছু
আমি বলব না আর কিছু।

সাগর আমার কথাগুলি নিবে নিজের স্বরে?
যা ফুরানোর না, তা আমি বলি কেমন করে!

চাই না আমি তবু আমার বলা হলো বেশি
চাই না হতে দেশি আমি, চাই না হই বিদেশি
ভাষার ভিতর দিয়ে।
হায় রে ভাষা, কোথায় গেল নিয়ে!

সাগর আমার কথাগুলি নিবে নিজের স্বরে?
যা ফুরানোর না, তা আমি বলি কেমন করে!

আপনার মতামত লিখুন :