পিয়াস মজিদের একগুচ্ছ কবিতা



পিয়াস মজিদ

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বপ্নলিপি

সকল অন্তরালে
অর্কেস্ট্রা এক বেজেই চলে নিঃসঙ্গ
এই সুরের অনন্ত প্রবাহে
সমুদ্রে হঠাৎ দ্বীপের মতো জেগে ওঠে
রঙ্গনিপুণ নাট্যশালা।
তার পিছদুয়ারে গুলবাগিচায় বসে বসে
একগুচ্ছ মেঘবালিকা হাঁড়িতে চড়ায়
জনমভর কুড়িয়ে পাওয়া রোদেলা মল্লার।

আর এমন ভোজের লাভায়
খানখান হয়ে যেতে যেতে
কালো এই দীপ্ত-স্মৃতির কবল থেকে
ক্ষুধার্ত আমার যদি মুক্তি না মিলত!

স্মৃতিরিক্ত

এই ভিসা-বিশ্বে
তোমার অন্তরের
অনন্ত অভিবাসী আমি।
ধেয়ে আসা
অন্ধকার আবর্তনে গড়ি
অনলপুষ্পের অস্থি।
আর যত নীল রন্ধ্র
যত বাদামী নকশা
অপেক্ষায় ছিল
আমারই মৃত্যুজয়ন্তীর;
যেহেতু সমস্ত জন্ম আজ
মরচে পড়া পেরেকের প্রতিম।
উৎসবের দেশে
এমন অশ্রুপরবে
নগ্ন-নীরবে,
তোমারই আকারে
স্মৃতিরিক্ত ঐ সমুদ্র বয়ে চলে।

বিচ্ছেদ ও বুদ্ধদেব

আসন্ন হেমন্ত
আমাদের শীতকামী স্নায়ু।
মৃত বিকেলের পাঁজরে
সন্ধ্যা গড়ে নিচ্ছিল
নিজের নরম তনু,
ভাবনম্র বেদনাবৃন্দ
আভাষ পেয়ে
যেন আগেভাগেই ঘুরছিল
আকাশবাড়ির বারান্দায়।
দৃশ্য শেষ
অথচ আমরা দুজনে মিলে
মঞ্চে দেখছিলাম
বুদ্ধদেব বসুর প্রথম পার্থ।

মর্মর কারিগরি

লিরিকের আলো সয় না আমার
থাকুক প্রোজ-পোয়েমের অন্ধকার।
হাঁটছি,
পথের নন্দন নয়
আসছে মেলায় সংকলন করব
রাস্তার রিয়েলিটি।
হুঁশিয়ার
সময়টা অন্তর্জালের
অন্তর্জলী যাত্রার নয়।
না হোক,
ভাস্কর্যের ভাষায়
কিছু ভুলচুক না থাকলে তো ফোটে না
সুষমা সঠিক।
কোনো রাজসিক উল্কাপাতে
কিংবা
পাতালযুদ্ধে
আমি প্রাণ-যাওয়া উলুখাগড়ারাও অধম
কাফ্রি পরির কান্নার তর্জমাকার।
সোনার আল্পনায় ছেয়ে থাকে
আমার উঠোন,
রূপার অগস্ত্যে সেজে উঠি
অস্তগামী আমি।
মেয়ে কি ময়ূরী
পথ আগলে দাঁড়ালেই
হিসেবে চুকে যায় না,
গিঁট খুলে বয় না ঝর্না।
স্তন-স্তনান্তরে
কেকার গহনে গিয়েও
একাকীত্ব সমাসীন
ঈশ্বরের অধিক
মহান ও অভিশপ্ত।
তারার তরণীতে
ঝিম বসে থেকে
চাঁদের সংসারে
চরকা-কাটা বুড়ি-যুগ দেখার ব্যথানন্দে
বেঁচে ও মরে উঠি।
আমাদের যূথ চেতনা
কি অবচেতন-লুপ্তির বিষাদে
ব্যক্তিগত বসন্তদিন হয়ে যায় বর্ষা।
মৃত মহল্লা আর
প্রয়াত সব গলির গন্ধ স্মরণে
নিরুত্তর এমনকি এই মুখর মুখপুস্তক
যখন গর্ভমিনারেই মৃত্যু তার
মুশায়েরা বসায়।
হঠাৎ আঁধারের ঝলকানি,
খুনের বেহাগ
আমার এই কালো চিত্রপুরী
দৃশ্যের সন্ত্রাস থেকে
তোমাকে মুক্তি দেবে
আলোয় আলোয়।
দৃশ্যাতীত অনুচ্চার উদ্ভাসনে
দিগন্ত দিশেহারা।
নিরুদ্দেশ বনমণ্ডল;
সবুজ ছায়াছবির হাতছানি
তবু ছাড়ে না
খয়েরি আমাকে।

অলঙ্করণ শতাব্দী জাহিদ