অন্তঃসত্ত্বা ইউএনও’র ওএসডি নিয়ে সংসদে দুই এমপির ক্ষোভ

ছবি: সংগৃহীত

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, ঢাকা, বার্তা২৪.কম

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ইউএনও হোসনে আরা বেগমের আবেগ ঘন স্ট্যাটাসে আপ্লুত দুই সংসদ সদস্য। তারা ওই নারী উপজেলা নির্বাহীর (ইউএনও) ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করার কারণ জানতে চেয়েছেন পাশাপাশি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলেন সাবেক নারী ও শিশু প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকী। পরে তার সেই বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে কথা বলেন নারায়ণগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান।

মেহের আফরোজ চুমকী বলেন, 'আজকের পত্রিকার মাধ্যমে দেখলাম একজন নারী ইউএনও এক আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন মা হওয়াটাই অপরাধ। সেই নারী ইউএনও দীর্ঘ ৯ বছর পর মা হতে যাচ্ছিল।'

তিনি বলেন, 'সেই নারী একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি সহকারী রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার কাজের কোন গাফিলতি ছিল না। বরং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রশংসা করেছেন। তার সন্তান প্রসব করার সময় ছিল আগামী এপ্রিল মাসে। কিন্তু সে যখন ডাক্তার দেখাতে গেছে তখন সে আকস্মিক জানতে পারেন তাকে ওএসডি করা হয়েছে। সেদিন ওএসডি হওয়ার খবর শুনে তাৎক্ষণিক মানসিক চাপে তার সে অসুস্থ হয়ে পড়েন। অকালপক্ব সন্তান প্রসব করায় বাচ্চাটা এখন মৃত্যু পথযাত্রী। দীর্ঘ ৯ বছর পর মা হওয়ার আকাঙ্ক্ষাটা উপলব্ধি করতে পেরেছেন। সে যদি যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করে থাকে তাহলে একজন সন্তান সম্ভাব্য নারীকে কেন ওএসডি করা হলো। এ ঘটনায় আমি বিভাগীয় তদন্ত দাবি করছি।'

পরে এ কে এম শামীম ওসমান বলেন, 'বিষয়টিতে আমি লজ্জিত। কেননা ঘটনাটি আমার নির্বাচনী এলাকায়। তিনি আমার এলাকার সদরের ইউএনও। একজন সৎ কর্মজীবী অত্যন্ত কর্মঠ ভাল একজন কর্মকর্তা হিসেবে উনি আমার কাছে বার বার প্রতীয়মান হয়েছেন।'

তিনি বলেন, 'নির্বাচনে ঠিক আগ মুহূর্তে যখন অনেকেই চান তাদের পছন্দমত লোক বসাতে তখন আমাকেও বলা হয়েছিল। আমি সেই সময় মেয়েটিকে বলেছিলাম আপনি পারবেন কি না? তখন সে ৪-৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তখন সে বলেছিল আমি কাজটি করতে পারলে সুস্থ থাকব। তখন আমি তাকে একজন ভাই হিসেবে বলেছিলাম আপনি কাজ করতে পারেন তবে এক শর্তে অধিক কাজ করবেন না। এই বাচ্চাটা ৯ মাসের চেষ্টার ফসল।'

তিনি আরও বলেন, 'আমি জানতে চাই কার নির্দেশে তাকে ওএসডি করা হলো। বদলি করলে একটা কথা ছিল। ওএসডি করার পর বাচ্চা প্রসব করল সেই বাচ্চাটির যে অবস্থা আমি শঙ্কিত। বাচ্চাটি বাঁচবে কি না? যদি খারাপ কিছু হয় তাহলে আমি নিজেকে ক্ষমা করতে পারব না।'

প্রসঙ্গত, ইউএনও হিসেবে যোগ দেওয়ার মাত্র ৯ মাসের মাথায় গত ৪ ফেব্রুয়ারি হোসনে আরাকে ওএসডি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সন্তানসম্ভবা ওই কর্মকর্তা খবরটা পাওয়ার পরই তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। অক্সিজেন সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয় অনাগত সন্তানের। ভর্তি হন হাসপাতালে। দেরি না করে ডাক্তার করেন সিজার। জন্ম নেয় ইমম্যাচিউর এক শিশু। ঠাঁই হয় এনআইসিইউতে। এখন বাঁচা-মরার লড়াইয়ে ওই শিশুটি।

সংসদ এর আরও খবর