মাথায় ঢুকে গেল মহুয়াফল ও একটি কপিকল

নীহার লিখন
অলঙ্করণ কাব্য কারিম

অলঙ্করণ কাব্য কারিম

  • Font increase
  • Font Decrease

ঘুমটি ঘর

তার সামনে থাকে দুটো রেখা, সে এক সূর্য্যমুখী
পিছনে থাকে না কিছুই, যার শব্দ মুছে ফেলে ট্রেন

কোলাহলেও কিছু গাছে যেমন থাকে সব পাখিরা সরব, সেরকম এক গাছ
যার ডালে কোনোদিনই ফুল থাকে না, ফল ধরে না
পাতাগুলোতে থাকে ধুলা, রঙ থাকে না

ঘুমটিঘর থেকে যায়, ডেকে যায় তক্ষক নিশূন্য সময়ের ঘেরে; যেমন আমরা দুজন, দুজনের সাপেক্ষে থাকছি
যেমন একটা প্লাস্টিক-পুতুলের খসে যাওয়া হাত বা আঙুল, মনে রাখে অসীম এক প্রত্যাবর্তন
যেমন ফস্কে যাওয়া কথারা, চেয়ে থাকে চিরদিনই শব্দের দিকে

কপিকল

যে শিয়াল বিবর্তিত হলো না, লনের পাশেই তাকে কুমির পা ছিঁড়ে নিচ্ছে, জলজ একটা পোকা পাখি হয়ে খেয়ে ফেলে তার শেষবারের হুক্কাহুয়া। এর মাঝেই ঝিলে চাঁদ উঠে গেল, রাতি পোহাইল। আমার মাথায় ঢুকে গেল মহুয়াফল ও একটি কপিকল। দূর থেকে ভেসে আসে সুর; না চাহিলে যারে পাওয়া যায়... দিবসে সে ধন হারায়েছি... যে শিয়াল বিবর্তিত হলো না রাতে, লনের ঘাসের অনেক নিচে সে আমার প্রতিবিম্ব এঁকে দিয়ে গেল মাটির চৌকাঠে। আমি বন্ধুর মুখ থেকে বহুদিন পরে আরো একবার কপিকলের নাম শুনলেও, সূত্রটি আর ঠাহর করতে পারলাম না, হে মহান প্যাসকেল!

নিশূন্য পাথর

কিছুই থাকে না। ধুতুরা ফুলের মতো ধূসর মানুষ ডানা কাটা পড়ে থাকে নিশূন্য পাথর, বহুবিধ জঙলার স্মৃতি ও ক্ষরণ, প্রস্তাবিত মেদুরতা গাছ ও মুকুল, আটসাট বসন্তকাল, কিছুই না তেমন
পত্রগ জীবনে বিস্তারিত আকাশ যদিও মনে হয় রয়ে যায়ই বুঝি অবস্থিতির চোখে বিরাণের দাগের মতো
সে এক ভ্রান্তির নূপুর, পা থেকে খসে যাওয়া সমুদয় মুদ্রার কাল; নাবিক স্বভাব, কানকো গলে যাওয়া মাছের মতো কোনো নোঙরের ছবি; চেরাই কলের মাঠে চামড়া বিলীন হওয়া অশ্বত্থ গাছ, মাংসের হরিণ যেভাবে মুছে যায় কস্তুরিতে
একসময় কিছুই থাকে না আর

ময়মনসিংহ

ঢিলেঢালা সূতি জামার মতন তুমি, তোমাকে জড়িয়ে আছি গায়ে, এখনো বাংলাদেশ কিছুটা লেগেই আছে তোমার মুখে, হাতে পায়ে

ঢিলছোড়া দূরে বেড়াতে যাই বল্লালের গাঁয়ে
যদিও দুমড়ানো মোচড়ানো, মরে যাওয়া ভাটিদেশ আকাশে তাকিয়ে থাকে নৌকার লাশ
মহুয়াকে দেখা যায় দণ্ডকলস ফুলে সন্ধ্যা তারার বোন
নইদ্যার চান সব আলো ঢেলে আছে বট ফলের মতন চেয়ে

শশী রাজার শিরিষ গাছে কীসব পাখির ডিম, কালো পিপড়ার মতো বেয়ে ওঠে কত না কথা বিরাণ সুর ঝরে পড়ে নিস্পৃহ বিকালের গানে, এখানে কবিতা থাকে তোমার শাড়ির পাড়ে কামনা বাতাসে শিমুল তুলার মতো বেহুলা উড়ানে

প্রজাপতি

কিছুক্ষণ আগে শহরে একটা মেয়ে আর একটা ছেলে হাত ধরাধরি করে গেল
সুইট সিক্সটিনের কথাগুলা বলতে বলতে বোধহয় তারা তাদের মতন

লোকালয়ে মাঝে মাঝে যেভাবে দেখা যায়, ফুল নেই এমনখানেও খুব থিনথিনে রঙিন কাগজের টুকরারা উড়ে এসে সব ভুলিয়ে কী যেন মনে এনে দিতে চায় প্রজাপতির মতো

মেয়েটা আর ছেলেটা ঠিক তেমনই ছিল, হুট করে এসে, হুট করে চলে গেল
বোরিং নদীতে যেভাবে ফুঁড়ে ওঠে শুশুকের মুখ

তারা চলে যাওয়ার পরে শহরটা আবার কাজে লেগে গেল; ট্রাফিক আইল্যান্ডে পুলিশ লাঠি হাতে ইশারায় নেমে গেল জনাকীর্ণ নোংরা গন্ধের ভিড়ে

আপনার মতামত লিখুন :